একমাসের অধিক সময় এবার হাওরে। বিভিন্ন গ্রামে খেলা-নাচ-গানে। বৃহত্তর ময়মনসিংহ নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ এবং সিলেট সুনামগঞ্জ মধ্যনগরের কয়েকটি গ্রামে। অপূর্ব কিছু শ্রুতি, স্মৃতি জমেছে।
সর্বশেষ উপজেলা প্রশাসন, মধ্যনগর, সুনামগঞ্জ আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে যোগদান। বর্ষবরণ উপলক্ষে এই প্রথম নানা আয়োজন ছিল মধ্যনগরে। এর আগে সাতদিনব্যাপী বইমেলায় পুরো সময়টাই দিয়েছিলাম এলাকায়। অবশ্য তখনও উপজেলা হয়নি।
বর্ণিল আয়োজনে আনন্দ শোভাযাত্রা, সমবেত জাতীয় সংগীত, বর্ষবরণ সংগীত, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী — গারো, বানাই, হাজংদের ঐতিহ্যবাহী দলীয় নৃত্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রকমারি আয়োজন, রাইকিশোরী ধামাইল অ্যাকাডেমির শিল্পীদের ও শিক্ষিকাদের অংশগ্রহণে ধামাইল নৃত্য, পিঠা তৈরি, প্রদর্শনী, স্থানীয় কবিদের কবিতাপাঠ, আবৃত্তি, লাঠিখেলুড়েদের অংশগ্রহণে লাঠিখেলা, কুস্তিখেলা, স্থানীয় ও জেলার নবীন-প্রবীণ বাউলশিল্পীদের পরিবেশনায় বাউল সংগীত, স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় বৈশাখি, ভাটিয়ালি, লালনগীতি পরিবেশিত হয়। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নববর্ষের ক্যুইজ, চিত্রাঙ্কন, উপজেলা প্রশাসন ও সোনালি ব্যাংক মধ্যনগর শাখায় কর্মরত কর্মীদের পরিবেশনায় সচেতনতামূলক নাটিকা — কৃষি ও ডিজিটাল কৃষক, পল, লাঙ্গল, জোয়াল, মই, পালকি, ছনে নির্মিত ঘর, সরা, পাতিল, গ্রামবাংলার চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়। উৎসবআমেজ বাড়াতে নির্মাণ করা হয় ফটোবুথ। ছিল ষাঁড়ের লড়াইও।
নিজের এলাকায় একসাথে এত মানুষের সঙ্গ এই প্রথম। ছোটবেলা থেকে বাড়িছাড়া বলে নিজে যেমন অনেককে চিনি না তেমনি আমাকেও অনেকে চেনেন না। অবশ্য শিল্প-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল, ফেইসবুকের কল্যাণে অনেকেই পরিচিত। এর আগে ধামাইল ও হাওর উৎসব আয়োজন নিয়ে সময় দেয়া ছিল। এবার পরিসর আরও বাড়লো।
হাওরে এই সময় জনজীবনের উৎসব মূলত চৈত্রসংক্রান্তির, তার সহায়সম্পদকে কেন্দ্র করে। ঘর, ঘরের বাইরে, গোয়ালে, ক্ষেতে, মেলার মাঠে, নানা উপাচারে, আহারে-বিহারে, ঐতিহ্যবাহী মেলায় সরল জীবনযাপনের আনন্দ, উৎসব পরিলক্ষিত হতো। এ অবশ্য অন্য আলাপ। এও চলতে পারে, চলছে। সরল অথচ মৌলিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক আয়োজন ক্ষীণ হয়ে আসছে।
বর্ষবরণ এখন রাষ্ট্রীয় একটি উদ্যোগ। আমাদের নতুন মধ্যনগর উপজেলায় প্রশাসনের উদ্যোগে প্রথম বর্ষবরণ আয়োজন এটি। আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ রুচিবান, সংস্কৃতিবান্ধব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উজ্জ্বল রায়ের প্রতি। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপস্থাপক, শিক্ষক, কবি অজয় রায়ের অনুরোধে উজ্জ্বল রায় কিংবদন্তী শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের দেশের গান ‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানটি দরদ দিয়ে গেয়ে শোনান।
রাজনৈতিক কারণে ভাইয়ে-ভাইয়ে বিচ্যুতি-বিভাজন-বিয়োগ চোখে পড়লেও মধ্যনগরের সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ, বৈচিত্র্য বেশ দেখা গেল এই আয়োজনে।
আনন্দযজ্ঞে সামিল করার জন্যে এই আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
- একটা ডিলেট করা সিনের মধ্যে ঢুকে বসে আছি || নাফিস সবুর - March 27, 2026
- মেঠোসুরের আঠারো বছরপূর্তি সংখ্যা : লোকজ চেতনার নবউদ্ভাস || মিহিরকান্তি চৌধুরী - March 26, 2026
- জ্বালা-নি-সংকট || নাফিস সবুর - March 26, 2026

COMMENTS