আর্ট হিসাবে ডিস্টোপিয়ান মডেলের সমস্যা এবং ‘অপেনহাইমার’ সিনেমা ও ‘ফলআউট’ টিভিসিরিজের রাজনীতি || আনম্য ফারহান

আর্ট হিসাবে ডিস্টোপিয়ান মডেলের সমস্যা এবং ‘অপেনহাইমার’ সিনেমা ও ‘ফলআউট’ টিভিসিরিজের রাজনীতি || আনম্য ফারহান

১.
ডিস্টোপিয়ান জিনিসপত্রের চমৎকারিত্ব আছে। তাছাড়া ফিকশনের সৌন্দর্য দেখবেন যে এইগুলাতে অনুপস্থিত।

২.
পশ্চিমে কেন জনপ্রিয় হইতেছে ডিস্টোপিয়ান আর্ট? সাহিত্যে, সিনেমায়? ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডের জীবন থেকে প্রাপ্তিযোগ এবং সভ্যতার উচ্চতায় থাকার ক্লান্তি বা বোরডম এই ডিস্টোপিয়ান ভঙ্গির আগমন ঘটাইছে। আরেকভাবে, এইগুলাকে সিকিউরিটির প্রশ্নও বলা যায়।

৩.
তাই বইলা অত সরলভাবে দেখার চান্স নাই। আর কীভাবে দেখা যায়? বলতেছি। গতবছরের বিখ্যাত সিনেমা ‘অপেনহাইমার’-এর (জুলাই, ২০২৩) কথা মনে আছে নিশ্চয়ই। সেই অপেনহাইমারের আপন ভাই ‘ফলআউট’ টিভিসিরিজ (এপ্রিল, ২০২৪) চইলা আসছে এই বছর। আগেরটা বানাইছিলেন “ক্রিস্টোফার নোলান” আর ‘ফলআউট’ টিভিসিরিজ বানাইছেন তাঁরই মায়ের পেটের ভাই “জোনাথান নোলান”।

৪.
‘অপেনহাইমার’ যেহেতু বায়োগ্রাফিক্যল সিনেমা, আপনারা জানেন যে কোয়ান্টাম ফিজিসিস্ট ‘অপেনহাইমারের’ জীবনীই ছবির ঘটনা। তবে, হলিউড তথা আমেরিকা খুব সাটলভাবে পারমাণবিক বোমা তৈরির এই থিওরিস্ট এবং ইতিহাসকে, খুব মানবিকতা এবং উদ্বিগ্নতার সহিত দেখাইতে চাইছেন। তাতে ছবি সফলও হইছে। দুনিয়াব্যাপী আমেরিকার ‘দি গ্রেট আমেরিকা’ চেহারার ব্র্যান্ডিং বাড়ছে তাতে।

‘ফলআউটে’ আইসা উনারা ডিস্টোপিয়ান পৃথিবী দেখাইতেছেন অনেকটা সাই-ফাই ধরনে। পোস্ট-নিউক্লিয়ার ওয়ার রেডিয়েশন, বিষাক্ত পৃথিবী, গরিবরা নিজেরা নিজেদের খাচ্ছে। চূড়ান্ত ধ্বংসলীলার পরের চেহারা।

৫.
আর্গুমেন্ট হইল, জলবায়ুব্যবসায়ীরা এনজিও এবং পশ্চিমাদের মারফতে আমাদের কাছে অলরেডি জলবায়ু সচেতনতামূলক আজাইরা ভীতির আমদানি কইরা রাখছেন বহু আগেই। আধুনিকতার নামে অনেক অপ্রয়োজনীয় জিনিস আমরা গ্রহণ কইরা ফেলছি। আরও করতে থাকব হয়ত। মনসান্টো, সিনজেনটা ইত্যাদি কোম্পানির কৃষি ধ্বংসমূলক কার্যক্রম তো জানেনই আপনারা। কবি ও দার্শনিক ফরহাদ মজহার এইগুলার বিরুদ্ধে একলাই দাঁড়াইয়া কাজ করছেন, করতেছেন। তো, পশ্চিমাদের এইবার হইতেছে আমাদেরকে ভয় পাওয়াইবার বেলা। যে, পৃথিবী তো যাইব গা গিয়া। গ্রেট আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদ সমর্থন করো। নাইলে দুনিয়া তামা তামা বানাইয়া ফেললে তো সব গেল। আর তাও যদি করতে হয়, টেকনোলজি দিয়া সুরক্ষিত রাখার বন্দোবস্ত এই আমরাই পারব। ইটস অল অ্যাবাউট অ্যা সিস্টেম। যেইটা আমরা সবচেয়ে ভালো পারি।

এই গুড সিস্টেমের তল্পিবাহক আমেরিকা আসলে জনকল্যাণের নামে নতুন কোনো রাজনীতি নিতে যাইতেছে মনে হবে, আসলে কিন্তু সেই নতুন বোতলে পুরাতন মদ। মিডল-ইস্টে ইজরায়েলকে নামাইয়া দিয়া, দেশের ভিতরের তরুণসমাজের সমর্থন তো ক্যাশ করবেই সাথে মুসলিম দেশগুলা তথা গরিব বিশ্বের বন্ধু হওয়ার রাস্তা মজবুত করবে। যেন, তার একচ্ছত্র সাম্রাজ্যবিস্তারী  ক্ষমতায় অন্য কোনো রাইজিং পরাশক্তি পোলারাইজেশন ঘটাইতে না পারে।

সেই পথে যাইতে গেলে, এবারের নির্বাচনে ‘জো বাইডেনকে’ ক্ষমতায় আনতে হবে। আমেরিকার গুডসিস্টেমের এই-ই হিসাব মনে হইতেছে।

৬.
আর, প্রাণ-প্রতিবেশ রক্ষার প্রতি আমাদের, মানুষ হিসাবে এর অংশীদারদের এমনিতেই দরদ আছে। সেইটাকে স্বাভাবিকভাবে নার্চার করলেই কাফি। সভ্যতা একটা যাবে, আবার আরেকটা সভ্যতা আসবে। ধ্বংস হওয়ার ভিতর দিয়াই তা আসবে। সবাই মিইলা সভ্যতা নিয়ন্ত্রণকারী অবস্থান নিলে তখন এইসব ডিস্টোপিয়ান জিনিস রিয়ালিটিতে বেহুদা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে।

ক্রিশ্চিয়ানিটি ও ইসলামবাহিত যেই হেয়ারআফটার বা কেয়ামতের কথা আমরা গ্র্যান্ড ন্যারেটিভে পাইছি, ওইটা বেইচা খাওয়ার নতুন ধান্ধা এই ডিস্টোপিয়ান মডেল। ধর্ম-বিশ্বাস এবং বিজ্ঞান-বিশ্বাসের হাত ধইরাই এইটা সাম্রাজ্যবাদবিস্তারী নতুন চাবুক।

১২/৫/২০২৪


আনম্য ফারহান রচনারাশি
গানপারে ম্যুভিরিভিয়্যু

COMMENTS