গানগোছা || আর্টসেল

গানগোছা || আর্টসেল

SHARE:

[একডজনের অধিক গানের লিরিক শুধু পড়ার জন্য রইল এখানে। এই গানগুলো ‘আর্টসেল’ ব্যান্ডের সাংগীতিক শৌর্য প্রকাশ করে, যে-কোনো রকশ্রোতা গানগুলো শ্রবণকালে এদের মিউজিক্যাল অ্যাম্বিয়্যান্স বিষয়ে একবাক্যে তারিফ করবেন। এবং এগুলো যিনি গেয়েছেন সেই শিল্পীর কণ্ঠসম্পদ ও গায়নভঙ্গি নিয়া আলাপে বুঁদ হবেন অনুমান করি। কিন্তু ‘গানপার’ থেকে এই সিরিজে ব্যান্ডের গানগুলোর গীতিকথা প্রকাশের অভিপ্রায় একটু অন্য। পূর্বপ্রকাশিত পোস্টগুলোর প্রিফেসে এ-বাবতে বেশকিছু বক্তব্য হাজির করা হয়েছে গানপারের তরফ থেকে, এবং আমাদের মতলব পরিস্কার করতে পেরেছি কিছুটা হলেও মনে হয়। আমরা চাইছি, আবারও বলি, মিউজিকের পশম ছাড়িয়ে স্রেফ শব্দনির্মিত কথাখ্যানটির দিকে মনোনিবদ্ধ হতে। ব্যান্ডের গানের একটা গুণ বলি কিংবা দোষ তা এ-ই যে সেগুলো সুর ও সংগীত ব্যতিরেকে তেমন অর্থপ্রকাশক বা ব্যঞ্জনাবাহক বলে মনে হয় না। আদৌ অসত্য নয় এই কথাটা। তারপরও বলতে হয় যে ব্যান্ডের গীতিভাগের দিকে সেভাবে আমরা নজর ফেরাইনি কোনোদিনই। ‘গানপার’ থেকে আমরা এই কাজটা চাইছি নিষ্ঠার সঙ্গে করে যেতে। একটা সার্টেইন পিরিয়ড অফ টাইম পেরোলে পরে ‘গানপার’ তার অভিপ্রায়ের কাছাকাছি কিছু বোঝাপড়ার কাজ শুরু করতে পারবে বলিয়া আশা ব্যক্ত করে রাখছে আগেভাগে।

এখানকার গানগুলো গৃহীত হয়েছে দৈবচয়ন প্রক্রিয়ায়। আর্টসেলের দুটো স্টুডিয়োঅ্যালবামের অন্তর্গত সব-কয়টা গানই নিকষিত কনকের মতো। সুরের দিক থেকে, গায়নশৈলী ও সংগীতযোজনগত দিক থেকে, এবং কথাভাগের দিক থেকেও বটে। এখানে সেই অ্যালবামদ্বয়ের কয়েকটা গান ছাড়াও অন্যান্য সংকলনে রিলিজড আর্টসেলের গানকথা ছাপা হলো। ক্রমে একসময় আর্টসেলের সমস্ত গানের কথাভাগ গানপারপাতায় ছাপানো সম্ভব হবে আশা প্রকাশ করছি। বিষয়বিন্যাস কিংবা লিরিক্যাল উপাদানের বিচারে গানগুলো পত্রস্থ করার সময় এখানে কোনো ভাগাভাগি করা হয় নাই। কিংবা শ্রোতাপ্রিয়তার বিচারটাকেও বর্তমান সংকলনকালে মাথায় রাখা হয় নাই।

লিঙ্কন মুখ্যত কণ্ঠ দিয়েছেন গানগুলোতে। রুম্মান, রূপক, লিঙ্কন, এরশাদ প্রমুখ লিখেছেন গানের কথাগুলো। কখনো এককভাবে, কখনো যৌথ, কোনো-কোনো গানরচনা আর্টসেলের সামবায়িক প্রয়াস। ব্যান্ডের স্টুডিয়োঅ্যালবামদুটো ‘অনিকেত প্রান্তর’ ও ‘অন্য সময়’ ছাড়াও ‘গর্জে ওঠো বাংলাদেশ’ এবং ‘আগন্তুক’ শীর্ষক অডিয়োঅ্যান্থোলোজি থেকে গানগুলো গৃহীত। — গানপার]

url
চিলেকোঠার সেপাই
যা দেখো যা দেখো না
ভাঙে যত অনুভূতি চেনা-অচেনা
তোমার অনাগত সম্ভাবনায়
জমে ঘুণপোকার আর্তনাদ

তোমার নীল আকাশ শূন্য চোখে
চেয়ে থাকে অন্ধকার দেয়ালে
তোমার আলো জন্ম দেয়
মিথ্যে ছায়াকে সম্মোহিত সময়ে

তোমার জানালায় নীল আকাশ
আঁধারে নয় আলোতে ভয়
দৃশ্যগুলো শব্দময়
শূন্যতায় ভিড়ে হারিয়েছে
স্তব্ধ সময়
স্বপ্নময় ঘুমে নয়
শব্দগুলো দৃশ্যময়
শূন্যতায় নির্বাসিত রয়
স্তব্ধ সময়

ছায়াদের বাঁধা চোখে চোখে ফেরে
সময়ের নির্বাসিত নীল আকাশ
অন্ধকার ভেঙে গড়ে আজ
শব্দ করে ইতিহাস

তোমার নীল আকাশ শূন্য চোখে
চেয়ে থাকে অন্ধকার দেয়ালে
তোমার আলো জন্ম দেয়
মিথ্যে ছায়াকে সম্মোহিত সময়ে

তোমার জানালায় নীল আকাশ

আঁধারে নয় আলোতে ভয়
দৃশ্যগুলো শব্দময়
শূন্যতায় ভিড়ে হারিয়েছে
স্তব্ধ সময়
স্বপ্নময় ঘুমে নয়
শব্দগুলো দৃশ্যময়
শূন্যতায় নির্বাসিত রয়
স্তব্ধ সময়

তোমার মৃত স্বপ্নের
দৃশ্য আজও ওড়ে
বাতাসে বিগত সময় শব্দ করে
ভুলের চেনা শরীর
চিনি কি তোমাকে
এখানে কে দাঁড়ায়
ছায়ায় মিছিলে

একই অতীত
একই সময়
কেন তবু এই পথের শেষে
জড় অনুভূতি
কেন মেঘে ঢাকা পড়ে ছেঁড়া আকাশ।

হুঙ্কারের অপেক্ষায়
চেয়ে আছে পৃথিবী
জেগে আছে কোটি চোখ
থমকে আছে চারপাশ
করতালির অপেক্ষায়

এই সময় সেই সময়
চেতনার এই ক্ষণে
আকাশ-বাতাস জেনে গেছে
হুঙ্কারের অপেক্ষায়!

আমার শিরায় জ্বলে আগুন
রুদ্ধশ্বাসে পুড়তে চাই
আমার চোখে ঝড়ো মিছিল
স্লোগ্যানে বদ্ধ উপমায়।

দীর্ঘ যুগের জমানো সাধ
জমে আছে আমারই গায়
আমার সত্তা চিৎকার করে
জাগবে সারা বিশ্বময়।

জেনে দাঁড়াও জেনে দাঁড়াও
আলোর কথা
জেনে দাঁড়াও জেনে দাঁড়াও জেনে দাঁড়াও
বাংলাদেশকে জেনে যাও

চেয়ে আছে পৃথিবী
জেগে আছে কোটি চোখ
থমকে আছে চারপাশ
করতালির অপেক্ষায়

এই সময় সেই সময়
চেতনার এই ক্ষণে
আকাশ-বাতাস জেনে গেছে
হুঙ্কারের অপেক্ষায়!

উড়ে যাক দমকা হাওয়ায়
দুঃখ-ক্ষরা-যন্ত্রণা
জেগে উঠুক আমার দেশ
লাল-সবুজের পতাকায়

চমকে উঠুক পৃথিবী আজ
চমকে উঠুক স্বপ্নরা
থমকে তুলুক নীল আকাশ থেকে
গর্জে উঠুক বিজয়ে

জেনে দাঁড়াও জেনে দাঁড়াও
আলোর কথা
জেনে দাঁড়াও জেনে দাঁড়াও জেনে দাঁড়াও
বাংলাদেশকে জেনে যাও

চেয়ে আছে পৃথিবী
জেগে আছে কোটি চোখ
থমকে আছে চারপাশ
করতালির অপেক্ষায়

এই সময় সেই সময়
চেতনার এই ক্ষণে
আকাশ-বাতাস জেনে গেছে
হুঙ্কারের অপেক্ষায়!

বরাবরের ভুল বাড়িয়ে
অনেক সময় ডুবেছি
আমার দিকে নির্দেশ করে
অনেক কথাই শুনেছি

আমার দেশে আমার মানুষ
থেমে যেতে আসেনি
সূর্য যখন হাতের মুঠোয়
তোমরা কি তা দেখোনি?

চেয়ে আছে পৃথিবী
জেগে আছে কোটি চোখ
থমকে আছে চারপাশ
করতালির অপেক্ষায় …

এই সময় সেই সময়
চেতনার এই ক্ষণে
আকাশ বাতাস জেনে গেছে
হুঙ্কারের অপেক্ষায় …

ঘুণে-খাওয়া রোদ
চারটি দেয়াল ক্রমশ
সরে আসে বৃত্তের ভেতরে
কমে আসে আলো,
বস্তুর চারিপাশ এখন নীরব।

রঙ মূলত সাদাকালো
অন্ধকারের ছায়া-অপছায়াবোধ।

অথবা খয়েরী নীল আকাশ
অনেকটা ঘুণে-খাওয়া রোদ
লেগে থাকে আকাশের গায়ে
সময়ের রঙহীন ক্যানভাস
আমার জানালায়।

স্বপ্ন এখন এগারো-সাতাশ
শূন্যের ওপর দেখো, দেখো দাঁড়ায়
সম্মোহিত শহর
বাতাসের চোখে আজ, চোখে আজ
নেশার উৎকট আলো
রঙ মূলত সাদা কালো
অন্ধকারের ছায়া-অপছায়াবোধ।

অথবা খয়েরী নীল আকাশ
অনেকটা ঘুণে-খাওয়া রোদ
লেগে থাকে আকাশের গায়ে
বিবর্ণ সময়ের
জানালায় আজ ঘুণে-খাওয়া রোদ

আমার শরীর মানে আমি
ও ছায়া-ছায়া মানে মৃত রোদ
আত্মাহুতি দেয় তাদের আলোর যৌবন সারাক্ষণ
মেঘে-মেঘে ঢাকা পড়ে
চেনা-অচেনা কত মুখ,
ছায়ার শরীর ছায়ায়
বাঁচে আলোর ভয়
জানালায় আজ ঘুণে-খাওয়া রোদ।।

স্মৃতিস্মারক
তোমার ঘরে যত কথায়
যত সুরে আমাদের এ গানের শহর
শব্দ করে, আলো ভেঙে
অন্ধকারের মাঝে ফিরে যেতে
পুরনো সেই দিনের কথায় স্বপ্নাগারে

তোমার ভিড়ে যত আলোয়
তবুও নিভে পড়ে আছি আমরা যারা
অতীত হয়ে তোমার ঘরে
কথায় সুরে ইচ্ছে করে ফিরতে
পুরনো সেই দিনের কথায় স্বপ্ন হয়ে
তোমায় ছুঁতে আমার ভিতরে
অতীত ধরে হেঁটে হেঁটে
ইচ্ছে করে হারাতে

তোমাদের কাছে
হাজার শব্দে ভেসে
আমরা এসে আজ ভিড়ে মিলেমিশে
তবুও ঝড়ের বদ্ধঘরে
শব্দ ভেঙে ভেঙে
অতীতছায়া স্পর্শ করে

চেনা-চেনা চোখে
ছায়ারঙ হারিয়ে যায়
নিভিয়ে দেয় সময় কত স্মৃতি
তবু আমি তোমায় খুঁজে পেতে চাই
পুরনো সেই দিনের সুরে
ফেলে-আসা রূপকে

গানের আমি-তুমি হারিয়ে যাব
মেঘের পরে মেঘে স্মৃতির ঘরে
সময় ভেঙে ভেঙে ভেঙে
অন্য রোদের অন্য সময়ে …

পাথরবাগান
সমাধির বিশাল প্রান্তরে একা জেগে
আমাদের তথাকথিত সভ্যতার যিশু
ধার-করা কবিতার শ্যাওলামাখা স্মৃতির পাথরে
মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে এ মূল্যবোধ

সাদা ক্রুশের মিছিল জুড়ে মিথ্যে অহঙ্কার
ভুল নায়কের ছদ্মবেশে নেয় নিঃশ্বাস
সম্মোহিত মৃত প্রজন্ম ফিরে আসে
ফিরে আসে জন্মান্তরে বিবর্তনে

আড়ালে হেসে যায় যুদ্ধের দেবতা
ধ্বংসের সুর তোলে আবারো
পৃথিবীর বুকে আবাস গড়ে
নতুন কোনো পাথরবাগান

আমাদের যত জানা ইতিহাস সে-তো শেখা
রূপালি পর্দায় আলোর মায়ায়
ভুলে-যাওয়া হিংসার ছায়ায়

আড়ালে হেসে যায় যুদ্ধের দেবতা
ধ্বংসের সুর তোলে আবারো
পৃথিবীর বুকে আবাস গড়ে
নতুন কোনো পাথরবাগান

তোমাদের পাথরবাগানের সবুজ ঘাসে
মিশে থাকে কত যুগের নষ্ট গল্প
যত পতাকার রঙ ধুয়ে যায় অভিশাপে
আকাশের সাদা অনুভূতিতে শুধু ঘৃণা

অনিকেত প্রান্তর
তবু এই দেয়ালের শরীরে
যত ছেঁড়া রঙ, ধুয়ে-যাওয়া মানুষ
পেশাদার প্রতিহিংসা তোমার চেতনার
যত উদ্ভাসিত আলোরঙ
আকাশের মতন অকস্মাৎ নীল
নীলে ডুবে-থাকা তোমার প্রিয় কোনো মুখ
তার চোখের কাছাকাছি এসে কেন পথ ভেঙে
দুটো মানচিত্র এঁকে দুটো দেশের মাঝে
বিঁধে আছে অনুভুতিগুলোর ব্যবচ্ছেদ

তবু এইখানে আছে অবলীল হাওয়া
জানালাবদ্ধ ঘরে আসে যায়
দেয়াল ধরে বেড়ে ওঠে মধ্যরাত
তোমার ছায়ায় জমে এসে ভয়
আলোকে চিনে নেয় আমার অবাধ্য সাহস
ভেতরে এখন কি নেই কাপুরুষ অন্ধকার একা
তোমাকে ঘিরে পথগুলো সব সরে যায়
রাত্রির এই একা ঘর ঝুলে আছে শূন্যের কাঁটাতারে
দুটো মানচিত্র এঁকে দুটো দেশের মাঝে
মিশে আছে অনুভুতিগুলোর ব্যবচ্ছেদ

তবু এই দুটি কাঁটাতারে, শহরের মতো করে
ভিড়ে ভরে গেছে ঘুম আমার
অচেতন কখন বেওয়ারিশ, মাটির কাছে এসে
সময়কে এপিটাফ ভেবে হাঁটু গেড়ে বসে

তবু এখানে বাতাস আসে দূরত্বের উৎসাহে
শরৎ জমে আছে ঠাণ্ডা ঘাসে
তোমার চোখের মাঝে দূরের একা পথ
এখানে ভাঙে না দুটো দেশে

মেঘের দূরপথ ভেঙে বুকের গভীর অন্ধকারে
আলোর নির্বাসন স্মৃতির মতো
অবিকল স্বপ্নঘরবাঁধা স্মৃতির অন্ধ নির্জনে
সময় থেমে থাকে অনাগত যুদ্ধের বিপরীতে

এখানে সরণীর লেখা নেই নাম কোনো শহিদ সড়কে
তোমার জন্য জমা থাকে শুধু স্বপ্নঘর
জানালায় ঝুলে থাকে না শূন্যতার অবচেতন
তোমার ঘরের অন্ধ আলোয় অদেখা

এখানে নির্জন অনিকেত প্রান্তর

তবু তোমার ভাঙা স্মৃতি, ছেঁড়া স্বপ্ন, দোমড়ানো খেলাঘর
ছেঁড়া আকাশ ভাঙা কাচে আলো আর অন্ধকার তোমার
তোমার দেয়ালে কত লেখা, মানুষের দেয়ালে দেয়াল
বেড়ে ওঠে কাঁটাতার, এখানে মহান মানচিত্রের ভাগাড়

তোমার শূন্য ঘরে ভরা স্মৃতি
জড় পাথরে লেখা নাম
শহিদসরণী জানালার বাইরে
ভেসে গেছে দূরের আকাশ
বিঁধে আছি সময়ের কাঁটাতারে
বিঁধে আছো ছেঁড়া আকাশের মতো তুমি

তোমার স্বপ্নের দলাপাকানো
বাসি কবিতা, নষ্ট গানে
তোমার জানালার বাইরে শূন্য আকাশ
তবু অনিকেত এই প্রান্তরে

এখানে এখনো শরতের প্রচুর বাতাসে
সবুজের ঘ্রাণে
ভরে আছে অন্ধকারে ঘর তোমার
দেয়ালে এখন শুধু মৃত্যুর মৃত রেখাপাত

তোমাকে কড়া নাড়ে স্মৃতিরা ভাঙা স্বপ্ন
ঘুমের মতো নেশাময় কত
কত শিশু কত আলোর মশাল নিভে গেছে
নিভে গেছে কত অচেনা ভয়
তোমাকে এখন অপরিণত এক অচেনা স্মৃতি মনে হয়

তোমার জানালার বাইরে শূন্যে
দূরের স্বপ্নঘর, ঝুলে আছি নির্জনতায়
মৃত্যু কি অনিকেত প্রান্তর?

ধূসর সময়
নোনা স্বপ্নে গড়া তোমার স্মৃতি
শত রঙে রাঙিয়ে মিথ্যে কোনো স্পন্দন
আলোর নিচে যে-আঁধার খেলা করে
সে-আঁধারে শরীর মেশালে … হে …

আজ আমি ধূসর কি রঙিন সময়ে
পথে হারাই তোমাতে

জীবনের কাঁটাতারে তুমি অন্তহীনের অপূর্ণতায়
বেওয়ারিশ ঘুড়ি উড়ে যাও অনাবিল আকাশের শূন্যতায়

তবু আমি …

কি খুঁজি মানুষের বিষাদের চোখে
কোথায় আলোর উৎসবে স্বপ্নের প্রতিবিম্ব ভাঙে
একা একা আমি থাকি দাঁড়ায়ে
স্মৃতির ঝড়ো বাতাসে দুজনার শরীর মেশায়

রাহুর গ্রাস
শূন্যতায় এঁকেছি গভীরতা
দৃপ্ত নেশায় উন্মাদ স্বচ্ছতা
জানি না জীবনের সেই সলতে কোথায়
ঝড়ো বাতাসেও প্রদীপ জ্বালায়
স্বপ্নঘোর এ ধরায় মগ্ন এক বিলাসিতায়।

পাষণ্ড এ জগতের কোথায় শেকড় গাড়া
ব্যর্থ শৃঙ্খলিত মনে তারই ছায়া
পাপের দংশনে দংশিত এ রক্তধারায়
শেষ প্রহরে শ্বাসরুদ্ধ রাহুর ছায়ায়।

স্বপ্নের ছায়ায় কারো উষ্ণতায়
ঝাপসা সুখে অশ্রু ঝরায়
অস্তমিত ঐ রবির শেষ আলোকছটাও বিলীন
শ্রান্ত এক যুবা উদ্ভ্রান্ত মৌন মলিন
দুর্ভোগের উপহাস কিসের স্বপ্ন
কিসের উষ্ণতা
ঘনঘোর আঁধার কোলে
খোঁজে গন্তব্য শূন্যতা।

অবশ অনুভুতির দেয়াল
তোমার জন্য পৃথিবী আজ নিয়েছে বিদায়
তবু তোমার টুকরো ছায়ায়
ডুবে আছে কত মিথ্যে আগুন অন্ধকারময়
কত স্মৃতি কত সময়
তোমার জন্য পৃথিবীতে
আজকে ছুটির রোদ
নিজের মাঝে তোমায় খোঁজা
আকাশনীলে তাকিয়ে থাকা

তোমার জন্য পৃথিবী আজ নিয়েছে বিদায়
মেঘাচ্ছন্ন ব্যস্ত ঢাকায়
মানুষগুলো শূন্য চোখে দুঃখদ্বিধায়
আকাশপানে তাকায়
তোমার জন্য পৃথিবীতে থেমে যায় সময়
আমার দেহে রাত্রি নামায়
মিথ্যে আগুন অন্ধকারময়

ভিড়ের মাঝে আবার ভিড়ে
আমার শরীর মেশে কোলাহলে
দুঃখ ভুলে মিশে যাই মুখোশস্রোতে
অনেক দুরের একলা পথে
ক্লান্ত আমি ফিরি তোমার কাছে
মুখোশ খুলে বসে রই জানলা ধরে

আমার গানের শব্দ সুরের অন্তরালে
তোমায় আঁকি কান্না চেপে
মহাকালের ক্লান্ত পথে

তোমার জন্য বৃষ্টি ঝরে আমার লেখায়
আলোর মতন মিথ্যে ছায়ায়
পাথর হয়ে ঘুরে মরে আমার হৃদয়
কত স্মৃতি কত মিথ্যে ভয়

তোমার জন্য গলার ভেতর
আটকে থাকে ক্রোধ
আমার চোখে স্মৃতির ঘোলা জল
নির্জনতায় তোমার কোলাহল

তোমার না-থাকা অস্তিত্ব
রয়ে গেছে আমার নিঃশ্বাসে
ফেলে-আসা এই পথে দুজনেই একসাথে

আমার অবশ অনুভূতির দেয়াল জুড়ে
কত সময় হেঁটে এসে আমরা দু’জন
হারিয়েছি পথ কোথায় কখন

আমার দেহে খুঁজে ফিরি
তোমার অনুভূতি
তোমার চোখের দূরের আকাশ
মিশে থাকে রূপক হয়ে

তোমার জন্য বিষণ্ণ এক নিথর হৃদয়
আমার ভেতর দাঁড়ায় সরব একা
তোমার পৃথিবী স্বর্গের মতন চিরঅদেখা
তোমার পৃথিবী স্বর্গের মতন চিরঅদেখা …

তোমার জন্য পথ হারিয়ে অজানায়
তবু তোমার লেখায়-কথায়
ফেরে ক্লান্ত আমার অলস সময়
কত স্মৃতি অন্ধকারময়

রূপক — একটি গান
মনের ভিতর যুদ্ধ চলে আমার সারাক্ষণ
নেশার মতন থমকে থাকে ক্লান্ত এ-জীবন
ধ্বংস স্মৃতির পাড়ে বসে আমার আহ্বান
দুঃখ ভুলে নতুন করে লিখছি তোমার এ গান

মিছিলভাঙা নির্জনতায় দাঁড়িয়ে একা
আলোর নিচের অন্ধকারে স্মৃতির দেখা
চারদেয়ালের শব্দগুলো এখন শুধুই ছাই
মেঘের ঢাকা শহরটাতে তুই কেবল নাই

মনের ভেতর ভাঙাগড়ার আদিম আয়োজন
শূন্যতায় ডুবে থাকে আমার সারাক্ষণ
নিয়ম ভাঙার মগজ জুড়ে এখন শুধুই ছক
তেপান্তরের নির্বাসনে হারিয়ে গেছে রূপক

মনেই যুদ্ধ আমার নিজের সাথে লড়ি
স্মৃতির দেয়াল ছুঁয়ে হাজার মূর্তি গড়ি
চোখের দেখায় যা দেখি আর হয়নি যা দেখা
অভিমানের নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকি একা

ভুল জন্মে কষ্ট আমার লেখার আপোসে
অদেখা এক স্বর্গ ভাসে অচেনা আকাশে
মনের ভেতর যুদ্ধ এখন আমার সারারাত
অন্ধকারের কোলাহলে ধরেছি তোমারই হাত

একলা ভীষণ আমার ঘরে স্মৃতির হাহাকার
আলোয় চাইছি নিভিয়ে দেবো মলিন অন্ধকার
মনের ভিতর যুদ্ধ চলে আমার সারাক্ষণ
মহাকালে মিলিয়ে গেলি হঠাৎ কখন

ভুল জন্ম
আমি জন্মাতে দেখেছি
জীবনের সব ভুলগুলো
জীবন ভুল না হতে পারে
হয়তো সময় ভুল ছিল

সময়ের ভুলে জীবনমঞ্চে
অভিনয় করছি আমি
নষ্ট হচ্ছে স্বকীয়তা
ক্রমশ নষ্ট হচ্ছি আমি

তবু চিৎকার যখন অর্থহীন আর্তনাদ
প্রতিবাদ কোনো দুর্বোধ্য ভাষা
সবাই যখন আদিম উল্লাসে মত্ত
ভুল জন্ম তোমাকে জানাই বিদায়

স্বপ্নমঞ্চে মেলানো যায় না জীবন
অলীক স্বপ্নে বদলায় না বাস্তবতা
সময় বদলায়, বদলায় এ-জীবন
ধীরে ফিকে হয়ে যায় আমার এ-অস্তিত্ব

ভুলের বেসাতি শেষ হয়ে যাক এবার
কষ্টে ডুবে থাকা নয়
নয় আর হাহাকার
আমার দ্বৈত সত্তা
করছে আজ অস্বীকার
সময় তাকিয়ে দেখো
পরিবর্তন বাস্তবতার

চোখের কোণে লেগে-থাকা স্মৃতি
ঘুমের মতো তীব্র ভালোবাসা
আলিঙ্গনে নিমগ্ন শূন্যতা
ভুল জন্মে আমার অসারতা …

অলস সময়ের পাড়ে
অলস সময়ের পাড় ধরে হাটছি
ঢেউ এসে পড়ে পৃথিবীর শব্দ ও নীরবতায়
ভাঙে অন্ধকার
আলোছায়ায় মাখামাখি পৃথিবী
স্বপ্নের পাড়ে একা একা হাঁটছি

আলোর কার্নিশে জমে দিন
রাতের নিশাচর নিঃশ্বাসে মেশে মদ
আজো মাতাল আমি
পথভ্রষ্ট কবি
পৃথিবীর কোলাহলে একা একা হাঁটছি

অসাড় কথার শেষে আরও
কথা থাকে শব্দহীন অনুচ্চারে
ঝড়ের হাওয়ায় ভেঙে দেয় অন্ত্যমিল
দুজনার মিথ্যে আবেগের পড়ে থাকে
মৃত নদী
জীবনের পাড় ধরে আজো একা হাঁটছি

অলস সময়ের সৈকতে
ঢেউ এসে পড়ে স্বপ্ন জুড়ে
ভেঙে দেয় ছায়ার মতো তুমি

রোদের আকাশে ভেসে যায়
মেঘের স্বপ্নপুরী
পৃথিবীর কোলাহলে তুমি-আমি হাঁটছি।

স্বপ্নের পাড়ে একা একা হাঁটছি
পৃথিবীর কোলাহলে একা একা হাঁটছি
জীবনের পাড় ধরে আজো একা হাঁটছি
পৃথিবীর কোলাহলে তুমি আমি হাঁটছি।

পথচলা
আমার পথ চলা আমার পথে
যেন বেলা শেষে আকাশ কার মোহে
আমার স্বপ্ন আমার সাথে
যেন স্বপ্নে ফিরে আসে স্বপ্ন হয়ে
খুঁজে পায় জীবনের তীর

জীবনকে কোনো স্বপ্ন ভেবে
আমি কার আশাতে
ছুটে চলি পথে পথে
যেন কার মায়াতে
বাঁধা পড়েছে জীবন যে
কত সুখকল্পনা
কত মিথ্যে প্রলোভন
কষ্টের প্রতিটি ক্ষণ
শোনায় তার আহ্বান

আমার আলোয় আলোকিত
হতে চেয়ে আঁধারে মিলিয়ে
আমার স্বপ্ন আমার সাথে
যেন স্বপ্নে ফিরে আসে স্বপ্ন হয়ে
খুঁজে পায় জীবনের তীর

জীবনকে কোনো স্বপ্ন ভেবে
আমি কার আশাতে
ছুটে চলি পথে পথে
যেন কার মায়াতে
বাঁধা পড়েছে জীবন যে
কত সুখকল্পনা
কত মিথ্যে প্রলোভন
কষ্টের প্রতিটি ক্ষণ
শোনায় তার আহ্বান

আমি আজ নেই তবু
কত সুর ওঠে বেজে
তোমার ঐ গানের মাঝে
এই পথ গেছে মিশে
আমার বেলাশেষে
স্বপ্ন ফিরে আসে
পৃথিবীর দূর দেশে
জীবনকে কোনো-এক স্বপ্ন ভেবে …

COMMENTS

error: