ছেঁউড়িয়া যাই নাই কভু
তবু আমি লালনের গান
শুনেছি যেমন শোনে লোকে
বেদবাক্য অমৃত সমান
প্রেমাস্পদের কথাগুলো
শুনিয়া যেমতি প্রেমিকের
দুনিয়া উজালা হয়ে ওঠে
মরা গাঙে বান ডাকে ফের
তেমন করিয়া তারে আমি
দিয়াছি যা-কিছু ছিল মম
তবু সে রহিল দূরে দূরে
আসমানের নক্ষত্রসম
কার কথা কহিতেছি আমি?
গাহিতেছি কার নামগান?
কে সেই নিঠুরা যার কাছে
রেখেছি নিজের মনোপ্রাণ!
সাঁইজি চিনেন তারে ঠিক
সাঁইজি রাখেন সেই খোঁজ
সাঁইজি আমারে বলে দেন
বিষতরুর বরনও সবুজ
পারিনি চিনিতে আজও তারে
নদিয়ায় নবদ্বীপে গেলে
কিংবা কালীগঙ্গার পার ঘেঁষে
শুনিয়াছি তার দেখা মেলে
আমি তো পড়শিঠিকানায়
দিয়াছি কত-না ডাকচিঠি
জবাবে পেয়েছি নীরবতা
নৈঃসঙ্গের তারা মিটিমিটি
আমারে বুঝায়ে কও সাঁই
সামান্যে কি পেয়েছ সে-ধন
নাকি সেই নিদয়া রাধিকা
খুঁজেছ অসার আজীবন?
লক্ষ যোজন ফাঁকে থেকে
সে আর লালন দুইজনে
এহেন তুষ্ট যদি রহে
কেন-বা নাখোশ থাকো মনে?
আখড়ায় না-যায়াও তাই
ফি-বছর দোলপূর্ণিমায়
কণ্ঠী বদল করি, গাই—
পাখিটি কেমনে আসে যায়…
—জাহেদ আহমদ ২০১৩
- বিস্মৃতির পরিভাষা ও অন্যান্য || শুভ্র সরকার - April 20, 2026
- ঊষর নগর, পরিচর্যাহীন মাতৃত্ব ও জীবনচক্রের সংকট : পাপড়ি রহমানের উপন্যাস : পরিবেশবাদী নারীবাদী পাঠ || উম্মে কুলসুম - April 19, 2026
- কেন লিখি? || হামীম কামরুল হক - April 17, 2026

COMMENTS