আলাপচারিতায় ছত্তার পাগলার অনুসন্ধান ৪ : বংশীবাদকের বয়ান || সরোজ মোস্তফা

আলাপচারিতায় ছত্তার পাগলার অনুসন্ধান ৪ : বংশীবাদকের বয়ান || সরোজ মোস্তফা

শেয়ার করুন:

পারস্পরিক আলাপের ভিত্তিতে এক মহান শিল্পীকে একান্ত অন্তরঙ্গভাবে এঁকে নেবার অভিপ্রায়ে এই অনুসন্ধান।

সংগীতশিল্পী ও পদকার ছত্তার পাগলার অবয়ব অনুসন্ধান ও অনুরূপায়নের সধৈর্য সশ্রম গবেষণাকাজটি দীর্ঘদিন ধরে করে চলেছেন কবি ও অধ্যাপক সরোজ মোস্তফা। বাংলার বৃহত্তর নেত্রকোনা অঞ্চলের অপূর্ব বাগগেয়কার ছত্তার পাগলার পদসংগ্রহ সমেত তাঁর গায়নরীতি, পরিবেশনপদ্ধতি, বাদ্যযোজন ও গায়েনের জীবনকালীন পরিবেশ-প্রতিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণার এক পর্যায়ে এসে ব্যক্তিভিত্তিক কিছু কথাচক্র সঞ্চালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন লেখক। ফলে, একটা প্রাণবন্ত খননকর্ম সম্পন্নকরণে সহায়ক হয় এই আলাপচারিতাগুলো।

লক্ষ করব, সরোজ মোস্তফা তাঁর গবেষণাকাজে একাধিক প্রক্রিয়ায় গবেষিত প্রতিপাদ্যের উপর বহুমাত্রিক আলোকপাতে সচেষ্ট হলেও এর মধ্যে একটি প্রক্রিয়া হচ্ছে এই চারণপদকারের সাহচর্য গ্রহণ করেছেন, বাদ্যসংগত্ করেছেন অথবা পাগলাকে হাটেবাজারে-স্টেশনে-দোকানবারান্দায় স্থানে-অস্থানে গাইতে দেখেছেন এমন ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে পদকার ব্যক্তিটির একটি বিশ্বস্ত ও প্রতিকৃতিপ্রতিম অবয়ব বর্ণে-বাক্যে তুলে আনা।

ধারাবাহিক এই ইন্টার্ভিয়্যুভিত্তিক রচনাপ্রবাহের আওতায় এখানে পেয়ে যাচ্ছি সিদ্দিকুর রহমানের স্মৃতিনিঙড়ানো কথায় আঁকা ছত্তার পাগলার জীবনছবির অজানা অনবলোকিত কয়েকটি ইশারা। গানপার

ছত্তার পাগলার সন্ধানে : সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে আলাপচারিতা

বংশীবাদক সিদ্দিকুর রহমান ১৯৫২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। হিরণপুরের অসংখ্য গ্রামীণ আসরে তিনি গীতিকার সুরকার গায়ক ও বাদক ছত্তার পাগলার সঙ্গ করেছেন। যন্ত্রসংগত্ করেছেন। বাঁশি বাজিয়েছেন। জনসংস্কৃতির ভেতরে থেকে অগ্রজের কাছে নিয়েছেন মাটির সুরের জ্ঞান। তাঁর স্মৃতি থেকে একবার ছত্তার পাগলাকে দেখার প্রয়াস করি। সরোজ মোস্তফা

ছত্তার পাগলা হিরণপুর থেকে চলে গেছেন ’৭৯ কিংবা ’৮০ সালের দিকে। সে-সময় আপনার বয়স কেমন ছিল?
আমার জন্ম ’৫২ সালে। সে হিসেবে ২৭/২৮ বছর হবে।

ভাষা আন্দোলনের সময় জন্ম হলে এখন আপনার বয়স প্রায় পঁচাত্তর। আপনি যখন উনার সঙ্গে বাঁশি বাজাতেন তখন আপনার বয়স কত ছিল?
১৭/১৮ বছর হবে আনুমানিক। স্বাধীনতার আগে থেকেই উনার সাথে বাজাইছি।

কোন কোন জায়গায় বাঁশি বাজাতে গেছেন আপনি?
অনেক জায়গায় গেছি। গ্রামে গ্রামে তখন শৌখিন গানের দল ছিল। যাত্রা, ঢপযাত্রা গান হইতো। আমরারে নিয়া যাইতো। তখন হ্যাজাক দিয়া গান গাইতো। হেইলা গান গাইছে আমি বাঁশি বাজাইছি। পরে তো আমার লাইন কাইটা গেছে।

তাঁর অধিকাংশ গানই তো হিরণপুরে লেখা, না?
হিরণপুর, পাইব্যাজুর, বিভিন্ন জায়গায়। যেখানে গেছেন গান গাইছেন। তাৎক্ষণিক বানছেন। ধরুইন, আপনের সাথে বইসা রইলো। বইসা বইসা আপনারে নিয়া গান বানাইয়ালছে। গাইয়ালছে।

‘কে দিলো পিরিতের বেড়া লিচুরও বাগানে’ — ঘাটু ঘরানার এই গানটি উনার মুখে আপনি প্রথম কবে শুনছেন? এই গান তো ঘাটুগান, উনার লেখা না?
জি, ঘাডুগান। খালি এই গান না। হেইলা নানান গানই গাইছুন।

আচ্ছা, এই ‘লিচুর বাগানে’ গানটা তিনি কি আসরে অভিনয় করে গেয়েছেন? এটা তো ঘাটু ধারার গান। ঘাটু গান তো তখন বন্ধ হয়ে গেছিল?
হুম। না আছিন। আগের মতো না থাকলেও আছিন। গাডুগান তহন আমরা অন্যরকম করে গাইছি। চুল ছাড়াই। ছেড়াইনে মেয়ে সাইজ্জা গান করতো।

সেটা কেমন ছিল?  যদি একটু বর্ণনা করতেন!
এইডা হইলো বেহুলা লক্ষিন্দরের একটা বই। বই মানে পালা। ছেলেরাই বেহুলা সাইজ্জা গান গাইতো চুল লাগাইয়া। আরেকজন লখিন্দর সাজতো। দুইজনেই ছেলে। নাইচ্যা নাইচ্যা গাইতাছে। শুনেন একটা ঘটনা কই। এই বই লইয়া আমরা একবার কলকাতা গেছিলাম। গাডুগান লইয়া। আরও শিল্পী আছিন। সিরাজভাই (বাউল সিরাজ উদ্দিন খান পাঠান), সুনীলও (বাউল সুনীল কর্মকার) গেছিন। একটা জমজমাট আসর হয়ছিন কলকাতায়। ছেলেডা মেয়ে সাজছে। যে-ছেলেটা হারমোনিমাস্টার সে নায়ক সাইজ্জা একটা চেয়ারে বইসা রইছে। একটা গান গাইছে, ‘বহুদিনের…’। এই অভিনয় দেইখ্যা মেয়েরা তাকায় রইছে। তারা একজন আরেকজনরে কইতাছে যে বাংলাদেশতে কী শিল্পী আইছে আছানক! তারা দু কেমনে কথা কয়! পরে বই শেষ হইলে আমরা গেছি ড্রেস খুলতে। মেয়েরা গেছে নায়িকা দেখতে। পরে ভিতরে যায়া দেখে সবাই ছেলে। পরে তারা কয় এত সুন্দর অভিনয় করলো একটা মেয়ে, এখন দেখি ছেলেডা মেয়ে সাজছে! কী আছানক! আপনি এইডি দেখছুইন? এই (ঢপযাত্রা) গান দেখছুইন?

আমাদের গ্রামের বাজারে খুব ছোটবেলায় একবার দেখছি। এতটা মনে নাই। এগুলোকে তামাশা গান বলে?
হুম। ঢপযাত্রা, তামাশা গান একই কথা।

তামাশা গান, ঢপযাত্রা, ঘেটুগান এসবের সাথে তো তিনি ছিলেন? মানে গানের দলের সাথে ছিলেন কি-না?
সে কখনো অভিনয় করছে না। যায়া দেখতো। কোনো গান অইলেই, বই অইলেই তিনি পেন্ডেলের সামনে বসে থাকতো। গান হইতে দেরি হইতেছে তহন সবাই মিলে তারে গান গাইতে ডাকত। সময় পাইলে গান কইছে।

মানে, কোনো ধরনের গানের দলের সাথে তিনি ছিলেন না?
না। আমরার সময় এমন ছিল না। দলটল কি? গ্রামের কয়েকজনে একটা গানে অভিনয় করা। এইরকম আর কি। কেউ তো আর পেশাদার না। কোনোদিন অভিনয় করতে দেখছি না তারে। গান গাইছে, গান বানছে আর বাঁশি বাজাইছে। পাতার বাঁশি, বেতের বাঁশি, পেঁপের বাঁশি। যা পাইছে সেইটা দিয়া বাঁশি বানাইয়াছে। এরকম কারিগর, শিল্পী আমি আর দেখছি না।

আচ্ছা, ‘কে দিলো পিরিতের বেড়া’ — এই গান যখন আপনি শুনেছেন তখন আপনার বয়স কেমন?
এইটা কেমনে কইয়াম। ১৫/১৬ হইবো। সংগ্রামের ম্যালা আগে হইবো। তবে আমি মনে হয় তার সাথে সংগ্রামের পরে বাঁশি বাজাইছি। আমি তো আর বাইরে গেছি না, হিরণপুরের আশেপাশেই তার সাথে বাজাইছি।

তিনি কীভাবে গান লিখতেন? মানে, তিনি তো তার গান লিখে রাখতেন না। শুধু গাইতেন। স্মৃতিতে সে-গান ধরে রাখতেন। বিচিত্র বিষয়ে তিনি গান লিখেছেন। আসরে এসব গান যখন গেয়েছেন তখন শ্রোতাদের অনুভূতি কেমন ছিল?
অনুভূতির কথা কি কইয়াম। মাইনষে তার গানের জন্য পাগল আছিল। তার সব গান জীবন থাইক্কা নিছে। জীবনের ঘটনাডা সে গানে বানছে। যেমন তার একটা গানের কথা কই :

আরশি-পরশি খা’রার গুষ্ঠি আবদুল হাই হেকিম
তরার বিচার আল্লায় করব একদিন

এইডা তার জীবনের গপ্প। এইডার মানে হইলো তার বাপ মারা গেলে পরে তার মার বিয়া হয়। বিয়া হয় এইদিকে এক জায়গিরের কাছে। এই ঘরে তিনটা বাচ্চা হয়ছে। একটা মেয়ে, দুইটা ছেলে। হের মার তো জমি আছিন। দুই ছেলেরে লইয়া জমি দখল করছে ছত্তার পাগলার। কিন্তু ছত্তার তো কাইজ্জার মানুষ না। তাই লেখছে এই গান। খা’রা হইলো মামুর গোষ্ঠী। তাই এইডা লেখছে, জমি দখল করছে দেইখ্যা। তার জীবনে যা যা ঘটছে তা-ই তার গান। লিচু নিয়া তার আরো একটা গান আছে

পারভেইচ্চার মা পাইব্বাজুরের লিচু আইন্যা দে…

কেমন? একটু বিস্তারিত বলেন। এই গানেরও কি কোনো কাহিনি আছে?
ছত্তার পাগলা পাইব্বাজুর গেছিন। সুনুরার পরের গ্রাম। এইনো গেলে একটা মেয়ে দেইখা আইছিন। প্রেমিক আছিন, আশেক আছিন। পরে এই মেয়ে দেইখা পাগল হইছিন। পরে গান লেখছে তার বেডিরে দিয়া। পারভেছের মা রে আমারে পাইব্বাজুরের লিচু আইন্না দে। আরও কথা আছে আমার মনে নাই। পরেই মনে হয় ‘কে দিলো পিরিতের বেড়া লিচুরও বাগানে’ এই গাডুগানকে সে আরো নিজে নিজে বাড়াইছে।

হিরণপুর ছাড়ার কারণ কি? ছত্তার পাগলা তো বেশ সম্ভ্রান্ত, জমিজমাওয়ালা মানুষ ছিলেন। তালুকদার ছিলেন। গ্রাম ছাড়তে হলো কেন? এখানকার অনেক মানুষ তাকে পাগল বলে। সে কী আসলেই পাগল ছিল? কেউ কেউ বলে দা নিয়ে ঘুরতো। তাই সবাই মিলে তাকে গ্রাম থেকে বের করে দিয়েছে।
ছত্তার পাগলা পাগল ছিল না। এটা একটা লম্বা কাহিনি। তার বড়ভাই আছিন রাশিদ তালুকদার। রাশিদ খুব দাঙ্গা লোক আছিন। তো, হেইলা সংগ্রামের সময় একটা লোক আছিন এই বাড়ির সাইব আলী নাম। তারে লইয়া বেড়াইতো গেছে ফকিরাবাজারের কাছে কংসের পাড়ে।  সেখানেই আছিল মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প। মুক্তিবাহিনীর একজনের নাম আলতু। আমরার হেই পাড়ার একটা লোক আছিন, রাজু করে নাম। রাজুও আছিন সেই দাঙ্গা লোক! এই রাজুরে আজমপুরে রাশিদ আর কয়েকজন লোক মাইরা বন্দে ফালায় রাখছিল। আলতু হইলো রাজুর মামা। হেই জিদ্দে পাইকুরের আলতু কইছে আমি রাশিদরে ছাড়তাম না। পরে রাশিদরে আটকাইলো। জসীমভাই কইতাছে আলতু তুই আমার ভাইগ্না। রাশিদ আইছে বেড়াইতো, এরে মারিস না। ছাইরা দে। আর রাজুও ভালো লোক আছিন না। মারছে তো মারছেই। কিন্তু আলতু রাশিদরে মারবোই। তাই মেজরের কাছে লইয়া গেছে। মেজর জিজ্ঞেসা কইরা ছাইরা দিছে। তাও আলতু মানতো না। পরে রাশিদরে ধইরা আলতু গুলি কইরা মাইরালছে। এই কারণে ছত্তার পাগল হয়সে। চিক্কার পাইরা কানছে, দৌড়াদৌড়ি করসে। এই পরে পাগল হয়া গেছে। মাথাডা আউলায়া গেছে।

লোকজন যে বলে গ্রামের সাথে তার বিরোধ ছিল। অনেকেই বলেছে পাগলামির জন্য গ্রামের লোকজন তাকে বের করে দিয়েছিল।
না। এইডা আরেকটা বিষয়। যদিও এইসব গোপন কথা কওয়া ঠিক না। পারভেচের মা হইলো ছত্তার পাগলার প্রথম স্ত্রী। এই মহিলার চরিত্র একটু অন্যরকম আছিন। তারার বাড়িরই একজন নাম আছিন আরব আলী। সুখি মানুষ। ছত্তার পাগলার জমি কিন্যাই সুখি হইছিন। আরব আলীর সাথে একটু ভেজাল আছিন। তার আর সহ্য হইছে না। আরব আলী একদিন সন্ধ্যার সময় শীতের দিনে উঠানে আগুন তাপাইতাছে। ছত্তার করছে কি ছুরির মধ্যে একটা দাও বানছে। পরে যায়া আরব আলীরে ধইরালছে জবো করবো। কিন্তু দায়ে তো ধার নাই। অভ্যাসও নাই। আর পারছে না মারতো। আরব আলী চিক্কার মারতেই সবাই আইসা পরছে। এই পরে গ্রামের মানুষ তারে ঘরের মধ্যে আটকাইছে। ছত্তার পাগলা ঘরে। মাথাও ছিলাইল। পরে পাড়ার কিছু লোক থাকে না, তারা আইছে তারে মারতো। আমরা এলাকার মানুষ তো বুঝছি। তারে ঘাওয়ানি শুরু করছে। আমরা সবাই যায়া ঝাঁপ দিয়া বাঁচাইছি। তাও ঘাও লাগছে কয়েকটা। এই মুহূর্তে পুলিশও গেছিন। পুলিশ ধইরা লইয়া গেছে আমরার বাড়িত। বাবা তো মেম্বার আছিন। পরে কইছে মেম্বারসাব এই যে ধইরা আনছি। আপনার কি লাগে? বাবা কইছে আমার তো সম্পর্কে ভাইগ্না লাগে। ঘটনা কি? সে তো পাগল মানুষ। পরে পুলিশ কয়, সে তো পাগল না। মানুষে তারে পাগল বানাইছে। এখন কি করা? বাবা কয় তে আপনারা দেখেন। পরে তারে জিজ্ঞেস করছে — এই মিয়া আপনারে যে ঘাওয়াইয়া ঘাওয়াইয়া রক্ত বার কইরালছে, আপনারে কেডা মারছে? এর উত্তরে ছত্তার পাগলা কয় — আমার গ্রামে কেউ শত্রু নাই, আমারে কেউ মারছে না। পুলিশ পরে আর স্বীকার তারে করাইতেই পারলো না। তারপরে পুলিশ অর্ডার দিছে তার গুষ্টিরে, আপনারা তারে নেত্রকোনা হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে তারে হাসপাতালে লইয়া গেছে ভর্তি করাইতো, কিন্তু কিবায় যেন হাত ফসকাইয়া ঝাঁপ দিছে নদীতে। মগরার হেইপারে যায়া উঠছে। পার হয়া যে গেছিন আর আইছে না। এই হিরণপুরে আর মুখ দেখাইছে না। পরে কেউ যদি জিগাইছে, ভাই কেমন আছুইন? সে কয় আপনি কেডা? কয় আমি লালচাপুরের অমুক। পরে জিজ্ঞেস করে লালচাপুর কই পরছে? এইডা বাংলাদেশের কোন জেলায়? আমি তো চিনি না। তে, এক কথায় তার কথা হইলো, আমি তো কোনো অপরাধ করছি না। অপরাধ আরব আলী করছে বিধায় আমি আক্রমণ করছি। কিন্তু সারা গ্রাম মিল্লা আমারে মারতে গেছিন কারণ কি? গ্রামে যেহেতু আমার আপন বলতে কেউ নাই তাইলে আমি গ্রামের কাউরে চিনি না। তার কথা তো ঠিক আছে। খুব জ্ঞানী লোক আছিন।

উনি তো সবাইকে আপনি বলে সম্মোধন করতেন?
হুম। অনেক ভালো লোক আছিন। মানুষকে সম্মান করতেন।

আপনার সাথে তার বয়সের ব্যবধান কত ছিল?
আরে কী কয়! আমার অনেক বড় ছিল। পচিশ তিরিশ বছরের বড় হইবো। বড় হইলে কি হইলো, আমরারে আপনি আপনি সম্বোধন করতো।

আপনি বাঁশি বাজানোর জগতে এলেন কীভাবে?
এইডা অনেক হিস্টোরি। আমি স্কুলে পড়তাম তো। তে আমার প্রতিবেশী একটা লোক ছিল বদর নাম। বাঁশি বাজাইতো, আমিও লগে লগে ফুয়াইছি। আমিও মোটামুটি ভালোই পারি তখন। আমি একজন বংশীবাদক পাইছিলাম পরে তারে বলছিলাম আমারে বাঁশি বাজানির নিয়মডা দেখায় দিতো। পরে দেখায় দিছে। নিয়মমাফিক আমি আগাইছি। নেত্রকোনায় ক্লাস করছি, গ্রামার শিখছি। কেন্দুয়ার শহীদুল্লাহর কাছে গ্রামার শিখছি, ক্লাস করছি। পরে তো আমি অন্য পর্যায়েই গেছি।

নেত্রকোনায় কার কাছে শিখেছিলেন?
গোপাল উস্তাদজি।

তাহলে তো আপনি ক্লাসিক্যাল শিখেছেন। এখন ছেড়ে দিলেন যে?
ঘাড়ের রগে সমস্যা যে তাই। এখন আমি গান গাই।


গানপারে ছত্তার পাগলা
সরোজ মোস্তফা রচনারাশি

শেয়ার করুন:

COMMENTS

error: You are not allowed to copy text, Thank you