কোয়েলোম্যাজিক

কোয়েলোম্যাজিক

SHARE:

একেই তো বলে কোয়েলোম্যাজিক, দুইপাতা পড়তে-না-পড়তেই তিনপ্যারা কোটেশন মারতে বা মনে রাখতে ইচ্ছে করে! আহা রে!— সেই বয়স নাই আজ আর, বয়সকালে পাইলে এর কত শুমারহারা কাতারে-কাতার লাইন-যে ঠাঠা মুখস্থ করে ছাড়তাম! পড়তে লেগেছিলাম পাওলো কোয়েলোর ‘ব্রাইডা’, এইটার হদিস জানতাম না এদ্দিন, প্রোলোগ অংশ পড়েই মনে হলো কথাগুলো টুকে রাখা যায়। পাছে হারিয়ে ফেলি হাজার লাইন-বেলাইনের ভিড়ে, — দুনিয়ায় তো খালি হাজারেবিজারে লাইন আর লাইন। — লকলকা লাইনের ভিড়ে শান্তিমতো পা ফেলা দায়। ভেরোনিকার মরিবার সাধ নিয়া আরেকখানা কাহিনি পড়েছিলাম কিছুদিন আগে — Veronika Decides To Die — খাসা কাহিনি ছিল হে! এবং তোফা স্টোরিটেলিং স্টাইল! কোয়েলো সর্বদা যেমন, রসসিক্ত জীবনযাজক, অনেকটা আধ্যাত্মিকমতো, সহজ সুরের রেশ। সর্বশেষ পড়েছি ‘উইনার স্ট্যান্ডস্ অ্যালোন’। ‘আলকেমিস্ট’, ‘ইলেভেন মিনিটস’, ‘জহির’ প্রভৃতি পড়ে নাই এমন কাহিনিপ্রিয় পাঠকের দেখা পাওয়া ভার আজিকার দুনিয়ায়। একটামাত্র ননফিকশনের বই পড়েছিলাম কোয়েলোর, — Like The Flowing River, — ফিকশনের চেয়েও দড় মনে হয়েছিল মাইরি! আমার এক কলিগের জিগ্রি দোস্ত বয়ে এনেছিলেন বইখানা আমেরিকাদেশ থেকে। এইবার Brida কাহিনির প্রোলোগ হইতে একটু কোট :

An anonymous text from the Tradition says that, in life, each person can take one of two attitudes: to build or to plant. The builders might take years over their tasks, but one day, they finish what they’re doing. Then they find they’re hemmed in by their own walls. Life loses its meaning when the building stops.

Then there are those who plant. They endure storms and all the many vicissitudes of the seasons, and they rarely rest. But, unlike a building, a garden never stops growing. And while it requires the gardener’s constant attention, it also allows life for the gardener to be a great adventure.

Gardeners always recognize one another, because they know that in the history of each plant lies the growth of the whole World.

পাওলো কোয়েলো গত দশক জুড়ে এবং এরও আগে থেকেই দুনিয়া জুড়ে বেস্টসেলার স্টোরিটেলার। ইংরেজিতে অনুবাদিত হয়েই তিনি পাড়া বেড়ানোর মতো করে দুনিয়া বেড়িয়ে চলেছেন। ব্রাজিলের লোক, ওইখানকার কী-জানি-কী-একটা ভাষাতেই লেখেন। বাংলাদেশের ভাষাতেও কোয়েলো-উপন্যাস সুলভ, বাংলাবাজারভিত্তিক প্রকাশনাগুলো থেকে ছেপে বেরোনো কোয়েলোর বেশকিছু বইয়ের মলাট চোখে পড়েছে। যেহেতু পড়ে দেখি নাই, কাজেই বলতে পারছি না অনুবাদমান উঁচু না নিচু না মাঝারি না নিম্নমাঝারি। কিন্তু কোয়েলো হচ্ছেন তেমন লেখক, যার আখ্যানগুলোর বুনট অনেকটা আমাদের সহজাত অভিজ্ঞতার সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ বলে প্রতিভাত হয়।

আপনি যদি বলতে জানেন, তো কোন ভাষায় বলছেন সেইটা আদৌ প্রোব্লেম না। গাইতে জানলে যেমন, কোন ভাষায় গাইছেন গাইয়ে সেইটা গুল্লি মারেন, সুর অধিকৃত করে নিতে জানে শব্দ কিংবা আলোর চেয়েও অনেক দ্রুত গতিতে। সুরের অধিকার সাংঘাতিক ব্যাপার। সুর সর্বাগ্রাসী, সাম্রাজ্যবিস্তারকারী, আপনি সতর্ক হবার আগেই সে তার সাম্রাজ্য পত্তনি করে ফেলে। পাওলো কোয়েলোর কাহিনিকীর্তিগুলোতে এই সুরের সনে সাক্ষাৎ ঘটে আমাদের ঘনঘন। খুব-যে জমিয়ে কাহিনি বলেন তিনি, কিংবা দাঁতকিড়িমিড়ি দর্শন কপ্চান, মোটেও নয়। এরপরও মুগ্ধ সম্মোহন কোত্থেকে ঘটে, সেইটা একটা তালাশ করার ন্যায় ব্যাপার বটে। এইখানেই তো তুকতাক, জাদুটোনা, এইটারেই তো বলে কোয়েলোম্যাজিক।

বেস্টসেলার বইপত্র পড়ার ব্যাপারে একচেটিয়া নাক-সিঁটকানো বঙ্গীয় বৈশিষ্ট্য, বঙ্গ ব্যতীত উহা বিহার বা উড়িষ্যা বা কামরূপকামাক্ষ্যা অঞ্চলে তেমন দৃষ্ট নয় বলেই জানি। কিন্তু এইটাও ঠিক, বেস্টসেলার সাব্যস্ত হবার পেছনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটা আলাদা অ্যারেঞ্জমেন্ট ক্রিয়াশীল, ওইসব কর্পোরেট-গভার্নড ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে আমরা কমবেশি অবগত। তবে জনপ্রিয় বই মাত্রই কিন্তু বৈমাত্রেয় সাব্যস্ত করার কোনো কারণ নাই। য়্যু বেটার গিভ অ্যা ফেয়ার ট্রাই, তারপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।

অযোধ্যায় এইসব রামনাম জপা আরেক ফার্স, অবশ্য। পড়াপড়িতে নাই আমরা, করাকরিতে আছি। সো, কোয়েলো হোন আপনে কিংবা হুমায়ূন আহমেদ কি জয় গোস্বামী কি মুরাকামি, পত্রিকায় যেইমাত্র শুনব আপনার বই বেস্টসেলার হইয়াছে, হে জনপ্রিয় কবি কি লেখক অথবা ছায়াছবিনির্মাতা বা গায়ক-গায়িকা, আপনার নিকুচি করি চিরকাল। নিকুচিকরণে তো পড়নের জরুরৎ নাই। আজ্ঞে, তা-ই।

‘ব্রাইডা’ আগে পড়া হয় নাই, কারণ মাগনা না-পাইলে আংরেজি বই পড়ার খায়েশ বা খাসলত কোনোটাই ঠিক ন্যাচারে নাই আমার। যে-কয়খানা কোয়েলো পড়েছি, তা সবই আমার এক অতি আশ্রাফ ক্লাসের কলিগের আনচ্যালেঞ্জড পাণ্ডিত্যফোকর গলিয়ে পাওয়া বই। সম্প্রতি আমার এক অদেখা — বাট নট অপরিচিত — বন্ধু মারফত ‘ব্রাইডা’ লাভ করেছি। তিনি পণ্ডিত নন, কাজেই ফিউচারে বেশকিছু বই পড়া যাবে তার সৌজন্য ও বদান্যতায়।

‘ব্রাইডা’ পাওয়া যায় ফ্রি পিডিএফ, পড়ে নিতে পারেন যদি ইচ্ছা করেন।

লেখা / জাহেদ আহমদ ২০১৪

… …

পরের পোষ্ট
আগের পোষ্ট

COMMENTS

error: