‘মুক্ত বইমেলা’ বইমেলার বিকল্প নয়। এখন, আমাদের রেগুলার বড় বইমেলা (মুক্ত বইমেলা যেহেতু পরিসরে ছোট) সবসময়ই অর্ডার মেনটেইন করে। ফ্যাসিস্ট হইলে ফ্যাসিস্ট। গণতন্ত্র হইলে গণতান্ত্রিক। রাষ্ট্র মানি আর না মানি, রাষ্ট্রে যেহেতু বসবাস করি সেহেতু বিদ্যমানতার ভিতরেই কায়কারবার করতে হবে।
সেভাবে, আদর্শ প্রকাশনীর বৈপ্লবিক মুক্ত বইমেলার সিদ্ধান্ত ঠিক আছে।
ঘটনার প্রতিঘাত যেহেতু অপশন তৈরি করে, সেহেতু আদর্শের এই আয়োজন ও তার প্রতি লেখক বুদ্ধিজীবীদের সমর্থন আরেকটা সিলসিলার জানান যে দিতে পারল — তা সোনার হরফে লিখে রাখার জিনিস।
কিন্তু বড় বইমেলায় সংযুক্ত হওয়ার নিমিত্তেই যে এই ছোট বইমেলা, সেইটা সর্বাগ্রে। অভিমুখের দিকেই স্রোতের মিলন।
তাই, সরকারি কিছু কিছু সিদ্ধান্ত যে ললাটের লিখন, তা মানা/না-মানার উর্ধ্বে উইঠা কিন্তু আবার লিটলম্যাগের দিকে ফেরা যাবে না।
প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার প্রস্তাব যেন আবার প্রতিষ্ঠানবিরোধিতাই ডাইকা না নিয়া আসে। যদি আসে, তা সমূহ ক্ষতির কারণ হবে সামগ্রিকভাবে।
আদর্শের উপর আপতিত নিষেধাজ্ঞা নির্দিষ্ট বইয়ের চেয়েও বড় হয়ে প্রকাশনীর উপরও যে পড়ল, এইটা হইতেছে বাংলাদেশের সরকারি আচরণের ধরন। এইটার মীমাংসাও আদালতে কেন যে হবে না, তার উত্তরও সেই একই — বাংলাদেশ।
তাই অলিখিত একটা যুদ্ধে নামতে হবে। সেই কাজের দিকে আগাইতে এই ছোট বইমেলাকে কাজে লাগাইতে পারা উচিত আদর্শ ও তার লেখকদের, আমাদেরও। বড় বইমেলায় স্টল নিয়া বইসা বই বেচা হইতেছে মুখ্য।
গাটস ফর গাটস / বুদ্ধিবৃত্তিক জগতের এইটুকুমাত্রই তো উচ্চম্মন্যতা, তা দেখানোর জন্য আদর্শকে ধন্যবাদ। বই বিক্রির ব্যবস্থা করার জন্যও সাধুবাদ। কিন্তু, মেলায় ঢুকতেই হবে। আর কাঁটাবন যেন আবার অন্য নিষেধাজ্ঞায় পইড়া সারাবছরের জন্য শূন্য না হইয়া পড়ে — সেই আশঙ্কা তো রইলই। বাংলাদেশে ঘরপোড়ার মধ্যে আলুপোড়া দেয়ার কাহিনি তো বিদিত।
— ০৩/০২/২০২৩
- ‘আমি ইয়াসিন আমি বোরো ধান’ : নতুন কবিতার আঘ্রাণ || শামীম হোসেন - February 22, 2026
- আধুয়া গ্রামের নৌকাপূজা : নানান ধারার গানের গ্রামীণ মেলা || বিমান তালুকদার - February 2, 2026
- ঊষর দিন ধূসর রাত : উপন্যাসের তন্তু ও তাঁত || রাশিদা স্বরলিপি - January 24, 2026

COMMENTS