প্রাক্তনরা ইতিহাস রচনা করলেও ইতিহাস ধ্বনিত হয় বর্তমানে। দৃশ্যমান একেকটি নক্ষত্র মূলত প্রকৃতি ও সময়ের নিরন্তর প্রবাহকে গ্রন্থনা করছে। মানুষের যাপন, উপলব্ধি এখানে-সেখানে প্রকৃতির অবগাহনে মিশে থাকে। আমাদের দীর্ঘশ্বাসকে, আর্তনাদকে, বেঁচে থাকার স্বপ্ন, গান, গ্রন্থিকে আমরা কখনো আড়াল করতে পারি না। এই পারা না-পারার যাপনচিহ্নই উন্মোচিত হয়েছে কবি গোলাম মোরশেদ খানের ‘সমতটে, বিমুখ দ্রাঘিমায়’ কাব্যগ্রন্থে। ২০২৩ সালে ‘নন্দিত’ থেকে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থটি পড়তে পড়তে এই কথাই মনে হলো।
গোলাম মোরশেদ খান মূলত বিজ্ঞানলেখক, অনুবাদক। তাঁর পিতা, প্রপিতামহ সহ প্রাচীন পুরুষেরা অনেকেই কবি ছিলেন। তাই পরুষানুক্রমিকভাবেই তাঁদের রক্তে কবিতা বহমান। তাঁর অনুবাদে আরবি এবং রুশ ভাষার বেশকিছু কবিতা পড়েছি।
কবিতা সময় ও জীবনের আয়না। বিশ ও একবিংশ শতকের শতজটিল পৃথিবীর রূপ-রূপান্তরের প্রতিচ্ছবি এই কাব্যগ্রন্থ। রোমান্টিক কাব্যধারায় তিনি মূলত বিপ্লবী কবিতার উত্তরাধিকারকেই বহন করেছেন। পাঁচ ফর্মার এই কাব্যগ্রন্থে সহজ ভাষায় উচ্চারিত হয়েছে জীবনের উপলব্ধি। এই উপলব্ধিগুলোই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে।

গোলাম মোরশেদ খান প্রণীত ‘সমতটে, বিমুখ দ্রাঘিমায়’ কাব্যগ্রন্থ থেকে একজোড়া কবিতা পাঠকের জন্যে রেখে যাই, নিচে—
অভিজ্ঞান
বেদনার নীলশিখা জ্বলে জ্বলে যতবার পুড়েছে আমাকে ততবার আমি এসে দাঁড়িয়েছি মিছিলের পাশে
হাতে নিয়ে রক্তপতাকা—
জানি আমি জ্যোতির্ময় চাঁদ নই, নই ধ্রুবশিখা
তবুও আমার রক্তে বাজে বিপ্লবের অগ্নিসংগীত
জ্বলন্ত লাভার স্রোতে দাউ দাউ জ্বলে ওঠে ফুল দগ্ধ-স্বর্ণ-চেতনায় নাচে বিদ্রোহের লোহিত কণিকা।
এখনো ভোরের সূর্য
হয়তোবা বেঁচে আছি তাই
এখনো আমার চোখে ভোরের সূর্য
হাজার সূর্য হয়ে জ্বলে ওঠে শিশিরের
নীলজলে ঘাসের ডগায়।
এখনো আমার বুকে প্রভাতের বিষণ্ণ বাতাস
পরাজিত কয়েকটি গন্ধবকুল
ফুল ফেলে দিয়ে যায় অলক্ষেই
হয়তো বা বেঁচে আছি তাই।
সরোজ মোস্তফা সেপ্টেম্বর ২০২৫
- কবিতা নাই কেন? - March 28, 2026
- নেত্রকোনার বড়বাজারের বারুণী মেলা - March 27, 2026
- কবিতায় যাবজ্জীবন - March 13, 2026

COMMENTS