শাহাদুজ্জামান ও ভাইব্র্যান্ট বাংলা সাহিত্য || সুমন রহমান

শাহাদুজ্জামান ও ভাইব্র্যান্ট বাংলা সাহিত্য || সুমন রহমান

SHARE:

বিচিত্র বিষয়ে তাঁর আগ্রহ। বিচিত্র প্রকরণেও। দীর্ঘদিন কাটিয়েছেন প্রত্যন্ত গ্রামে। তারপর ঢাকায়। এখন বিলেতে। জীবিত লেখক-সাহিত্যিকদের মধ্যে যদি কাউকে ‘ভার্সেটাইল’ বলতে হয়, তাঁর নামই প্রথম মনে আসে।

অদ্ভূত ঈর্ষণীয় একটি জীবন কাটাচ্ছেন এই ভদ্রলোক, — যে জীবন সাহিত্যিকের, শিক্ষকের এবং গবেষকের। পাঠকের সাথেও দেখা হয়েছে এই অফুরান জীবনীশক্তির। মনোযোগ পেয়েছেন, ভালোবাসা পেয়েছেন বিস্তর। প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি তেমন পাননি। হয়তো কোনো বিচিত্র কারণে। জীবনে প্রথমবার পাওয়া এক প্রকাশকের প্রায়-অ্যামেচার স্বীকৃতিটুকু হিসাব থেকে বাদ দিলে তার স্বীকৃতির ঝুলিতে একটামাত্রই পদক। সেটা আবার বাংলা অ্যাকাডেমি পুরস্কার।

প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নাই, আবার ‘পপুলার’ রাইটিঙও তিনি করেন না, কিন্তু তিনি কথা বলবেন, — এমন ইশারা পেলে দর্শকের যে উপচে-পড়া স্রোত দৃশ্যমান হয়, তাতে তাকে সমসাময়িক লেখকদের মধ্যে সেলিব্রিটি আকারেই জানতে ও মানতে হয়। ডকুফিকশন নামে একটি জাঁরার প্রতি আগ্রহবশত তিনি দুটো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক চরিত্রকে নিয়ে বই লিখেছেন। একটি কর্নেল তাহের, অন্যটি জীবনানন্দ দাশ। বইদুটো যেমন সমাদৃত হয়েছে, তেমনি সমালোচিতও হয়েছে।

অবশ্য সমালোচনার একটি বড় অংশই সম্ভবত আসে অসূয়া থেকে। এ নিয়ে বলবার কিছু নেই। আরেকটা অংশ আসে সম্ভবত পাঠকের অনভ্যস্ততা থেকে। অনভ্যস্ত এবং ক্ষিপ্ত পাঠক-কাম-সমালোচকের খড়গের ভয়ে বহু লেখকই প্রথার বাইরে যেতে চান না। ফলে একই হাসান, একই ইলিয়াস, একই তারাশঙ্কর পুনরুৎপাদিত হয়ে চলে বঙ্গসাহিত্যে। তাতে স্বস্তি হয়, মেটাফিজিক্স হয়, একই ক্যাটাগোরিতে অনন্তকাল পদক বিলানোর সম্ভাবনা জারি থাকে। এই ধারার পাঠক-মনোরঞ্জনে ন্যস্ত ‘আরামপ্রদ’ সাহিত্যের পাঠককে উদ্দেশ্য করে বহু আগে জাঁ জেনে রূপকছলে লিখেছিলেন : দর্শকের অপরাধ কি? দর্শকের অপরাধ হলো, তুমি যখন তোমার সবচে বিপজ্জনক খেলাটা দেখাচ্ছ, সে তখন ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলছে!

শাহাদুজ্জামান নিশ্চয়ই আমাদের আরো অনেক বিস্ময়ের কারণ হয়ে থাকবেন, নিকট ও দূর ভবিষ্যতে। গল্প, ননফিকশন কিংবা উপন্যাস — যা-ই হোক, বাংলা সাহিত্যকে এ-রকম ভাইব্র্যান্ট রাখবার দায় যে-কজনের হাতে সঁপে দিয়ে আমরা অচিরেই কার্ডিওলজিস্টের তত্ত্বাবধানে চলে যাব, তিনি তাঁদের পুরোভাগে।

… …

COMMENTS

error: