জুলিয়েট বিনোশের বাণীচয়নিকা

জুলিয়েট বিনোশের বাণীচয়নিকা

SHARE:

পাগলা এই জিন্দেগানির একটা জিনিশই তীব্র ভালোবাসি আমি, আর তা হচ্ছে এই জিন্দেগানির অ্যাডভেঞ্চার।

সাংবাদিক ক্যারেক্টারে এর আগেও অভিনয় করেছি আমি, এবং আমার বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা পেশায় সাংবাদিক। আমার সবসময় মনে হয় একজন অভিনয়শিল্পী এবং একজন সংবাদজীবীর মধ্যে তেমন-একটা ফারাক আসলে নাই। কারণ দুইজনেই অনুসন্ধিৎসু, কোনোকিছু গভীরভাবে বুঝতে আগ্রহী, নিত্য প্রশ্নশীল জিজ্ঞাসু, অপরের হালহকিকত ও হালত জানার ব্যাপারে কৌতূহলী।

আকর্ষণ ব্যাপারটা এমনই যে এর নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই, জিনিশটা আমাদের ইচ্ছা বা আন্দাজের তোয়াক্কা না করেই ক্রিয়াশীল আমাদের মধ্যে।

অভিনয় জিনিশটা আমার মনে হয় নিজেরে ভুলে যেয়ে নিজেরেই আরও শ্রেয়তর উপায়ে প্রকাশ করার একটা প্রক্রিয়া। ব্যাপারটা যতটা না নিজেরে নির্মাণ তারচেয়ে বেশি বরঞ্চ নিজে এর ভিতর দিয়া প্রবাহিত হওয়া। আপনি কিন্তু ফুল নন, ফুলদানি; নিজেরে ফুল ভাবলেই ইয়াদ রাখবেন ভুল করলেন, অভিনয়শিল্পের ফুল ফোটাতে চাইলে নিজেরে ফুলদানি হিশেবে দেখা চাই।

এই যে বেঁচে আছি, কেন বেঁচে আছি তা জানতে চাই। হৃদয় ও মগজ দিয়া উপলব্ধি করতে চাই জীবনের বাঁচামরার মানে। এইটা অনেকটাই মাটিখননের মতো, অনেকটাই প্রত্নখোঁড়াখুঁড়ির মতো, কোনো-একটা জায়গা বা ব্যক্তি/গোষ্ঠী যেমনটা করা হয় সুলুক সন্ধান, অথবা ক্ষ্যাপা যেমন খুঁজে ফেরে পরশপাথর; জীবনের অর্থ আছে নাকি নাই জিজ্ঞাসা করা বৃথা, তবে এই খোঁজাখুঁজিটা একটা প্যাশন তাতে সন্দেহ নাই।

সরল ও সোজাসাপ্টা এই একটা জিনিশ সবার জন্য প্রযোজ্য ও অভিন্ন যে সকলেই সুখী হতে চায়, এবং চায় ভালোবাসা পেতে এই জীবনের পথে পথে।

আমার অ্যাম্বিশন নাই তা নয়, আমার অ্যাম্বিশন একটাই আর তা হচ্ছে এই জীবনের আওতায় যেটুকু সম্ভব সুন্দরের সাক্ষাৎ পাওয়া এবং সেই অভিজ্ঞতায় স্নাত করে নেওয়া নিজেরে। টাকা বানানো উচ্চাকাঙ্ক্ষা না আমার জীবনে।

একটা ফিল্ম আমি অভিনয়ের জন্য মনোনীত করতে পারি তখনই যখন দেখি যে এই ফিল্মটায় আমি বিশ্বাস স্থাপন করতে পারছি এবং আরও দেখতে পাই যে এইখানে একটা বিশেষ কিছু ঘটবে এই ফিল্মের মাধ্যমে অ্যাট-লিস্ট আমার অভিজ্ঞতায়, এবং এমন ফিল্মেই আমি অভিনয় করব বলে বেছে নিই যেইটার জন্য পরে পস্তাতে হবে না আমাকে। এইটা খেয়াল রাখি তীব্র সতর্কতার সঙ্গে যে এমন ফিল্মে যেন অভিনয় না করি যাতে কয়েক বছরের ব্যবধানে যেয়ে নিজেই নিজেরে বকে দেই যে কেন এই ছাতার ফিল্মে অভিনয় করতে গেলাম। এইভাবে যদি ফিল্ম বাছাই করতে যান আপনি তো দেখবেন অনেক বেশি ইনট্যুইশনের উপরে নির্ভর করতে হচ্ছে আপনাকে এবং এই ইনট্যুইশন জিনিশটা আমার কাছে বরাবরই একটা রহস্যাবৃত জিনিশ বলে মনে হয়।

অ্যাক্টিং বা অভিনয় জিনিশটা হচ্ছে পেঁয়াজের খোসা ছাড়ানোর মতো। পরতের পরে পরত খোসা ছাড়ায়ে যেতে হয় আপনাকে, একপরত খোসা ছাড়ালেন তো দেখবেন আরেক পরত সামনে এবং ফের আরেক এইভাবে অন্তহীন।

ইউরোপে একজন নারীর বয়স নিয়া ভাবনাটা আমার মনে হয় খানিকটা আলাদা। কারণ এইখানে একজন নারীর চল্লিশ বছর বয়স মানে হচ্ছে সেই নারীটি জীবনের সেরা সময়ে উন্নীত হয়েছেন। এইটাই সেই মাহেন্দ্র মুহূর্ত যখন নারী হয় পাকা ফলের মতো সুদৃশ্য সুপুষ্ট।

চয়ন, সংকলন ও অনুবাদন : বিদিতা গোমেজ

… …

আগের পোষ্ট

COMMENTS

error: