আমি বাংলাদেশের দালাল বলছি

আমি বাংলাদেশের দালাল বলছি

‘আমি বাংলাদেশের দালাল বলছি’ শিরোনামে একটা বই বর্ধিত কলেবরে নয়া আঙ্গিক গড়নে ২০১৬ বইমেলায় বাজারে এসেছিল অগ্রদূত প্রকাশনীর ব্যানারে। এইটা মাকসুদুল হকের বই। মিউজিশিয়্যান ম্যাক হকের বই। মিউজিকসিনের মানুষেরা বাংলায় লেখালেখি করেন খুবই হাতেগোনা। মাকসুদুল হকের লেখকখ্যাতি মিউজিশিয়্যানখ্যাতির চেয়ে কম নয় কোনো অংশেই। বাংলার ব্যান্ডমায়েস্ত্রো মাকসুদের বইটি প্রকাশ করেছে ‘অগ্রদূত’ প্রকাশনী।

কিন্তু বইটা বর্ধিত কলেবর হয় কীভাবে? এইটা তারাই ধরতে পারবেন যাদের কাছে এই বইয়ের আগের এডিশনটা আছে। এই বইটা আজকে থেকে এক-দশকেরও অধিক আগে একটা ভার্শন বেরিয়েছিল। বর্তমান ভার্শনটা অনেক বেশি কন্টেন্টসমৃদ্ধ। বইয়ের মেকাপ-গেটাপও সুন্দর। মনোরম অঙ্গসজ্জা। পেপারব্যাক বইটার ছাপা, বাঁধাই, কাগজ ও অন্যান্য সবকিছুই দৃষ্টিনন্দন। অনেকটাই ইংরেজি পেপারব্যাক বইয়ের সমতুল বইবিন্যাসমান।

জ্যাজ্-রক্ ফিউশন্ ধারায় রবীন্দ্রনাথের একটা গান গেয়ে এক-দশক আগে দেশে-বিদেশে ব্যাপক রবীন্দ্ররক্ষণশীল সমাজের রোষানলে পড়েছিলেন মাকসুদুল হক; প্রশংসিতও হয়েছিলেন প্রভূতভাবে দেশের তরুণ ও যুবাশ্রেণির কাছে। এই বইটিতে সেই সময়ের ঝড়ো মুহূর্তগুলো সবিস্তার পাওয়া যাবে। এছাড়া বাংলাদেশের মিউজিক্যাল্ অ্যাসোসিয়েশন্ তথা ‘বামবা’ প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি মাকসুদুল হকের লেখায় ব্যান্ডসংগীতের পূর্বাপর বৃত্তান্ত অত্যন্ত বলিষ্ঠ গদ্যে এসেছে বিভিন্ন সময়ে। সেই লেখাগুলো তো অবশ্যই অ্যাভেইল করা যাচ্ছে এই নবনির্মিত কলেবরের গ্রন্থে।

লেখাগুলোর মধ্যে কয়েকটি শিরোনাম উদ্ধৃত করলেই পাঠকের ধারণা হবে এর অন্তর্গত রক্তের বিষয়ে : যেমন একটা প্রবন্ধ হচ্ছে ‘এই আমাদের অপরূপ অপসংস্কৃতি’ শীর্ষক, তেমনি রয়েছে ‘রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে কথা’, ‘গগনবিদারী ওয়াহিদুল হক সমীপেষু : না-চাহিতে এত দেওয়া’, ‘রবীন্দ্ররাজাকারের কবলে’, ‘আজকের প্রজন্ম ও মুরব্বিতন্ত্র’ ছাড়াও রয়েছে বইয়ের নামপ্রবন্ধটির তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণী ব্যঙ্গ ও স্বতঃসমালোচনা।

বাংলাদেশের নতুন দিনের গানের কারিগরদের মধ্যে একজন মাকসুদুল হক। ব্যান্ডসংগীতের ভুবনে সবচেয়ে উজ্জ্বল ও উদ্দাম সময়ের প্রতিভূদের অন্যতম মাকসুদ। টানা চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এই ক্ষেত্রটিতে তার বিচরণ অত্যন্ত সৃষ্টিদীপ্ত, পদক্ষেপগুলো সুস্পষ্টরূপেই দৃপ্ত, মাকসুদের অবদান এদেশের সংগীত-অঙ্গনে একবাক্যেই স্বীকৃত। নতুন দিনের ব্যান্ড ও ননব্যান্ড সংগীতকারদের কাছে ম্যাক তথা মাকসুদ অত্যন্ত উদ্দীপক এক নাম। ‘ফিডব্যাক’ ব্যান্ডের সঙ্গে আড়াই দশক সৃজনকাল শেষে মাকসুদ পৃথক ব্যান্ড গড়ে তোলেন ‘মাকসুদ ও ঢাকা’ শীর্ষক নামপরিচয়ে এবং এই ব্যানারে একে একে এসেছে তিনটি সফল অ্যালবাম।

পুনশ্চ উল্লেখ্য, বইটি ঠিক একই শিরোনামে দেড়-দশক আগে দেশের একটি খ্যাতনামা প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছিল। দীর্ঘদিন বইটা পাঠকচাহিদা সত্ত্বেও মুদ্রণহীন ছিল। অগ্রদূতের উদ্যোগে সম্প্রতি সেই পাঠকচাহিদার প্রতি দৃষ্টি ফেরানোর চেষ্টার একপর্যায়ে লেখক মাকসুদুল হক বিষয়টা আমলে নেন। পূর্ববর্তী বইয়ের প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পাদন ছাড়াও বইয়ের কন্টেন্ট হিশেবে যুক্ত হয় একাধিক নতুন পরিচ্ছেদ। ফলে নবপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে হয়ে উঠেছে একটা প্রায় নতুন বই। যারা আগেও বইটির মূদ্রিত রূপ সংগ্রহে রেখেছিলেন, কিংবা যারা নতুন সম্ভাব্য পাঠক, সবাই সমানভাবে এই এডিশনটি নিতে পারবেন এবং উপভোগ করবেন।

বর্ধিত কলেবরে ‘আমি বাংলাদেশের দালাল বলছি’ ২০১৬ বইমেলায় বেরিয়েছে ঢাকা থেকে। ক্রেতা ও পাঠক যারা বাংলাদেশের ব্যান্ডমিউজিক সাবস্ক্রাইব্ করেন নিয়মিত, বা রকমিউজিক, বা মেটাল বা হ্যান বা ত্যান মিউজিক নিয়া ভাবেন যারা, মাকসুদের গুণগ্রাহী ছাড়াও যারা বাংলা ব্যান্ডসংগীত আন্দোলনের প্রবাহ পেতে চান শিরায়-ধমনীতে, ‘অগ্রদূত’ প্রকাশনীর এই বইটির খোঁজপাত্তা তারা নিশ্চয় করবেন।

প্রতিবেদন / সুবর্ণ বাগচী

… …

পরের পোষ্ট
আগের পোষ্ট

COMMENTS

error: