সমূল উৎপাটনের ধুমধাড়াক্কা || ফাইয়াজ বিন নুর

সমূল উৎপাটনের ধুমধাড়াক্কা || ফাইয়াজ বিন নুর

SHARE:

নেটফ্লিক্স টিভিসিরিজ অথবা ম্যুভি যতটুকু আশানুরূপ থাকে দর্শকের কাছে, এক্সট্রাকশনের বেলায় সে-রকম কিছুই পাওয়া যায়নি। যা দেখা যায় ম্যুভিটিতে তা শুধু একটি দেশের দর্শকদের খুশি রেখে আরেক দেশের অপমান ছাড়া আর কিছুই না। শুরু থেকে দেখার ইচ্ছাটা যেমনটা ছিল দেখার পরে মনে হচ্ছে না-দেখলেই হয়তো ভালো ছিল। চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের ব্রিজটিতে সোনার দেশ দেখিয়ে সোনার দেশের ভালোই অপমান করেছেন ম্যুভিটির স্ক্রিপ্টরাইটার রুশো সাহেব দুনিয়াবাসীর কাছে সম্পূর্ণ ম্যুভিজুড়ে। একের পর এক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একা এক ভারতীয় সৈন্যের ঘায়েল করে ফেলার দৃশ্যগুলো আসলেই বড় অপমানজনক সোনার দেশের জন্য, ম্যুভিটিতে বাংলার নাম উল্লেখ না করতে দিলেই হয়তো ভালো ছিল।

আমার দেখা নেটফ্লিক্সের ফ্লপ ম্যুভিগুলোর মধ্যে ‘এক্সট্র্যাকশন’ সেরা। ক্রিস হেমসওয়ার্থ-এর মতো অভিনেতাকে দিয়ে এই ম্যুভি শ্যুট না করলেও পারতেন। দেশের অপমান তো আর বাঙালির রইলই, সাথে বেচারা ক্রিসকেও নিচে নামিয়ে দেয়া হলো অনেকটা। আবার বলিউড যে হলিউড থেকে কতটুকু পিছিয়ে তা এক্সট্র্যাকশনে হলিউড ভালোমতোই বুঝিয়ে দিয়েছে চলচ্চিত্রবিশ্বে, আর ওদের এসব দুর্নীতির মাঝখান দিয়ে আমরা বাঙালিরা যে ওদের নখের বরাবরও না তা-ও তুলে ধরেছেন বেশ সুন্দর করে। বাঙালিরা ট্রেইলার দেখেই খুশি, ঢাকা নিয়ে ম্যুভি হচ্ছে, বাংলাদেশ নিয়ে হলিউড ম্যুভি বানাচ্ছে — ওয়াও! এ-ই তো! আদৌ দেশের নাগরিক হিসেবে দেশ সহ আমাদের যে এইভাবে পচানো হবে তা শুরুতে ট্রেইলারে বোঝা বড় দায়।

দেখার মতো নেই কিছু। না আছে শিক্ষনীয় বা ভাবনাউদ্রেককারী কিছু-একটা। ভারতীয় ড্রাগডিলারের ছেলেকে বাংলাদেশি ড্রাগডিলারের কিডন্যাপিং থেকে রক্ষা করে আনা এটুকু দেখিয়েই শেষ করে দেয়া হয়েছে ম্যুভি, যেন ভারতের সাথে সুন্দর সম্পর্ক স্থাপনই ছিল এর প্রধান কারণ। সিনেম্যাটিক জগতের অর্থনীতি ধরে রাখার পেছনে ভারত যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে, যার জন্যে তাদের কিছু একটা উপহার দিয়ে খুশি রাখা গেলেই হলো — এ-রকম। অভিনেতা ক্রিস তার অন্যান্য ম্যুভির মতোই সর্বোচ্চ অভিনয় দিয়ে যতটুক সম্ভব ফুটিয়ে রেখেছেন নিজেকে এবং ফুটাতে চেয়েছেন ম্যুভিকে যেখানে স্টোরিই ছিল ফ্লপ শুরু থেকেই।

ম্যুভির প্রথমদিকের ভিশুয়্যাল কিছু দৃশ্য রুশো তার মার্ভেল স্টুডিয়োর মতোই এক্সট্রাকশনে ব্যবহার করেছেন; — যেমন ক্রিসের পাহাড়চূড়া থেকে পানিতে ঝাপিয়ে পড়া ইত্যাদি, যেগুলা শুধু ওইসব মুহূর্তের জন্যেই অসাধারণ ছিল, কিন্তু বাকি সম্পূর্ণ কাহিনি দেখে বোঝা যায় ম্যুভিটি নামেমাত্রই পেশ করা হয়েছে শুধুমাত্র ভারতের পাশে আছে হলিউড আর তাদের দর্শকদের খুশি রাখার জন্যে নিবেদিত হলিউড এটা বোঝাতে।

… …

COMMENTS

error: