সৈয়দ হক অনূদিত বব ডিলান

সৈয়দ হক অনূদিত বব ডিলান

SHARE:

ম্যুভিস্ক্রিপ্ট লিখেছেন তো বটেই, সিনেমার গান লেখার বাংলাদেশী ইতিহাসে সৈয়দ হক অন্যতম সফল গীতিকার। সম্ভবত জনপ্রিয় ম্যুভিগানের তালিকায় বাংলাদেশে এ-পর্যন্ত সৈয়দ হকের সৃষ্ট গীতকথা সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি। মিনিমাম কুড়িটা গান পাওয়া যাবে, ফিল্মি গান, যেগুলোর রচয়িতা সৈয়দ হক এবং সেগুলো মানের দিক বিচারেও অনবদ্য। অতএব সৈয়দ হকের হাতে কেমন অনূদিত হতে পারেন বব ডিলান তা নিয়া আগ্রহ থাকতেই পারে জনমনে। হ্যাঁ, বাংলায় ডিলানের একটা গান সৈয়দ হক অনুবাদ করেছেন বৈকি। কিন্তু ওই একটাই মাত্র। অন্তত আমাদের তালাশে এখন পর্যন্ত ওই একটাই মাত্র।

কথাসাহিত্য ও কবিতা ছাড়াও সৈয়দ শামসুল হক অলমোস্ট অবিরল ধারায় অনুবাদের কাজ করেছেন নিজের সাহিত্যিক জীবনের প্রারম্ভ থেকেই। ইংরেজি থেকে যেমন বাংলায় অনুবাদ করেছেন, নিজের রচনা বাংলা থেকে ইংরেজিতেও অনুবাদ করেছেন নিজহাতে, তেমনি উর্দু থেকে বাংলায় তার অনুবাদের কাজ উল্লেখযোগ্যরকমেই উপভোগ্য। অন্তিম বছরগুলোতে হকের হাত দিয়া বিস্তর মৌলিক কবিতা এবং অনুবাদ বেরিয়েছে। এর আগে ব্যাপকভাবে ব্যস্ত ছিলেন উপন্যাসে, কাব্যনাট্যে, এবং টেলিভিশনের কথানুষ্ঠান সঞ্চালনায়। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ব্যানারে মুর্দা দাফন এবং বৃহত্তর ক্ষমতাবলয়ের রাজনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষায় সৈয়দ হকেরে সর্বদা আগকাতারেই দেখা গিয়েছে। এই দুইটা কাজে লেখকদের মধ্যে সৈয়দ হকই শীর্ষস্থানীয় অক্লান্ত বোধহয়। এইটাও লক্ষ করব যে শেষদিকে এই প্রোলিফিক বাংলাদেশী লেখকের কথাসাহিত্য তথা কাহিনি লিখনের দীর্ঘচর্চিত স্রোত কমে এসেছে। সেই সুবাদে পাঠক হিশেবে আমরা পেয়েছি হকের অনবদ্য প্রসাদগুণসম্পন্ন অনুবাদ।

সৈয়দ হকের অনুবাদের প্রসাদগুণ সম্পর্কে একটা আইডিয়া তারাই করতে পারবেন যারা তার হাতের শেইক্সপিয়্যর, স্যল্ বেলো এবং উর্দু তর্জমাগুচ্ছ পড়েছেন। উর্দু থেকে শের বাংলায় আনয়নে তার স্বাদু ও প্রাঞ্জল অর্কেস্ট্রা আদৌ নজর এড়াইয়া যাবার নয়। কিংবা লাস্ট দশকে বেরোনো হকের অনুবাদের মধ্যে মিকেলেঞ্জেলোর কবিতা, হাফিজের দিওয়ান, ব্যাপারগুলো পঠনের অভিজ্ঞতা হিশেবে অবিস্মরণীয়।

ববির যে-ব্যালাডটা আমরা আজকে একটু বাদে দেখতে চলেছি, ‘পথিকের দুঃস্বপ্ন অথবা জাহানারার স্বপ্ন অথবা ফিদেল কাস্ত্রোকে অভিবাদন’ শীর্ষক, ঠিক ববি ডি-র কোন গানটা সৈয়দ ভাষান্তর করেছেন তৎসংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট বইটাতে মেলেনি কোথাও। অনুবাদটা পাওয়া যায় তার ‘বিম্বিত কবিতাগুলো’ বইয়ের আওতায়। ঢাকা থেকে ‘সন্দেশ’ প্রকাশ করেছে বইটা ২০০৩ সনে। সেই পয়লা প্রকাশ থেকেই আমরা পত্রস্থ রচনাটা আহরণ করেছি।

কিছু ব্যাপার তো সকলেই জানেন, তবু অবগত তথ্যও কখনো পুনর্ব্যক্ত করতে হয় নেহায়েত সময়ের প্রয়োজনে। যেমন, সৈয়দ হকের গদ্যানুবাদের মধ্যে শেইক্সপিয়্যর বা স্যল্ বেলো পড়ার অভিজ্ঞতা এক-রকম, —  ‘ম্যাকবেথ’, ‘ত্রয়লাস ও ক্রেসিদা’, ‘টেম্পেস্ট’ স্মর্তব্য; অথবা ‘শ্রাবণরাজা’/‘হেন্ডার্সন দ্য রেইন কিং’ — অন্যদিকে হকতর্জমায় ইংরেজি কবিতা বাংলায় আস্বাদনের অভিজ্ঞতা আরেক-রকম। উদাহরণ নিতে পারি ‘বিম্বিত কবিতাগুলো’ থেকেই। ফ্রিডম নিতে নিতে এতটাই বাংলা করে ফেলেন হক সেই ইংলিশ লিট্রেচারের পূর্বপরিচিত কবিতাগুলোও যে মাঝেমাঝে এতটা স্বাধীনতা বিরক্তির কারণও ঘটায়। শ্রুতিপীড়াকরও কখনো কখনো। তবু সব মিলিয়ে ব্যাপারটা বাংলা সাহিত্যের গ্রেইট এক অলরাউন্ডারের কীর্তি হিশেবেই অবশ্যদ্রষ্টব্য।

বব ডিলানের গানটা বাংলায় লিপিচিত্রিত করবার সময় হক কোথাও মূল গাথাকাব্যটার নাম সম্পর্কে একটুও উল্লেখ করেননি। প্রিফেইসে কিংবা ফ্যুটনোটে একটুও হিন্টস্ রেখে যাননি। বিম্বিত কবিতাগুলো বইয়ের নাম থেকেই অবশ্য হকের অভিপ্রায় কিছুটা আঁচ করা যায়; — যে, এইগুলো তো হুবহু অনুবাদ নয়, এইগুলো অনুসৃজন বলা বাঞ্ছনীয়। যেমনি বিম্বিত হয়েছে এইগুলো হকের দর্পণে তেমনি তিনি বাংলায় বর্ণায়িত করেছেন। মূলের ধার অতটা ধারেন নাই। সেই কারণেই হয়তো ববির এবং অন্য কোনো কবিরই অরিজিন্যাল কবিতার নামোল্লেখ থেকে বিরত থেকেছেন হক। রচনান্তে এক কর্নারে রচয়িতার নামটাই রেখেছেন শুধু। তথাস্তু।

ভূমিকায় নিজে বলেছেনও, ‘বিম্বিত কবিতাগুলো’ বইয়ের সম্পর্কে হকের বক্তব্য, “প্রতিদিনের ভাষায় একে বলা হবে — অনুবাদ; আমি বলব, — না। কবিতার অনুবাদ হয় না, কথাটা এতবার বলা হয়েছে যে এখন ক্লিশে শোনায়। তবে শুধু কবিতা কেন? — সৃষ্টিশীল কোনো রচনাই এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় অনুবাদ করা যায় না। সৃষ্টিশীল রচনার উপাদান যে-শব্দ, যে-ব্যাকরণ, যে-শাসন ও যে-স্বাধীনতা, তার ভেতরে পূরিত ও শর্তারোপিত হয়ে আছে সেই ভাষাভাষী মানুষের জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা, ইতিহাস ও রচয়িতার কল্পনাকিরণ ও স্বপ্নদুঃস্বপ্নবোধ; এ-সকল থেকে শব্দকে বিচলিত, বিচ্যুত, বিশ্লিষ্ট করা যায় না; এমনকি বাক্যগঠনও একেক ভাষায় একেক সংকেত, ব্যঞ্জনা ও ব্যক্তিত্ব ধারণ করে, অন্য ভাষায় তার অনুরূপ যত সক্ষম হাতেই করা হোক না কেন, ভারসাম্যহীন সে হয়ে পড়ে। সৃষ্টিশীল রচনার মধ্যে কবিতার বেলায় আরো সংবাদ এই যে, এ একেবারেই নয় প্রতিদিনের ভাষা, চেনা শব্দও নয় চেনামুখ নিয়ে উপস্থিত। অতএব, এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় কবিতার যা হয় — নতুন জন্ম, নতুন একটি কবিতা হয়ে ওঠে অন্য ভাষার অন্য কবির কলমে।” হ্যাঁ, তা-ই হয়েছে, এই বইয়ের দশফর্মা কাব্যসম্ভার সৈয়দেরই নিজস্ব যেন। কখনো সুখকর হয়েছে সেসব, অনেকসময় পীড়নকরও।

হক কোথাও উল্লেখ না-করলেও আমরা আন্দাজ করি ববি ডি-র রচনাটি অরিজিন্যালি ‘মোটরসাইকো নাইটমেয়ার’ শীর্ষক লিরিক্যাল গাথাটির অনুপ্রাণিত অবস্থান্তর। অথবা ভাষান্তর, অনুবাদ, তর্জমা, ভাষাবদল যা-ই বলুন। এই নিবন্ধের শেষে আমরা সৈয়দ হকের রূপান্তরটি রাখব প্রথমে, এরপরে বব ডিলানের রূপটি, এমনকি ইচ্ছে হলে নেট থেকে ‘Motorpsycho Nightmare’ লিখে গ্যুগল্ করে শুনেও নেয়া যাইতে পারে। অ্যানিওয়ে। সবই পাঠকের/দর্শকের/শ্রোতার ইচ্ছা।

_______________________________

সৈয়দ হক অনূদিত বব ডিলান

মূলের শিরোনাম : মোটরসাইকো নাইটমেয়ার

অনুসৃজনের শিরোনাম : পথিকের দুঃস্বপ্ন অথবা জাহানারার স্বপ্ন অথবা ফিদেল কাস্ত্রোকে অভিবাদন

মূলের কবি : বব ডিলান
অনুসৃজনের কবি : সৈয়দ শামসুল হক
সংগ্রহ ও ভূমিকাভাষ্য : সুবিনয় ইসলাম

________________________________

 

পথিকের দুঃস্বপ্ন অথবা জাহানারার স্বপ্ন অথবা ফিদেল কাস্ত্রোকে অভিবাদন

কতকাল থেকে কতদিন থেকে
চলেই চলেছি আমি।
এখন অনেক রাত হয়ে গেছে
এখানে একটু থামি।

ওই দ্যাখা যায় জানালায় আলো,
হঠাৎ খামারবাড়ি।
কতকাল ঘুম হয়নি আমার —
দরোজায় কড়া নাড়ি।

দরোজাটা খুলে বেরিয়ে যে আসে
হাতে তার রামদা’!
মারমুখো তার ভঙ্গিটি আর
আমার আমতা-আমতা।

রামদা’ ঠেকিয়ে আমার বুকে সে
বলে ভয়ানক স্বরে,
“বাছাধন, আমি কোথায় তোমাকে
দেখেছি যে মনে পড়ে।

তুমি রাজনীতি করো মনে হয়,
বাম দিকে যেন ঝোঁক।”
ঢোঁক গিলে আমি বলি তাড়াতাড়ি,
“ভুল করছেন লোক!

আমি তো পথিক, আমার এছাড়া
পরিচয় কিছু নেই।
শুধু এ রাতের আশ্রয় চাই —
আগমনহেতু এই।”

দু-চোখ নাচিয়ে উঁকি দেয় মেয়ে,
জাহানারা তার নাম।
যেন সিনেমার পর্দায় আমি
চম্পাকে দেখলাম।

তার দিকে চোখ রেখে আমি তার
বাবাকে তোয়াজ করি —
“এত সুন্দর আপনার বাড়ি!
মরে যাই! মরি, মরি!”

বাবা বলে, “থামো, তুমি তো পথিক!
বাড়ির তুমি কী জানো!”
বললাম, “আমি কবিতাই লিখি,
সুরে বসালে তা গানও।”

আমার নখের নিচে যে ময়লা
কসম দিচ্ছি তার —
দেখলাম যেন মনটি নরম
হয়ে এল এইবার।

“মনে হয় তুমি ক্লান্ত ভীষণ —
ঠিক আছে এসো ঘরে।”
কিন্তু এ কথা বলতেই হয়
ধূর্তামি ছিল স্বরে।

বিছানাটি পাবে ঘুমোবার, তবে
এই শর্তেই শুধু —
বিছানাই পাবে, চেয়ে বসবে না
তামাকের সাথে দুদু।”

ইশারাটি খুব আবছা তো নয় —
সরে যায় জাহানারা।
“সকালে উঠবে, গাইটি দোয়াবে —
বিছানার এই ভাড়া।”

শুয়ে পড়তে না পড়তেই ঘুম
ভেঙে এল দুই চোখে।
আমি কতকাল ঘুমোতে পারিনি
নিহত দিনের শোকে।

হঠাৎ কি হলো? ঘরে কেউ এল?
চেয়ে দেখি জাহানারা।
অমাবস্যার রজনীতে যেন
খসে-পড়া এক তারা।

“পথিক, তুমি কি গোসল করবে?
সারা গায়ে কী যে ধুলো!”
হেসে বললাম, “ধুলো বলছো কী!
বন্ধু যে ওইগুলো।”

“ধুলো বুঝি হয় বন্ধু কখনো?”
জাহানারা হেসে ওঠে।
আমি তো চাঁদের উদয় দেখেছি
কতবার কত ঠোঁটে।

এ জীবন জানি অমাবস্যার
একটানা এক রাত।
কোনোদিন যদি দিন আসে তবে
হতে পারে সাক্ষাৎ।

বেদনার মতো লাল দানাগুলো
ফেটে ফেটে পড়ে যায়।
নিঃশ্বাস ফেলে পাশ ফিরে আমি
ডুবে যাই বিছানায়।

ভোর হয়ে যায়। মনে পড়ে যায়
গাই দুইতে যে হবে!
বাবা বলে, “আরে, অদ্ভুত এ তো!
কথা কে রেখেছে কবে!

নিশ্চয় এটি বদ্ধ পাগল!
ভাগ্যে খ্যাপেনি রাতে!”
বললাম আমি, “এখনো অনেক
খবর রয়েছে হাতে।”

“কি রকম শুনি?” প্রশ্ন বাবার —
মুখখানা হাসি হাসি।
“যেমন ধরুন — ফিদেল কাস্ত্রো
তাকে বড় ভালোবাসি।”

বলেই আমি তো বিদ্যুৎবেগে
সরে যাই, দেখি বাবা
কাস্ত্রোর নাম হতে না হতেই
তুলছে বিশাল থাবা।

থাবা মানে থাবা! বাঘের সে-থাবা!
সরে গেছি একপাশে।
নেমে আসে থাবা, ভাঙে আলমারি,
জাহানারা খুব হাসে।

“হারামির হাড়! পথিক সেজেছ!
কমুনিস্ট তুমি শালা।
পৈতৃক প্রাণ খোয়াতে না হলে
ব্যাটা এক্ষুনি পালা।”

পালা মানে পালা! চোখের পলকে
হাজার মিটার পার।
দৌড়বাজিতে আমার চেয়ে কে
বাহাদুর খেলোয়াড়!

বহুদূর থেকে ভাঙচুর শুনি —
ভাঙে জানালার কাচ।
মড়মড় করে ভেঙে পড়ে যায়
খামারবাড়ির গাছ।

জাহানারা ডাকে চিৎকার করে —
“ফিরে এসো, উন্মাদ।”
অমাবস্যার দীর্ঘ রজনী
ফিরবে যে কবে চাঁদ?

আমি ফিরব না এইটুকু জানি
মাড়াব না ওই পাড়া।
গার্মেন্টসের চাকরিতে আছে
আজকাল জাহানারা।

এখনো বাবার থাবাটি শক্ত,
রামদায়ে বড় ধার।
ধড় থেকে মাথা আলাদা করবে
দেখা পেলে একবার।

লোকে বলে তাকে — “রাগ হবে সে-তো
আমাদেরও রাগ হয়।
দাড়ি থাকলেও ফিদেল কাস্ত্রো
মুসলমান তো নয়!

তবে ওই কবি, ওই যে পথিক —
ওরা আরো ভয়ানক।
হাতে যে কলম দেখছো ওদের —
আসলে বাঘের নখ।”

এখনো সে আছে ভয়ানক রেগে
খামারবাড়িতে একা —
পৃথিবীতে কত খামারবাড়িতে
পাবে তুমি তার দেখা।

তোমাকে তাড়িয়ে পথে যে নামায়
কোটি কোটি হয় তারা।
তোমার জন্যে একটিই বাড়ি —
একটিই জাহানারা।

তোমার জন্যে একটিই চাওয়া —
কবিতা একটি এই :
কথা বলবার স্বাধীনতা, তার
কোনো বিকল্প নেই॥

 

Motorpsycho Nightmare

I pounded on a farmhouse
Lookin’ for a place to stay
I was mighty, mighty tired
I had come a long, long way

I said, “Hey, hey, in there
Is there anybody home ?
I was standin’ on the steps
Feelin’ must alone

Well, out comes a farmer
He must have thought that I was nuts
He immediately looked at me
And stuck a gun into my guts

I fell down
To my bended knees
Saying, “I dig farmers
Don’t shoot me please”

He cocked his rifle
And began to shout
“You’re that travelin’ salesman
That I have heard about”

I said, “No ! No ! No !
I’m a doctor and it’s true
I’m a clean-cut kid
And I been to college too”.

Then in comes his daughter
Whose name was Rita
She looked like she stepped out of
La Dolce Vita

I immediately tried to cool it
With her dad
And told him what a
Nice, pretty farm he had

He said, “What do doctors
Know about farms, pray tell ?”
I said, “I was born
At the bottom of a wishing well”.

Well, by the dirt ‘neath my nails
I guess he knew I wouldn’t lie
He said “I guess, you’re tired”
He said, kinds sly

I said, “Yes, ten thousand miles
Today I drove”
He said, “I got a bed for you
Underneath the stove

Just one condition
You got to sleep right now
That you don’t touch my daughter
And in the morning, milk the cow”.

I was sleepin’ like a rat
When I heard something jerkin’
There stood Rita
Lookin’ just like Tony Perkins

She said, “Would you like to take a shower ?
I’ll show you up to the door”
I said, “Oh, no, no
I’ve been through this movie before

I knew I had to split
But I didn’t know how
When she said,
“Would you like to take that shower now?”

Well, I couldn’t leave
Unless the old man chased me out
‘Cause I’d already promised
That I’d milk his cows

I had to say something
To strike him very weird
So I yelled out
“I like Fidel Castro and his beard”

Rita looked offended
But she got out of the way
As he came charging down the stairs
Sayin’, “What’s that I heard you say ?”

I said, “I like Fidel Castrov I think you heard me right”
And I ducked as he swung
At me with all his might
Rita mumbled something

‘Bout her mother on the hill
As his fist hit the icebox
He said he’s going to kill me
If I don’t get out of the door

In two seconds flat
“Your unpatriotic
Rotten doctor Commie rat”.
Well, he threw a Reader’s Digest

At my head and I did run
I did a somersault
As I seen him get his gun
And chrashed through the window

At a hundred miles an hour
And landed fully blast
In his garden flowers
Rita said, “Come back”

As he started to load
The sun was comin’ up
And I was runnin’ down the road.
Well, I don’t figure I’ll be back

There for a spell
Even though Rita moved away
And got a job in a motel
He still waits for me

Constant on the sky
He wants to turn me in
To the FBI
Me, I romp and stomping

Thankful as a romp
Without freedom of speech
I might be in the swamp.

… …

COMMENTS

Posari IT Solution
error: