মরমী রকার || শিবু কুমার শীল

মরমী রকার || শিবু কুমার শীল

SHARE:

আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া গানে (অন্যের কথা ও সুর সহ) একটা বিষয় খেয়াল করার মতো তা হলো ‘মৃত্যু’। তার গানে মৃত্যু এসেছে রিপিটেডলি। এমন লক্ষণ তার সমসাময়িক অন্য কোনো রকারের মধ্যে ছিল না। বিশেষ করে ‘একদিন চলে যাব দূরে’ — এই দূরের আইডিয়াটা মৃত্যুর প্রতীক হিসেবেই হাজির হয়েছে তার গানে নানাভাবে। ‘ঠিকানা শুধু এক সমাধি’ ইত্যাদি লাইনগুলো তার মৃত্যুবিষয়ক কনশাসনেসকেই রিপ্রেজেন্ট করে।

রকধারার গান হওয়ার পরেও একই সাথে একটা বিচ্ছেদি মেলোডি তার গানে ঘুরেফিরে এসেছে যার পরিণতি মৃত্যুতে পর্যবসিত হয়। তিনি যে উড়াল দেবার কথা বলেছেন তার গানে তা কেবল উফাত বা স্বেচ্ছামৃত্যুর সাথেই তুলনীয়। এ যেন এক বিষণ্ণ আর একাকী রকার ঘোষণা দিয়ে তার অভিমান ব্যক্ত করছেন। এখানেও মৃত্যুর হাজিরা।

প্রতিটি মানুষের একটা নিজস্ব মৃত্যুবোধ থাকে বিল্ট-ইন। সেই মৃত্যুবোধ তাকে টেনে নিয়ে যায় অন্তিমে। খুব কম মানুষই এই বোধকে শিল্পে রূপান্তর ঘটাতে পারেন। সোরেন কিয়ের্কেগার্দ, জীবনানন্দ, কাফকা — এমন অনেকের নামই বলা যাবে যারা মৃত্যুর শৈল্পিক রূপান্তর ঘটিয়েছেন তাদের কাজে।

ফ্রয়েডকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ৭০ বছর পার করার পর তার অনুভুতি কি, তিনি বলেছিলেন, “৭০ বছর আমাকে শিখিয়েছে কি করে মৃত্যুকে মেনে নিতে হয়।” মানে একটা প্রস্তুতির ভেতর দিয়েই গিয়েছেন ফ্রয়েড সাহেব। তার মৃত্যুবোধ যেন জীবনের আরেক অনাবিষ্কৃত অমোঘ অধ্যায়।

অ্যাপেলের কর্ণধার স্টিভ জবস তার এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, পৃথিবীতে মানুষের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার ‘মৃত্যু’। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এক সাক্ষাৎকারে বলছেন, “মৃত্যুকে সহনশীল করতেই হয়তো আমার গল্পে মৃত্যু এসেছে বারবার।” মৃত্যুর এই ধ্রুপদী ধারণাটাই আমরা দেখি আইয়ুব বাচ্চুর মধ্যে। এক মরমী রকার যেন মৃত্যুকে উদযাপন করছেন তার গানে, তার বাদনে।

… …

COMMENTS

Posari IT Solution
error: