ফিরে-আসা শানায়া টোয়াইন, কান্ট্রি মিউজিক ও অন্যান্য টপিক্স

ফিরে-আসা শানায়া টোয়াইন, কান্ট্রি মিউজিক ও অন্যান্য টপিক্স

SHARE:

পনেরো বছরের একটা গ্যাপ। মঞ্চ থেকে মিউজিক থেকে যাবতীয় মোচ্ছব-মজমা থেকে স্বেচ্ছাচয়িত নির্বাসনেই গিয়েছিলেন চলে। এই গ্যাপের ফোকরে ব্যাপক বদল এসেছে দুনিয়ায়। মিউজিকের জঁরায় চেইঞ্জ এসেছে। এসেছে বাজার ও বিপণনগত পরিবর্তন। নয়া গাইয়ে, নয়া বাজিয়ে, এমনকি লিস্নাররাও নয়া। টাইম ও টালমাটাল দরিয়ার ঢেউ ওয়েইট করে না কারো তরে কিচ্ছুটির লাগিয়া হারাম একমুহূর্তও। টোয়াইন কথাগুলা জানেন না তা নয়, জানেন, এবং ফিরে-আসা সাক্ষাৎকারে সেই রিয়্যালাইজেশনগুলা রাখঢাক ছাড়াই স্বীকারও করেন।

নব্বইয়ের দশকে ক্যানাডিয়ান এই সিঙ্গার দুনিয়াজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিলেন। মঞ্চে, টেলিভিশনে, মিউজিকভিডিয়োয়, স্টুডিয়োঅ্যালবামে, ম্যাগাজিনপ্রচ্ছদে এমন কোনো হপ্তা যায় নাই শানায়ার প্রেজেন্স ছাড়া। ব্যাপক বন্দিত অবস্থার মধ্যগগনে থেকেও টোয়াইন দুম করে ছেড়েছুড়ে গেলেন চলে অন্তরালে। ভেবেছিলেন অল্প কয়েকমাসের ভিতরে বেদনা-বিষাদ কাটায়ে শিগগির ফিরবেন ফের নয়া আয়োজনে নবতর উদ্যমে। সেই নির্জনবাস যে এত লম্বা হবে, একদম পাক্কা পনেরো বছরে যেয়ে ঠেকবে, এতটা তিনি নিজেও কখনো ভাবেন নাই। কিন্তু হয়ে গেছে। মেঘে মেঘে বেলা। বায়ান্ন বছর উমর তার বর্তমানে। সেই ছিপছিপে দেহটা উধাও হয়েছে, সেই হাসিটা কিন্তু অটুট এখনও। অসম্ভব ইলাস্ট্রিয়াস ক্যারিয়ারে এই সিঙ্গার পার্ফোর্মারের তেমন কোনো বড়সড় কলঙ্ক নাই।

রিসেন্টলি ইউএসএ বেইসড ‘রিয়্যাল কান্ট্রি’ শীর্ষক নয়া একটা কম্পিটিশনে দেখা যায় শানায়া যুক্ত হয়েছেন। গার্ডিয়ান  পত্রিকায় একটা সাক্ষাৎকারও পড়লাম চলতি ইয়ারের এপ্রিলে, যেখানে নিজের কামব্যাক অ্যাক্টিভিটি নিয়া প্ল্যানপ্রোগ্রাম সম্পর্কেও অবহিত করেছেন আমাদেরে। এছাড়া আরও অনেক জায়গায় শানায়ার প্রত্যাবর্তনসংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং সেইসঙ্গে এতদিনকার আড়ালবাস নিয়া বার্তাজীবীদেরে শেয়ার করেছেন অন্তরকথা। আরেকটা কাগজ যেইটার নাম ‘ই!’/E!, টোয়াইনের সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতে একখানি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে দেখলাম যেইখানে কান্ট্রিমিউজিক নিয়া শানায়া তার আবেগ ও অভিজ্ঞতার ফিরিস্তি দিয়েছেন। প্রতিশ্রুতিও উঠে এসেছে তার কথাবার্তায়, কান্ট্রিমিউজিক আজকাল ক্ষয়িষ্ণু এবং বেতারকর্তৃপক্ষ পুরুষদের কান্ট্রি মিউজিশিয়্যান হিশেবে যে-প্ল্যাটফর্ম আগায়ে দেয় নারী শিল্পী-সিঙ্গারদেরে তেমনটা দেয় না। শানায়া চান ফিমেইল কান্ট্রিসিঙ্গার কান্ট্রিমিউজিশিয়্যানদেরে একটা জায়গাজমি জোটানোর ব্যাপারে একটু সহায় হতে। যেই ইভেন্টটায় শানায়া কানেক্টেড হয়েছেন, ‘রিয়্যাল কান্ট্রি’ নামের সেই ইউএসএ-বেইসড কর্মযজ্ঞে, এর মাধ্যমে রেডিয়ো-মুনাফা না বরঞ্চ টোয়াইন চান সত্যিকারের একটাকিছু কন্ট্রিবিউট করতে দেশগাওজোড়া নারী মিউজিশিয়্যানদের জন্যে। এই সঙ্কল্প বাস্তবায়নে তিনি বদ্ধপরিকর বলিয়া জানায়েছেন।

কান্ট্রিমিউজিকের অবস্থা ভালো না। আজ আর আগের সেই বৈচিত্র্য-জৌলুস নাই। কোথাও গিয়া কান্ট্রিগানগুলা সবই যেন একরকম শোনায়। একঘেয়ে তো বটেই। বিরক্ত হন শানায়া, আজকের কান্ট্রিগীতি শুনে বেদম বিরাগ হওয়া ছাড়া আর-কিছুই হন না শায়ানা। তারপরেও টোয়াইন নৈরাশ্য প্রচার করে বেড়ান না। শানায়া চান নিজে একটাকিছু করতে এই বাবতে। সেই লক্ষ্যেই নিশানা তাক করে এগোতে লেগেছেন। বাকিটা দেখা যাক।

বৈচিত্র্য চান শানায়া, ডাইভার্সিটি, কান্ট্রিগীতির গায়কের গলায়, গায়কীতে, বাদ্যে, প্রেজেন্টেশনে। এখনকার গানভুবনে দেখা যাচ্ছে রেকর্ডকোম্প্যানিগুলা কান্ট্রির জঁরা আমলেই নিচ্ছে না। তারা কান্ট্রিমিউজিকে ডেডিকেইটেড ইয়াং আর্টিস্টদের উৎসাহ তো দিচ্ছেই না, ভ্রান্ত করছে উপরন্তু। কথাগুলা শানায়া ভাবেন ইদানীং।

পুরুষাধিপত্য গত কয়েক বছরে বেড়েছে মিউজিকের ভুবনে, এইটা শানায়া খালিচোখে দেখতে পান বলিয়া জানান। সংগীতে কেবল পুরুষদের নড়াচড়া, আন্দোলন ও আনন্দফুর্তি। তুলনায় নারীদের আনাগোনা নাইন্টিসে একটা সাম্যাবস্থায় ছিল বরং। বর্তমানে এক্ষেত্রে একটি স্থিতাবস্থা, স্ট্যাটাস-ক্যু, জাঁকিয়ে বসেছে। এই জায়গাটাতেই শানায়া কাজ করতে চান। একটা ঝাঁকানি দিতে চেষ্টা করতে চান তিনি মিউজিশিয়্যানদেরে। এর ফল কতটা আসবে তা না-জানলেও করতে চান তিনি কাজটা সানন্দ।

সম্প্রতি রিলিজ হয়েছে তার নয়া অ্যালবাম ‘নাউ’। পনেরো বছরের বিরতিকাল থেকে ফিরেছেন তিনি এই অ্যালবাম দিয়ে। এই ২০১৭ এপ্রিলে অ্যালবাম রিলিজ হয়েছে। এখনও শ্রোতার রেস্পোন্সেস বোঝা যাচ্ছে না, জানাইলেন শানায়া। আড়ালবাস থেকে ফিরে রেডিয়োস্টেশনগুলার একটা ভালো সহায়তা পাচ্ছেন বলে মনে করেন তিনি। রিসেন্টলি-রিলিজড অ্যালবামটা থেকে বেশ কয়েকটা নাম্বার বেতারে প্লে করছে রেগ্যুলার্লি। উদাহরণ দিতে যেয়ে অ্যালবামের ‘লাইফ ইজ অ্যাবাউট টু গেট গ্যুড’ গানটার উল্লেখ করেন তিনি।

বিগত শতকের নব্বইয়ের দশকে গ্লোব্যাল স্যুপারস্টারডম পেয়েছিলেন শানায়া। নাইন্টিসের দ্বিতীয়ভাগে ‘ম্যান! আই ফিল্ লাইক অ্যা উয়োম্যান’ গানটা হার্ডরকের যোগসাজশে একটা কান্ট্রিস্যং হিশেবে ব্যাপক সমাদৃত হয়। কান্ট্রি ফিডল, হার্ডরক আর ব্র্যাশের সমন্বয়ে এইটা ভালো একটা নিরীক্ষাই ছিল বলতে হবে। এবং শ্রোতাপ্রিয়ও হয়েছিল। অনেক ছিল আরও, তবে ‘দ্যাট ডোন্ট ইম্প্রেস মি মাচ’ গানটার কথা আলাদাভাবে মেনশন করতে হয়। একটা পার্ফোর্মার জেনারেশনকে ইনফ্লুয়েন্স করেছিল টোয়াইনের এই গানটা। কান্ট্রিমিউজিকের ঘরানায় গায়কীতে একটা আলাদা ভাব এনে ফ্যানদের সুষম সুরের ও সংগীতরসের বোধের কাছাকাছি গিয়েই তিনি বাজিমাত করেছিলেন। শ্রোতা পাচ্ছে না এখন আর কান্ট্রি গানবাদ্য, শ্রোতা পাইতে চায় কান্ট্রি, তেমন কেউ উল্লেখযোগ্য উঠে আসছে না। আশ্চর্যের ব্যাপার। শ্রোতাদের দোষ মোটেও নয়। শানায়ার শ্রোতাভক্ত বন্ধুরা গানশোনার রুচি বিবেচনায় ন্যারো মাইন্ডেড নয় বলেই হিসাব করেন তিনি।

ইয়াংরা ভাবতে পারে যে এখন আর কান্ট্রির বেইল নাই। ফলে যারা রিয়্যাল সেন্সে ভালো কান্ট্রি গাইবার ন্যাচারাল শিল্পীসত্তা নিয়া জন্মেছে, তারাও মঞ্চের পেছনে ব্যাকড্রপের আড়ালে একআধটু গুনগুনাইলেও মঞ্চপ্রকাশ্যে আসবার সুযোগটা পায় না। কান্ট্রি পিছিয়ে রয়। আমি তাদেরে প্রেরণা যোগাইতে চাই। কথাগুলা শানায়ার। নয়া উদ্যমে প্রত্যাবর্তিত শানায়া টোয়াইনের।

এত লম্বা টাইমের হাইবার্নেশনে গেসিলেন কেন? পয়লা স্বামী ও প্রেমিক এবং তার বাচ্চার বাপ মনে দাগা দেয়ায় কিছুদিনের বিরতি নিয়েছিলেন শানায়া, তা যে এতদূর গড়াবে, পাক্কা পনেরোয় শেষ হবে সেই আন্ডারগ্রাউন্ড, অতটা শানায়া হারাম কল্পনাও করতে পারেন নাই। কিন্তু হয়েছে যা, তা তো হয়েছেই। পাস্ট ইজ্ পাস্ট। বর্তমান স্বামী নিয়া শানায়া হ্যাপি। ভীষণ সুখী শ্রীমন্ত জীবন। ভবিষ্যতের দিনগুলা লইয়াই তিনি এক্সাইটেড থাকতে চান। অতীত নিয়া মায়াকান্না নাই তার। আফসোস কিছুটা আছে যদিও। অত্যন্ত ডিটেইলে এই কিসসা শানায়া গার্ডিয়ানের সঙ্গে করেছেন। পড়ে নিতে পারেন যে-কেউ গ্যুগল্ করে। হ্যাপি কামব্যাক উয়িশ করে শানায়ার কাহিনি থেকে আমরা বিদায় নিচ্ছি আপাতত।

প্রতিবেদনকারী : বিদিতা গোমেজ

… …

COMMENTS

error: