কোর্ট মার্শাল নস্টালজিয়া || সজীব তানভীর

কোর্ট মার্শাল নস্টালজিয়া || সজীব তানভীর

আকবর, বেচারা আকবর! উচিৎ কাজটাই করেছে। মুখ বুজে মানুষ কতদিন অত্যাচার সইতে পারে। বিদ্রোহের অধিকার মানুষের জন্মগত। সেই জন্মগত অধিকারেই আকবর বিদ্রোহ করেছে, একক প্রচেষ্টায় সে প্রমাণ করেছে, অন্যায়ের প্রতিবাদে কাউকে না কাউকে রুখে দাঁড়াতে হয়, দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে হয়।

নাটক : কোর্ট মার্শাল ।। রচনা : স্বদেশ দীপক ।। রূপান্তর : এস এম সোলায়মান ।। পরিকল্পনা ও নির্দেশনা : ড. কামালউদ্দিন কবির ।। মঞ্চায়ন : ২৬ নভেম্বর ২০২৩ রবিবার

কবিরভাইয়ের (ড. কামালউদ্দিন কবির) মুখে যখন প্রথম কোর্ট মার্শাল-এর কথা শুনি, তখন কী যেন এক অজানা (!) কারণে দেশে নাটকটির প্রদর্শনী বন্ধ। টেক্সট পড়েই এই নাটকের সাথে পরিচয়। এরপর একটা সময় এই নাটকের শো দেখার যখন সুযোগ হলো, দেখলাম ঠিকই কাঁদছি। টেক্সট পড়ে যে-জায়গায় কাঁদতাম, নাটক দেখতে বসেও ঠিক সেই জায়গাগুলোতেই কাঁদছি। কবির ভাই সম্ভবত ৩২ বারের বেশি নাটকটা দেখেছেন, উনার হিসেবে। আমার এতবার সম্ভব হয়নি, তবু বারবার কাঁদতে হাজির হয়েছি, প্রেরণা নিতে হাজির হয়েছি যখনই সুযোগ এসেছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর পরীক্ষা প্রযোজনার জন্য যখন কবিরভাই নাটকটির পোস্টার শেয়ার দিলেন, না-দেখে কী আর থাকতে পারি! আকবরের কান্না আর প্রতিবাদের অংশ হতে হাজির হয়ে গিয়েছিলাম সন্ধ্যায়। ওরা ভালো করেছে। সারাদিনে তিনটা শো-এর কারণে ভেবেছিলাম কিছুটা ক্লান্তি ভর করতে পারে তাদের, কিন্তু ধারণা ভুল প্রমাণ করে ওরা যাকে বলে মিলিটারি প্রিসিশন নিয়ে সিনা টানটান করে পার্ফর্ম্যান্স দিয়েছে। ছোটখাটো বেশকিছু ভুল ছিল, পরীক্ষার টেনশন কিংবা রিহার্সালের ঘাটতিই সম্ভবত কারণ ধারণা করি। শো-এ কাঁদিয়ে আর কেঁদে শেষ করার পর ওরা নিজেরাও নিজেদের জড়িয়ে কান্না করছিল দর্শক চলে গেলে, আমি দূর থেকে সেটাও দেখে আসলাম। নস্টালজিয়া!

কবিরভাইকে ধন্যবাদ, কোর্ট মার্শাল চলতে থাকুক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা আরও অন্যত্র…


সজীব তানভীর রচনারাশি

COMMENTS

error: