নেভার অন সানডে এবং কনি ফ্র্যান্সিস

নেভার অন সানডে এবং কনি ফ্র্যান্সিস

SHARE:

সিনেমার থ্রুতেই কনি ফ্র্যান্সিসের সঙ্গে পরিচয়। ঠিক কবে বা কোথায় তা আজ আর অত মনে নাই, কিন্তু অনেক অনেক বছর আগে এইটা প্রায় নিশ্চিত, বিটিভিম্যুভি অফ দ্য উয়িক  অনুষ্ঠানের সুবাদে যেমন হতে পারে তেমনি ভিসিয়ারের থ্রুতেও হওয়া বিচিত্র নয়। সেইসময় ভিসিয়ার ভাড়ায় এনে সিনেমা পারিবারিকভাবে দেখার কালচার ছিল। মূলত ইন্ডিয়ান বাংলা আর হিন্দি সিনেমা। অ্যাকশন সিনেমা, আমরা যেইগুলারে ফাইটিং সিনেমা জানতাম, বাচ্চাদের উপযোগী কি না তা নিশ্চিত হয়ে কোরিয়ান ম্যুভি বিস্তর দেখানো হয়েছে সন্ধ্যারাইতের দিকটায় কেটেছেঁটে টেনেটুনে। যে-দেড়দুই ইংরেজি সিনেমা আসত বড়দের দেখার জন্যে, সেগুলার মধ্য থেকে কোনোটার মুড়ো কোনোটার লেজ আমাদেরও হয়ে যেত দেখা ফাঁকেফোকে। এমনই একটা ম্যুভিতে দেখেছি গানটা। গায়িকাকে ভালো লেগে গেছিল, সুরটা আর কথাটা কানে গেঁথে ছিল, ম্যুভিটাতে গানটার ভূমিকা ব্যাপকভাবেই ছিল। ম্যুভির নাম ‘নেভার অন সানডে’, এক্স্যাক্ট ১৯৬০ সনে মুক্তিপাওয়া গ্রিক ম্যুভি, সাবটাইটেল ছিল, ইলিয়া নামে এক গণিকার হিরোয়িন হিশেবে অ্যাক্টিং তখনকার ওখানে একটা ঝাঁকানিই দিয়েছিল সফলভাবে, মেরিনা মার্কারি নামের এক রূপবতী শিল্পী শাদাকালো রোম্যান্টিক ম্যুভিটায় হিরোয়িনের পার্টটা করেন, উনার লিপেই পাওয়া যায় আলোচ্য গান, প্লেব্যাকে ছিলেন যিনি তিনিই আমাদের এই নিবন্ধের নায়িকা। নাম তার কনি ফ্র্যান্সিস।

বলা বাহুল্য নামটা জানতে পেরেছি ইউটিউবযুগে এসে। এবং উনার গাওয়া আরও অনেক গান। শুরুতে ‘নেভার অন সানডে’ দিয়া সার্চ এবং তারপর এতটা রাস্তা। ‘কাম সেপ্টেম্বর’ ইন্সট্রুমেন্টাল বা এই ‘নেভার অন সানডে’ প্লেব্যাকের খোঁজে নেমে ছেলেবেলায় দেখা ছায়াছবিগুলার অনেক সাউন্ড, গান, ব্যাকগ্রাউন্ডস্কোর শুনেছি ইউটিউবের গোড়ার দিকটায়। এইভাবেই কনিকে জ্যান্ত পাওয়া যায় আগের চেয়েও অনেক বিশদে। একটা ইটালিয়ান-অ্যামেরিকান ফ্যামিলিতে উনার জন্ম উনিশশআটত্রিশে। এখনও জিন্দা, অন্তত কুড়িকুড়ি খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারিতে এই নিবন্ধ মুসাবিদা পর্যন্ত, গানের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে রেকর্ডে-প্লেব্যাকে-স্টেজে ব্যস্ত ছিলেন টপচার্টার হিশেবে। কন্সার্টগুলায় ব্যাপক মাত-করা পার্ফোর্ম্যান্স উনি দিয়েছেন। তবে একাধিকবার লাইভে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে তার জীবনে, শ্লীলতাহানির মতো ঘটনাও, কনি সাফার করেছেন এইসব ঘটনায়, ক্যারিয়ারে ব্লক গিয়েছে একাধিকবার, জীবনে একাধিকবার ট্রমার ভিতর দিয়ে গেছেন কনি এবং ফিরেও এসেছেন তুমুলভাবে, এখন রিটায়ার্ড। এইসব জীবনতথ্য অবশ্য উইকিপৃষ্ঠায় আরও সবিস্তার পাওয়া যায়।

না, জীবনে কখনো উনি লিরিক লেখেন নাই, মিউজিক কম্পোজ করেন নাই, কিংবা গানে সুরও বসান নাই। শিল্পী তিনি শুধু গলায়। কণ্ঠশিল্পী। ভোক্যালিস্ট। অনেকের কথায় এবং সুরে এবং কম্পোজিশনে উনি গেয়ে গেছেন এবং গানগুলায় দিয়েছেন অভাবিত ফুর্তির জীবন। দুঃখের, আনন্দের, নখরামির, দুষ্টুমিষ্টোমির, বেদনার, বিষাদের, বিচ্ছেদের, মিলনের নানান এক্সপ্রেশন দিলেও সমস্তকিছুতেই ছিল স্বতঃস্ফূর্ত জীবন। অন্য উদ্ভাসন ছিল গলায়। তাই দিয়েই জীবনজোড়া মাত করে গেছেন মঞ্চের পর মঞ্চ, রেকর্ডের পর রেকর্ড, কনি ছিলেন উনার টাইমের হার্টথ্রব মঞ্চসেলিব্রিটিদের একজন।

কনি ফ্র্যান্সিসের দশটা গানের এই বাংলাগুচ্ছ, যদিও উনার গলাতেই গানগুলো কিন্তু অন্যকিছুই উনার নয়, ওগুলার কথা সুর সংগীত অন্যকৃত। তর্জমার পিছনে একটা জিনিশ কাজ করেছে। এবং সেইটে এ-ই যে স্রেফ আমাদের দেশে প্লেব্যাকশিল্পীদের মতো ইংরেজি ভাষায় যেসব গানের হাজিরানা আছে সেসব একজায়গায় জড়ো করে দেখা। বাংলার মতোই কিন্তু ওইখানকারটাও। ঝগড়াবিবাদে কামেক্রোধে অনুরাগেঅভিমানে দুইটা জায়গার মিলগুলাই মুখ্য। কনি ফ্র্যান্সিসের গানে প্রেজেন্ট নারীটার সঙ্গে আমাদের ভাষাখণ্ডের নারীটার প্রেজেন্টেশন মিলিয়ে দেখার একটা আড়াল ইচ্ছার অংশ হিশেবে এই লিরিকগোছা ভাষান্তরিত করার চেষ্টা। গানের গীতিকার বা সুরকার কারোর তথ্যই নিবন্ধের বা অনুবাদের জন্য জরুরি মনে হয় নাই। নিছক শোনা যায় টাইম থাকলে গানগুলা। আর সেই লিসেনিং যেন সুগম সহজ হয় তাই লিরিকের ইংরেজি নামগুলা পাল্টানো হয় নাই বাংলাকালে। যে-কোনো লিরিকের শিরোনাম কপি করে নিয়া সার্চের সময় কনি ফ্র্যান্সিসের নামটা লিখলেই ইউটিউবে এই গানগুলা ও অন্যান্য কনি ফ্র্যান্সিস শোনা যাবে অ্যানিটাইম।

অনুবাদশিরোনামের তথা ছায়াছবির ‘নেভার অন সানডে’ তো রইলই, অধিক নয়টা আরও অনুবাদ রইল। মূল ইংরেজি রিটেন লিরিকের টেক্সট অ্যাভেইলেবল মেট্রোলিরিক্স বা অ্যা-জেড ইত্যাদি লিরিক্সের সুলভ সোজাপ্রাপ্য পরিসরগুলায়। যে-কেউ মূল লিরিকগুলাও নজর বুলায়ে যেতে পারবেন এইগুলা পড়া বা শোনার সময়, এইটা তো বলা বাহুল্য।

মনে রাখলে ভালো যে এইগুলা ষাটের দশকের বা লেইট সত্তরের ইংরেজি সাধারণ সমাজের আবেগ মূর্ত করার সুযোগটা পেয়েছে, এরই সমান্তরালে, ভাবলে অবাক লাগে, অ্যাটলান্টিকের দুই তীরবর্তী ইংরেজি মিউজিকে গানে কীসব বৈপ্লবিক কাণ্ড ঘটে যেতেছে! অ্যাট-লিস্ট এইগুলাও যে কম বৈপ্লবিক নয়, কিংবা এইগুলাও বৈপ্লবিকই, জিনিশটা আরও ক্লিয়ার হবে এই ধারার অন্যান্য কণ্ঠশিল্পীদের কন্টেম্পোরারি মিউজিক শুনলে। এই কিস্তি আমরা শুধু কনি ফ্র্যান্সিসেরই গলায় ধারণ-করা সাধারণ ইংরেজিসমাজটা শুনতে পারব। গোটা-দশেক কনি ফ্র্যান্সিস শুধু বর্তমান অনুবাদের হাতনগদা লাভ।

কনি ফ্র্যান্সিসের গাওয়া গানগুলা থেকে বেশকিছু – হ্যাভ অ্যা হ্যাপি সানডে ওয়ার্ল্ডোয়াইড শ্রোতাভাইবোনবন্ধু –


নেভার অন সানডে এবং কনি ফ্র্যান্সিস
চয়ন, সংকলন, অনুবাদন ও ভূমিকা : জাহেদ আহমদ


য়্যু’আর গ্যনা মিস্ মি
একটামাত্র চুম্মা আর একটি দীর্ঘশ্বাস
তুমি প্রিয়তম দিয়াছ আমারে এইটুকু উপহার
বিদায় বলার আগেই করেছ সমূহ সর্বনাশ
তোমার সঙ্গে এই তো আমার প্রণয়ের সংসার

মনে রেখো সোনা আমার কথাটি
মনে রেখো একদিন
আমার লাগিয়া কাঁদিবায় খাঁটি
বিরহে বেদনালীন

তোমার হাতের ঘন স্পর্শেরা আমার পিঠের ’পরে
এখন আর নাই ছিল একদিন আজ অন্যের ঘরে
মনে রেখো সোনা আমার কথাটি মনে রেখো একদিন
আমার লাগিয়া কাঁদিবায় খাঁটি বিরহে বেদনালীন

মনে রেখো সোনা আমার লাগিয়া কাঁদিবায় নিরাধারে
কেঁদে কেঁদে একা যামিনী পোহাবে ব্যাকুলা গাঙের পারে
সেখানে তখন আমারে পাবা না কাছেপিঠে ডেকে ডেকে
নেভায়া আবার জ্বালাবা বাত্তি বিষাদের কালি মেখে

কাঁদিয়া কাঁদিয়া কাটাবা দিবস নিশি হবে অবসান
তবুও তোমার কান্নার গতি রয়ে যাবে অফুরান
মনে রেখো প্রিয় আমিই ছিলাম তোমার জীবনে প্রেম
নহে কেহ আর বিষাদ ঘুচায় আমিই তা পারিতেম

একদিন তুমি জানবেই প্রিয় জানিবায় জানি ঠিকই
হৃদয় একাকি আমারই পোড়ে না তোমারও তো ধিকিধিকি
মনে রেখো সোনা আমার কথাটি মনে রেখো একদিন
আমারই লাগিয়া কাঁদিবায় খাঁটি বিরহে বেদনালীন

রোম্যান গিটার
কিচিরমিচির লাগাইসে দ্যাখো পার্পল ছায়াগুলা
কানতেসে দ্যাখো রহিয়া রহিয়া ঝর্ণা এবং জলা
গাছগুলা দ্যাখো গোপন ব্যথায় ফেলিছে দীর্ঘশ্বাস
দখিনা হাওয়ার মুখরতাবাহী দিগন্তের উদ্ভাস

সকলেই তারা আসিছে অনেক দূরের দেশটি থেকে
এখানে আমার স্মৃতিরা জাগিছে বেদনার ঘ্রাণ মেখে
দ্যাখো ওই দূর নক্ষত্রটা আমারই আদলে একা
ত্যক্ত তারার পাশে নাই কোনো দ্বিতীয় তারার দেখা

আমার এই গান নিসঙ্গ সেই তারার লাগিয়া গাওয়া
ভাইবিরাদর নাই গিটারের সুরে সুরে গেয়ে যাওয়া

মেইক হিম্ জেলাস্
আমি তোমার সঙ্গে নাচতে নেমে আড়চোখে দেখি তারে
দোয়া করি খোদা তার চউখেও ধরায়া দ্যাও আমারে
বেড় দিয়া বাহু তোমারে ধরেছি হৃদয়ে ধরেছি আর’
তুমি তো আমারই চিরতরে সখা উহারেও দরকার

কিন্তু মাবুদ সেও দেখি ধরে আরেকজনের কোমর
আমারই হৃদয় জ্বলেপুড়ে যায় ফাঁস হয়ে গেছে গুমর
চোখে আসে পানি হৃদয় নিঙাড়ি কোথা যাই বেশরম
দেখি সে আবেশে নাচিয়া বেড়ায় কামনায় ঝমঝম

অশ্রুর স্ফীতি লুকাব কেমনে কোথা রাখি এই কান্দন
যাচিলাম যারে এই দেহমন চাহিছে সে আর’জন

ম্যানি টিয়ার্স অ্যাগো
পইপই করে বলেছিল তারা আমায় কাঁদাবা তুমি
কিন্তু তাদের কথায় আমি মোটেও দিইনি কান
পস্তায়ে আর লাভ নাই প্রিয় বলি তোমাদেরে নমি
বহুকাল আগে ভুল প্রণয়ের খেসারত এই গান

বলেছিল তারা কান দিই নাই তাদের কথায় হারাম
কেননা আমার হৃদয় আমারে বলছিল তারই কথা
আত্মীয়স্বজন চাইছিল আমি ভুলে যাব তার নাম
বহু বহুকাল আগের আমার কান্নার গোপনতা

হেসে কুটিপাটি দিয়াছি উড়ায়ে বলেছিল তারা যা যা
আমি ছাড়া আরও গোটাকয়েকের সঙ্গেও তুমি লিপ্ত
খোদার কসম কথাগুলা আমি শুনেই ভেবেছি গাঁজা
জানি অবশেষে জেনেছি বিষাদে একাধিকে তুমি তৃপ্ত

ততদিনে ঢের দেরি হয়ে গেছে ফেরার পথটা নাই
হৃদয়াশ্রুতে ভেসে গেছে প্রেম হৃদয়ের থেকে দূরে
এতটা কাঁদতে হতোই না যদি দিতাম সেদিন ঠাঁই
নিকটজনের সদুপদেশেরে হৃদয়ের অন্তঃপুরে

হেসে কুটিপাটি দিয়াছি উড়ায়ে বলেছিল তারা যা যা
আমি ছাড়া আরও গোটাকয়েকের সঙ্গেও তুমি লিপ্ত
খোদার কসম কথাগুলা আমি শুনেই ভেবেছি গাঁজা
জানি অবশেষে জেনেছি বিষাদে একাধিকে তুমি তৃপ্ত

ততদিনে ঢের দেরি হয়ে গেছে ফেরার পথটা নাই
হৃদয়াশ্রুতে ভেসে গেছে প্রেম হৃদয়ের থেকে দূরে
এতটা কাঁদতে হতোই না যদি দিতাম সেদিন ঠাঁই
নিকটজনের সদুপদেশেরে হৃদয়ের অন্তঃপুরে

বহুকাল আগে ভুল প্রণয়ের খেসারত এই গান
কত কান্নার ধূসরতা পার হয়ে আসা আয়ুযান

নেভার অন্ সানডে
এই সোমবারে এসো যদি চাও অথবা পরের সোম
সপ্তাহে যত সোমবার আছে এসো তুমি প্রিয়তম্
মঙ্গলবারে এসো এসো সখা বাধা নাই কোনো তাতে
বেসে যেও যত ভালো ও মন্দ গ্রহণও করিও হাতে
বেস্পতি-বুধ-শুক্র-শনি আসিয়া দাঁড়িও দুয়ারে
নেব কোলে তুলে প্রেমিক পুরুষে পারব না রবিবারে
কেননা আমার হপ্তায় এই একটামাত্র দিন
কাটাই নিজের সঙ্গে নিজে কর্মক্লান্তিহীন
রবিবারে আমি সুলভ নইকো প্রণয়বিপণীবিতানে
এই দিনটায় কেবলই নিজের কথাটুকু গাই গানে
কেবলই নিজের সম্মানে এই একটামাত্র দিন
হপ্তার বাকি ছয়দিন আমি নিষেধবারণহীন
অতএব এসো ছয়দিন প্রিয় শুধু রবিবার ছাড়া
রবিবারে আমি নিজের জীবনে নিজেই আত্মহারা

লিপস্টিক্ অন্ য়্যুর কলার
বিয়াবাড়ি ভরা মানুষের ভিড়ে একলা রাখিয়া আমায়
এক্ষুণি ফিরা আসছি বলেই গেলে তুমি ওই কোণায়
কেটে যায় পল কাটে মুহূর্ত ঘণ্টা বাজিয়া যায়
এলে ফিরে তুমি নিকটে যখন কী দেখিনু হায় হায়!

দেখিলাম স্বামী তোমার জামায় অন্য ঠোঁটের দাগ
অন্য নারীর অধরে রাঙানো খসমের অনুরাগ
যতই আমারে লুকাইতে চাও তুমি তো আমার চেনা
আঁধারেও পাই প্রিয়তম তব শরীরী হাস্নুহেনা

আড়ালে তোমারে চেপে ধরতেই দিলে হেসে উড়ায়ে
বললে এইটা আমারই অধর তাই নাও নাই মুছায়ে
খেয়াল করিয়া দেখিলাম তুমি মিথ্যাচারেও নতুন
তোমার জামায় লাল রঙ আর আমার অধরে মেরুন্

ওষ্ঠে-অধরে কড়া লাল মেখে এসেছে সে একজনই
নিপুণ পুরুষমোহিনী মহিলা আমি হাড়ে হাড়ে চিনি
প্রিয়সখি সে যে আমারই এবং ঢলোঢলো শরীরিণী
নিশ্চয় তার শরীরে পেয়েছ স্বর্গীয় শঙ্খিনী

কী দেখি আজিকে এতদিন বাদে আমি হাবা হাম্বাগ
লাম্পট্যে লিলুয়া ভাতারের অনুগত এক মাগ
কবুল কহিয়া বাঁধিয়াছিলাম দুকূল-ছাপানো সংসার
বিশ্বাসে আজি বিষনিঃশ্বাস বুঝেছি পরিস্কার

দেখিলাম স্বামী তোমার জামায় অন্য ঠোঁটের দাগ
অন্য নারীর অধরে রাঙানো খসমের অনুরাগ
যতই আমারে লুকাইতে চাও তুমি তো আমার চেনা
আঁধারেও পাই প্রিয়তম তব শরীরী হাস্নুহেনা

জেলাস্ অফ য়্যু
চোখাচোখি হওয়া মাত্র শরীরে শিহরণ খেলে যায়
জিগাই তোমারে কেঁপে ওঠো কি না আমারে দেখিয়া তুমি?
তোমার মুখটা মনে পড়লেই নীল হই বেদনায়
আজও তোমাতেই মগ্ন রয়েছি বিষাদের মধু চুমি

প্রিয়তম তুমি হইতায় যদি আমারই লাগিয়া পাগেলা!
আমারই মতন প্রণয়োন্মাদ হতে যদি সারাবেলা!

আমি যতটুকু তোমার জন্য তুমিও কি ততটাই?
ঈর্ষায় আমি দিবারাতি পুড়ি দেখিয়া তোমার সুখ
যদিও তোমার সুখের বাসর আমি চিরদিনই চাই
তবু কেন আমি ঈর্ষায় এত অন্ধ ও উজবুক?

দুঃখ আমার চিরসহচর দুঃখই নির্বাণ
অকূল হৃদয় ছাপানো দুঃখে ভেসে যায় চরাচর
মুক্তি পাইতে ব্যাকুলা চাইছি দ্বিতীয় কারোর টান
পথ চেয়ে আছি দেখা পাবো তার সমুদ্র বরাবর

তোমার রূপের সমস্তটুকু চাইছি আমার হোক
তুমি যদি শুধু হইতা আমার চাই না অন্য লোক

ভয় হয় প্রিয় কোনোদিন যদি চলে যাই বহুদূর
সেখানেও তুমি একচ্ছত্র রহিবে আমার ধ্যানে
বেসেছি হৃদয় উজাড় করিয়া ভালোটি তোমার সুর
রহিয়াছ তুমি শিরায় শিরায় হৃদিরক্তিম গানে

হুজ হার্ট আর য়্যু ব্রেইকিং টুনাইট
আজ রাতে কার হৃদয় ভাঙছ আবারও নতুন করে
কে তোমারে আজ রেখেছে চুমায় জাপ্টে কোমর ধরে
কে তোমার চোখে চোখ রেখে দেখে অন্তরের অন্তর
জন্তুর মতো অসহায় কার বেদনায় গাঢ় স্বর

আমারই মতন কারা আজও শোনে তোমার মিথ্যেগুলো
অঝোর ধারায় একদা আমায় ভাসিয়েছ ঝলোমলো

ভাবতে চাই না তবুও আমায় ভীষণভাবেই ভাবায়
কে তোমার পাশে হাবাগোবা বেশে ফ্যালফ্যাল চোখে চায়
বিভোর ঘুমের ভিতরে এবং আধোঘুমে জাগরণে
পেতে চাই শুধু তোমার স্পর্শ অঘুমা আমার মনে

আজ রাতে কার হৃদয় ভাঙছ আবারও নতুন করে
বেদনার মতো মধুর তোমারে চেয়েছি হৃদয় ভরে

আই ক্যান্’ট্ স্টপ ল্যভিং য়্যু
তোমারে না ভালোবাসিলে আমার পোষাবে না একদিনও
অতএব আমি নিজেরে বোঝাই নিরলে একলা থাকার
স্মৃতির ভিতরে একাকিনী গীতে একান্তে একা থাকিব
পুরানা দিনের আধভোলা গানে বাজাইব সুরবাহার

তোমারে না চেয়ে এ-জীবনে আর কারে-বা চাইব আমি?
এই কথাটা তো বলা বাহুল্য বলবার নাই কিছু
অতএব আমি না পেয়ে তোমারে চেয়ে যাই দিবাযামী
নিদ্রায় আর জাগরণে ছুটি কালকেরই পিছু পিছু

গতকালকের মধুপ্রহরেরা হাতছানি দিয়া ডাকে
একদা আমরা কাটায়েছি কত মুখোমুখি দিনদুপুর
যদিও সময় গিয়াছে চলিয়া ব্যাপক বর্ষ ফাঁকে
সেই দিনগুলা কাঁদায় আমারে বেদনায় বেকসুর

লোকে বলে এই জীবনের বড় বদ্যিটি হলো সময়
ভাঙা হাড়গোড়ে এবং হৃদয়ে লাগায় নিপুণ জোড়া
আমার সময় ফিরবে এমন দুরাশাটা নাহি হয়
বিচ্ছেদকাল যেন অক্ষয় বিপুলা আঁধারে মোড়া

সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যভ
লোকে বলে তুমি আমাকে তো নয় ভালোবাসো আর-কাউকে
নিবিড় চুমায় আমারে পেয়েও ছুঁতে চাও তুমি ওকে

এবং আমার মনে হয় বাত্ সাচ হ্যায় বিলকুল
কয়েক দফায় ডেকেছ আমারে সে-নামে ভেবেছি ভুল

ভুল নয় আজ বুঝতে পারছি ঠিকই তো শুনেছি কানে
এখনও তোমারে পেতে চাই প্রিয় অলজ্জ অপমানে

বেবাক শহরে এই নিউজটা রাষ্ট্র হয়েছে শেষে
হেঁটমাথা আমি ভিড়ের বাজারে কোণঠাসা প্রায় ক্লেশে

ক্লেশ সত্ত্বেও সত্যটা আমি স্বীকার যাইতে বাধ্য
তোমার নিকটে সেকেন্ডহ্যান্ড আমি নহিকো প্রথমারাধ্য

দিনান্তে একা রাত্রিনিশীথে বসে বসে গুনি কান্না
আমার দু-চোখ ঝাপসাই ভালো নয়নে তোমায় চাই না

সখিগণে এসে পইপই বলে ছেড়ে দে যে চলে যেতে চায়
আমার হৃদয় আর-কেউ নয় সে তো তোমারই প্রতীক্ষায়

সারাটা শহর জেনে গেছে তুমি করেছ আমারে ত্যাগ
শত অপমান সয়ে দ্যাখো আমি রয়েছি নিরুদ্বেগ



২০১৫ সনের দিকে ফেসবুকের নোটস্টোরে এইগুলা আপ্লোড করা হয়েছিল দফায় দফায়। একত্র প্রকাশের সময় একটা হাটুরে ভূমিকা সাঁটা গেল। কতিপয় স্পেলিং এরর আর শব্দবদল-পঙক্তিরিপ্লেসমেন্ট তো করাই হলো, গুটিকয় জায়গায় চিত্রকল্পপ্রতিস্থাপনও সম্ভব হলো। ঘষামাজা তাছাড়া তেমন হয় নাই। নিশ্চয় আবার কখনো হতেও পারে। তবে তেমন দরকার হবে না বোধহয় ফিরে তাকানোর। — জাআ, জানুয়ারি ২০২০

… …

COMMENTS

error: