*
মৌনতা মানে এই না যে আমি কথা বলছি না
এ তোমার ব্যর্থতা
তুমি আমার মনের কথা শুনতে পাও না
*
এই অসহ্য দিশাহারা ঝামেলার এক প্রস্থ দুপুর
একটা হলুদ বেলুন হয়ে বিলকুল উড়ে চলে যাচ্ছে
সিদ্দিক বাজারের দিকে—
তোমার বিস্তারিত হাসির লহমায়
*
অনেকদিন প্লে লিস্টে কোনো অবিনাশী গান নাই
সেলুনে সভ্যতার খাতিরে বিলম্বের জরুরি নিয়োগ পেতে পেতে
ভাবা যায়
দেশ কাল সমতল হিপ ডোন্ট লাইস
জলাবনে ডুবে ডুবে সাবমেরিনস—
রমণীরা শুধু ঘুরে ফিরে ফেনোমেনা
চমকপ্রদ ছেলে
মুহূর্ত—আরেকটুকু ধার আমারে দাও
মানবীয় ভূগোলের দীর্ঘমেয়াদি ক্লেশ—
উদ্বেগ অর্থনীতির ভেতর দিয়া আমি কেন
ফসল রক্ষা বাঁধ, হাওরের নিনাদ নিয়ে
মফস্বলের বিড়ালি দেয়ালের শ্যাওলায় ফণা তুলে
আহাজারির যথার্থ আক্কেলগাছ খুঁজে ফিরে পাই না…
ধরা যায় এমন উল্লেখ্য যে কোনো সুন্দর অসহ্য লাগে মাঝে মাঝে
নিরুদ্যম বর্তমান এমন
সফলতা, কর্মব্যস্ততা বিষয়ক আলাপে
অশিষ্ট সেই আগেকার খসে যাওয়া
ভবঘুরে ফড়িঙের লেজ পকেটে নিয়ে অনেকেই আসেন
ওনাদের ভাঙা গল্পে নতুন মোচড়
আসলে অতটা নয় যেমন শ্যাওলার দেয়ালিকা থেকে
রোদগড়া দুপুরের ভাঁজে বল ছুঁড়ে ছুঁড়ে
জানা গ্যাছে, খেলা—ছায়াদের নিজস্ব গতিবিধির (এ) ব্যাপারে আর
মানুষের যথার্থ স্থান…কোথায়?
নান্দনিক শিক্ষামূলক এইসব—ঝিলমিলি উত্তেজনায় গড়াগড়ি সেরে
সেই তো আবার পেঁয়াজের খোসা, জীবিকা-চ্যুইং গাম—
এ কেইজ বার্ড লিড রোলে নামভূমিকায়
সে তার স্বপ্নগুলাকে সাত ভাই চম্পা বানায়া মাটি চাপা দিয়ে
তার উপরে একটা পেয়ারাগাছ লাগায়
এ কেইজ বার্ড on the grave of dreams
his shadow shouts on a nightmare scream
his wings are clipped and his feet are tied
So he opens his throat to sing—
বলেছেন প্রিয় মায়া অ্যাঞ্জেলো ও গুরু আজম খান তখন একটু দূরে দাঁড়িয়ে পিঠে হাত রেখে বলে উঠেন—‘গাও বাচ্চু, গাও’ প্রত্যেকটিবার
তবু আস্তে ধীরে—
(শত এক শত দুই মহাজন আর মিহিন মানুষের
কঙ্কাল-আত্মার কোরাস রিমেকে
জল মাপার মতন টেকনিকে জীবনের গড়-নির্ণয়)—
নানান কায়দা ও আলোড়ন হাত করে
একটা নতুন দেখা জিনিস কেনার সুখ লুফে নিয়ে
চা খেতে দাঁড়িয়ে—চিহ্নহীন
সকল অদেখারা এই তুড়ির নিমিষে প্রায় দেখা দিয়ে
ঝিরঝির করে…
ছেড়ে যাচ্ছে
*
বারবার ঘুরে ক্যানো ব্যথার কাছে আসি…
*
‘জীবন আমার বোন’
ক্রাইছিছ, তুমি আমার বান্ধবী
হাঁটু মুড়ে বসে আছে একটা নীল মুখ
থুবড়ে পরার আগে—কান্না_তাকাল আমার চোখে…
কান্নার ঠোঁটে বেজায় হাসি আর রিনরিনে ঝাঁজ আর
ভেজা ভেজা…জিন্দালাশের গান
কখনো শুনিনি আগে
এরই নাম বুঝি ব্লুজ নাকি ভাটিয়ালী…
কিচ্ছু জানি না আমি—
একটা অন্ধকার (দিয়ে আঁকা) পুকুরের পাশে
একটা কালো কমার মতন…পিঠ গুটিয়ে
বসে
আছি
*
এখানে বায়োমেট্রিক—
অন্ধকারে ম্যাজিক দেখাবে ডার্ক কমেডি। আসন সংখ্যা—কল্পনার সাবস্ক্রাইবার।
যা ছিল ব্যাটম্যান হয়ে যাবে একটা জিজেক।
মনে মনে তালিয়া—বাজাও—
হে নজর কোম্পানির ইন্টার্ন, ভোট হলে রাত দাও। আগুনে পুড়ো এবং কান্না দিয়ে নেভাও।
পুড়ে মরে শিরোনাম আর সংখ্যায় খোদাই হওয়া লোকগুলির খবর শেয়ার করতে করতে আবার ছবি তুলে রাখো—ছায়াদের, সহনশীল রোদের নিচে আটকে পড়া সুশীল আত্মাদের, গায়ে ধুলো লাগা তবু তারার মতো মেয়েমানুষের, জীবিত গরিব ও অবলা মোমেন্টদের, মায়া ও শিল্পবিপ্লব হজম করা নদীটার—
ভুলে যাবার আগে
যারা কাচের চামড়া দিয়ে মুড়িয়ে রেখেছে মন
তাদের নিয়ে কথা বলার সময় সাবধানের মুখোশ দিয়ে মুখ ঢেকে
পুঁজির আঙুলে চুমো খেয়ে সৃজনশীলতার পোঁচ দাও
একটা লোকের টিশার্টের উপর লেখা
জুতা খুলে প্রবেশ করুন
যে চলে গ্যাছো অন্য কোথাও আর যাকে
ঘোষণা করতে হয় প্রতিদিন পরিচিত সব রাস্তার মোড়কে ব্যক্তিগত শহিদ মিনার—হাতড়ে হাতড়ে স্মৃতির ফিতা দিয়ে মাপা দূর—
দূর মানে যেখানে হেঁটে হেঁটে যাওয়া যায় না
আকাশ এখনো অনেক ফাঁকা
গভীরতা ক্লান্তির—
আকাশের দিকে তাকালে কারও চেহারা দেখতে হয় না তবে ফিলিংছ হয়
ঝিরিঝিরি মুখের আদল জন্মদাগ তোমার মুখের আঁচিল একটা খয়েরি তারা খোপার কাঁটায় বেঁধে রেখেছ স্বপ্নের তরজমা কান্নার রেশ জড়িয়ে আলুথালু পায়চারী করা ভেজা কাজল ঠাণ্ডা হাত নাকের নিচে ফোঁটা ফোঁটা ঘামের শিশির বিকালের রোদের মতো দুষ্টু হাসি খুশি ওম নাকফুলে লুকানো যন্ত্রণা
মেঘেদের ধরপাকড়
তোমাকে ছবিতে দেখা যাচ্ছে
দূর থেকে গড়িয়ে দিলে শেয়ার
কিছু গান ছিঁড়ে ছিঁড়ে দাও
তোমার অনেকগুলি ছবি মিলে হয়ে আছে
একটা না-মেলানো ছড়ানো রুবিকস কিউব
কেউই ত জানে না আগে থেকে সবকিছু। তুমি এরায়পোর্টের একটা ভুল দরজা দিয়ে ঢুকে একটা নকশিকাঁথার মাঠে হারিয়ে গ্যাছো আর স্বপ্নের ভেতর মেলা থেকে কেনা টুকিটাকি জহরৎ আর তোমার আম্মার দেয়া কাঁথাটা একটা গ্লোবাল ভিলেজের রেলস্টেশনে হারিয়ে ফেলেছ আর দৌড়াচ্ছ আর খুঁজছ। তোমার হারিয়ে যাওয়া এয়ারপডগুলি ফিরে এসেছে। হারানো সুরগুলি এসেছে আমার কাছে। এলাচি, তোমার পায়ে চুমু। তোমার মনখারাপগুলি আমাকে মনে মনে পাঠিয়ে দাও। অনেক হয়রান হয়ে আছ। আপাতত (আলোকবর্ষ এর রেফারেন্সে) চাঁদ থেকে তোমার আমার দূরত্ব সমান অন্যদের ব্যাপারে
জানি না।
দূরের লোকদের সাথে বাচনভঙ্গি দিয়ে আরও দূরত্ব তৈরি করা যায়। আমি একটা তেমন নিছক ক্যাটাগরি। যেখানে তোমার পায়ের ছাপ, ক্যাজুয়ালিটির ধাঁধা (যেমন—পাসওয়ার্ডগুলি একটা একটা ধাঁধাই বোধহয়) আর জুতার ধুলাগুলি ফেলে গ্যাছো
টাকার পায়ের কাছে বসে জিলাপি ভাজতে ভাজতে দেখছি
উন্নতি, সংস্থান ও প্রগতি ওরা সিগনালে যার যার জ্যামের ভেতর
গাড়িতে বসে আছে
ঈশ্বরের নাম লিখা শো পিছ বসানো আছে একজনের গাড়িতে, ড্রাইভার আছে। দোয়েল টাকায় আছে যেমন হয়ে দুই টাকার জাতীয় পাখি—
ওদের পা ধুয়ে আমাকে পানি খেতে হবে বাকি জীবন
কিন্তু ওরা অনেক ঘামছে
কিছু একটা কাজ করছে না
আমার ক্রয়ক্ষমতা এখনও আমার চিন্তাশক্তির চেয়ে কম
দুনোটাই কম আসলে।
তাই একটা কম দামি মুখোশের ভেতর একটা নকল বোদলেয়ার সেজে সবাইকে ভ্যাঙাচ্ছি
একদিন স্বপ্নে তোমার সাথে দেখা হয়েছে
একদিন স্বপ্নে দেখেছি একটা ছিনেমা দেখতে যাচ্ছি
নাম রোবোকপের কান্না
এখন কেউ আর নাম ধরে ডাক দেয় না
রাস্তায় দেখা হলে
আমি এ-রকম একা
একটা পোর্টফোলিও বানানো দরকার কিন্তু আমার আর কিসের কারবার
চার্জ ফুরিয়ে যাচ্ছে
সামনে নির্বাচন
অনেক ফালতু কথা বলতে ইচ্ছা করছে
শুধু ফালতু কথাই বলতে ইচ্ছা করে এখন
দূরের টিভিতে মেঘ
বিজলী পাঠিয়েছে মাননীয়া
ঝমঝম বৃষ্টি সম্প্রচার হবে
*
একটা ডিলেট করা সিনের মধ্যে ঢুকে বসে আছি
*
মিনতি
কি মানে করিব
কি করে বুঝিব
এই মৌনতা
উনি কি ব্যথার দান না গুঞ্জন
নাকি পাথরকুচির বাগান তোমার
বা ক্যাকটাস
তোমার নীরবতা মানে তো হলো গোটা দুনিয়ারই নীরবতা
যেখানে কাঁটাসম
অপ্রস্তুত আবেগগুলিকে
ঘুম পাড়িয়ে রেখেছ
আমার যন্ত্রণায়
আমার যন্ত্রণায়
*
ভার্বগুলি সব নাউন হয়ে যায়
নামগুলি স্মৃতি
ফিরোজা খাতুন কারো খালাম্মা,
কারো কাছে আকাশের রং
স্মৃতিগুলি ইরানি সিনেমা, বিদ্যুৎ
বিল, লাশকাটা ঘরের পাশে
আবহাওয়া অফিসের
মফস্বল মারফতি কারবার, স্মৃতি—
শুধু তুমি ঠোঁট নাড়লেই প্রাণ পাবে
পৃথিবীর সমস্ত ফুল,
লতাগুল্মপাতা, বাগানের
আয়োজন, স্মৃতি-শ্যাওলা-ছেদ-
ঘুমের ভেতর রাস্তা পারাপারের
ভেঙে ফেলা আন্ডারপাসের
উপর তুমি
অনুভূতির সিন্ডিকেট,
মেট্রো-তরঙ্গ-বিপ বিপ বুপ
স্মৃতি-ঘুমের মধ্যে টর্চ হাতে এদিক
ওদিক দৌড়াদৌড়ি করতেছ কেন
কে দিছে
ভুলে যাওয়া পাসওয়ার্ডের
মা লি কা না না ম জা রি র
তোমারে এই কাম
একটা ডিলেট করা সিনের মধ্যে ঢুকে বসে আছি || নাফিস সবুর || মার্চ ২০২৬ গানপার
নাফিস সবুর রচনারাশি
গানপার কবিতার, কবিতার গানপার
- একটা ডিলেট করা সিনের মধ্যে ঢুকে বসে আছি || নাফিস সবুর - March 27, 2026
- মেঠোসুরের আঠারো বছরপূর্তি সংখ্যা : লোকজ চেতনার নবউদ্ভাস || মিহিরকান্তি চৌধুরী - March 26, 2026
- জ্বালা-নি-সংকট || নাফিস সবুর - March 26, 2026

COMMENTS