আবদুল আলীমের দুর্লভ বেতার-সাক্ষাৎকার || ইমরান ফিরদাউস

আবদুল আলীমের দুর্লভ বেতার-সাক্ষাৎকার || ইমরান ফিরদাউস

আবদুল আলীমের দুর্লভ বেতার সাক্ষাৎকার
নিয়েছেন বাংলাদেশ বেতার এর শহীদুল ইসলাম
ভূমিকা ও শ্রুতিলিখন ইমরান ফিরদাউস


পল্লীগীতির প্রবাদপ্রতিম গায়ক আবদুল আলীম এর এই সাক্ষাৎকারটি বোধ করি স্বাধীন বাঙলাদেশে বসে নেয়া। কেননা, সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে আলীম বলছেন যে, তাঁর সাত সন্তান। আবদুল আলীম এবং স্ত্রী জমিলা আলীম-এর সর্বকনিষ্ঠ সন্তানের জন্ম হয় আবদুল আলীম-এর অকাল প্রয়াণের এক বছর আগে। শিল্পী আবদুল আলীম ১৯৭৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মাত্র ৪৩ বছর বয়সে মারা যান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ‘স্বাধীন বাঙলা বেতার কেন্দ্র’, পরবর্তীতে ‘বাংলাদেশ বেতার’-এর সংবাদপাঠক, ঘোষক শহীদুল ইসলাম। অন্তরঙ্গ ও  আন্তরিক এই আলাপচারিতায় উঠে এসেছে পল্লীগীতিপ্রেমী, সাধক আবদুল আলীমের গায়কী প্রতিভার উন্মেষ, বিকাশ ও কর্মতৎপরতার গল্প। সর্বোপরি, একজন সংগীতপিয়াসী, ভাবুক ও মরমি ব্যক্তিত্বের সংগীতবিষয়ক ভাবনা, প্রস্তাবনা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায় এই কথকতায়। ১৯৭০ দশকের প্রেক্ষিতে উপস্থাপক শহীদুল ইসলাম অবতরণিকায় বলছেন যে, আবদুল আলীম-কে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার কিছু নেই। কিন্তু, ভীষণ ২০২১-এর সোপানে দাঁড়িয়ে মনে করি (যদিও চাই না এমন ভাবতে) যে, আবদুল আলীমকে হয়তো আবার নতুন করে পরিচয় করে নিতে হবে পাঠিকা-পাঠকদের সাথে। এবং সেই ক্ষেত্রে এই আলাপন একটি সূত্র হতে পারে বৈকি! আবদুল আলীম ও শহীদুল ইসলাম-এর এই আলাপচারিতার শ্রুতিলিখনে তাদের কথ্য প্রকাশভঙ্গিটি ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। ভাবপ্রকাশে বন্ধনীতে জুড়ে দেওয়া শব্দগুলোর দায় আমার। দুর্লভ এই সাক্ষাৎকারটি মাউসের কার্সরের নাগালে এসে পড়ে ইউটিউব-এ বিরাজিত Atique761 চ্যানেলের সূত্রে; ধন্যবাদ তাকে। একটি বিষয় এই সাক্ষাৎকার স্মরণ করিয়ে দিয়ে যায় যে, এই বাঙলা দেশের মানুষের জীবনে প্রকৃতি, গ্রাম, আধ্যাত্মিকতা এক অদ্ভুত সমসত্ত্ব মিশ্রণে মিশে ছিল, প্রাতিজনিক জীবনের অংশ হিসেবে। যেখানে মরম বা মর্ম একটি কোমল ও গুরুত্বপূর্ণ ধারণা এই অঞ্চলের মানুষকে বোঝার জন্য এবং মানুষের অধিকারের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য। এখানে, অঞ্চল মানে শুধু নগর নয় বরং (বর্তমানে) সিন্থেটিক নগর দিয়ে ঘিরে ফেলা গ্রাম-অঞ্চলকে বুঝে নিতে হবে। যার প্রতিধ্বনি পাঠিকা-পাঠক আপনার শুনবেন জমিলা আলীম-এর ভাষ্যে, আবদুল আলীমের কণ্ঠে বক্ষ্যমাণ সাক্ষাৎকারে। এই সাক্ষাৎকার আরো মনে করিয়ে দেয় যে, লাইক, শেয়ার, কমেন্ট ও সাবস্ক্রাইবের বাইরে এখনো হয়তো কোথাও কোনো উপায় ঘাপটি মেরে আছে, যা হতে পারে শ্রোতা ও শিল্পীর মাঝে জৈব যোগসূত্র, রচনা করতে পারে হলদিয়া পাখির বিরহবেদন। আজ যখন গ্লোবালাইজেশনের চক্করে লোকসংস্কৃতি হয়ে গেছে বুটিকের দোকানের ফোক মোটিফ এবং পল্লীগীতিকে পড়তে হয়েছে রিমিক্স ফেটিশের খপ্পরে, তখন শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর (২০১৪) জীবৎকালের লিখিত স্মৃতি থেকে আমরা জানতে পারি যে, —

আর্টস্কুলের যে-কোনো অনুষ্ঠানে সংগীতের আসর, বিশেষ করে লোকসংগীত অপরিহার্য ছিল। মমতাজ আলী খান, আবদুল আলীম, কানাইলাল শীলের সঙ্গে ছাত্রাবস্থাতেই আমাদের পরিচয় ঘটেছিল। … আমরা গিয়েছি ময়মনসিংহের মধুপুরে। সময়টা গ্রীষ্মের ছুটির অবকাশে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরীদের বাড়িতে আমাদের ডেরা। মধুপুরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে সে কী তুমুল বৃষ্টি! সবাই আমরা গৃহবন্দি। ছবি-আঁকা মাথায় উঠেছে। সারাদিন গল্পগুজব আর গান-শোনা। সঙ্গে ছিলেন জসীমউদ্দীনের শিষ্য হারমোনিয়াম কাঁধে আবদুল আলীম। জসীম উদ্দীনের কাছ থেকে গান তুলছেন আবদুল আলীম। জসীম উদ্দীন ভাঙাগলায় একলাইন গেয়ে যান, আবদুল আলীম সেটি গলায় তুলে নেন। সেই আবদুল আলীমের সঙ্গে আমাদেরও গান গাওয়া।

অথবা ফ্যুলটাইম রকস্টার আইয়ুব বাচ্চু (২০১৮) যখন বলেন, —

গান বানানো খুব কঠিন। অন্যের গান দিয়ে বিখ্যাত হওয়া যায়, নিজের গান দিয়ে বিখ্যাত হওয়া খুব কঠিন। একজন আবদুল আলীম হওয়া খুব কঠিন, একজন আব্বাসউদ্দীন হওয়াও খুব কঠিন। কিন্তু আব্বাসউদ্দীনের মতো করে গাওয়াটা হয়তো সহজ।

তখন বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয় যে, আব্দুল আলীম একেবারেই অপাংক্তেয় হয়ে যান নাই এই বাইনারি সময়ে। যদিও ‘গেরাইম্যা’ বা ‘খ্যাত’ পলিটিক্যালি কারেক্ট ও অ্যাপ্রোপ্রিয়েট  পাবলিকের জবানে এখনো একটা শ্লেষের মৃদু পৈশাচিক আনন্দ যুগিয়ে থাকে।

তো, পাঠিকা-পাঠক এমন সময়ে আপনাদের এই শ্রুতিলিখন পাঠের অনুরোধ পেশ করা হচ্ছে, যখন উন্নয়নের জোয়ার বইছে কিন্তু দরিয়ায় পাল-তোলা মাঝি নাই, পোস্টারে মার্কা আছে কিন্তু নদীতে নৌকা নাই।

অতএব পড়ুন বিনয়ী, নিরহঙ্কারী আবদুল আলীমের [1] স্মৃতিতে, তাঁর গীতের ব্যাকগ্রাউন্ড সুরের মূর্ছনার সাহচর্যে। সেলাম!


[1] আবদুল আলীমের “স্কুলের বন্ধু ছিলেন ভাষা আন্দোলনে শহীদ বরকত। তারা একই গ্রামে বড় হয়েছেন, বাবলা গ্রামের একই স্কুলে পড়েছেন। সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন শহীদ বরকতের বাবা। তারা স্কুলে যেতেন ঠিকই। তবে ক্লাসের মাঝসময়ে পালাতেন। তাদের নিয়মিত কাজ ছিল বাঁশবাগানের ঝোপে পাখির ডিম সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে নানা দুষ্টুমি। কোনো-একভাবে তার হাতও ভেঙেছিল বাঁশবাগানে। আর খোলা প্রান্তরে গিয়েই গলা ছেড়ে গান গাইতেন। যদিও খুব লাজুক প্রকৃতির ছিলেন তিনি” (আলীম ২০১৫)


আবদুল আলীমের দুর্লভ বেতার সাক্ষাৎকার
নিয়েছেন বাংলাদেশ বেতার-এর শহীদুল ইসলাম
ভূমিকা ও শ্রুতিলিখন ইমরান ফিরদাউস

শহীদুল ইসলাম : আবদুল আলীমকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার কিছু নেই। তবে আজকে আমরা খানিকটা অন্তরঙ্গ আলোকে আলাপ-আলোচনা করবো।
আচ্ছা, আলীম ভাই আপনার বাড়ি কোথায়?
আবদুল আলীম : আমার বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার তালিবপুর গ্রামে।

শহীদুল ইসলাম : আপনি কবে থেকে সংগীতচর্চা শুরু করলেন?
আবদুল আলীম : যতদূর সম্ভব (মনে পড়ে) … আমার যখন নয় কিংবা দশ বছর বয়স, তখন আমার এক চাচা কলকাতা থেকে একটা কলের গান কিনে নিয়ে গেলেন।

শহীদুল ইসলাম : কলের গান!
আবদুল আলীম : কলের গান। তখন তো আমরা গ্রামোফোন বুঝতাম না। কলের গানই বুঝতাম। তা সকালে তখন প্রায় নয়টা বাজে, তখন আমি পান্তাভাত খাচ্ছিলাম বাড়িতে বসে। গ্রামের বাড়িতে তো আমার জন্ম…সেখানে মা পান্তাভাত দিছে, সেই পান্তাভাত খাচ্ছি, হঠাৎ আমার কানে একটা সুন্দর আওয়াজ আসলো … গানের আওয়াজ … ভাত রেখেই আমি সেই পাশের বাড়িতে গেলাম আমার চাচার বাসায়। সেখানে দেখছি গান হচ্ছে, তখন এদিক-ওদিক তাকাই কোনখানে মানুষ আছে, কিছু বুঝতে পারি না। কী-যেন একটা গোল-মতন রেকর্ড … মানে ওই এখন যে-রেকর্ড দেখি ঐ-রেকর্ড এখানে ঘুরছে! আমার প্রথম … ঐ প্রথম আমি দেখলাম।

শহীদুল ইসলাম : দেখলেন আচ্ছা।
আবদুল আলীম : এবং সেই গানটি … আমার যতদূর মনে পড়ে … এখন সেই গানটা আমি পরে, অনুভব করে শিখে নিয়েছি শেষপর্যন্ত, সেই গানটির কথা হলো : সদা মন চাহে মদিনা যাবো

শহীদুল ইসলাম : আচ্ছা এই গান শুনেই আপনি প্রথম প্রেরণা পেলেন গান শিখবেন, নাকি?
আবদুল আলীম : আমি প্রেরণা পেলাম এবং গান শুনে খুব পাগল হয়ে গেলাম! এই গান শুনে।

শহীদুল ইসলাম : আচ্ছা এই গানটি কার কণ্ঠে রেকর্ড ছিল আপনার মনে আছে কী?
আবদুল আলীম : এই গানটি রেকর্ড (করা) ছিল কে. মল্লিক (এর কণ্ঠে)।

শহীদুল ইসলাম : আচ্ছা, আলীমভাই, এরপরে আপনি গানচর্চা শুরু করলেন কীভাবে?
আবদুল আলীম : চর্চা তখনো আরম্ভ করিনি। তখনও আমি কলের গানই শুনতাম। শুনে শুনে কিছু গান আমি শিখলাম।

শহীদুল ইসলাম : হুম…
আবদুল আলীম : শিখার পরে তাল এবং লয়, ঐ রেকর্ডে যেমন বাজতো … ঠিক ঐ-লয়ও বুঝে গেলাম, তালও বুঝে গেলাম।

শহীদুল ইসলাম : শুনেশুনেই?
আবদুল আলীম : শুনেশুনেই। আমার মাথায় ঢুকে গেল ঐ জিনিসটা।

শহীদুল ইসলাম : আচ্ছা।
আবদুল আলীম : তারপরে গ্রামের ভিতরে আমি ঐ গান গাইতাম না। আমি গাইতাম মাঠে যেখানে কোনো লোকজন নাই। মানে শরম লাগতো আমার খুব।

শহীদুল ইসলাম : মানে লজ্জা লাগতো?
আবদুল আলীম : খুব লজ্জা লাগতো!

শহীদুল ইসলাম : আচ্ছা।
আবদুল আলীম : তারপর একদিন গ্রামের কতগুলো লোক এসে আমার ভাইকে ধরল যে, আলীমকে তোমরা গান শেখাও। তার গলাটা এত মিষ্টি! তারপর আমার ভাই টাকার লোভ দেখায়, এ দেখায়, ও দেখায় … গান গাওয়াইতে চেষ্টা করে; তা আমি (এড়াই) … শেষপর্যন্ত ভাই-ই টাকা দিলো আমি গান গাইলাম। সে একজন ভদ্রলোক ছিল গোলাম আলি তাঁর নাম। ভদ্রলোক একটা হারমোনিয়াম নিয়ে আসলো, আমাক গান গাওয়ালো, গাওয়ার পর গান শুনে মানুষ খুব প্রশংসা করতে লাগলো, খুব তারিফ করতে লাগলো, তারপর আমার লজ্জা ভেঙে গেলো, তখন থেকেই ঐ ওস্তাদ ধরলাম উনাকেই, গোলাম আলী সাহেবকে। উনি আমাকেই গান শেখাতে লাগলেন।

শহীদুল ইসলাম : উনি শেখানো শুরু করলেন?
আবদুল আলীম : জ্বি।

শহীদুল ইসলাম : উনি কি আপনার গ্রামেরই লোক?
আবদুল আলীম : গ্রামেরই লোক।

শহীদুল ইসলাম : আচ্ছা। ইনি পাওনার জীবনের প্রথম ওস্তাদ। তারপরে আপনার এমন কোনো ওস্তাদ আছে কি যাদের কাছে আপনি গান শিখেছেন?
আবদুল আলীম : আছে। তবে এই গান শোনার পর গ্রামে থিয়েটার হতো, জায়গায় জায়গায় আমাকে নিয়ে যেত, অনেক মেডেল দিত। অনেক, অনেক জায়গায়। সেই মেডেলও পেলাম। খুব আনন্দ পেতাম। তখন উৎসাহ বেড়ে গেল।

শহীদুল ইসলাম : তারপর থেকে গানচর্চা শুরু করলেন
আবদুল আলীম : ঐ আমার ওস্তাদ গোলাম আলী সাহেব (আমাকে) কলকাতা নিয়ে গেলেন। নিয়ে যাওয়ার পরে গ্রামোফোন কোম্পানিতে একদিন বেড়াতে নিয়ে গেলেন, যে চলো দেখে আসি। তখন ঐ কে. মল্লিক সাহেবের দেখা পেলাম।

শহীদুল ইসলাম : ওখানে?
আবদুল আলীম : জ্বি।

শহীদুল ইসলাম : আচ্ছা।
আবদুল আলীম : তখন নজরুল ইসলাম উনি ভালো ছিলেন।

শহীদুল ইসলাম : তার সাথে আপনার পরিচয় হলো?
আবদুল আলীম : পরিচয় সেদিন হলো না। তারপরে একদিন আমি আলিয়া মাদ্রাসা গেলাম, এ.কে. ফজলুল হক বাঙলার প্রধানমন্ত্রী আসবেন, বক্তৃতা হবে। সেখানে আমার ভাইয়ের সঙ্গে গেলাম। তারপর আমার ভাই গোপনে গোপনে আমার নাম একটা লিস্টে লেখে দিয়ে আসলো যে, এ-ছেলে একটা গান গাইবে।

শহীদুল ইসলাম : আচ্ছা।
আবদুল আলীম : আমি তো ভয়ে গান গাইতে পারছি না। সে কেমন লাগছে, কলকাতার মতন জায়গায় প্রথম গিয়েছি। তারপর যাইহোক আমাকে ডাকলো এইবারে গান গাইবে আবদুল আলীম। আমি গান আরম্ভ হওয়ার পরেই দেখি হক সাহেব পেছনে এসে বসেছেন। সেই গানটা আমি গাচ্ছি সদা মন চাহে মদিনা যাবো

শহীদুল ইসলাম : আচ্ছা।
আবদুল আলীম : সেই গান শুনে উনি (হক সাহেব) অঝোর ধারায় কাঁদছেন। তখন বললেন “ভাই তুমি আমার সাথে দেখা করে যাবে, তোমাকে আমি পোশাক তৈরি করে দেবো”। তখন উনি যেখানেই ফাংশন করতেন কলকাতার মধ্যেই খিদিরপুর, আলিপুর — গাড়ি পাঠিয়ে দিতেন আমার বাসায়। তারপর ভাইকে নিয়ে আমি যেতাম সেখানে, গিয়ে দেখতাম (হোসেন শহীদ) সোহ্‌রাওয়ার্দী সাহেবও সেখানে। আমার গান শুনে উনি খুব খুশি হলেন এবং পাবলিক আমাকে টাকা দেয়, মটরগাড়িতে চড়ে আসি, আমরা খুব আনন্দ পাই। টাকা নিয়ে এসে বাড়িতে হয়তো এটা-ওটা কিনে খাই, রাস্তাঘাটে তখন ভালো ভালো জিনিস পাওয়া যায়।

শহীদুল ইসলাম : তো, তখন আপনার বয়স কত হবে?
আবদুল আলীম : তখন বয়স হবে দশ থেকে এগারো!

শহীদুল ইসলাম : তো, এভাবেই আপনার গানচর্চা শুরু হয়?
আবদুল আলীম : জ্বি।

শহীদুল ইসলাম : এরপর আপনার জীবনের প্রথম গ্রামোফোন রেকর্ড কি?
আবদুল আলীম : তখন আমার গ্রামোফোন রেকর্ড … এক ভদ্রলোক ছিলেন হুগলি বাড়ি এম. সুলতান তাঁর নাম, ঢাকাতেই আছেন বর্তমানে তিনি। বুড়া হয়ে গেছেন, খুব ভালো নামকরা কবি ছিলেন তিনি, লেখক। তিনি আমাকে গ্রামোফোন কোম্পানিতে নিয়ে গেলেন কলকাতায়, বিকালে সেখানে গিয়ে দেখি বসে আছেন কাজী নজরুল ইসলাম সাহেব! তিনি হয়তো একটা গান লিখছিলেন, লিখতে লিখতে হয়তো হঠাৎ উনি মানে এম. সুলতান সাহেব বললেন “কাজীদা, একটা ছেলেকে নিয়ে এসেছি একটু গান শুনুন”। আমি যখন বসে আছি তখন উনি বললেন, “তুমি গাও”। তখন আমি উনারই লেখা, কাজী সাহেবরই লেখা একটি গান, আব্বাসউদ্দীন সাহেবের রেকর্ড ছিল উঠলো তুফান পাপ দরিয়ায়। এই গানটি গেয়ে শুনালাম, উনি খুব খুশি হলেন। তারপর গ্রামোফোন কোম্পানির ট্রেনার যিনি ছিলেন তাকে বললেন এই ছেলেটির দুটি গান রেকর্ড করুন। গান দুটি ছিল : তোর মোস্তফাকে দেনা মাগো, সঙ্গে লয়ে যাই, মোদের সাথে মেষচারণে ময়দানে ভয় নাই; আরেকটি হলো আফতাব ঐ বসলো পাটে আঁধার এল ছেয়ে, চল ফিরে চল মা হালিমা আছে রে পথ চেয়ে।

শহীদুল ইসলাম : আচ্ছা এই গানদুটির রেকর্ড আছে আপনার কাছে?
আবদুল আলীম : ছিল কিন্তু রেকর্ডটা ভেঙে ফেলেছি।

শহীদুল ইসলাম : আপনি ঢাকা বেতারের সাথে জড়িত হলেন কিভাবে?
আবদুল আলীম : এরপরে তো আমি কলকাতায় রেকর্ড করি, তারপর বাড়ি ফিরে যাই। তখন দেশ ভাগ হয়ে গেলো। তারপর আমার ভাই দেশে গেলেন এবং বললেন চলো ঢাকা যাই।

শহীদুল ইসলাম : আলীমভাই, আপনি ঢাকায় এসে কি কারো কাছে গান শিখেছেন?
আবদুল আলীম : মমতাজ আলী খান সাহেব আমাকে তিন-চার বছর গান শেখালেন একাধারে।

শহীদুল ইসলাম : এরপর কারো কাছে আপনি গান শিখেছেন কি?
আবদুল আলীম : তারপর শিখেছি … তবে তার আগেই মরহুম আব্বাসউদ্দিন সাহেব আমার গান শুনলেন সাদেকুর রহমান সাহেবের বাড়িতে, শুনেই বললেন তোমাকে আমি চাকরি দিবো পাবলিসিটি ডিপার্টমেন্টে।

শহীদুল ইসলাম : পাবলিসিটি ডিপার্টমেন্টে, আচ্ছা।
আবদুল আলীম : তো শুনে আমি বললাম তা দিলে তো খুব উপকার হয়। এখন আমি বেশ অভাবে আছি, কষ্টে আছি। এখন তো রেডিওতে গান গাই দশটা করে টাকা দেয়, সারাদিন গান গেয়ে দশটি করে টাকা দেয়। তখন রেডিও অফিস ছিল নাজিমুদ্দিন রোডে। তারপর চাকরি দিলেন আমাকে। তিন বছর চাকরি করার পরে বললেন যে তুমি ক্ল্যাসিক্যাল গান শেখো, উচ্চাঙ্গ সংগীত শেখো। তখন ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খসরু সাহেব ছিলেন, তাঁর কাছে আমি তিন বছর উচ্চাঙ্গ সংগীত চর্চা করলাম, করার পরে তিনি ইন্তেকাল করলেন। তারপর আর শিখলাম না। এই রাগরাগিণী আমি এখনও পর্যন্ত বাড়িতে রেওয়াজ করি।

শহীদুল ইসলাম : আলীমভাই, আপনি তো পল্লীগীতিতে যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছেন দেশে-বিদেশে, সর্বত্রই আপনার সুনাম রয়েছে। তো, আপনি পল্লীগীতি ছাড়া অন্য কোনো গান, গান না কেন?
আবদুল আলীম : আমি গাইতাম, সব গানই গাইতাম; রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল ইসলামের গানও গাইতাম, ভাটিয়ালি গাইতাম, বাউল গানও গাইতাম। কিন্তু, হঠাৎ এই (পল্লী)গানের সুর যেন আমাকে পাগল করে ফেললো। যখন ঢাকায় প্রথম আসলাম, তখন দেখছি যে মানে শুনছি রেডিওতে মমতাজ আলী সাহেবের একটা গান, সকালে উনি গাচ্ছেন আর তার সঙ্গে বাঁশের বাঁশি বাজছে, সেই গান শুনে আমি দাঁড়িয়ে গেলাম হঠাৎ, রাস্তায়! দাঁড়িয়ে গিয়ে যে আমার এত্ত ভালো লাগল যে আমি (ঠিক করলাম) এই গানই শিখব আর কোনো গান শিখব না!!

শহীদুল ইসলাম : ভালো শিল্পী হতে হলে কী করা দরকার বলে আপনে মনে করেন?
আবদুল আলীম : ভালো শিল্পী হতে গেলে প্রথমে গলা ভালো হতে হবে। গলা ভালো না হলে তার কিছুই হবে না। প্রথম গলা। তারপর সেই গলাকে তৈরি করতে হলে উচ্চাঙ্গ সংগীত শিখতে হবে।

শহীদুল ইসলাম : উচ্চাঙ্গ সংগীত শিখতে হবে।
আবদুল আলীম : জ্বি, উচ্চাঙ্গ শিখতে হবে এবং তার সুর বুঝতে হবে। এবং সেই রাগরাগিণীর উপর কিছু রেওয়াজ করতে হবে। ফলে, তার গলার কারুকার্য কিছু তৈরি হয়। যেন তার গায়কী একটু ফ্রি হয়, যেন অসুবিধা বোধ করে না।

শহীদুল ইসলাম : ইদানীং যেমন আমরা লক্ষ করছি, তেমন কোনো শিল্পীই যেন তৈরি হচ্ছে না। এব্যাপারে আপনার মতামত কি?
আবদুল আলীম : তৈরি হচ্ছে না। তবে আমি অনেক চেষ্টা করি, সে-রকম গলা হয়তো দুই-একটা পাই; কিন্তু কেন যে হচ্ছে না! সেটা আমার যেন মনে হয় — তারা দু-চার মাস গান শেখার পরে হঠাৎ একটা বিদেশি সংগীত কানে আসলে, এটাকে যেন অবহেলা করে সেইদিকে চলল তারা।

শহীদুল ইসলাম : আচ্ছা।
আবদুল আলীম : এবং তারা বলে যে, পল্লীগীতি তো একই সুর। এ শেখা হয়ে গেছে, আর কী শিখবো!!

শহীদুল ইসলাম : তো, আসলে আপনার মতে পল্লীগীতি কি একই রকম সুর?
আবদুল আলীম : একই রকম সুর না। এইটা আমি বলতে গেলে — এর সুর বোধহয় হাজার রকমের আছে …

শহীদুল ইসলাম : বাংলাদেশের পল্লী সংস্কৃতির
আবদুল আলীম : হ্যাঁ … কিন্তু সেই সুর আমরা গাইতে চেষ্টা করিনি। একই রকম সুরে ফেলে কোনোরকম চালাই। কিন্তু আমার মনে হয়, সেই সুর যদি ঠিক পরিষ্কারভাবে তুলি আমরা, সেই গানের, নিশ্চয়ই সেই নতুনত্ব, একেক গানের পর আরেক গান … নিশ্চয়ই একঘেয়েমো লাগবে না।

শহীদুল ইসলাম : তো, আপনার মতে আমাদের পল্লী সংস্কৃতির বিকাশ সাধনে কি করা দরকার? কি করলে আমাদের সংস্কৃতির বিকাশ ঘটবে?
আবদুল আলীম : এখন আমাদের সকলেরই চেষ্টা করা দরকার যে, দেশের যেসব সম্পদ পড়ে আছে, এগুলি সব সংগ্রহ করে রাখা আমাদের একটা নিজস্ব জায়াগায়। যেমন, রেডিও অফিস আছে এইখানে। এবং যেইসব শিল্পী গ্রামে পড়ে আছে, ভালো ভালো গলা, তারা ভালো ভালো গানও জানে, ভালো ভালো লিখতেও জানে — তাদের একটা বিহিত করা উচিত। কেননা, মহকুমায়-মহকুমায়, জেলায়-জেলায় যদি একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে … ইশকুল …গান শেখার ইশকুল, সেখানে যদি তাদের নিয়ে এসে গান শেখার ব্যবস্থা করা হয়, যদি আমাদের সরকার করেন, আমার মনে হয় বহু শিল্পীর জন্ম হবে বাংলাদেশে।

শহীদুল ইসলাম : আচ্ছা, আলীমভাই আপনি তো বিদেশেও গিয়েছিলেন, গান গাইতে গিয়েছিলেন। কোন কোন দেশে গিয়েছেন?
আবদুল আলীম : রাশিয়া গেছি, চায়না গেছি আর বার্মা গিয়েছিলাম।

শহীদুল ইসলাম : ওসব দেশে নিজেদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরবার জন্য কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া আছে?
আবদুল আলীম : ওরা নিজেদের সংস্কৃতি প্রথম ওরা ভালো করে রাখবার সবসময় চেষ্টা করে। ভিনেদেশিটা হয়তো তাদের ডেস্কে খুশি করবার জন্য কিছুটা শেখে। নিজ দেশের সংগীতটাকে সবসময় শ্রেষ্ঠ স্থানে রাখার জন্য চেষ্টা করে।

শহীদুল ইসলাম : তা, আপনি বিদেশি ভাষায় কোনো গান জানেন কি?
আবদুল আলীম : না আমি জানি না। তবে চেষ্টা করলে গাইতে পারতাম। কিন্তু আমি চেষ্টা করিনি। কেননা, আমি গেছি বাংলাদেশের গান গাইতে, বাংলাদেশের গান তুলে ধরেছি যেন বাংলাদেশের গান গেয়ে তাদের খুশি করতে পারি। হয়তো গান গাওয়ার সময় ভাটিয়ালির টান দিছি একটা, ক্ল্যাপস দিতেই থাকল। থামে না!

শহীদুল ইসলাম : আপনি যখন ঢাকায় এলেন, এখানে আপনি প্রথম কোন গানটা রেকর্ড করলেন?
আবদুল আলীম : এখানে বাংলাদেশে রেকর্ড করি ১৯৬০ সালে; কয়েকখানি গান করেছিলাম। তার মধ্যে প্রথম গান ছিল প্রেমে মরা জলে ডুবে না

শহীদুল ইসলাম : আলীমভাই, পল্লীর মানুষের ডাকে তো আপনাকে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে  ছুটে যেতে হয় গান গাওয়ার জন্য । এতে করে, আপনার অধিকাংশ সময় বাইরে থাকতে হয়। তাই নয় কি? এতে করে আপনার স্ত্রীর মনে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে কি?
আবদুল আলীম : ও … বউয়ের কথা বলছেন?

শহীদুল ইসলাম : জ্বি।
আবদুল আলীম : নাহ, বউ তো আমাকে সবসময় উৎসাহের সঙ্গে বলেছে যে, যাও গ্রামে যাও। গান গাও। গ্রামের লোককেও শোনাবে। তাহলেই তো তুমি দোয়া পাবে, তবেই তো তুমি বড় হবে।

শহীদুল ইসলাম : তাহলে, আপনার স্ত্রীও আপনাকে প্রেরণা দিচ্ছেন?
আবদুল আলীম : জ্বি, সে দিয়েছে। এবং সে কিছু গান জানত। আমার বউ কিছু গান জানত। যেমন, আমি প্রথম রেকর্ড করি প্রেমে মরা জলে ডুবে না, আমি বউয়ের কাছ থেকে শিখেছিলাম এই গান। আমার বউ এই গান গেয়ে শোনালো আমায় … আমার খুব ভালো লাগলো হঠাৎ।

শহীদুল ইসলাম : আচ্ছা, প্রেমে মরা জলে ডুবে না  — এই গানটা আপনি আপনার স্ত্রীর কাছ থেকে শিখেছেন!
আবদুল আলীম : সে-ইই গাচ্ছিলো হঠাৎ, তো আমি বললাম গানটা লিখে দাও তো। গানটা লিখে নিলাম সম্পূর্ণ, তারপর জায়গায় জায়গায় গাইতে লাগলাম, মানুষ খুব প্রশংসা করতে লাগলো। এবং (বউ) বললো যে, এইটা মারফতি গান, এইটা তুমি গাইবা এবং রেকর্ড করার চেষ্টা করবা।

শহীদুল ইসলাম : তো, আপনার সৌভাগ্য যে স্ত্রীর কাছে থেকে শেখা গানে আপনি প্রথম রেকর্ড করতে পেরেছেন বাংলাদেশে।
আবদুল আলীম : জ্বি।

 শহীদুল ইসলাম  আচ্ছা, আলীম ভাই আপনার ক’ ছেলেমেয়ে?
আবদুল আলীম : আমার চার মেয়ে, তিন ছেলে।

শহীদুল ইসলাম : তো, এদের কাউকে আপনি গান শিখিয়েছেন?
আবদুল আলীম : আমি শিখাইনি তবে আমি যখন বাড়িতে থাকি না তখন তিন-চারজন নিজে-নিজেই হারমোনিয়াম বাজিয়ে, নিজে-নিজেই গান শুরু করে বাড়িতে। আমি ঘরে ঢোকার সময় শুনতে পাই।

শহীদুল ইসলাম : কোন ধরনের গান আপনার বেশি পছন্দের?
আবদুল আলীম :  আমার ভালো লাগে খুব ভাটিয়ালি গান। ভাটিয়ালি গান মানে আমাদের দেশ তো নদীমাতৃক দেশ। মাঝিরা যখন সেই ভাটিয়ালি গান গায়, তখন ভাটির গানের সুরটা … আমার অন্তরটা যেন পাগল হয়ে যায়। সেই টান আর সেই সুর, আর যখন পাল তুলে যায় সেই গান গাইতে গাইতে, আমার নিজেকে খুব ভালো লাগে। সেইজন্য ভাটিয়ালি গান আমার সবচেয়ে বেশি মধুর লাগে।

শহীদুল ইসলাম : আপনার এমন কোনো ঘটনার কথা মনে পড়ে কি যা আপনার মনে গভীরভাবে রেখাপাত করেছে?
আবদুল আলীম : সিলেট লাইনে এক গ্রামে গান গাইতে গেছিলাম, সেখানে হয়তো আমার নাম শুনে বহু লোক এসেছে। যে-জায়গাটা ঘেরাও করে টিকেট সেল করেছে, গানবাজনা হবে, হয়তো সেই জায়গাটা ভরে গেছে। এবং বাইরেও দুই-তিনহাজার লোক দাঁড়িয়ে আছে টাকা নিয়ে, টিকেট চাচ্ছে কিন্তু দিচ্ছে না। জায়গা নাই, কোথায় বসাবো। এই নিয়ে একটা (পরিস্থিতি) … তো আমি প্রথম গানটা শুরু করেছি রূপালি নদী রে … তখন বাইরের লোকগুলা সব বাউন্ডারি, বেড়া ভেঙে মারপিট শুরু করে দিলো। কেন জায়গা দেয়া হবে না? টিকেট দেবে না কেন, আমরা তো টাকা নিয়ে এসছি! এই দেখেশুনে হয়তো আমি সেখান থেকে হারমোনিয়াম ছেড়েটেড়ে দৌড়!

শহীদুল ইসলাম : আপনি ঐ গান রেখেটেখে
আবদুল আলীম : সব ফেলে থুয়ে পলাইছি! কে চিনবে আবদুল আলীম! কার মাথায় কোন লাঠি কিভাবে পড়ে যায়, আমার মাথায় দুএকটা পড়ে যেতে পারে!

শহীদুল ইসলাম : প্রেমে মরা জলে ডুবে না এই গানের পর কোন গান রেকর্ড করলেন?
আবদুল আলীম : এরপর গান রেকর্ড করলাম … তিনি ওস্তাদ … বাবু কানাইলাল শীল। তিনি আমাকে চার-পাঁচবছর গান শিখিয়েছিলেন; তাঁর গানের আবার ভাবধারা অন্যরকম। আলাদা। এবং তাঁর ভাবধারায় আমি যেন আরো বেশি নাম করলাম এই বাংলাদেশে!

শহীদুল ইসলাম : মানে, কানাইলাল শীলএর ভাবধারায় গান করে আপনি আরো বেশি নাম করলেন বলে মনে করেন?
আবদুল আলীম : জ্বি।

শহীদুল ইসলাম : তো, উনার কোন গানটা আপনি গাইলেন প্রথম?
আবদুল আলীম : গানটা ছিল ভাটি গাঙের ভাইটাল সুরে

শহীদুল ইসলাম : আলীমভাই, এই বাঙলার আলোবাতাসের মতো যে পল্লী ছড়িয়ে আছে, এগুলোকে একদম অবিকলভাবে মানে অকৃত্রিমভাবে যদি তুলে ধরতে হয় তাহলে শিল্পীদের কি করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?
আবদুল আলীম : সেটা হলো, এই বাংলাদেশে গানের কথা, তার সুর, তার সঙ্গে একেবারে মিশে যেতে হবে।

শহীদুল ইসলাম : আচ্ছা, আলীমভাই আমরা তো অনেক আলোচনাই করলাম আর সময়ও শেষ হয়ে এসছে এখন আপনার করা গানের মধ্যে আরেকটি পছন্দের গান যদি আপনি শোনাতেন আমরা খুশি হতাম।
আবদুল আলীম : আমাদের খ্যাতনামা গায়ক আবদুল লতিফ সাহেব, তিনি আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। তাঁর কথা ভোলার নয়, তিনি যথেষ্ট উপকার করেছেন আমার। এবং ভালো পরামর্শ দিয়েছেন এই পল্লীগান সম্বন্ধে। তাঁর একটি গান আছে ও পদ্মা নদী রে


নিচের লিঙ্কটি ক্লিক করে শুনুন
আবদুল আলীমের দুর্লভ বেতার সাক্ষাৎকার


দোহাই
Youtube, 2021, A rare interview with legendary Abdul Alim, viewed 14 March 2021, <https://youtu.be/VdUX-xVK8f8>

আলীম, জ. ২০১৫, ‘দ্বিতীয় আবদুল আলীম হওয়া সম্ভব নয়’, বিডিনিউজ২৪ডটকম,দ্রষ্টব্য ১৪ মার্চ ২০২১,<https://bangla.bdnews24.com/glitz/article1003460.bdnews>।

কিশোর আলো, ২০১৮,‘যারা গান গেয়েছে আজ পর্যন্ত, সবার ভক্ত আমি – আইয়ুব বাচ্চু’, কিশোর আলো, দ্রষ্টব্য ১৪ মার্চ ২০২১,<https://www.kishoralo.com/interview/যারা-গান-গেয়েছে-আজ-পর্যন্ত-সবার-ভক্ত-আমি>।

চৌধুরী, ক. ২০১৪, ‘জয়নুলের হাতে অন্য তুলি’, কালি ও কলম, দ্রষ্টব্য ১৪ মার্চ ২০২১,<https://www.kaliokalam.com/জয়নুলের-হাতে-অন্য-তুলি/>।

সিডনি / মার্চ ২০২১

… …

COMMENTS

error: