রোজানামচা

রোজানামচা

SHARE:

পাইনি বিশেষ বলবার মতো কিছু, হয়তো, তবে হারায়েছি যা-কিছু সমস্তই বিশেষ। অথবা আপনি জিন্দেগির কাছ থেকে আলাদা আর কী পাইবেন বলিয়া আশা করেন, গোটা জিন্দেগিটাই তো পাইলেন, রুটির তাওয়ায় ভাপ-ওঠা মাঘসকালের জিন্দেগি, লাউফুলে-মধুশোভা আষাঢ়রাত্রির জিন্দেগি, শিমের মাচানে খড়ের পালানে গাভির বাথানে ভরভরন্ত রঙিন গল্পাঢ্য সুরমাগাঙি জিন্দেগি, পাইলেন না? আস্ত পেয়েছেন, তো ফের এর টুকরা পাইবেন কেমনে? কেনই-বা চাইছেন এভাবে? মেমোরিচারণে কী ফায়দা, ভদ্রে? এবং যদি চাও, তো জানাইতে হয়, কেউ দেবে না টুকরাটা, আপনাকেই করে নিতে হবে। কাস্টোমাইজড জিন্দেগি। স্মৃতির কাস্টোমাইজেশন। এই নিবন্ধে সেই-রকম একটা চেষ্টা চালানো হতেছে। সেই জীবনসমগ্র থেকে একটা কাস্টোমাইজড টেইলরমেইড স্মৃতিচারণ। রোজা দ্বারে এসে খাড়া আবারও। কত-না-কিছুই ছিল রোজার মধ্যে ছেলেবেলায়, এখন দেখি না আর সেভাবে, হামদ ছিল, নাত্ ছিল, ক্বাসিদা ছিল, কাওয়ালি, পুঁথি, ইসলামি মিউজিক, বেতারে মূলত, নজরুল ও অন্যদের, হুজুরদের গলায় ছিল সুর ও রোদনের দরদ, ছিল ঘরভরা তেলাওয়াত, মহল্লায় ক্যারামক্রীড়া রাতভর তিরিশ, ছিল দলবেঁধে মসজিদসংলগ্ন চা-ছাপড়ায় ফিলিপ্সবাত্তির আলোয় আড্ডা, আর ছিল সাইরেন। ইফতারে সেহরিতে সেই রহস্যদূরের ডাক, সেই সাইরেন, শুনি না আজ আর। এখন আজান শুধু। লক্ষ লক্ষ আজান। হাঁকডাক। আহ্বান শুধু। সুরগুলো কোথায় গেল?

রোজা, খানাখাদ্য ও ক্ষুধা

“সকালে উঠে দেখি, এ কী! / এক মুমূর্ষু গাধা / চোখদুটো ঢুলুঢুলু তার / ঠোঁটদুটো শাদা” [চন্দ্রবিন্দুসংগীত]

আনজানা আচিনা এক শহরে এসে এই বৃষ্টির কান্না শুনে চেনা চেনা লাগল তোমারে, যেন তুমি ‘চিরজনমের বেদনা’, যেন অত্যন্ত অনাদরের মধ্যে তুমি সহসা আদরের মতো প্রবাহিতা। “আজ এই বৃষ্টির কান্না শুনে মনে পড়ল তোমায়”, নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর গাওয়া এই গান কৈশোরে প্রথমবার শোনার সময় যে-যে এবং যারা-যারাই ছিল দুনিয়া ঘিরিয়া আমার চারিপাশে, আমার মুখের চারিপাশে আমার বুকের চারিপাশে আমার অত্যন্ত ঘোরগ্রস্ত মগজের চারিপাশে, তাদের প্রত্যেকের মুখ মনে পড়ে। প্রত্যেকের শব্দটা আদৌ কথার ভাওতা না, প্রত্যেকের মানে নেসেসারিলিই ইচ অ্যান্ড এভ্রিওয়ানের, আমি বিজ্ঞান-সমাজ-সংসার লইয়া নানাবিধ প্রতারণা চালাইলেও কদাপি স্মৃতি নিয়া টাল্টিবাল্টি করিনাকো। মনে রেখো, নন্দিতা পার্থিব প্রণয়ার্হ, মনে রেখো! “যদি পুরাতন প্রেম ঢাকা পড়ে যায় নবপ্রেমজালে”, হে টেগোরের গীতিমাল্যধন্য, তবু মনে রেখো। “যদি থাকি কাছাকাছি, / দেখিতে না পাও ছায়ার মতন আছি না আছি — তবু মনে রেখো” … যদি জল আসে আঁখিপাতে, যদিও জলকল্পনা আজিকার নদীবননাশা বাংলায় সবচেয়ে সাধারণ ও সবচেয়ে সুদূরপরাহত, একদিন যদি খেলা থেমে যায় মধুরাতে, হে বন্ধু হে প্রিয়, তবু মনে রেখো। অত্যন্ত তোমার সুন্দর সম্পন্ন সংসারের পাশ দিয়া ক্যানেলের-মতো-বয়ে-যাওয়া ক্লান্তধ্বস্ত উঞ্ছবৃত্তিজীর্ণ মনুষ্যদঙ্গলের ভিড়ে দ্যাখো অত্যন্ত-অবশ-করা আরেক বোষ্টুমির কণ্ঠ : “হয়তো তুমি ভিড়ের মধ্যে থাকো / অনেক স্মৃতি অনেকরকম মায়া / এক-আধঝলক ঘরে ফেরার স্রোতে / ক্লান্ত-শ্রান্ত কালো চোখে ছায়া” … তারপর দ্যাখো, অবাক হয়তো হবে না তুমি আজ আর, মৌসুমী চিৎকারকাকুতি মিশিয়ে সেই ভিড়ের লোকটারে সানুনয় প্রস্তাব দিচ্ছেন : “তুমি আমার গানের মানুষ হবে?” — এবং কে এই রহস্যময় মানুষ? — যে এলানো শরীরে চুপচাপ পাশ দিয়ে হেঁটে যায় রোজ, প্রায়শ প্রত্যহ, অত্যন্ত ক্ষুধার্ত অথচ অত্যন্ত শমিত। অত্যন্ত ক্ষুধার্তরাই পারে অত্যন্ত প্রশমিত অত্যন্ত সমাহিত রইতে। কেননা তারা জানে যে তাদের চারিপাশে যা-কিছু খানাখাদ্যসামগ্রী, তা-কিছু তাদের হেন অত্যন্ত ক্ষুধার নিবৃত্তির পক্ষে নিতান্ত অকিঞ্চিৎকর। ফলে তারা তাদের অত্যন্ত ক্ষুধার মুখে খাবার যোগানোর জন্য অন্যের বর্তনের দিকে বৃথা দৃকপাত করে না। কারণ ওই খাবারে তার পোষাবার নয়। তার অত্যন্ত ক্ষুন্নিবৃত্তির খাদ্যবস্ত তাকেই তৈয়ার করে নিতে হয়। দিনান্তে শাকান্ন অথবা শুকনো রুটির নিরিবিলি ভোজ। আর তার অপার্থিব ক্ষুধা। কার্য ও কারণ এইখানে করা যায় না জুধা। আপন ক্ষুধাটাকে একবার আমল দাও, তোলো তারে সর্বোচ্চ শিখরে, তখন দেখবে ক্ষুন্নিবৃত্তির চেয়েও কম উপভোগ্য নয় খোদ ক্ষুধাটাও। ক্ষুধার ভর ও ওজন বাড়াও, আর গাও : “তুমি আমার গানের মানুষ হবে? / ভিড়ের কোণে লুকিয়ে থাকো তুমি / এই শহরে তোমার চোখে আমি / দেখি আমি আমার জন্মভূমি” …

অস্কার নাইট 

রজনীর শেষভাগে, সেহরির জন্য লোকে যখন উঠেছে আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে এবং উঠে যেয়ে বসেছে টেবিলে, কেমন অবলীলায় বৃষ্টিশীতল হয়ে গেল গোটা রাতের তল্লাট। যদিও খুব গরম ছিল বলা যাবে না, তারপরও অস্বস্তিকর একটু যেটুকু গুমট হাঁসফাঁসা ভাব ছিল বৃষ্টি এসে সেটুকুও উড়িয়ে নিয়ে গেল। খবরপাঠিকার ঢঙে বলা যায়, দিনভর জলবায়ু পরিবর্তনের নানাবিধ সিম্পটম দেখে দেখে বেক্কল জনমনে ভোরের দিকে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

অ্যাবাভ অনুচ্ছেদে একটা ব্যাপার অবশ্য সংশোধনযোগ্য ভুল হয়েছে। সেহরির সময় এখন ঘুম হইতে জাগিবার বা জাগাইয়া তুলিবার কোনো কাজকারবার নাই। তিফিল দুধের ছাবালটাও এখন জাগ্না থাকে হেমন্তে-বসন্তে যামিনী বিভোর। ফলে জেগে ওঠা নাই আজ আর। কাজেই ঘুমানোও নাই। অথবা, মানুষ বড় জেগে আছে, অথবা, মানুষ বড় ঘুমাতেছে, কে জানে। কী দরকার, জানবার? জানবার আর জানাবার অবিরাম আড়ম্বরে এমনিতেই দিশাহারা দয়াল হরির হারানো দুনিয়া। নাভিশ্বাসও ফুরিয়ে যেতেছে এমনধারা জানতে জানতে এবং জানাতে জানাতে।

একটা জাতির আন্ডা থেকে আধবুড়া, পিচ্চি হইতে প্রৌঢ়া, এই যে জেগে থাকে বারোমাস, এর কোনো প্রভাব পড়বে না আমাদের জাতিগত চৈতন্যে? ম্যালনিউট্রিশনের প্রোব্লেম নিয়াই আমরা ঘরসংসার করি, কাজেই বিশেষ ভয়ের কিছু নাই। কিন্তু, সত্যি কি নাই? কিন্তু তোমারে এইসব বলিয়া তো মুনাফা নাই, য়্যু ব্যেটার স্টে রসেবশে, ড্যুড!

ভোরের আজানের সময় একবার অস্কার ওয়াইল্ডের লগে আলাপ হলো। ওভার ফোন, য়্যু নো। উনি তার সেই চিরাচরিত ম্যাক্সিমের ঢঙেই কথা বলে গেলেন। প্রসঙ্গত কথাটা ভারি বিউটিফ্যুল্ মনে হলো, লেট’স্ শেয়ার ইট হিয়্যার : এভরি সেইন্ট হ্যাজ্ অ্যা পাস্ট অ্যান্ড এভরি সিনার্ হ্যাজ্ অ্যা ফিউচার।

… বুড়োরা বেবাক জিনিশেই বিশ্বাস করে, মাঝবয়সীরা বাতিকগ্রস্তের মতো সবকিছু সন্দেহবিদ্ধ করে এবং তরুণেরা আবিশ্বসংসারে এমাথা-ওমাথা যা-কিছু সব জানে।

এইটা আমার না, ওয়াইল্ডের অজস্র দ্যুতিবিকীর্ণ কথামৃতের মধ্যে একটুকু কথাচূর্ণ। অস্কার ওয়াইল্ড। উনি নিশ্চয় আরও চমৎকার করেই কয়েছেন কথাগুলো : “The old believes everything, the middle aged suspect everything: the young know everything.”

কথাটার অর্থোত্তোলন সম্ভব দুই বিপ্রতীপ কোণ থেকে; এবং অসম্ভব নয় আরও সম্প্রসারিত অর্থ দোহন, অস্কার ওয়াইল্ডের মতো কথামানবের ক্ষেত্রে এইটা স্বাভাবিক। তবে আমরা আলোচ্য ২০১৬ বাংলাদেশ পার্সপেক্টিভ থেকে এর একটাই মিনিং এক্সক্যাভ্যাইট করতে পারি।

নিদারুণ তারুণ্যঝঙ্কৃত সোনার বাংলা, — আমার, — আমি তোমায় বিমূঢ়ের নয়নে দেখি দিবাযামী …

বিফোর ইফতার ভ্রমণ ও পিঁপড়াকাহিনি

ডাউন্ টাউনের পাড়া-মহল্লাগুলোতে এই সময়টায় আনাচেকানাচে গলির মুখে মাঝেমধ্যিপথে পানি জমে। রেইন্ ওয়াটার। উচ্চাবচ ভূমিব্যবস্থায় যেটুকু জল জমে সেইটুকুই। তিন-চারঘণ্টায় সেই বৃষ্টিপানি নেমেও যায় আপসে। এই তিন-চারঘণ্টার স্বল্পমাত্রিক ভোগান্তিতে যারা যারপরনাই অসোয়াস্তি ফিল্ করেন, তারা নাগরিক হিশেবে ডেফিনিটলি সুনাগরিক। কিন্তু হড়হড় করে নেমে যাবার মতো জলসুগম রাস্তাঘাট অত জরুরি নয়, দেশটা যদি হয় বাংলাদেশ, এরচেয়েও জনগুরুত্বপূর্ণ অনেক সমাধানাধীন সঙ্কট রয়েছে আমাদিগের। বরঞ্চ বলা ভালো যে একাধটু পথিমধ্যস্থিত জলপানি থাকলে পরে দেশটারে চেনা যায় বৃষ্টির ঐতিহ্যবাহী দেশ বলে। দেশটা আজও পরদেশ হয় নাই মর্মে একটা আস্থা পাওয়া যায়। একটুকু জলের ঝঞ্ঝাটে ব্যাঁকানো মুখের ভদ্রনর-ভদ্রনারীদের বৈচিত্র্যবর্ণিল গজগজ শোনাও কম উপভোগ্য নয়। এক-দেড়পা লাফায়ে পেরোনো পথের মজাটা যারা পায় তারা পায়, যারা পায় না তারা পায় না, এইটুকুই ইন্-শর্ট কথা।

বাচ্চারা পায়, ব্যাপক মজা পায় তারা পথের মাঝখানে পানি জমা দেখলেই, বৃষ্টিসিঞ্চিত জলের ছোট্ট গর্ত তারা লাফায়ে লাফায়ে পারায় আর উল্লাসে খলবলিয়ে ওঠে। ছেলেমেয়ে মিলিয়ে তিনজনের এক ছোট্ট বৈকালিক ভ্রমণাভিযাত্রী দলের একজন কৃত্রিম বিপন্নতায় চিৎকার করে ওঠে এই মুসিবতের উদ্ধার নাই এ-জীবনে এমন একটা আওয়াজ গলায় নিয়ে! আর্টিফিশিয়্যাল্ বিপন্নতার স্বর এবং সঙ্গে কাদাপানিতে প্রায় হেসে লুটিয়ে পড়ার ভঙ্গি তিনবছর-বর্ষীয়ান বাচ্চাটার। সঙ্গের দুই হণ্টনাভিযাত্রী তার তুলনায় যথাক্রমে এক এবং পাঁচ বছরের বড়। ওরা তারে নানাভাবে ডিরেক্ট করছে সোল্লাসে ডাইনে কেটে বাঁয়ে লাফ দেবার জন্য। পরে বোঝা গেল ঘটনাটা আসলে একটা অ্যানিম্যাশন্ ম্যুভির নকলাভিনয়, বা পুনঃসৃজন বলা ভালো। ম্যুভিটার নাম অ্যা বাগ্’স্ লাইফ (A Bug’s Life), ডিজনির অ্যানিম্যাশন্ পিকচার, যেখানে এক পিঁপড়াকম্যুনিটির সোশ্যাল্ ও পোলিটিক্যাল্ স্ট্রাগল্ দেখানো হয়। বাচ্চাত্রয় এইটা প্রায় মেমোরাইজ্ করে ফেলেছে দেখতে দেখতে। এইটা খালি না, আরও অনেক অ্যানিম্যাশন্ চলচ্চিত্র ওদের লাইফের অংশ অলরেডি। সেই পিঁপড়াবায়োগ্রাফির একদম শুরুতে দেখা যায় লেবার-ডিভাইডেড কমিউনে একদল পিঁপড়া গাছপাকুড়ের ফল-বিচি ইত্যাদি কান্ধে করে বয়ে আনে, ফের আরেকদল শস্যকর্তনকারী, একদল আছে শস্য গোলায় তোলার ব্যাপারটা দেখভাল-তদারকি ইত্যাদি করে। এর মধ্যে একদল আছে যারা আদতে ফ্যাসিলিটেইট করে গোটা ওয়ার্কফোর্সটাকে, এনার্জাইজ্ করে কর্মক-দলের সব্বাইকে, এইভাবে একটা কাজবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের কন্সাল্টেন্ট পিপীলিকাদলের অবদান সেই কমিউনে স্বীকৃত। তো, সরেজমিনে দেখা যায়, সিনেমাটায়, শস্যবহনের কাজে ব্যাপৃত সারিবদ্ধ পিঁপড়াদের মধ্যে সহসা হাল্লাগোল্লা ওঠে “হায় হায়, আমরা তো আটকে গেছি চিরতরে, কী হবে এখন আমাদের, ইহজীবনে এই বিপদ থেকে আমাদের তো উদ্ধার নাই আর” ইত্যাদি মাতমধ্বনিতে এলাকা প্রকম্পিত। “আআআ! উই আর লস্ট! হোয়্যার’স্ দ্য লাইন্? …” এই-রকমই ছিল শোরগোলের বাক্যগুলো। ছুটে এল দুই-তিনজন উদ্ধারকারী বিশেষজ্ঞ। ওরা এসে বলে, “ব্যাপার না, আমরা দেখছি, ঘাবড়াবার কিছু নাই, আপনারা শান্ত হোন, আমরা কম্যুনিক্যাশন্স প্রোফেশন্যালস্, এহেন সঙ্কটের সুরাহা আমরা করে চলেছি সেই উনিশশ’ তিরানব্বই সন থেকে। একটু ডাইনে কেটে বাঁয়ে, হ্যাঁ, এইবার আরেকটু, হ্যাঁ, এই তো মুশকিল-আসান, যান, ফি আমানিল্লা।” আসলে বিঘ্ন ঘটেছিল কোথায়? একটা পাতা গাছ থেকে বাতাসের বেগে ভেসে ভেসে এসে পড়েছিল পিঁপড়েদের রোজকার রোডের ওপর। পিঁপড়েদের চোখে এইটেকে মনে হয়েছিল উদ্ধার-অসাধ্য সঙ্কট এবং এ-জীবনে তারা আর এই পাতাপারাবার পার হতে পারবে না। অ্যানিওয়ে। এই দৃশ্যটাই তিন-বছরের বাচ্চা তার স্মৃতি থেকে উঠিয়ে এনে উদ্ভূত জলগর্তপথের পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে মঞ্চস্থ করছিল এবং লুটিয়ে পড়ছিল সঙ্কটের মুখে হাসতে হাসতে।

ব্যাপারটা প্রাক-ইফতার হাঁটাযাত্রার সময় এই নিবন্ধকারের লাইফে স্টেজড অন্ হয় বছর-দুই আগে ২০১৬ সনে। এবং একটা জিনিশ খেয়াল করবেন যে, একটা বাচ্চার ভাষাব্যবস্থার সঙ্গে আপনি যদি নিজেরে অ্যাকোমোডেটেড করে নিতে না পারেন তাইলে কিন্তু আপনি পৃথিবীর সচলায়তনে প্যারালাইজড হয়ে গেলেন। আপনার বাচ্চার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য আপনাকে নিরন্তর শিখনের একটা চাকার ভিতর দিয়ে যেতে হয়। অ্যানিম্যাশন্ ম্যুভি নিয়মিত দেখতে হয়। সেই কবেকার আপনার শৈশবে দ্বিমাত্রিক কার্টুন্ দেখার মধ্যেই যদি থেমে থাকেন আপনি, তাহলে বেঁচে থেকেও মরে রইলেন, দিনদুনিয়ার বহু সঙ্কেত থেকে আপনি চিরবঞ্চিত হয়ে গেছেন আপনি নিজে টের পাচ্ছেন না। আমাদের বাবা-মায়েরা আদতে সেইটাই করেছেন, নিজেদের বদলেছেন এবং শিখেছেন আমাদের কোডিং সিস্টেম্, যতটুকু তারা তাদের সন্তানদের কোডিং শিখেছেন ততটুকুই ডিকোড করতে পেরেছেন/পারছেন সন্তানদেরে। এইটুকুই ছিল বৈকালিক আধহাত পরিসীমার এক জলসঞ্চিত পথগর্ত পেরোনোর কালে অর্জিত শিখন।

লেখা : জাহেদ আহমদ

… …

COMMENTS

error: