ইমতিয়াজ

ইমতিয়াজ

অনেকের সঙ্গে ডেনজেল ওয়াশিংটন আছেন ম্যুভিটায়, নাম ‘ডেজা ভ্যু’, টুথাউজ্যান্ডসিক্সের ম্যুভি। মৃত্যু সম্পর্কে সেইখানে বেশকিছু সংলাপ পাওয়া যায় যেইগুলা আসলেই ইয়াদ রাখার যোগ্য। ম্যুভির কোনো-একটা জায়গায় এমন একটা সিক্যুয়েন্স আছে যেইখানে দুইটা ক্যারেক্টার পরস্পর কথা বলছে এবং মৃত্যুর নেসেসিটি নিয়ে সেই সিরিজ অফ সংলাপ পুরোটুকু বর্তমান নিবন্ধে প্রাসঙ্গিক না হলেও কয়েকটা বাক্য প্রসঙ্গত বলা যেতে পারে। হ্যাঁ, ডেথ একটা মানুষের সম্পর্কে লাস্ট ওয়ার্ড বলবার একমাত্র পথ। ডেথের আগে যতকিছুই করা হোক সমস্তটা জাজমেন্টাল বলেই বিবেচিত হবে, ডেথের পরে সেই মানুষটাকে একটা নাটশেলে পুরে ফেলা যায় এবং তার সত্যিকারের পরিচয়টা একবিন্দুতে স্থাপিত হয় পৃথিবীতে। জীবদ্দশায় মানুষটা সম্পর্কে হাজার জনের হাজার বিচার থাকে, মানে কোনো বিচারই ইম্পার্সোন্যাল/নৈর্ব্যক্তিক নয়, বেবাক বিচারের লগেই বিচারকারীর স্বার্থটা সাঁটা থাকে অজান্তেই। মৃত্যুর মধ্য দিয়া স্বার্থছাড়া বিচারটা সারতে পারে পৃথিবী। দ্যাটস্ অল। তবে এই কথাগুলোই নয়, সিনেমায় আরও অন্যভাবে বলা আছে এবং অত্যন্ত অব্যর্থ লক্ষ্যভেদী সেই কথাগুলো।

প্রসঙ্গত বলা দরকার যে ডেথের ডিগ্নিটি নিয়া বা ডেথকে গ্লোরিফাই করার গরজ থেকে এই নিবন্ধ উদ্ভূত হয় নাই। রিসেন্টলি মিউজিশিয়্যান ও স্যংরাইটার-কম্পোজার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ইন্তেকাল করার পরে ‘ডেজা ভ্যু’ ম্যুভির কিছু সংলাপ আবছা ইয়াদ হচ্ছিল কয়েকটা কারণে। এক হচ্ছে যে ফেসবুক ইত্যাদি মিডিয়ায় ইমতিয়াজের মৃত্যু অত্যন্ত অবহেলায় রাষ্ট্রীয় অযতনে হয়েছে এবং মরহুমের মহান কর্মজীবনটাকে কেউ মূল্যায়ন করে নাই বলিয়া আহাজারি শোনা গেল, অন্যদিকে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল মুক্তিযোদ্ধা হিশেবে তার প্রাপ্য মর্যাদা পান নাই ইত্যাদি কথাবার্তাও ভেসে এল। তবে এই সমস্ত কথাবার্তাই হলো বুলবুলের মৃত্যুর পর। অনেকেই আজকাল দেখি মৃত্যুর পরে একজন ক্রিয়েটিভ নিয়া আলাপের আওয়াজ শোনামাত্র দুয়ো দিয়ে ওঠেন। জীবদ্দশায় তারে নিয়া আলাপ হয় নাই কেন প্রভৃতি বিশিষ্ট দরদিদের হাঁউকাউ। শুধুই ইমতিয়াজ বুলবুল নয়, এই চিল্লানি সৃজনশীল সকলেরই মৃত্যুর পরে ফেসবুকে উঠতে দেখি।

কিন্তু উপরের কথাগুলো, অভিযোগ-অনুযোগগুলো, সমস্তই সত্যি। বিন্দুমাত্র ভুলচুক নাই। কথা হচ্ছে এইটাই যে, রাষ্ট্র বলেন বা নানাবিধ প্রচারযান্ত্রিক অবকাঠামো-পরিকাঠামোগুলো বলেন, ভ্যালু ডিফাইন বা অ্যাড করার যতকিছু রয়েছে এই দুনিয়ায় তার সবই ক্রিয়া করে এই কায়দাতেই। জীবদ্দশায় একজন শিল্পী বলি বা সাহিত্যিক বলি, মিস্তিরি নির্মাতা বা কর্মক যা-ই বলি, বিভিন্ন ডিন্যামিক্সের আওতায় জীবৎকালে এদের মান্যিগন্যি নির্ভর করে। সেইটা যা-ই হোক, মোটামুটি শিল্পীসাহিত্যিকদের জীবদ্দশায় এবং মরণোত্তর রাষ্ট্রিক ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ আবহমান একই দেখতে পাই আমরা। আশা আর দোয়াদুরুদ করে যেতে পারি যে এহেন পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে। ফ্যাক্ট হচ্ছে যে এইটা স্বাভাবিক। প্রতিষ্ঠানভাবের অংশই হচ্ছে এইটা যে তার পত্তনি ও প্রতিষ্ঠার দরকার মুতাবেক সে অ্যাক্টর রিক্রুট করবে। ব্যত্যয় মাঝেমধ্যে একেবারেই যে ঘটে না তা নয়, কেউ কেউ প্রতিষ্ঠানের শোভাবর্ধন ও শখাহ্লাদ মিটাইবার খায়েশ হিশেবে লেজুড়বৃত্তি না-করেই প্রাতিষ্ঠানিকতার নেক-নজর নসিব করেন। তবে এদেশে সেইটা কালেভদ্রেই ঘটে।

এখনকার যুগে, এই মিডিয়াকারসাজির যুগে, এস্ট্যাব্লিশমেন্টের নেক-নজরে একটু অন্নসুবিধা ছাড়া আর-সবকিছুই হয় বেকার। গুণীর মানহানি ঘটানো ছাড়া মানসম্মান বর্ধনের মতো সম্মানীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে একটাও নাই, এবং এই কথাটা আপনি হলফনামায় লিখিয়া জানাইলেও মনে হয় না কারো কোনো অব্জেকশন উঠবে। বেইজ্জতির একশেষ হয় এদেশে অ্যাকাডেমি ইত্যাদির অ্যাওয়ার্ড লভিলে। এর হাজারটা কারণ আছে। একটা কারণই বলা যেতে পারে এখানে যে, এদেশে অ্যাকাডেমি নাই। বিলকুল নাই। শিল্পকলা আর বাংলা ব্লা ব্লা অ্যাকাডেমির কথা ইয়াদ করায়ে দেবেন তো? ধ্বজভঙ্গ পোলিটিক্যাল প্রতিষ্ঠান এগুলো। কয়েকটা ছাপোষার অন্নসংস্থান হচ্ছে এই বিল্ডিংগুলা থেকে, এইটুকুই যা ফায়দা। তাদের নিজেদেরই ইজ্জতের ঠিকঠিকানা নাই, শিল্পীদের ইজ্জতসম্মান দেবে কোত্থেকে? পেটের চিন্তা চমৎকারা, সাহিত্যশিল্প চুলায় গেল নাকি চৌথা আসমানে … কে কারে জিগায়!

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ইন্তেকাল করার পর থেকে ফেসবুকে দেশদরদি মিউজিকপ্রিয় জনতার দর্দ ও দর্শনদারি-গুণবিচারি দেখে নিজের ভিতরে ব্যাপক মর্মপীড়া ঠাহর করছিলাম যে, আরে, হ্যাঁ হ্যাঁ, তাই তো, অত বড় গুণী মিউজিশিয়্যানকে দেশ-রাষ্ট্র-সরকার কেউ তার প্রাপ্য বুঝাইয়া দিলো না তো! পরে সার্চ করে দেখলাম যে উনি একুশে পদক ইত্যাদি কি কি যেন ন্যাশন্যাল সম্মানইজ্জত অর্জন করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা হিশেবেও উনার একটা পরিচয় ছিল সম্মানের জায়গায়। পারিবারিক একটা বিয়োগান্ত ঘটনাজনিত ক্ষতির পরে একটা রাষ্ট্রীয় সিকিয়্যুরিটিও বুলবুলকে দেয়া হয়েছে, যেইটাকে নেগেটিভ দৃষ্টি দিয়ে দেখলে গৃহান্তরীণ অবরুদ্ধ অবস্থা বলা যাবে নিশ্চয়, এইগুলাই তো কমন জিনিশ যা রাষ্ট্রীয় সম্মান বলিয়া জানে লোকে। যে-জিনিশটা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল পেলে আর-কিচ্ছুটিরই দরকার হতো না, যা থাকলেই অ্যাকাডেমিশৃগাল থেকে ব্যাঘ্র-হরিণ কোনোকিছুই লাগত না, সেই জিনিশটার কথা দেখি কেউ বলছে না। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল যে-লেভেলের কম্পোজিশন করেছেন সুরে এবং কথায়, যেইগুলা আপামর জনসাধারণ গত তিনদশক ধরে রিসিভ করেছে কর্ডিয়্যালি, প্লেব্যাকে শতাধিক গান শ্রোতাবন্দনা লাভ করেছে রিলিজের সঙ্গে সঙ্গে, সেই কাজগুলার জন্যে যেটুকু সুরকার-সংগীতকারের প্রাপ্য পারিশ্রমিক তা-ই যদি পেতেন তাইলে পয়সার ফোয়ারা কেউ বন্ধ করতে পারত না। বাকি সমস্ত সম্মান ভুয়া, আমার ন্যায্য পরিশ্রমপারিতোষিক তুমি দিয়া দাও যদি তবে সেইটাই রিয়্যাল অনার। এইটা পাবার রাস্তা বাংলাদেশে এখনও গরহাজির।

শত শত সুর, বিলিভ মি অর নট শতাধিক সুর, আমি নিজে জানতামই না যে ইমতিয়াজের সৃজন। উনাকে ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে এক-কিসিমের দেশাত্মবোধা গান কম্পোজ করতে দেখতাম রেগ্যুলার, আরও কতিপয় গ্রেইট প্যাট্রিয়োটিক স্যং উনার কম্পোজড জানতাম, কিন্তু এত-সমস্ত দুর্ধর্ষ প্রণয়-বিরহের গানে যে উনি নিজের সিগ্নেচার রেখে গেছেন গত থ্রি ডিকেইড ধরে, এইটা আমি বিলকুলই ইগ্নোরেন্সে ছিলাম। এদেশে ইগ্নোরেন্স তো গর্বের বিষয়। আমিও গর্বিতই ছিলাম বহুদিন, জিভে কামড় পড়েছে সেদিন ইমতিয়াজের ইন্তেকালের পরে উইকিপৃষ্ঠা হাতড়াতে যেয়ে। এই জিনিশটা খানিক বিশদে বলে গেলেই ইমতিয়াজের ওজন ও মাজেজা ঠাহর করা যাবে।

ফেসবুক ইত্যাদির কাউকাউ বুঝতে না পেরে গেলাম গ্যুগল করতে, দেখি একটু যে ইমতিয়াজের সুরসৃজনগুলার একটা তালিকা পাওয়া যায় কি না। পাওয়া গেল। শুধু পাওয়া গেল নয়, একদম চক্ষু চড়কের চর্কি হয়ে গেল। গুরুতর ঘটনা হচ্ছে এ-ই যে, সেই তালিকায় দুইশতাধিক গানের পয়লা লাইনের সূচি পাওয়া গেল, অবাক ব্যাপার যে সেখান থেকে অন্তত শতেক গানের লিরিক ও সুর আমার ঠাঠা ঠোঁটস্থ! গত তিরিশ বছরে প্লেব্যাক আমি জীবনেও শুনি নাই আলাদা করে, ব্যান্ডমিউজিক ছাড়া আসলে সেভাবে কিছুই বিশেষ শুনি নাই বাংলায়, এরপরেও ইমতিয়াজের এতগুলা গান কেমন করে আমার মেমোরিতে এল! আমি বা আমরা আসলে জানতামই না যে এই সুরগুলা বা এর অনেক গানের কথা কার রচনা। আর এইখানেই মজাটা।

জানতে হবে কেন অত স্রষ্টার নামঠিকানা? আমি সৃষ্টির হদিস রাখলেই হলো। অত ধর্মপ্রাণ আমারে হতে হবে কেন? সুর যদি দিনরাইত গুনগুনাই, তাইলেই তো সুরকার যিনি, সৃষ্টিকর্তা যিনি, তিনি হ্যাপি হবার কথা। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের জিত এইখানেই যে এদেশের কোটি কোটি শ্রোতা রাইতদিন গত কয়েক দশক ধরে যে-গানগুলা গায় সেগুলার উল্লেখযোগ্য অংশটাই ইমতিয়াজের, এবং তারা তা জানে না, আর জানে না বলেই সুরগুলা আকাশে-বাতাসে এত পল্লবিত। অবাক হবার কারণ কমে যায় কিছুটা যখন দেখি যে চিরদিনই রিয়্যাল ট্যালেন্টের কাজগুলা মানুষ আপন করে নেয়। এই বিষয়ে বাগবিস্তার বাদে একদিন করা যাবে, আপাতত ইমতিয়াজের যে-গানগুচ্ছ আমি নিজে মেমোরিতে প্রায় অম্লান আবিষ্কার করে আশ্চর্য হয়েছি, সেইগুলা শোনাই নিচে পরপর।

দেশাত্মবোধক গানের তালিকাটা দেখা যাক, যেইগুলা আমার চেনাজানা শুধু : ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘ও মাঝি নাও ছাইড়া দে ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে’, ‘সেই রেললাইনের ধারে মেঠোপথটার পারে দাঁড়িয়ে’, ‘একাত্তরের মা-জননী কোথায় তোমার মুক্তিসেনার দল’, ‘সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য’, ‘ও আমার আটকোটি ফুল দেখ গো মালি’, ‘মাগো আর তোমাকে ঘুমপাড়ানি মাসি হতে দেবো না’, ‘একতারা লাগে না আমার দোতারাও লাগে না’ … আপাতত উইকিলিস্টি থেকে এইগুলা পাইলাম।

তারপরে দেখি হৃদয়, প্রেম, ভালোবাসা, বিরহ ও বিচ্ছেদী ইত্যাদি সুরের ও কথার যেইগুলা আমার মুখস্থ, সেইগুলা : ‘আমার সারাদেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যেখানে’, ‘আমি তোমার দুটি চোখে দুটি তারা হয়ে থাকব’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান’, ‘আমি তোমারি প্রেমভিখারি’, ‘ও আমার মন কান্দে ও আমার প্রাণ কান্দে’, ‘আইলো দারুণ ফাগুন রে লাগল মনে আগুন রে’, ‘আমার একদিকে পৃথিবী একদিকে ভালোবাসা’, ‘পৃথিবীর যত সুখ আমি তোমারই ছোঁয়াতে যেন পেয়েছি’, ‘তোমায় দেখলে মনে হয় হাজার বছর আগেও বুঝি ছিল পরিচয়’, ‘ঐ চাঁদমুখে যেন লাগে না গ্রহণ’, ‘বাজারে যাচাই করে দেখিনি তো দাম’, ‘তুই ছাড়া কে আছে আমার জগৎসংসারে’, ‘এই বুকে বইছে যমুনা’, ‘যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে’, ‘তুমি আমার জীবন আমি তোমার জীবন’, ‘ঘুমিয়ে থাকো গো সজনী’, ‘আমার হৃদয় একটা আয়না’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা হৃদয়ে সুখের দোলা’, ‘তুমি আমার এমনই একজন যারে একজনমে ভালোবেসে ভরবে না এ মন’, ‘জীবন ফুরিয়ে যাবে ভালোবাসা ফুরাবে না জীবনে’ … এই লিরিকগুলার মধ্যে এমন অনেক গান আছে যেইগুলার গীতিকারও বুলবুল নিজে।

প্লেব্যাকে ধুমধাড়াক্কা গানের ধাক্কা ছায়াছবির কাহিনির কারণেই ভীষণ দরকার হয়। এইখানেও বুলবুল যেসব সুর ও কথা বানিয়েছেন, অন্য লেভেলে নিয়ে গেছেন জিনিশগুলাকে; যেমন : ‘পড়ে না চোখের পলক’, ‘আমার গরুর গাড়িতে বৌ সাজিয়ে’, ‘আম্মাজান আম্মাজান’, ‘স্বামী আর ইস্তিরি বানায় যে জন মিস্তিরি’, ‘ঈশ্বর আল্লা বিধাতা জানে’, ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’ … এইগুলা মাত্র কয়েকটা যা আমার মুখস্থ। কথাটা আমি বারবার বলছি, কারণ কোনো অগ্রপশ্চাৎ হাইপ বা হাইট না জেনে এইগুলা আমার মেমোরিতে স্টোর করা আছে, এতদিন আমি নিজেও জানতাম না।

তাছাড়া আরও কত গান, উইকিতালিকাটিতে দেখে বুঝলাম, ইমতিয়াজের ক্রিয়েশন! কুমার বিশ্বজিতের ‘ও ডাক্তার’ গানটা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সৃষ্টি আমি জানতাম না। আরও অসংখ্য আধুনিক বাংলা গান নাকি আছে, প্লেব্যাকের বাইরে, ইমতিয়াজের রচনা! ‘আটআনার জীবন’, ‘চিঠি লিখেছে বউ আমার’ … ছাড়াও মনির খানের গলায় হিট হয়েছে দেদার গান। সামিনা চৌধুরীর অ্যালবামে ‘আমার দুই চোখে দুই নদী’, ‘আমি জায়গা কিনব কিনব করে’ ইত্যাদি অনেক … অনেক…!

কাজেই, ইমতিয়াজ কি পাইলেন আর কি পাইলেন না, রাষ্ট্র পাইলেন না বিশ্ব পাইলেন, জিন্দেগিভরা হাতিতে চড়লেন না ঘোড়ায়, এইসব হাঙ্গামায় ইমতিয়াজের কিচ্ছু যায় আসে না। অ্যাওয়ার্ডপাওয়া ঠাকুরেরা দেখান দেখি তিনখানা তাদিগের রচনা যা মাঠেঘাটে নগরেবন্দরে মানুষেরা গায় মুখে মুখে! এ.আর. রাহমানের গান নিয়া গালভরা প্রবন্ধ রচেন উস্তাদেরা, বাংলায়, রাহমানের দুই-তিনটা ছাড়া দেখাইতে পারবেন এমন রচনা যা তার দেশবাসী সমস্বরে গায়! ইমতিয়াজের এমন আছে একশ অন্তত। মরার বাদে ভেউভেউ কইরেন না সবকিছু নিয়া, পারলে নিজে একবার অ্যাট-লিস্ট উইকিলিস্টি ধরে দেখেন ম্যাজিকটা, আমার মতো আপনিও অবাক হবেন ভরসা রাখি। ইমতিয়াজের জন্য দোয়া করবেন খাসদিলে। কে কি পাইল না-পাইল হিসাব করুক ধান্দাবাজেরা। আমরা গান শুনি। ইমতিয়াজের গান। খালি মেটালে আর পিঙ্কু ফ্লয়েডে আর জিমু মরিসনে কাটাইলেই হবে! আর মহীনের ঘোড়ায় ঘাসে! একবার চোখ মেলে দেখো, ইন্ডাস্ট্রি গড়বার মতো সোনাদানাপান্নাপাকিজায় তোমারও সিন্দুক ভরা। পারলে এই গানগুলা কাভার ভার্শন করো, কথাগুলোতে এত প্রেম আর এত নিটোল বিরহ যে বেদনা মধুর হয়ে যাবে। গাও : বুকেরই ভিতরে আন্ধার কুটিরে তুমি ওগো চান্দের বাত্তি … কিংবা গাও : আমার সারাদেহ খেয়ো গো মাটি …

নিবন্ধকার : সুবিনয় ইসলাম

… …

Latest posts by সুবিনয় ইসলাম (see all)

COMMENTS

error: