বাংলা গানের গড্ডালিকা || প্রবর রিপন

বাংলা গানের গড্ডালিকা || প্রবর রিপন

বুঝলাম বাংলা গান এখন দুইপ্রকার —
এক : মাটির গান
দুই : আকাশের গান

মাটির গান যাহাতে মাটির গন্ধ থাকে, মানে নিজস্ব গু-মুতের গন্ধ থাকে
আর আকাশের গান যাহা আকাশসংস্কৃতির কারণে বাতাসে ভেসে এসেছে, যাহাতে পরদেশী অপ-নারীপুরুষদের গু-মুতের গন্ধ থাকে।।

একটা বিষয় স্পষ্ট, এই নাগরিকেরা যাহারা সময়ের প্রয়োজনে ব্রিটিশদের দ্বারা ধর্ষিত হবার প্রতিবাদে মাটির গান গাচ্ছে, তাহাদের হৃদয়ে কোনো মাটির চিহ্ন নেই, তাহাদের শৈশবকৈশোর কেটেছে আকাশের গান শুনে; কিন্তু বড় হয়ে যখন বুঝছে প্রতিবাদ হলো মাটির গান গাওয়া, কিন্তু মাটির গানের জন্য যে রস কণ্ঠে ও হৃদয়ে লাগে তা তো আকাশের গান কবে শুষে নিয়েছে, যার ফলে মাটির গানে না আছে প্রাণ না আছে রস, পুরোই ভণিতা আর বেসুরো, তাল জিনিশটা তাদের গানে পুরো মরা; আর সবেচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, কিছু আকাশের গানের গায়ক ইদানীং মাটির গান গাচ্ছে, আমরা আকাশ ও মাটির মাঝামাঝি পাচ্ছি কিম্ভূত এক গু-মুতের গন্ধ।

গান তো মাটি বা আকাশের জিনিশ নয়, তাহা বাতাসের জিনিশ
আমি গাই সেই বাতাসের গান
তোমরা গিয়ে গোয়ামারা খাও তোমাদের মাটি আর আকাশের গান নিয়ে
আমি তোমাদের মাটির গায়ক, সাম্যবাদের গায়কদের চিনি, সমাজে যাদেরকে অবহেলিত নিম্নশ্রেণি বলে তাদের সাথে আচরণ দেখেছি আমি।

আমি বুঝেছি মাটির গান বলতে তোমরা কি বোঝাও, কবরের ভেতর সার-হয়ে-যাওয়া মানুষের গান; ঐতিহ্য এই বস্তুটাকে আমার মনে হয় হস্তমৈথুনে ব্যবহৃত তেল, যেহেতু সঙ্গম করার মতো কাছে কেউ নেই, তাই তেলযোগে স্মৃতির শরণাপন্ন হয়ে বীর্যপাত ঘটানো।

একজন সমকালীন বাংলা মাটির গায়ককে জিজ্ঞেস করলাম, “আচ্ছা আপনি মাটির গান কেন করেন?” সে বললো, “আমি বাংলার মাটির গান গাই যাতে বিদেশীরা আমাকে পছন্দ করে, আর ইন্টার্ন্যাশন্যাল ফাক  ফেস্টিভ্যালে আমাকে গান গাইতে ডাকে, আর যদি একটা শাদা চামড়ার নারীর মাটি কোপানো যায় …”

আমি পাশে কোনো মাটিকাটার কোদাল খুঁজছিলাম, লোকটার মাথায় তা দিয়ে কুপিয়ে তার মগজের ভেতর কিলিবিল-করা জোঁকদের বের করে আনার জন্য

… …

COMMENTS

error: You are not allowed to copy text, Thank you