সাক্ষাৎকারে ডিলান : জোসেফ হাস || রায়হান রহমান রাহিম

সাক্ষাৎকারে ডিলান : জোসেফ হাস || রায়হান রহমান রাহিম

SHARE:

বব ডিলান পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গীতিকার এবং সংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তী শিল্পীদের একজন। ১৯৬৫ সালে ডিলান ছিলেন ২৪ বছর বয়সী মেধাবী এক তরুণ সংগীতশিল্পী, যিনি নিজের গান শোনাতে গিয়েছিলেন শিকাগোর ম্যাককরমিক প্যালেসের এরি থিয়েটারে ৷ সেখানে শিকাগো ডেইলি নিউজের সাংবাদিক জোসেফ হাস তাঁর একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন, যাতে উঠে এসেছিল ডিলানের ফোক রক, রক-এন-রোল বিষয়ক বিভিন্ন মৌলিক চিন্তা এবং ব্যক্তিগত নানা দর্শন ও বোধ বিষয়ক আলাপের ফিরিস্তি। সেই সাক্ষাৎকারটিকেই বাংলায় অনুবাদ করেছেন রায়হান রহমান রাহিম

জোসেফ হাস : এখানকার কনসার্টে কি আপনি ফোক রক ধাঁচের কিছু করছেন?
বব ডিলান : না। এটা ঠিক ফোক রক না। ইন্সট্রুমেন্টটা একটু ঐ রকম বলা যায়, কিন্তু আমি এটাকে ম্যাথমেটিকাল সাউন্ড বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি— যেটা অনেকটাই ভারতীয় মিউজিকের মতো। আসলে এই বিষয়টি সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করে বলাটা একটু মুশকিল।

জোসেফ হাস : তার মানে কি, আপনি ফোক রক গোষ্ঠীকে অপছন্দ  করেন?
বব ডিলান : না, ঠিক অপছন্দ করিনা ৷ মানুষ যা করে বা করছে তা তো আমার ভালোই লাগে। অনেকেই গান লিখছে, সবারটা ভালো লাগবে না সেটাই স্বাভাবিক। যদিও অনেককেই চিনি না, তবুও তাদের যে চিন্তা, সৎ চেষ্টার ভেতর থাকা— এই বিষয়টাকে আমি শ্রদ্ধার চোখে দেখি, আমার ভালো লাগে। আমার বয়স এখন ২৪। যারা এই ধরনের গান বাজনা করছে বা শুনছে, বলতে গেলে সবাই বয়সে তরুণ। আমার বয়স যখন ছিল তের-চৌদ্দ তখন আমি রক-এন-রোল বাজাতে শুরু করি। আমি সেমি-প্রফেশনালি পিয়ানোও বাজিয়েছি একটা রক-এন-রোল গ্রুপের সাথে। তারপর সতের বছর বয়সে এসে আমাকে রক-এন-রোল মিউজিক ছেড়ে দিতে হয়েছিল, কারণ মনমতো আমি এটাতে তেমন সুবিধা করতে পারছিলাম না। আর তখন তো ফ্র্যাংকি অ্যাভালন, ফ্যাবিয়ানদের সময়। ঐ সময়, ওদের মতন না হওয়া মানে থাকতে হবে রীতিমতো বন্ধুশূন্য। পরবর্তীতে ১৯৫৮-৫৯ সালের দিকে আমি ওদেত্তা, হ্যারি বেলাফন্তেকে আবিষ্কার করি। তাদেরকে শুনতে শুনতে একসময় আমি নিজেই ফোকের দিকে ঝুঁকে পড়ি, পুরোদস্তুর ফোক গায়ক বনে যাই।

জোসেফ হাস : তাহলে কি বলা যায় যে মনমতো করতেই আপনি আপনার রাস্তাটা পাল্টিয়ে ফেলেছিলেন?
বব ডিলান : ঐ সময়ে রক-এন-রোল মিউজিক করে জীবনযাপন করাটা ছিলো বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। টিকে থাকার জন্য সারাদিন একটা ইলেক্ট্রিক গীটার, একটা অ্যাপ্লিফায়ার বহন করা আদতে কোন সহজ কর্ম ছিল না আমার কাছে। তখন তো ইলেক্ট্রিক গীটার কেনা মানেই বিশাল টাকা-পয়সার মামলা। তার উপর মিউজিশিয়ানদের খরচ জোটানো, আলাদা ভালো সাউন্ড তৈরির চেষ্টা— এগুলো আমার একার পক্ষে সামাল দেয়া ছিল যথেষ্ট ঝামেলার বিষয় ৷ কোনকিছু যখন কাউকে নিচের দিকে টেনে ধরে, তখনই সে আস্তে আস্তে ঐ জিনিসটি ছেড়ে দেবার পায়তারা খোঁজে। নাহয় এক সময় সে ঐ জিনিসটি আপনিই হারিয়ে ফেলে। এত অল্প বয়সে কেই-বা চায় কোনকিছু হারাতে? ফলে আমাকে রাস্তা পাল্টাতে হয়েছিল।

জোসেফ হাস : তবে কি আপনার ‘মনমতো’ বিষয়টি আর্থিক অবস্থান সমন্ধীয় কোন কিছু?
বব ডিলান : না। এটা একদমই টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোন বিষয় নয়। এটা সম্পূর্ণই নিজে ভাল থেকে কাউকে কষ্ট না দেয়ার জায়গা থেকে বেছে নেয়া।

জোসেফ হাস : তার মানে আপনি ফোক মিউজিক বেছে নিলেন, কারণ এখানে আপনার ভালো সম্ভাবনা ছিল মনমতো কাজ করাব। 
বব ডিলান : এমনও না আসলে। আমি টাকা-পয়সার কথা ভেবে ফোক মিউজিক করতে আসি নি। আমি ফোক মিউজিক করি মূলত এটাতে নিজে একা কাজ করবার সুযোগ আছে, শুধু একটা গীটার হলেই হয়।  কিন্তু এখনকার ফোক মিউজিকের প্রেক্ষাপট তো একটু ভিন্ন। আগের অনেক মিউজিশিয়ানই এখন আর নেই। কেউ কেউ চলে গেছেন, কেউ কেউ অন্য কিছু করেছেন। ফলে আগের মতোই এটি যে মানসম্পন্ন আছে এ কথা আর ঢালাওভাবে বলা চলে না। তবে নতুনরাও তো আসছেন সমানতালে। দেখা যাক কি হয়।

জোসেফ হাস : আপনাকে সেইরকমভাবে আর  ফোক সাউন্ডে কাজ করতে দেখা যায় না— কেন?
বব ডিলান : আমাকে অনেক রাস্তায় হাঁটতে হয়েছে। আর আমি পুরনো রাস্তায় ফিরে যেতে চাই না। প্রকৃত ফোক মিউজিক তো কখনো অ্যারোপ্লেনে চড়েনি। তার ছোট দুনিয়াতেই সে সবচেয়ে সুন্দর।

জোসেফ হাস : সে কারণেই আপনি ইলেক্ট্রিক গীটার ব্যবহার শুরু করে দিলেন?
বব ডিলান : আমি এটা অত ব্যবহার করি না, সত্যি!

জোসেফ হাস : কিন্তু অনেকেই তো আছেন, যারা আপনার ইলেক্ট্রিক গীটার ব্যবহারে কষ্ট পেয়েছেন। 
বব ডিলান : এটা তাদের সমস্যা। দুঃখিত বলতে পারছি না, কারণ আমি কোন দোষ করিনি। আর এটা জটিল কোন ব্যাপার বলে আমার কাছে মনে হয় না। এই সমালোচকরা কিন্তু শুরু থেকে আমার সাথে ছিলেন না। মজার ব্যাপার হচ্ছে, যারা একদম শুরুর দিন থেকে আমার সাথে ছিলেন, তাদের অনেকে এখনো আমার পাশে আছেন। এবং আমি কি করছি না করছি এই সমন্ধেও তারা অবগত।

জোসেফ হাস : তাহলে আমাকে বলুন নিউপোর্টের ফোক ফেস্টিভ্যালে আপনি যখন ইলেক্ট্রিক গীটার নিয়ে গাইতে উঠলেন, শ্রোতা সারি থেকে আপনাকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করা হলো কেন?
বব ডিলান : আমি জানি না ঠিক, তারা কারা। কিন্তু আমার কি মনে হয় জানেন, সবার জন্যই জীবনে ঠাট্টা-মশকরা তুলে রাখা থাকে। এসবকে আমি কোন কালেই ধর্তব্য মনে করিনি। এবং এটার কোন প্রভাবও আমার মাঝে পড়েনি কারণ যখন গাইতে উঠেছিলাম সেদিকে মনোযোগ ছিলো না। আর এইসব ঠাট্টা-তামাশা মূলত করা হয় আত্মসম্মানে আঘাত করার জন্য। যার ভেতর কোন আত্মসম্মানই নেই, তাকে কি এসবে দমানো যায় বলুন?

জোসেফ হাস : যে ঘরানার মিউজিক এখন করছেন একদিন যদি দেখেন ঐ মিউজিকের কাটতি শেষ হয়ে গিয়েছে, তখন কি করবেন?
বব ডিলান : আমি কখনো নির্দিষ্ট কোন ছকে আটকে থাকিনি। অবশ্য আটকে থাকার চেষ্টা যে করেছি এমনও নয়। আমি পারিনা আরকি! যেদিন মনে হবে সবকিছু ছেড়ে দেয়া দরকার, সেদিন এমনিই ছেড়ে দেব। অতকিছু ভেবে কোন সিদ্ধান্ত নেব না।

জোসেফ হাস : আপনার একটা গান আছে ‘দ্য টাইমস দে আর চেঞ্জিং।’ ঐ গানে তরুণদের চিন্তার সাথে বয়স্কদের চিন্তার একটা সুস্পষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। আপনার কি ধারণা বয়স্করা তরুণদের বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে?
বব ডিলান : ঐ গানটা তো এমন না। আপনার সম্ভবত এমন মনে হয়েছে তার কারণ আমি ঐ গানে অর্বাচীন জীবনবোধকে পুরনো জীর্ণ বোধের থেকে  আলাদা করবার চেষ্টা করেছি। বয়সের সাথে এর কোন বিরোধ নেই।

জোসেফ হাস : আপনার প্রথম বই আসছে, সে সমন্ধে কিছু বলুন ৷
বব ডিলান : ম্যাকমিলান বইটা প্রকাশনার দায়িত্ব নিয়েছে। আপাতত নাম ঠিক করেছি “ট্যারেন্টুলা”, পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন হলেও হতে পারে। বইয়ে টুকরো টুকরো অনেক লেখাই রয়েছে এবং সে সমন্ধে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা মুশকিল। ন্যারেটিভ জাতীয় কিছু না এটুকু বলতে পারি।

জোসেফ হাস: শোনা যাচ্ছে আপনি নাকি গান-বাজনা ছেড়ে দিয়ে শুধুই লেখালেখি করবার কথা ভাবছেন ৷ সত্যি নাকি?
ব ডিলান: সবকিছু যখন বিরক্ত লাগে, বলা যায় যে প্রায় নাভিঃশ্বাস পর্যায়ে চলে গেছে, তখন আমার নিজের জন্য কিছু করতে হয় ৷ এমনও হতে পারে লেখালেখি একদম ছেড়ে দিয়ে একদিন ছবি আঁকতে শুরু করেছি।

জোসেফ হাস: অর্থকড়ি যথেষ্ট রোজগার করা হয়ে গেলে মানুষ এমন স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা অর্জন করে ৷ আপনার কি তবে যথেষ্ট টাকা পয়সা রয়েছে, কি মনে করেন ?
বব ডিলান: না, আমি তেমন বলবো না। আপনি প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেন আবার একটা নির্দিষ্ট সময় পর ঘুমাতে যান ৷ এর মাঝে আপনার কিছু কাজ করতে হয়। আমিও ঠিক তাই করি। আমি যে সবসময় অর্থময় কাজ করি, তা কিন্তু না। মাঝে মাঝে বহু হাস্যকর কাজ কারবার করে আমার দিন কেটে যায়। কিন্তু যাই করি, আজকের জন্য করি এবং আগামীকালের চিন্তা যথাসম্ভব ঝেড়ে ফেলে করবার চেষ্টা করি। এত চিন্তা করে কাজ করা আমার অর্থহীন লাগে আর এসব আমার ধাতেও নেই।

জোসেফ হাস: তার মানে আপনি ভবিষ্যৎ না ভেবেই জীবনযাপন করতে পছন্দ করেন?
বব ডিলান: হ্যা। ইদানিং আমি পরিকল্পনা করে কাজ করা একদমই ছেড়ে দিয়েছি। কারণ যতবারই পরিকল্পনা করেছি, দেখা যায় সবকিছু সেই মত হচ্ছে না। কনসার্ট শিডিউলটা ঠিক রেখে যখন যা করতে ইচ্ছা করে, তখন তাই করি।

জোসেফ হাস: সংসারের স্বপ্ন দেখেন না? বাচ্চাকাচ্চা সহ একটা স্বাভাবিক স্থির জীবনের কথা কখনো ভেবেছেন?
বব ডিলান: আর সবার মতো বিয়ে করে একগাদা বাচ্চাকাচ্চা নেয়ার কথা ভাবতেও পারিনা। ভাবতে ভালো লাগেনা আরকি। যদি সে রকম কখনো কিছু হয়, হবে হয়তো বা। আপাতত সে নিয়ে ভাবনার কিছু নেই।

জোসেফ হাস: আপনার কথা শুনে মনে হয় আপনি বেশ হতাশাগ্রস্থ।
বব ডিলান: জীবন নিয়ে কিছু আশা কখনোই পূরণ হয়  না। এবং আমি সেটা মেনে নিয়েছি। এটা ঠিক হতাশা না, কিঞ্চিৎ দুঃখবোধ বলতে পারেন।

জোসেফ হাস: আপনার ধর্ম এবং জীবনদর্শন সমন্ধে জানতে চাই।
বব ডিলান: আমার কোন ধর্ম বা দর্শন নেই, তাই সেই সমন্ধে কিছু বলতেও পারবো না। অনেকের অনেক বিশ্বাস আছে, ব্যক্তিগত জীবন দর্শন আছে— সেটাকে আমি শ্রদ্ধা করি। আমার নেই কারণ আমি কি করবো, কি করবো না এই বিষয়ে আমি কারো মতামতের তোয়াক্কা করি না। আমি তো কোন কিছু পরিবর্তন করতে আসি নি। আর এখানকার কোন দর্শনই নতুন করে আমাকে কিছু দেয়নি। “ই-শিং” নামে একটি পুরনো চীনা দর্শনের বই আছে , যা পৃথিবীর সব দর্শনকে কোন না কোনভাবে স্পর্শ করে বলে আমার ধারণা। বইটির কথা অনেকেই জানে না। ঐ বইটির দর্শন বিষয়ক এক প্রকার মুগ্ধতা আছে আমার ভেতর। দেখুন আমি কাউকে পড়তে বলছি না, তবে কেউ চাইলে একটা সাধারণ বই হিসেবে বইটিকে পড়তে পারেন। সে বই পড়বার জন্য কোন বিশেষ ধর্মে বিশ্বাসী হবার দরকার নেই। তাছাড়া বইটির কাব্যমানও অনন্য, আমার ভালো লেগেছিল।

জোসেফ হাস: যখন কনসার্ট থাকে না তখন সময় কেমন করে কাটে?
বব ডিলান: আমি সবসময়ই হাতে কিছু সময় রাখি। যে কাজগুলো করা দরকার মনে করি সেগুলো সেই সময়ের ভেতরেই সেরে ফেলি। আমি একসাথে এত পড়ি না। লিখি, রেকর্ড করি, এই তো! স্বাভাবিক কর্মকান্ডের ভেতরেই থাকি।

জোসেফ হাস: জোয়ান বায়েজের আর আপনার মধ্যকার প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে যে রিপোর্টগুলো চোখে পড়ে সে নিয়ে আপনার কি কিছু বলার আছে?
বব ডিলান: সেগুলো পুরনো বিষয়, অনেক আগেই চুকেবুকে গিয়েছে।

জোসেফ হাস: জোয়ানের শেষ অ্যালবামেরও প্রায় অর্ধেক গানই আপনার গান।
বব ডিলান: সম্ভবত ঈশ্বর তাকে সাহায্য করেছে।

জোসেফ হাস: আচ্ছা যাই হোক, আমরা তো জানি আপনার পূর্ব নাম ছিল বব জিমারম্যান।  ডিলান টমাসের কবিতা পড়ে মুগ্ধতার কারণে কি নাম পাল্টিয়ে বব বব ডিলান রাখলেন?
বব ডিলান: নাহ! সে রকম কোন কিছুই নয়। আমার এক চাচা ছিলো। তার ডিলন নামটাকে পাল্টিয়ে নিজের নাম ডিলান রেখেছি কারণ এটা ভালো শোনায়। আমি ডিলান টমাসের কিছু লেখা পড়েছি। আমার ধারণা লেখালেখি ও চিন্তাজগতে আমরা দুজন অনেক আলাদা।

জোসেফ হাস: আপনার পরিবার নিয়ে কিছু বলুন।
বব ডিলান: আমার কোন পরিবার নেই। আমি সম্পূর্ণ েএকা।

জোসেফ হাস: একটা গল্প শোনা যায় এমন, যে আপনি নাকি একবার কোন এক কনসার্টে আপনার বাবা- মা’কে আমন্ত্রণ জানিয়ে স্টেজে বলেছিলেন আপনি এতিম। সত্যি নাকি?
ব ডিলান: সত্যি নয়, তারা এসেছিলেন নিজের ইচ্ছাতেই। আমি তাদের কিছু টাকাও দিয়েছিলাম সেদিন।স আমি যে তাদের ভালোবাসি না, বিষয়টি এমন না। আমার তাদের সাথে কোন যোগাযোগ নেই আপাতত, তারা মিনেসোটায় থাকেন। আমি মন চাইলেই মিনেসোটা থেকে ঘুরে আসি। যে যেখান থেকে উঠে এসেছে, সে মাঝে মাঝে সেখানেই ফিরতে চায় আমার ধারণা।

জোসেফ হাস: আপনার কথা শুনে মনে হয় আপনি জনমানুষ থেকে একদম বিচ্ছিন্ন কেউ। 
বব ডিলান: আমি যে জোর করে বিচ্ছিন্ন থাকি— তা কিন্তু না। জানি না, আমার স্বভাবটাই হয়তো এমন।  আমার ধারণা কি জানেন, সংযুক্ত থাকার চেয়ে হয়তো বিচ্ছিন্ন থাকাটা সোজা। তবে যারা একসাথে আছেন, থাকতে পছন্দ করেন তাদের সাথে আমার কোন বিরোধ নেই। আমি পারি না— এই যা। আমি তো কয়েকবারই অনেক কিছুর সাথে জুড়ে গিয়েছি, কিন্তু শেষে কি হয়? সবকিছু সেই ভেঙেই পড়ে। তাই নিজেকে ভাঙচুরে না ফেলার জায়গা থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি কারো সাথেই আর সংযুক্ত হবো না, একা থাকবো।

জোসেফ হাস: শুধুমাত্র আঘাত পাবেন বলে সম্পর্ক তৈরি করবেন না?
বব ডিলান: আমি আঘাত পাইনি। যা যা ঘটেছে সেগুলো নিয়ে পরে চিন্তাভাবনা করে দেখলাম এই বিষয়গুলো অনেকটাই একটা বিচ্ছিন্ন শীতকালের মতো।

জোসেফ হাস: আপনি কি তবে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলতে চান?
বব ডিলান: মানুষের সাথে সবসময় আমার সম্পর্ক ছিল, আছও। তবে চারপাশে অনেক বিচ্ছিন্ন মানুষই আছেন আমার মতো, যারা কোন সংগঠনে নেই, যাদের সংগঠিত হবার কোন পায়তারা নেই। ঠিক এই কারণে আমি এই বিচ্ছিন্ন জীবনযাপনকে মহিমান্বিত করতে চাই না। এমনও কোনদিন আসতে পারে, একটা নির্জন হাইওয়েতে অন্ধকার বাসের ভেতর ৪০ জন অচেনা মানুষের সাথে আমার দেখা হয়ে গেল। তাদের সাথে হয়তো আমার পরিচিত হওয়া লাগতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সেদিন তাই করবো, যা আমার করা উচিত।

… … 

COMMENTS

error: