জ্বালা-নি-সংকট || নাফিস সবুর

জ্বালা-নি-সংকট || নাফিস সবুর

শেয়ার করুন:

মিউজিক ডিরেক্টরের দরকার আছিনু একটা স ফি স্টি কে টে ড ফিমেইল ভয়েজ। আমাদের কী সৌভাগ্য একজন রুনা লায়লা ছাড়া আর কোনো মেয়ে মরদের আদরমাখানো কিন্তু সফিস্টিকেটেড রসনা ডেলিভার করতে পারে এরাম ফিমেইল প্লেব্ল্যাক আর্টিস্ট নাই বাংলা ছায়াছবির বর্তমান কারবালায়।

যুতমতো নতুন কাউকে খুঁজে বের করিয়া নিবার মতো সামর্থ্যও নাই, নিয়তও নাই বলে মনে হচ্ছে প্রযোজক পরিচালক ইহাদিগের। কিন্তু ম্যানুফেকচারড যুদ্ধপরিস্থিতির নয়া উপনিবেশিক গ্লোবাল গভর্নেন্সের এই তেলচিটচিটে ঘনঘটায় এই বুম ট্রিক ট্রিক চিওওওও জ্বালাতে সংগীতপরিচালক ভাইটি যেন শব্দপ্রকৌশলের দ্রুমদ্রাম কারিগরিতে রুনা লায়লার যে কারিশমা, তাকে, টানতে টানতে ঘষামাজা দিতে দিতে সংগীতপরিচালক কাম সহগায়কের পর্যায়ে, ঐ খাদে নামায়ন করে ফেলছেন। বিষয়টি কষ্টদায়ক।

এক বড়ভাই বলছিলেন, যদি কোনো একদিন এভারেস্ট চূড়া দেখবার পাও ঢাকা মহানগর থেকে ডিসেম্বর-জানুয়ারি অথবা কার্তিক-পৌষ-মাঘ মাসে বুঝবা ঐটা রুনা লায়লা। আরেক বড়ভাই বলেছেন আইটেম সং দেখেই উপভোগ করা স্বাস্থ্যসম্মত। কে না জানে ভাঁজ এবং আনন্দ দেখবার ও দেখানোর মহাজনি কারবারি লজিকেই, মেইল গেইজের ছটফট তৃষ্ণার চাবুকের সাথে ডায়লগ ও মুদ্রা বিনিময় করাই আইটেম গীতের নারী ফিগারের অ্যাসাইনমেন্ট। পরিচালক, শিল্পনির্দেশক এনারা সমঝদার, প্রেমিক এবং রসিক হইলে পরে দৃষ্টি আকর্ষণের লাগাম অ্যান্ড চাবুকের কন্ট্রোল চিকনে ঐ নারী ফিগারের হাতেই তুলে দেন যাবতীয় এক্সপ্লয়টেশনের পরও।

আলোচ্য আইটেমের নারী ফিগারকে পরিচালক মহোদয় নায়কের আশেপাশে ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মতো কতকটা ঘুরিয়েছেন ও কিছুটা আইটেম গীতের চিরায়ত কায়দায় ঘষাঘষি করিয়েছেন। আকাঙ্ক্ষা মাত্রেই ঘাটতি। পুঁজির দামিনী রঙ্গ করিয়া অ্যারোমেটিক ছড়ায়ে গায়, ভালোবাইসা আসিও ওগো প্রিয় / রাখিব পরান খুলে / পাশে না ডাকলে / কাছে না রাখলে / এই মনের দরজা বন্ধ কইরা আমি দেবো রে তালা

এ শুনে মন কহে, এ তো স্যামচাচার সাথে সর্বদা ডায়লগে আগ্রহী কালচারাল এলিট বঙ্গীয় সিভিল সমাজ ওরফে প্রেশার গ্রুপ। ছে চিজ।।

কিন্তু আমরা ভুলিব না, বিষম মনের অঙ্গারজ্বালাকে মনেরই অনন্ত কুয়াতে চাপা দিয়াই বিরহিনী হাসিছে, নাচিছে। ঈদ মোবারক।।


নাফিস সবুর রচনারাশি

শেয়ার করুন:

COMMENTS

error: You are not allowed to copy text, Thank you