খেইল খতম

খেইল খতম

SHARE:

তাপ্সি পান্নু অভিনয়কলায় এতটাই পারদর্শী যে আপনি তার প্রশংসা করা আর না-করার মধ্যে তেমনকিছু যায় আসে না। ভালো কাজের প্রশংসা আপনি করলেই কি আর না-করলেই কি। ইন রিসেন্ট ইয়ার্স বলিউডি সিনেমাশিল্পে যে-কয়জন রিয়্যাল ট্যালেন্ট নজরে এসেছে, তাপ্সি ইজ ওয়ান অ্যামাং দেম। খুবই ন্যাচারাল অভিনয়শিল্পী। জিনিশটা আপনি এখনও যদি হৃদয়ঙ্গম না করে থাকেন তবে ‘গেইম ওভার’ ম্যুভিটা ট্রাই করতে পারেন।

অশ্বিন সারাভানন ছবিটা বানিয়েছেন অত্যন্ত মুনশিয়ানার সঙ্গে। ‘গেইম ওভার’ একটা সাইকোলোজিক্যাল থ্রিলার ঘরানার ম্যুভি। থ্রিলার এবং হরর। ঘটনাটা হচ্ছে, এই ইভেন্টফ্যুল দুনিয়ায় আমাদের জীবনে কোন ঘটনাটা বাস্তবে ঘটছে আর কোনটা ঘটছে বলে মনে হচ্ছে অথচ হয়তো ঘটছে না তা নিয়াই সিনেমা। বাস্তব আর তার ইল্যুশন। উভয়ের দ্বন্দ্ব ও মিথস্ক্রিয়া। ছায়াছবিটা দাঁড়িয়ে আছে এই ইল্যুশনের সম্ভবপরতার উপর।

কাহিনির কেন্দ্রে একজন নারী যিনি পেশায় গেইম-ডেভেলপার। কেন্দ্রীয় ক্যারেক্টারটার নাম স্বপ্না। বাস্তব আর অবাস্তবের প্যারাল্যাল একটা আবর্তে তার বাস। সমান্তরাল একটা জগতে সে থাকে সারাক্ষণ। অস্তিত্বের একটা বাস্তবিক ইল্যুশন নিয়া তারে দিন গুজরান করে যেতে দেখা যায়। প্যারাল্যাল জগতের একটা আশ্চর্য সেইফটিনেটে সে ঘেরাও হয়ে রয়েছে বলে মনে হয়। ব্যাপারটাকে সাইকোলোজির ভাষায় নিক্টোফিলিক বলে সম্ভবত। আর তা এতটাই জোরালো যে একটু অন্ধকারেই সে প্যানিকড হয়ে পড়ে। এর পেছনে একটা লম্বা হিস্ট্রি আছে অবশ্য। বর্ষশেষের দিনটায় তার মানসিক অবস্থা আরও নাজুক হয়ে ওঠে। মডার্ন মনোবিজ্ঞানে অ্যানিভার্সারি রিয়্যাকশন বলে এমন পরিস্থিতিটাকে। এমনভাবে ঘটনা সংঘটিত হয় যে সেইটাকে রিয়্যাল বা বাস্তব বলা যাবে না।

স্টার্টিঙের দিকে এই সিনেমা মনে হয় যেন হররের দিকে ঝুঁকতেসে, মাঝামাঝি এসে মনে হয় সিনেমা মার্ডার মিস্ট্রির দিকে যেতে লেগেছে, শেষভাগের ক্লাইমেক্সে যেয়ে মনে হয় সিনেমাটা ভার্চুয়্যাল ফিকশন। মোদ্দা কথা, আপনি ডিসিশন নিতে পারবেন না, জাজ করতে বেগ পোহাতে হবে আপনাকে। যে-কোনো শিল্পকর্ম বিচারের বেলায় আপনি যা করেন তা-ই করবেন এখানে, জাজমেন্টাল হতে যাবেন না।

যা বলছিলাম শুরুতে তা আবারও পুনরুচ্চার করি। তাপ্সি পান্নু অভিনয়ে কেমন শক্তি সঞ্চার করতে পারেন তা না-দেখে থাকলে এই সিনেমাটা দেখুন। তাপ্সি একলাই সিনেমাটা টেনে নিয়া যান ফার্স্ট থেকে লাস্ট ফ্রেম অব্দি। স্যুপার্ব। অপূর্ব। ছবিটা ডার্ক একটা টোনে কথা বলে অডিয়েন্সের লগে। এই ডার্ক আবহটায় আলো যুগিয়েছেন বিনোদিনি বৈদ্যনাথান, যিনি সিনেমায় লিডক্যারেক্টার স্বপ্নার ছায়াসহচরী।

বিশেষভাবেই বলতে হয় সিনেমার মিউজিক স্কোরের জায়গাটা নিয়া। আবহের সংগীত বা ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর করেছেন যিনি, তার নামটা খুঁজে বের করলাম সিনেমা দেখে শেষে। রন্ ইথান ইয়োহান করেছেন মিউজিক স্কোর। পুরা আবহ শরীরে কাঁটা ফোটায় একমাত্র সংগীতেরই গুণে মনে হয়। ক্যামেরার কাজও প্রশংসার হকদার। শ্বাসরুদ্ধকর সিচ্যুয়েশনগুলা ক্যামেরা দিয়াই ক্রিয়েট করা হয়েছে। আর অত্যন্ত সুপরিকল্পিত মনোবিজ্ঞানের ব্যবহার সিনেমাটা আলাদাভাবে মনে রাখাবে।

এই সিনেমা আপনাকে দেখতে সাজেস্ট করা যায়। ট্রাই ইট।

লেখা / মিল্টন মৃধা

… …

পরের পোষ্ট

COMMENTS

error: