Xমাস

Xমাস

SHARE:

ডাবল বা ট্রিপল নয়, ছি ছি, সিঙ্গল এক্স। হয় নাকি? নিশ্চয়। আদর্শলিপির বইটায় পেয়েছি চাইল্ডহুড দিনগুলায়। ইংলিশ এক্স। প্রথম বর্ণটা ক্যাপিট্যালে, এরপরে একটা হাইফেন, সঙ্গে এমএএস্ ম্যাস। বঙ্গোচ্চারণে এক্স-মাস। শব্দার্থের জায়গায় বাংলায় বলা হচ্ছে বড়দিন, উচ্চারণ নির্দেশ করা হচ্ছে ক্রিসমাস। ঘটনা এইটুকু।

ছোটবেলায় এই মিস্টেরি নিয়া বিস্তর মাথা ঘামায়েছি, বাড়ির বড়-বড় মুরুব্বিদের জিগায়েছি, দিবসের শেষ অব্দিও মেলেনি রিপ্লাই। কিন্তু বলা হয়েছে এক্সমাসের উচ্চারণ ক্রিসমাস, অর্থ বড়দিন। বড়দের বলার ভিতর দিয়া তালগোল চিরদিনই পাকায়, নিরসন হয় না তালগোলের। এক্ষেত্রেও অন্যথা নয়।

কিন্তু যত বড় হচ্ছি, জিনিশটা নিয়া ভাবনা না বাড়লেও কমে নাই। জিগানো হয় নাই বিশেষ একটা টাইম পারাবার পরে কেউরেই, কিন্তু প্রশ্নটা যায় নাই ভিতর থেকে। একেক সময়ে একেক মানে ভেবে বের করেছি। ক্রসচেক করা হয় নাই কোনো সোর্সের সঙ্গেই। চাইল্ডহুডদিনের আরও অনেক অমীমাংসিত রহস্যের মধ্যে এইটা একটা, বড় নয় আবার ছোটও নয় বিষয়টা।

ক্রাইস্টের লগেই রিলেইটেড হলে এক্স লেটার নিয়া ক্রাইস্টরে কেমন করে চেনা যায়, কেউ বলে নাই। নিজে একেকটা মনগড়া ব্যাপার ভেবেছি। অনেক বড় হয়ে ক্রুশের/ক্রসের লগে এর সাযুজ্য কল্পনা করেছি। কিন্তু উপকথা ইত্যাদি ঠিকমতো শোনা বা মানে-করার বয়স তো অনেক পরের ঘটনা। আবার প্যাঁচ লেগেছে রেডক্রস ইন্টারন্যাশন্যালের সিম্বল তো যোগচিহ্ন, ক্রসই বলা হয় যদিও, ক্রস তো বরং বাংলায় গুণচিহ্ন। ক্রুসিফাই কিংবা ক্রুসিফিক্সেশন ইত্যাদি ওয়ার্ড বা আইডিয়ার আন্দাজ পেতে পেতে অ্যাডাল্ট বয়সেই পৌঁছে গেছি। কিন্তু রোম্যান হরফ/সংখ্যাধারণা আরও পরে এসেছে মাথায়।

পাখির ধারণাও মনে এসেছে ছেলেবেলা পারায়ে একটু ড্রয়িং করবার শখ মিটাইবার সময়। তিনটা অসমান সরলরেখা দিয়া সরলচিত্তে পাখি আঁকবার সময়। জেসাস ক্রাইস্ট নিজেও তো উড়ালই দিয়েছেন। যন্ত্রণায় তিরবিদ্ধ ক্রৌঞ্চমিথুনও অনেক পরের ভাবনাচিন্তা। মা নিষাদের পয়ারাবদ্ধ প্রণয়চিৎকার।

উনি বিয়ে-থা করেন নাই, নিঃসঙ্গ বেচারা আমৃত্যু/আজীবন অকৃতদার ব্যাচেলারই, বিশেষ কোনো স্ক্যান্ডালও তো শোনা যায় না। যা যায়, তা বিশ্বাসীদেরে টলাবে কেন? অবিশ্বাসীরা মাথা ঘামাবে কেন সদাপ্রভুর মতো অত ঠুনকো অস্তিত্ব নিয়া? পাপারাৎসি আর প্রপাগান্ডিস্টদের কথা বাদই দিলাম। ফলে, মেডইজি অ্যান্সারের খোঁজে এই নিবন্ধকারের বন্দেগি তামা হয়েছে, অ্যান্সার মেলেনি।

জীববিজ্ঞানের কথা মাথাতেও আসে নাই তখন। উনার জন্ম তো বায়োলোজিসিদ্ধ নয়, থিয়োলোজি নিয়া বাচ্চাবেলায় পাগলেও কি ভাবে? এক্স ক্রোমোজোম আর ওয়াই ক্রোমোজোম নিয়া ভাবতে ভাবতে ভেড়াতে চেয়েছি চিন্তার নৌকাটা ঘাটে, ব্যাহত হয়েছে সেই চিন্তা মাঝপথেই। ইন্টারমিডিয়েটের পরে বিজ্ঞান তো বিজ্ঞান, ধর্ম-থিয়োলোজি দিল্লি-দুরাস্ত্, কোনোকিছু পড়াশোনাটাই ইস্তফা দিয়েছি। যদিও অনেক উঁচায় আরোহণ করেছি বিদ্যাপাহাড়ের, কিন্তু পড়াশোনাটা ইন্টারমিডিয়েটের পরে আর করি নাই মোটেও। হয়ে গেছি লেখক। প্রশ্ন নাই কিন্তু উত্তরমালায় পেটফোলা বাংলার লেখালেখিনিখিল। গলগল করে অ্যান্সারমালা খালি। নিষ্প্রশ্ন উত্তরের অনর্গল প্রবাহ।

বহুকিছুই ভেবেছি জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে। এক্স-মাস কেমন করে ক্রিসমাস হয় — এর সুরাহা আজও হয় নাই আমার কাছে। ব্যাপারটা আংরেজিতেই লিখে দেখাই : X-mas = ক্রিসমাস, অর্থ বড়দিন। হাউ কাম? কোনো কসরতের সময়েই ঘাম হতো না তখন, নইলে ঘাম ছুটে যেত ওই বয়সেই। কিন্তু বড়দিন মানেই-যে এক্সমাস, উয়িথ অ্যা হাইফ্যান, সন্দেহ করি না। আজও বড়দিন এলেই ইমেইজ ভাসে একটা লাল টকটকা ইংলিশ লেটার এক্স। বড়হাতা, ক্যাপিট্যাল, এক্স। রক্তরঞ্জিত। সন্দেহোর্ধ্ব।

টু নয় থ্রি নয়, সিঙ্গল এক্সের একটা দিন আছে আমাদের, ডিসেম্বর টোয়েন্টিফিফথ।

মেরি ক্রিসম্যাস! শুভ বড়দিন!


প্রচ্ছদচিত্র / সত্যজিৎ রাজন ।। লেখা / সুবিনয় ইসলাম

… …

COMMENTS

error: