আমার অহঙ্কার আমি জন্মেছি ব্যান্ডযুগে || রাহাত শাহরিয়ার

আমার অহঙ্কার আমি জন্মেছি ব্যান্ডযুগে || রাহাত শাহরিয়ার

রেডিও বাংলাদেশের ‘বিজ্ঞাপন তরঙ্গ’ এবং টেলিভিশানের রবীন্দ্র-নজরুল-আধুনিক-উচ্চাঙ্গ সংগীত — এ-ই ছিল বেড়ে-ওঠার সময়ে আমার গান শোনা। বয়ঃসন্ধিকালে একদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে হঠাৎ ক্যাসেটের দোকানে বাজতে-থাকা একটা গান কানে এল। ঠিক গান নয়, উত্তেজিত কোনো ব্যালাড :

আমি শুনি না পুরনো দিনের ওই গান
আমি বুঝি না তোমার রাগ-রাগিনীর টান
প্রথম যেদিন হলো আর্তনাদ —
আর পাগল … পাগল … বলে দিলে অপবাদ

আমার উচাটনের গান শোনা সেই থেকে শুরু। টিফিনের পয়সা আর রিকশাভাড়া জমিয়ে সে-ক্যাসেট কেনা হলো। আমি বাংলা রক্ গানের ভক্ত হলাম। এ শুধু সুর দিয়ে শেষ নয়। নয় শুধু নিটোল প্রেমের কাহিনি। এখানে বক্তব্য আছে ভাবার মতো। তবে মাকসুদের আর্তনাদ পর্যন্তই আমার দৌড় ছিল তখন। ওরা গান গেয়ে পাগল অপবাদ পেলো। আর আমি সেই গান শুনে কালার হলাম —

“এইসব কী পাগলামি? আর কারো গান ভালো লাগল না?”

— বাসায় সবার আহাজারি। তাতে অবশ্য আমি দমিনি। এর চেয়ে উচ্চতর টানের মেটাল গান ওয়ারফেজের। আমার ন-ফেভারিট। আমি ঐ লেভেলে তখনো উঠিনি। পত্রিকায় পড়লাম ইংরেজি ছাড়া কোনো গান করবে না — পণ করে বসা কিছু ছেলেপেলেকে মাকসুদ জোর করে ঢাকা ভার্সিটির ওপেন এয়ার কন্সার্টে বাংলা গান গাইয়ে ছেড়েছিলেন। তাদের একটা দল ওয়ারফেজ।

বাবনার ‘অবাক ভালবাসা’ ভালো লাগায় বন্ধুর কাছ থেকে ঐ ক্যাসেট এনে শুনলাম। কিন্তু আমাকে জাদু করল সাঞ্জয়। এভাবে মানুষ গাইতে পারে? কীভাবে অষ্টম সুরে ওঠে! ভোলিয়্যুম কমিয়ে দিয়ে শুনেও আমার বিস্ময় কাটে না।

তারপর অনেক বছর গেছে। বাংলাদেশের ’৯০-প্রজন্মের যত ব্যান্ডশিল্পী আছেন, তাদের সবাই কোনো-না-কোনোভাবে ওয়ারফেজের সাথে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ওয়ারফেজ অনেকটা নদীর পাড়ের মতো একটা ‘রাইড’ দিলো। ভাঙাগড়া চলল। এখনো চলছে। কিন্তু তাদের ধারাবাহিকতার এতটুকু এদিক-সেদিক হয়নি।

সাঞ্জয়ের ‘একটি ছেলে’ আর অধুনা ‘সত্য’ অ্যালবামের গান শুনলে একটা কথা মেনে নিতেই হবে, কমল-টিপুর বয়স বাড়লেও তারা এখনো ওয়ারফেজের পুরনো ভক্তদের নিরাশ করে না।

ফিডব্যাকের সব অ্যালবাম কিনতাম, ভালো-খারাপ সবগুলো গানের জন্য। ওয়ারফেজের অ্যালবামও আমাকে কিনতে হতো। ১০টা গানের মধ্যে শুধু একটা গানের মাত্র ২ মিনিটের কম্পোজিশান শোনার জন্য হলেও।

… …

 

COMMENTS

error: