আহ কবরী!
ওনার এই নামটা কার যে দেয়া জানি না। সিনেমায় নামার জন্য নেয়া নাম নয় বোধ করি, তথাপি পিতৃ-মাতৃকূলের যারই দেয়া হউক — নামটা আমার সাথেই বিঁধে থাকবে আমৃত্যু। এমন নাম যিনি ধারণ করেন, তাঁর সিনেমা বা পরবর্তী ঘটনাবহুল ম্যালা ম্যালা কিছু এ-বঙ্গদেশে ঘটিয়া থাকলেও সেসবের প্রতি সনিষ্ঠ না-থাকিয়াও আমি খালি নামটারেই প্রণামিয়াছি।
আবার জানি — নাম যে পর হয়ে থাকে, এ গাঙে, ওই চরাচরে; ক্ষতি কি? সিম্বলাইজড এ-সিভিলাইজেশনের ইমেজারি তফাতে রাইখাও অরিজিন্যালিটির ঝাঁজ শুধুমাত্র দুইটা-তিনটা অক্ষরে (যা আবার ওই সিম্বলই) রাখা চলে যেহেতু অক্ষর ভাষার মেজাজ দেয় না — ভাষার চরিত্র অন্যভাবে গড়ে — অক্ষরের ভিতর সম্ভাবনা চিরকালীন মূর্ত বিষয়, তারে পারমুটেশন মোডে খেলাতে পারলে নানারকম চরিত্র দাঁড়াতে পারে।
তো ‘কবরী’ শব্দটা রাবীন্দ্রিক শোনাইলেও এর উপযোগ রাবীন্দ্রিক নয় মনে করি। কারণ, হিন্দুয়ানী শব্দের রাজনীতি মাথায় রাখিয়াও মোসলমানের কাছে আদৃত হয়ে ওঠা কিছু আপামর শব্দরাশির মধ্যে ‘কবরী’ শব্দটা টিকে যাইবে। সুমন চট্রোপাধ্যায় হইতে কবীর সুমন — ‘সুমন’ একটা কমন এলিমেন্ট; আর ‘মীনা পাল’ জন্মনাম হতে ‘কবরী’ বা হিন্দু স্বামী চিত্ত চৌধুরীর স্ত্রী হিসেবে ‘কবরী চৌধুরী’ (এই টাইটেল নিছেন কি না আমি জানি না) বা মুসলিম বিবাহটাইটেল ‘কবরী সারোয়ার’ পর্যন্ত — কমন এলিমেন্ট কিন্তু থাকল না বাট বাংলাদেশে কবরী যেই কারণে কবরী, তারা; ওইভাবে কেউ টেরও পান নাই মেবি যে কবরী হিন্দু!
এইটাই একটা মোসলমান ডমিন্যান্ট ভোক্তা সমাজের সাথে বিরাট স্টান্ট! তাই না?
আই অ্যাম পার্সোনালি ইন ল্যভ উইথ দিস ‘কবরী’ ওয়ার্ড। কাইন্ড অব অবসেসড ইউ মে সে।
১৭ এপ্রিল ২০২১
ব্যানারে ব্যবহৃত ছবির শিল্পী সুমন ইউসুফ
… …
- টু ল্যভ অ্যান্ড টু বি ল্যভড || আনম্য ফারহান - April 2, 2026
- বাতাসে উড়ে যাচ্ছে ক্রিমসন, আছে সারমেয়চিহ্নিত মধ্যাহ্ন || আনম্য ফারহান - March 25, 2026
- আমার জীবনের নারীদের করকমলে রাখি জবাফুল || আনম্য ফারহান - March 16, 2026

COMMENTS