ধিকি ধিকি আগুন জ্বলে
দুঃখের নদী বইয়া চলে
ও ও ও … ও ও ও।।
ভালোবাসি এত তোরে আগে বুঝি নাই
এখন তোরে কোথা পাই
উথালপাতাল বুকের মাঝে কইরাছি কী ভুল
তাই তো এই মনটা ব্যাকুল।।
তোরে ছাড়া এই জীবনে আপন কেহ নাই
এই কথা ক্যামনে বোঝাই
কোথায় গেলি ফাঁকি দিয়া বইলা গেলি না
তাই মনে সুখ পাইলাম না।।
ধিকি ধিকি আগুন জ্বলে
দুঃখের নদী বইয়া চলে
ও ও ও … ও ও ও।।
কথা : মাহমুদ খোরশেদ ।। সুর : শাফিন আহমেদ ।। ব্যান্ড : মাইলস্
‘ধিকি ধিকি আগুন জ্বলে’ গানটি মাইলস্-এর অন্যতম হিট গান। মূলত ‘ধিকি ধিকি’ গানটির কর্ড এবং গানটি লেখার পেছনের গল্পটা জানার জন্য কথা হয় মাইলস্-এর শাফিন আহমেদের সঙ্গে, আর তার মাধ্যমেই আলাপ হয় গানটির গীতিকার মাহমুদ খোরশেদের সঙ্গে। সেই সুবাদেই মাহমুদ খোরশেদ বললেন, “ধিকি ধিকি গানটি আমি আসলে লিখেছিলাম ইউনিভার্সিটিতে থাকাকালীন। আমাদের লেকচার-থিয়েটারটি ছিল মোটামুটি বড় একটা হলরুমের মতো। কিন্তু এর সিলিংটা ছিল অনেকটা নামানো, এসি লাগানো হবে বলে। কিন্তু এসির পরিবর্তে সিলিঙে ঝুলছিল কতকগুলো ফ্যান। ফ্যানগুলো ধুঁকতে ধুঁকতে ঘুরত আর এক-ধরনের শব্দ করত। শব্দটা এমন জোরালো ছিল যে স্যারের লেকচারও ভালো করে শোনা যেত না। ওই অবস্থায় বসেই মূলত বাংলা সিনেমা টার্গেটে রেখে গানটি লিখেছিলাম।”
যা-ই-হোক, মাহমুদ খোরশেদ ভেবেছিলেন ‘ধিকি ধিকি’ গানটি হবে মূলত বাংলা সিনেমার একটি গান, যে-গানের দৃশ্যে দেখা যাবে নায়িকা কলসি কাঁখে জল আনতে যাচ্ছে নদীতে। সেই নদীটি বয়ে গেছে এঁকেবেঁকে, সাথে গান হচ্ছে “ধিকি ধিকি আগুন জ্বলে / দুঃখের নদী বইয়া চলে”। সেই কথা ভেবেই তিনি যান শাফিনের কাছে।
শাফিন আহমেদ তখন কোনো-একটা বাংলা সিনেমায় মিউজিকের কাজ করছিলেন। গানটি দেখে তিনি মাইলস্-এর জন্যই রেখে দেন এবং পরে মুখটা সুর করে ফেলেন। পরবর্তীকালে মাহমুদকে জানালে তিনি অন্তরাগুলো লিখে দেন।
গানপারটীকা : রচনাটা ছাপা হয়েছিল ২০০০ খ্রিস্টাব্দের আনন্দভুবন ঈদসংখ্যায়। ‘জেনেসিস ২০০০’ শীর্ষক একটা প্রতিবেদনের আওতায় একডজন ব্যান্ডের বারোটা গানের জন্মকথা ছাপা হয়েছিল। বর্ষ ৪ সংখ্যা ১৬, ০১ জানুয়ারি ২০০০। যৌথভাবে এই ফিচারটি লিখেছেন এম. এস. রানা ও রাসেল আজাদ। যদিও প্রথম প্রকাশকালে এই নিবন্ধগুলোর স্বতন্ত্র কোনো শীর্ষনাম ছিল না, ব্যান্ডের নাম দিয়ে একেকটা গানের জন্মকাহিনি বিবৃত হয়েছিল, গানপারে এর পুনর্প্রকাশকালে ‘ধিকি ধিকি আগুন জ্বলে এবং মাইলস’ শিরোনামে একে ক্যাপ্চার করা যাচ্ছে। ব্যান্ডমেম্বারদের মধ্যে শাফিন আহমেদ এবং গীতিকার মাহমুদ খোরশেদের সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতেই প্রতিবেদকদ্বয় লিখেছিলেন গল্পটা, রেফারেন্স হিশেবে এইখানে সেই দুইজনের নামদুইটা পাওয়া যায়। এবং প্রত্যেকটা গানের জন্মকথার সঙ্গে গিটারকর্ড অ্যাটাচড ছিল, পুনর্প্রকাশকালে সেইটা অ্যাটাচ করা হয় নাই। — গানপার
… …
- ডিসক্রিট চার্ম অব এডুকেটেড বাঙালি মিডিল ক্লাস (কালচারাল) || নাফিস সবুর - May 1, 2026
- ভাষান্তর, কবিতার : মেরি ওলিভার || বদরুজ্জামান আলমগীর - April 30, 2026
- মদ ও সন্ধ্যাঘর || শুভ্র সরকার - April 25, 2026

COMMENTS