কবি দিলওয়ার ও একটি দায়সারা সংখ্যা || পলিয়ার ওয়াহিদ

কবি দিলওয়ার ও একটি দায়সারা সংখ্যা || পলিয়ার ওয়াহিদ

কিছুদিন আগেই আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন গণমানুষের কবি দিলওয়ার। তাকে নিয়ে কম লেখালেখি হয়নি বিভিন্ন মাধ্যমে। আমরা তা কমবেশি সবাই জানি। একুশে বইমেলা ২০১৪ দ্বিতীয় দিনে সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য পরিষদের সাহিত্যসম্পদক সৈয়দ মবনু ভাইয়ের সাথে দেখা। মবনুভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় প্রায় বছর দশেক আগে। সিলেটে এক সাহিত্য আসরে। আমি তখন সিলেটে লেখাপড়া করি। আমার সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে জানতে চাইলেন কি করি? বললাম একটি দৈনিকে আছি। সাথে সাথে ব্যাগ থেকে বের করলেন আলইসলাহ  অক্টোবর-ডিসেম্বর-২০১৩ সংখ্যাটি যেটা ‘কবি দিলওয়ার সংখ্যা’ হিসেবে প্রকাশ হয়েছে। বেশ আনন্দ পেলাম। কবি দিলওয়ারকে খুব কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিলো আমার। বন্ধু মাহফুজ আদনান আমাকে কবির কাছে নিয়ে গিয়েছিলো সে-প্রায় ২০০৭ সালের দিকে। আমাদের দুই তরুণ কবিকে কাছে পেয়ে তিনি খুব আনন্দিত হয়েছিলেন। জানতে চাইলেন আমার বাড়ি কোথায়? কোথায় থাকি? আমার বাড়ি যশোর শুনে তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, — আমি তো যশোর গিয়েছি। যশোরের রান্না খুবই সুস্বাদু। আমার কাছে তো অনেকে আসে যশোর থেকে। … এভাবে গল্প জমে ওঠে। কবির কাছে আপন হওয়া তো মুহূর্তের ব্যাপার। কবি মাত্রই আপন আপন রঙ নিয়ে ঘুরে বেড়ান। আমাকে নিজ হাতে মিষ্টি খাওয়ালেন। সে-দৃশ্য আজ চোখের সামনে ভেসে উঠছে।

যা-ই হোক, যা বলার সেদিকে ফিরে আসা উচিত। আল-ইসলাহ  এ সংখ্যাটি তো আগেই বলেছি কবি দিলওয়ারকে নিয়ে করা হয়েছে। তবে মনে হয়েছে এ সংখ্যাটিকে আরো কেন্দ্রস্থ করা গেলে মন্দ হতো না। আল মাহমুদ ছাড়া আর কোনো বড় মাপের লেখকের লেখা সংখ্যাটিতে নেই। এটা অবশ্যই দুঃখজনক। এটা শুধু নামসর্বস্ব হয়েছে, যেন দায় এড়াতে এমন সংখ্যা করা, তা কতোটা যুক্তিযুক্ত ভেবে দেখা যেতে পারে। এমন হতে পারে সময়স্বল্পতার কারণে এমনটা হতে পারে। তবুও আমাদের সাহিত্যে যত্নশীল হওয়া বাঞ্ছনীয়।

লিখেছেন অনেক লেখক ও কবি। প্রবন্ধ লিখেছেন — ‘দিলওয়ারের সিলেট থেকেই আধ্যাত্মিক দার্শনিক জাগরণ হবে’ শিরোনামে কবি আল মাহমুদ, ‘আমার বন্ধু কবি দিলওয়ার’ শিরোনামে লিখেছেন মো. আব্দুল আজিজ, সালেহ চৌধুরী লিখেছেন ‘আমার বন্ধু দিলু’ শিরোনামে, যা খুবই স্মৃতিকাতর ও হৃদয়স্পর্শী। ‘আমার দিলুভাই’ লিখেছেন মোফাজ্জল করিম। ‘দিলওয়ার ও কিছু টুকরো স্মৃতি’ শিরোনামে লিখেছেন অরুণ ভূষণ দাশ। এছাড়া আরো লিখেছেন নৃপেন্দ্রলাল দাশ, ফরীদ আহমদ রেজা, রাগিব হোসেন চৌধুরী, এ কে শেরাম, লাভলী চৌধুরী, শামসুল করিম কয়েস, জামান মাহবুব, নন্দলাল শর্মা, হারুণ আকবার, আহমদ সিরাজ, হামিদ মোহাম্মদ, ড. সেলু বাসিত, শাকুর মজিদ, মিলু কাশেম, সোলায়মান আহসান, দীনুল ইসলাম বাবুল, ময়নূর রহমান বাবুল, জলধীর রজম চৌধুরী, দিলু নাসের, সুপ্রিয় ব্যানার্জ্জি শান্ত, কামরান ইবনে দিলওয়ার, জাহেদুর রহমান চৌধূরী, মাহবুব হোসেন, মোস্তাক আহমাদ দীন, আবদুল হামিদ মানিক ও সৈয়দ মবনু। নিবেদিত কবিতা লিখেছেন — মুহিত চৌধূরী, মাশুক ইবনে আনিস, মীর লিয়াকত, মুজাহিদ আহমদ, মনজুর কাদের, মাহমুদুজ্জামান জামী, জাফর ওবায়েদ, এখলাসুর রহমান, সাকী সায়ন্ত, নূরুল নাভেদ, আজিম হিয়া, ইশরাক জাহান জেলী, মাসুদা সিদ্দিকা রুহী, চন্দন কৃষ্ণ পাল, সারওয়ার মিনহাজুল, সৈয়দা আরিফা সুলতানা ও জামাল আহমেদ জয়।  নিবেদিত ছড়া লিখেছেন — সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী, মো. বদরুল আলম খান, ফায়সাল আইয়ূব, তাজুল ইসলাম ও মামুন রশীদ।  গল্প লিখেছেন — আহমদ ময়েজ ও শেখ লুৎফর। এছাড়া ‘অন্যান্য’ বিভাগে রয়েছে বিভিন্ন ফটোগ্রাফে কবি দিলওয়ারের জীবন ও গ্রন্থপঞ্জি।

দীর্ঘ ষোলো ফর্মার বইটিতে আছে সৈয়দ মোস্তাফা কামালকে নিয়ে একটা প্রবন্ধ। বাঁধাই ভালো হলেও ছাপাটা একেবারে নাজুক বলেই মনে হয়েছে, যা সংখ্যাটির মানকে প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়। প্রচ্ছদের প্রতিকৃতিচিত্র এঁকেছেন সত্যজিৎ রাজন। হাজার সংকীর্ণতার মাঝেও একাশি বছরে পা রেখে এমন একটা সংখ্যা করার জন্য কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের প্রশংসা পাবার অধিকার আরো বেড়ে গেল বলে আমার মনে হয়েছে।

আলোচনাকাল : ১০ এপ্রিল ২০১৪


গানপার ম্যাগাজিনরিভিয়্যু

COMMENTS