একটি উপন্যাসের আন্তঃপাঠ : নদীধারা আবাসিক এলাকা || আনসারউদ্দিন

একটি উপন্যাসের আন্তঃপাঠ : নদীধারা আবাসিক এলাকা || আনসারউদ্দিন

SHARE:

“নদীধারা আবাসিক এলাকার সকলই বদল হয়, শুধু বাড়িওয়ালাদের সম্ভ্রম বদল হয় না। জেনানারা এর ওর হাতে সহজেই বদল হয় — পুরুষেরাও। মালসামান হাতবদল হয় — এমনকি বউ-স্বামীও। একে অন্যের পুরনো বউ ভাগিয়ে নিয়ে দিব্যি সংসার জুড়ে বসে। এতেও সমস্যা কিছু নাই। কারণ ওই পরিত্যক্ত সোয়ামিকে নিকে করে ফেলে সেই ভাগলার বউ।

আবর্তনশীল গণিত মেনে ক্রমাগত হাতবদল চলে। জীবন হাতবদল হয়। সংসার। কোনো ভরভরন্ত সংসারের আজ যে কর্তা, কাল সে হঠাৎ বিবাগী হয়ে যায়। বহুকালের সংসার ভেসে যায় বুড়িগঙ্গার স্রোতে। ফলে আগানগরের মানুষ আর কোনোকিছুতেই অবাক হয় না। সার্কাস দেখে বিস্ময়াভিভূত মানুষের সংখ্যা এখানে নগণ্য। সবার জীবনেই অল্পবিস্তর ভাঙাগড়া রয়েছে, রয়েছে নানান গল্পকাহিনি। কিন্তু মানুষেরা ঘোড়দৌড়রত বলে জীবন এইখানে থমকে দাঁড়াতে পারে না। বুড়িগঙ্গায় যেমন পতিত জঞ্জাল ভেসে যায়, জীবনও এইখানে ভেসে চলে নিরন্তর।”

মানুষের চিত্রবিচিত্র জীবনযাপন ও তার নিরন্তর ভেসে-যাওয়ার ছবি এঁকেছেন এই সময়ের খুবই পরিচিত কথাসাহিত্যিক পাপড়ি রহমান। তাঁর ‘নদীধারা আবাসিক এলাকা’ উপন্যাসে এমনই ভাষ্য উঠে এসেছে। ইতিপূর্বে এই লেখিকার বেশ কয়েকটি উপন্যাস পাঠ করে তাঁর প্রতি এক ধরনের সম্ভ্রম তৈরি হয়েছে। ‘বয়ন’, ‘পালাটিয়া’ প্রভৃতি উপন্যাসগুলি পড়লে বোঝা যায় তিনি কেবল কাহিনি নির্মাণ করেন না, নিম্নবিত্তের মানুষের গভীর জীবনবোধের জায়গায় মরমি দৃষ্টি নিয়ে পৌঁছে যান। ‘নদীধারা আবাসিক এলাকা’ উপন্যাসও তেমনি একটা বিচিত্র জীবনভাণ্ডারের গ্রন্থনা, — যা আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায় বা এক ভাবনা থেকে অন্য ভাবনায় জারিত করে।

উপন্যাসের শুরু থেকে জানতে পারি বাবুবাজার ব্রিজের ইতিহাস যা ঝুলন খেলছে বুড়িগঙ্গার উপর। ব্রিজ হচ্ছে মিলনের প্রতীক, — যার নিচে বয়ে চলে স্রোতস্বিনী বুড়িগঙ্গা আর উপরে রিকশা ভ্যান টমটম ও অন্যসব যানবাহনের বেলাগাম গতায়াত। এখানে জীবনের কোনো ছেদবিন্দু নেই। মানুষের অব্যবহৃত নানান বস্তুসামগ্রী নির্দ্বিধায় ফেলা হচ্ছে বুড়িগঙ্গার জলে। যার ফলে নগরনটিনীদের রোগবালাই দুঃখ জরা আর পাপাচারে অসহ্য হয়ে ওঠে নগরজীবন। বুড়িগঙ্গা নদীকে এসব নিত্যিকার কলুষচিহ্ন বয়ে নিয়ে যেতে হয়, ফলে পাল্টে যায় নদীর সুরত, — জল হয়ে ওঠে আলকাতরা-গোলানো তরল, গাঢ় অমানিশায় ম্লান আর অনুজ্জ্বল।

পাপড়ি রহমান বুড়িগঙ্গা নদীর ব্রিজের সঙ্গী করেছেন পাঠককে। আমরা যারা এই নদী ও ব্রিজ দেখিনি তাদের চোখে এঁকে দিয়েছেন মায়াকাজল। তাতেই দৃশ্যমান হয় সদরঘাট আর আলম-টাওয়ারঘাট। আলম টাওয়ার কোনো-এক আলম ব্যাপারির দম্ভকেই প্রকাশ করছে। এ-রকম আরো অনেক ঘাটের কথা জানতে পারি উপন্যাসের নানান পরতে — নাগরমহল ঘাট, ইস্পাহানি-ময়লার ঘাট, কোচিশাহ ঘাট, ব্রিজঘাট আর নাজুব্যাপারির ঘাট। এ থেকে উঠে আসে আগানগরের ঘাটের কথা। সদরঘাট, ওয়াইজঘাট, ডাবঘাট, বাদামতলিঘাট, বাবুবাজারঘাট, মিটফোর্ডঘাট।

প্রতিটি ঘাট পত্তনের আছে একেক রকমের ইতিহাস। তা সত্ত্বেও বলা চলে একইভাবে বেঁচে থাকার প্রতিযোগিতা। অবিরত মানুষের হাঁকডাক, কথাকলি, বাঁচার আর্তনাদ। কেউ ফকির হচ্ছে কেউ বাদশা বনে যাবার স্বপ্ন দেখছে। তাতে নোংরা ও আবর্জনার স্তুপে ভরে উঠছে নদীখাত। নদী দূষিত হলে বুঝি মানুষের মনও দূষিত হয়। নষ্ট হয় পারস্পরিক ভালোবাসা ও বিশ্বাস। তাই বুড়িগঙ্গার বুকের উপর এলিয়ে থাকে ঐতিহ্যশালী ঢাকা শহর। পাপড়ি রহমান খুবই ঠিকভাবে লিখেছেন — “নগরনটী কোনোকালেই কোনো নদীকে বেগবান করে না। বরং ছলাকলা-জানা নির্লজ্জ নটীরা জলের জন্য হানিকর, নদীর জন্য অভিশাপ। … নাগরিক মানুষের গুনাহর কারণেই সে হারাতে থাকে নিজের তীব্র খর স্রোত।”

তবু বলতে হয় জল নিয়েই মানুষের বেঁচে থাকা। বাঁচার স্বপ্ন রচনা। তাই বুড়িগঙ্গার তীরে বহুতল ফ্ল্যাটবাড়ি আকাশে মাথা তোলে। নিচে লঞ্চঘাট স্টিমারঘাট সদরঘাট। এখানেই খুঁজে পাওয়া যায় রহমালিকে, যে চেয়েছিল ফ্ল্যাটবাড়ির উত্তরের জানালা দিয়ে উড়ে-আসা মুক্ত বাতাসের স্পর্শ যা তার দেহমন জুড়িয়ে দেবে। লায়েক হওয়ার পর দুটি জিনিসের প্রতি তার দুর্নিবার আকর্ষণ জন্মায় — এক, বুড়িগঙ্গা এবং দুই, প্রথম স্ত্রী আঙ্গুরাবিবি।

আবার এটাও তো ঠিক যে-চোখ নদী দেখে সে-চোখ কখনো দিঘি বা পুকুরে স্থির থাকে না। সে-কারণে মানুষের মন আরেক মানুষের দিকে ধাবিত হয়। নদীর ভাঙনের মতো ভেঙে পড়ে ঘরসংসার; হিসাবের যোগবিয়োগ কোনো গুণিতকে মেলানো যায় না। তাই রহমালি আঙ্গুরাবিবিকে ছেড়ে নয়তুন্নেছার সঙ্গে ঘর বাঁধে। কখনো তার মনে হয়েছে নদী ও নারীর স্বভাবগত পার্থক্য রয়েছে বিস্তর, আবার কখনো সে মিলও খুঁজে পেয়েছে অনেক। বারবার এ-বিষয়ে তার মনে ভ্রম জন্মায়, কুহক জন্মায়। রহমালির মনে দার্শনিক বোধের জন্ম নেয় এখান থেকেই। “রহমালি দেখেছে নদীর বাঁক বেদেনির কোমরের চাইতেও রহস্যময়। যেখানেই নদীর বাঁক ঘোরে সেখানেই তৈরি হয় নতুন ধন্দ। নতুন উত্তেজনা। নতুন জনপদ।” রহমালি আরও দার্শনিক ভাবনায় জারিত হয়ে বুঝেছে, “নারীকে যদি দেহ দাও সেও তোমারে তুলাবীজের মতন লুফে নেবে। অতঃপর সেই বীজ বুনে দেবে নিজেরই গর্ভে। তোমার হাড়গোড় আর রক্তমাংসের নতুন মহাজন, নয়া কারবারি।”

এ-কথা বলতেই হয় যে ‘নদীধারা আবাসিক এলাকা’ পাপড়ি রহমানের এক আশ্চর্য জীবনগাথা। বুড়িগঙ্গার ঘাটে ঘাটে যে-জনপদ গড়ে উঠেছে সেই জনপদের মানুষকে কখনো ভীষণ চেনা, আবার কখনো একেবারেই অচেনা মনে হয়েছে। বিশেষ করে নারীচরিত্রগুলি নদীর বাঁকের মতোই রহস্যময় মনে হয়েছে। নরনারীর সম্পর্কগুলি খুব ঠুনকো আর পলকা বলে মনে হয়েছে। উপন্যাসের প্রারম্ভে একের পর এক নানান চরিত্রের আবির্ভাব ঘটেছে। সম্পর্ক ভাঙা এবং গড়ার পট পরিবর্তন ঘটেছে বুড়িগঙ্গার ঢেউয়ের মতোই। এই জায়গায় পাঠক হয়তো তাল মেলাতে একটু হিমশিম খেতে পারেন। কিন্তু মনোযোগী পাঠক নিশ্চয় বিষয়টি আরো নিবিষ্টতায় যাচাই করবেন। পরপর-ঘটে-যাওয়া নানান ঘটনার সঙ্গে নানান চরিত্রের আনাগোনা পরবর্তী সময়ে উপন্যাসকে সমৃদ্ধ করেছে।

শনতারা, রেফুল, দুরদানা বিবি, নয়তুন্নেছা, বিলাতন বিবি, এলেমজান বিবি, খৈমন, ইছমত আরা, জুলেখা, সুফিয়া খানম প্রমুখ একাধিক নারীর বিভিন্ন প্রকাশ ঘটেছে। নারীচরিত্রের প্রকাশের বৈচিত্র্য এতটাই বহুমাত্রিক যে লেখিকার দার্শনিক বোধকে ধন্যবাদ জানাতেই হয়। তাদের নানারকম চাওয়াপাওয়া মানঅভিমান প্রতিবাদ ও আর্তনাদ নিজস্ব ভাষায় রূপ পেয়েছে। এই উপন্যাসের বুনট তাঁর অন্যান্য উপন্যাসের থেকে আলাদা। গঠন এবং নির্মিতিও আলাদা। প্রতিটি চরিত্র তার নিজস্বতা রক্ষা করতে পেরেছে। ফলে এক মহাকাব্যিক জীবনধারার সন্ধান মেলে।

আবার ইছমত আরার প্রথম স্বামী হাবুল সরকার জয়নালের স্ত্রী জুলেখা বেগমকে নিয়ে চলে যায়। এমতাবস্থায় জয়নাল আর ইছমত আরা ঘর বাঁধে। তবু পুরাতন সম্পর্কের টানাপড়েন থেকেই যায়। একেবারে প্রেমভালোবাসাহীন এই দাম্পত্য। জয়নাল মিয়াকে নিয়ে মেতে থাকার ইচ্ছে তার ছিল না। জয়নাল নেশাড়ু, স্বার্থমগ্ন পুরুষ। হাবুল সরকারের ঔরসজাত বাবুলকে সে কখনো নিজের বলে মেনে নিতে পারেনি।

জয়নালের প্রতি টান অনুভব না করলেও পূর্বস্বামী হাবুল সরকারের প্রতি টান অস্বীকার করতে পারেনি ইছমত আরা। বোধ করি হাবুল সরকারও। সে মাঝেমাঝে ইছমতের মুখোমুখি দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। আসলে জীবনের প্রথম দাম্পত্যের সম্পর্কের বাঁধন সহজে বুঝি ছিন্ন হয় না। পাপড়ি রহমান আমাদের সেই কঠিন জীবনবাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেন।

“ইছমত আরা দ্রুত সরে আসে। অথচ হাবুল সরকার সেভাবেই দাঁড়িয়ে থাকে। ইছমত আরা ফিরতে ফিরতে থমকে দাঁড়ায়। কয়েক কদম সামনে এগিয়ে বলে —
কাইলকা থাইকেন এইহানে। মগরিবের আজানের পর আমি আসমু।”
এরপর লেখিকা লেখেন — “অনেকদূর চলে আসার পর ইছমত পিছনে তাকালে দেখে হাবুল সরকার তেমনিভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আহা! এই নুকটাই আমার সোয়ামি আছিল। কতডি বছর একনোগে সোমসার করলাম! একই বিছানা। একদেহ। হেয়ও আমার সর্বাঙ্গ জানে। আমিও হের সর্বাঙ্গ জানি। হের ভালো জানি। মন্দও জানি। হেয়ও আমার ভালো-মন্দ জানে। অথচ আইজ হেয় চাইলেও আমারে ধইরা রাখতে পারে না। আমিও তারে ধইরা রাখতে পারি না …”

এই উপন্যাসে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকায় রয়েছে রেফুল। সে ইস্কুলে পড়তে চায়। আটক্লাস পেরোনোর জন্য পিতা আইজুদ্দিন আশিবার শারীরিক অত্যাচার করে। মা খৈমন তাতে মদত দিত। তাই রশিদও তাকে আক্রমণ করত। একটু বয়স বাড়তেই রেফুল পরিবারের কাছে অসহনীয় হয়ে উঠল। কারো কোনো স্নেহ-ভালোবাসা না পাওয়া রেফুলের বিয়ে হয়ে যায় মিনহাজ ব্যাপারির সঙ্গে। কামুক মিনহাজ শুধু নারীর শরীর বোঝে। তার মন বোঝে না। মনের খবর নিতে চায় না সে।
“শীতলক্ষ্যা নদীতে লঞ্চ পড়তেই মিনহাজ রেফুলের স্তনে হাত দিয়েছিল। শক্ত হাত। পশুর মতো হিংস্র থাবা। রেফুল ভড়কে গিয়ে কোনোরকমে বলতে পেরেছিল — এমন কইরা? এই লঞ্চের ভিতরেই?”

কিংবা আগানগরের যে-বাড়িতে এনে রেফুলকে তুলেছিল সেখানকার পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই মিনহাজ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল রেফুলের উপর। পাপড়ি রহমান লিখছেন — “রাত ঘন হয়ে উঠতেই মিনহাজ ব্যাপারি ঘরে ঢুকে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে দিলো। ফের রেফুলের স্তন আর যোনি। যোনির দখল। স্তনের দখল। ফের দস্যুতা। এক-সময় অস্থির হয়ে নিজেকে শান্ত করা। মিনহাজের দস্যুবৃত্তির কাছে রেফুল নিশ্চুপ রইল, সে যেন সমুদ্দুরের তটে পড়ে-থাকা প্রবালখণ্ড।”

পিতৃগৃহে এবং পতিগৃহে রেফুলের জীবন ছিল অত্যাচারের, অবিচারের। এমনকি মৃত সন্তান প্রসবের দায়ও তার উপরই বর্তায়। এই অত্যাচার এবং অবিচারের মধ্যে থেকে রেফুল নিজেকে গড়ে তুলছিল। শনতারার লেখা গানে সুর দেয় সে। কখনো নিজেও রচনা করে গান গজল। ধর্মকথা বয়ান করে জেনানা মজলিশে। বয়ান হয় বিষাদসিন্ধুর অংশবিশেষ। কিংবা হাদিসের নানান আখ্যান উপাখ্যান।

এ-ব্যাপারে শনতারা আগে থেকেই পারদর্শী ছিল। সে গান লেখে —
আশিক ছাড়া মাশিক মিলে না
পাগল দিওয়ানা
আশিক ছাড়া মাশিক মিলে না
আশিক ছিল হযরত বিল্লাল
এই আশিকে থাকত নবি হাল গো
এই আশিক আর ভবে মিলবে না।
ও আশিকের দিওয়ানা …

স্বামী-পরিত্যক্তা শনতারা এই গান-গজল কেন্দ্র করে কখনোসখনো মানঅভিমান, আবার এই মানঅভিমান এক-সময় ভুলে গিয়ে তারা পরস্পরের অনেকটা কাছাকাছি চলে আসতে পারে। দুরদানা বেগমও প্রতি বৃহস্পতিবারে তালিমের আসর বসায়। তার স্বামী তৈফুর মিয়া পারলে স্ত্রীর মুখে গামছা বেঁধে দেয়। পলাশপুর, রহিমগঞ্জ, তিন পহরের বিল, বইল তইল, দূরের গাঁও, শালিকচূড়া এমনকি কেষ্টনগর থেকেও ডাক আসত দুরদানা বেগমের। এদের সঙ্গে যুক্ত হয় সুফিয়া খানম। হাজি করিমের বউ। আগানগরের জেনানারা দু-একবার তার বিলাসবহুল বাড়িতে প্রবেশের সুযোগ পায়। করিমকুঠিরের বিশাল হলরুমে মাইক্রোফোন আর স্পিকার লাগিয়ে তালিমের আসর বসে। ধর্মকথা শোনায় মগ্ন নারীদের ওপর ইরান থেকে আনা গোলাপজল ছিটানো হয়।

আরো অনেক কাহিনি-উপকাহিনিতে ভরপুর ‘নদীধারা আবাসিক এলাকা’ উপন্যাস। পড়তে পড়তে মনে হয়েছে এক চলমান নারীজীবনের অশ্রুতপূর্ব কথাবয়নের সাম্রাজ্যে প্রবেশ করেছি। প্রাথমিকভাবে যে-নারীকে দেখছি পরবর্তী সময়ে তার অনুচ্চারিত আর্তনাদ টের পাচ্ছি। ধর্ম, মিলাদ মাহফিল, গজল, গান, তালিমের পথ ধরে বেঁচে থাকার আপ্রাণ প্রচেষ্টার মধ্যে যদি নিজেদের সামাজিক অধিকার বিষয়ে আরেকটু সচেতন হতেন তারা! তাহলে হয়তো হতে পারত সামাজিক এবং ধর্মীয় উৎপীড়নের বিরুদ্ধে এক যৌথ প্রতিবাদ, তখন সন্দেহ নেই উপন্যাসের গতি অন্য এক খাতের দিকে এগিয়ে যেতে পারত। সেক্ষেত্রে তা হতো অন্য এক উপন্যাসের সূচনাপর্ব।

মহাকাব্যিক এই উপন্যাসের জাল যতদূর বিস্তার লাভ করেছে, তা গুটিয়ে আনা খুব সহজ কাজ নয়। উপন্যাসের শেষদিকে ট্যাক্সিক্যাব বা টেম্পোর বিস্ফোরণে রেফুল, এলেমজান, ইছমত আরাদের জীবনবিপর্যয়ের কারণ নদীর বাঁকের মতো রহস্যময় থেকে গেল। হয়তো এটাই জীবন, এটাই স্বাভাবিক পরিণতি।

… …

গানপার

মননাশ্রয়ী বিনোদনের সৃজনসম্ভার।
গানপার

COMMENTS

error: