কবি ইকবাল আজিজ মারা গেলেন। তাঁর সাথে একবারই কথা হয়েছিল, ব্র্যাকে। সহকর্মীদের কেউ কেউ তাঁকে বেশ জ্বালাতন করতেন, ফলে তিনি বেশ একটা রিজিড ফর্মে থাকতেন। খুব একটা কথা হয়নি।
কবি ছিলেন, কিন্তু নিজেকে পড়িয়ে নেয়ার মতো যথেষ্ট জোর তাঁর মধ্যে ছিল না। শান্ত নিরিবিলি একটা মানুষ। তাঁর একটা কবিতার বইয়ের নাম ছিল ‘প্রতীকের হাত ধরে অনেক প্রতীক’। হাতে পড়েছিল, কিন্তু পড়া হয়নি। নামটা টানত। এটুকুই।
এই বই প্রকাশের বহু বছর পর লাকাঁর লেখায় পেলাম Chain of signifiers। এই টার্ম নিয়ে কত হৈ চৈ! অথচ কারো মনেই পড়ল না ইকবাল আজিজের এই আবিষ্কার — ‘প্রতীকের হাত ধরে অনেক প্রতীক’।
ইকবাল আজিজের কবিতা পড়া হবে না। বাংলা সাহিত্যের সিঁড়িতেও হয়তো জায়গা দেবেন না তাকে ক্ষমতাবান সাহিত্যসম্পাদকেরা। সত্তর দশকের অন্যরা আজো শোরগোল তুলছেন। কেউ জীবিত থেকে, কেউ মরে গিয়ে, কেউ আবার বিচিত্র বেশভূষায়। আমরা তাদেরই পড়ব। তারাই বিজয়ী, যারা আওয়াজ দিতে পারেন। বাকিদের ব্যাপারে সাহিত্যের ইতিহাসকে নিষ্ঠুররকম সেলেকটিভ হয়ে যেতে হয়। উইনার টেকস ইট অল!
কিন্তু আয়রনি হলো, সাহিত্যের রুচি তার মাইনর লেখকদের হাতেই তৈরি হয়। সো-কল্ড মেজররা সেটাকে আত্মসাৎ করেন মাত্র।
- একটা ডিলেট করা সিনের মধ্যে ঢুকে বসে আছি || নাফিস সবুর - March 27, 2026
- মেঠোসুরের আঠারো বছরপূর্তি সংখ্যা : লোকজ চেতনার নবউদ্ভাস || মিহিরকান্তি চৌধুরী - March 26, 2026
- জ্বালা-নি-সংকট || নাফিস সবুর - March 26, 2026

COMMENTS