ফিনিক্স পাখির গল্পেরা || বাবুল হোসেইন

ফিনিক্স পাখির গল্পেরা || বাবুল হোসেইন

‘দ্য বয় ইন দ্য স্ট্রাইপড পাজামাস’, ‘বাসু’, ‘তারে জামিন পার’, ‘বাম বাম বলে’, ‘দ্য চিলড্রেন অব হেভেন’-এর পরে ‘পাকারাম’ সর্বশেষ দেখা শিশুমানস নিয়ে ছবি, যেটা আমাকে এক অদ্ভুত অনুভূতি, এক অদ্ভুত ভালোলাগায় দোলা দিয়ে গেছে। আর এই সবগুলো ছবিতেই কিছু কিছু বড় চরিত্র আছে এত সাপোর্টিভ যে নিজের শৈশবে এসবের ঘাটতি হাড়েমজ্জায় টের পাই। আর কান্না আসে।

পাকারামে একটা কাকু আছে, একজন প্রকৃত বাবা আছেন যিনি তার বাচ্চাকে বোঝেন, করতে দেন যাচ্ছেখুশি। ‘তারে জামিন পার’-এর শিক্ষক আমির খান, বাসুর তুলে-আনা মা যিনি কালো বাসুকে মায়ের অধিক ভালোবেসে ফেলেন।

পাকারামের পাকা উড়তে চায়, সে তার বন্ধুকে বলে যে মানুষ উড়তে শিখতে চায়ইনি আসলে কোনোদিন। মানুষ সাঁতার শেখার চেষ্টা করে, শেখে, অথচ উড়তে শেখার কোনো চেষ্টাই নেই।

এইটা কী খুবই স্বাভাবিক যে, বাচ্চারা ওড়ার স্বপ্ন দেখে! আমি আমার দীর্ঘ শৈশবে এই বিশ্বাস নিয়ে বড় হয়েছি যে একদিন-না-একদিন আমি উড়তে পারবই। এখনাবধি সেটা অটুট আছে। অথচ, আমার উচ্চতাভীতি!

Pakaram

তো, পাকা ওড়ে — স্বপ্নে। আমিও। আমার দিঘল কৈশোরকাল কেঁপে ওঠে। আমার বন্ধু নীরেশ আমাকে মাটির ঢেলা দিয়ে প্রতিমা বানানো শেখায়, — পাখি, মহিষ ইত্যাদি বানানো শেখায়। আমি মার খাই কট্টর পারিবারিক শাসননীতির কল্যাণে। ভাবি, — এইসব বিস্তারিত হাহাকার নিয়ে কি করে যেন পরিচালক আমাকেই তুলে এনেছেন সিনেমার প্রতিটা বাঁকে!

পাকার বন্ধু হোস্টেলে চলে গেলে সে অবসেসড থাকে। তার নতুন মেইটরা তাকে ইরিটেইট করে। সে নিজের সাথে কথা বলে, ছাদে উঠে উড়তে চায়। কর্তৃপক্ষ গার্জেন ডেকে কাউন্সেলিং করাতে বলেন। কাউন্সেলর তাকে বাড়ি নিয়ে যেতে বলেন। কাকু চলে যান দিল্লি। পাকা শুনে ফেলে সে-খবর। অভিমানে লুকিয়ে থাকে কাকুর আড়ালে। তারপর পাকার বন্ধু ফিরে আসে।

… … 

COMMENTS