ইতিহাস ক্যামনে ব্যাকফায়ার করে দ্যাখেন। ‘তুই রাজাকার’ থেকে ‘তুমি কে, আমি কে / রাজাকার, রাজাকার’।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বনাম রাজাকার, এই পরিপূরকে আইসা দাঁড়াইছে এখন জিনিসটা। রাজাকার আছে বইলাই মুক্তিযোদ্ধোদের পরিচয় আছে এবং রাষ্ট্রে সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদি পাওয়া হবে। রাজাকার আছে বইলাই। রাজাকার নাই, তো মুক্তিযোদ্ধাও নাই। এইখানে আসছে।
ঈভিল এবং গুডের পার্থক্য করার কন্টেক্সট থাকলে এই বাইনারি ওয়ার্ক করে। করছে। কিন্তু, যখন এইটা একটা ভালো রাষ্ট্র হইতে চাওয়াদের বারবার খারাপই থাকতে থাকার টুলসে রূপান্তরিত হয়, যেকোনো বর্তমানে, তখন ইতিহাসের গুড সারাক্ষণ তার কাল্পনিক অতীতের গুড-অস্তিত্বের বর্তমান সংকট মোকাবেলা করার জন্য ইভিলকে ডাইকা নিয়া আসে। ইভিল তো আর ততদিনে ইভিল নাই।
বর্তমান ইজ দেয়ার।
ইতিহাসের ইভিল ফর হাউ লং উইল বি কাউন্টেড অ্যাজ ইভিল, এইটার সমস্যা এবং সম্ভাবনা নিয়াই গরিব দেশগুলির রাজনীতি চলে।
অথচ বর্তমানে বসবাস করা ধনী রাষ্ট্রগুলি এইটা আবার নিজের দেশে করে না, করে হইল এই ধরেন ইহুদিদের সমর্থন দিয়া ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে। সেই কোন্ এক ঐতিহাসিকতার ভিতরে থাইকা এইগুলা তারা করে, এগজিস্টেনশিয়্যাল ক্রাইসিসকে ঠিক/শুদ্ধ করার হিউম্যান ইন্সটিংক্ট মনে করি একে। একই সঙ্গে, মানবপ্রকৃতির আদিম ডেভিলিশ বাসনা চরিতার্থের ক্ষেত্রও। ইন্সটিংক্টের পরিচর্যা মানে একে সর্বদা ইনট্যাক্ট রাখা না, নতুন ইন্সটিংক্ট গইড়া তোলাও। তা নিশ্চয়ই আপনাকে খুনি হইতে বলতে থাকবে, শুদ্ধতা চাইতে থাকবে, কিন্তু কনটেক্সট না থাকলে খামাখা বললেও কি আর আপনি শুনতে যাবেন? ওই ট্রেনিং তো নিজেকে করাবেন আপনি। তাই না? আর যদি সে আপনার নিজেকেই নিজের খুনি হইতে বলে, তা আপনি কতবার শুনতে থাকতে পারবেন?
২.
কোটান্দোলনের সমালোচনা কী কী? প্রায় নাই। তো বুদ্ধিজীবী সমাজ আসলে বলতেছিলেনটা কি? ‘বাংলা ব্লকেড’ নামকরণ নিয়া ঝামেলা? অইটা তো মৃদু মৃদু রেটরিক ভারতবিরোধিতা দিয়া কোটান্দোলনে আরেকটু রং চড়ানো। জমতেছে না। ছাত্রসমাজ ৯-১৩ গ্রেডের কোটা বাতিলপূর্বক সংস্কারের দাবিতে লড়তেছিলেন। এখন তো একদম ২০ গ্রেড পর্যন্ত পুরা রেঞ্জটা ধরছেন। তো? জমতেছে না। ছাত্রসমাজ কেন শুধু কোটা বিরোধিতাতে সরব, আর কোনো আন্দোলনে কেন নাই? তো যার যার নগদ চাওয়া লইয়াই তো সে সে কথা বলবে। নাকি? ছাত্রদের দরকারই অই নগদতা। জমতেছে না।
রাজনীতিবিদরা ফেইল করবে আর তাকাইয়া থাকবে অন্যরা তাদের পার কইরা দিবে। তা তো এই আমলে হয় না। কারণ রাষ্ট্রের স্বরূপ বদলাইছে।
বুদ্ধিজীবীরা ফেইল করে না। কারণ তারা এক মহাকারবারের সাথে যুক্ত। সমালোচনা করা এবং পথ দেখাইয়া দেওয়া — এই দুই কারবার সদাসচল।
রাজনীতিবিদরা যেইখানে সমালোচনা নাই ওইখানে বুদ্ধিজীবীর মতো সমালোচনা বাইর করলে হবে?
তবে প্রশ্ন থাকে যে, বুদ্ধিজীবী কী রাজনীতিবিদরূপে নিজেকে দেখেন নাকি? মানে ভুল কইরা? যদি তা হয়, সেইটা শোধরানো দরকার।
কোটান্দোলনকারীদের ইন্টিগ্রিটি ভালো।
- বাতাসে উড়ে যাচ্ছে ক্রিমসন, আছে সারমেয়চিহ্নিত মধ্যাহ্ন || আনম্য ফারহান - March 25, 2026
- আমার জীবনের নারীদের করকমলে রাখি জবাফুল || আনম্য ফারহান - March 16, 2026
- ট্র্যাডিশন, ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন, অ্যালিয়েনেশন || আনম্য ফারহান - March 7, 2026

COMMENTS