সিনেমাতামামি ২০২৫ || ইলিয়াস কমল

সিনেমাতামামি ২০২৫ || ইলিয়াস কমল

শেয়ার করুন:

২০২৫ সালের সেরা সিনেমা কোনটা?

গেল বছরের সেরা সেরা সিনেমাগুলো আমার মতো গরিবি ইন্টারনেট ইউজারদের কাছে যখন অ্যাভেইলেবল হইতে শুরু করলো, তখন আমার সবার আগে দেখার আগ্রহ ছিল জাফর পানাহির ‘ইট ওয়াজ অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’। কিন্তু সত্যি বলতে কি এইটা এখনও আমার দেখা হয়নি। রিভিউ ও ট্রেলার দেখে কিছু আগে পরের লিস্টে এই সিনেমা নন-এসেনশিয়াল তালিকায় চলে গেছে।

সেই তালিকায় উঠে আসছিল ক্লোয়ে ঝাও পরিচালিত ‘হ্যামনেট’। এই সিনেমার ট্রেলার ও সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা জেসি বাকলির একটা সাক্ষাৎকার দেখার পর আমি হ্যামনেট দেখার জন্য রীতিমতো উতলা হয়ে উঠছিলাম। একবার একটা বেশ বড় ফাইল নামাইলাম টরেন্ট থেকে, নামায়ে দেখি হলপ্রিন্ট। কিন্তু রীতিমতো ঝকঝকে। নগদে ফেলে দিলাম। সিনেমা এখন আর হলপ্রিন্ট দেখার রুচি নাই। সেই সিনেমা না দেখলেও হলপ্রিন্ট দেখি না আমি।

তারপর তালিকায় ছিল পল থমাস অ্যান্ডারসন পরিচালিত ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’। লিস্টে তুলনামূলক নিচের দিকে ছিল ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’। তবে মাঝামাঝি ছিল ‘সিনার্স’, ‘মার্টি সুপ্রিম’। এই তালিকার অধিকাংশ সিনেমা দেখার পর আমি আসলে ২০২৫ সালের সেরা সিনেমাটা ঠিক নির্ধারণ করতে পারছি না। কিছুটা দ্বিধা কাজ করছে। ফলে আমি ক্যাটাগরিক্যালি তিনটা আলাদা সিনেমারে সেরা মনে করতেছি। তার মধ্যে পলিটিক্যাল ও ডার্ক কমেডির মধ্যে সেরা ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’। ডিরেকশন ও পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ে শন পেন এই ছবির জন্য অস্কার পাবে। অবশ্য বাফটায় দাও মারছে পিটির এই সিনেমা অলরেডি। কিন্তু যদি আপনার পিটির এই সিনেমা না ভালো লেগে থাকে, তাহলে বলতে হবে আপনি বোধহয় আরেকটু রিয়েলিস্টিক সিনেমা খুঁজতেছেন। সেই গল্পে পরে আসছি। তার আগে বলে রাখি, পিটির এই সিনেমার স্ক্রিপ্টও দারুণ। এইটারে সোজা বাংলায় বললে বলতে হবে বাংলা একাডেমির টাকায় ও একাডেমির প্রেসে ছাপা লিটলম্যাগের মতো। মানে হলিউডের বিগ বাজেট প্রডিউসারদের টাকায় হলিউডি তারকাদের দিয়ে অ্যামেরিকান অ্যাস্টাব্লিশমেন্টবিরোধী সিনেমা। সো ইন্টারেস্টিং। এইটা সেরা তিনেই পড়ে সে-হিসেবে।

দ্বিতীয় যে-সিনেমাটা সেরা তিনে আমি রাখি তা হইলো ক্লোয়ে ঝাও-এর ‘হ্যামনেট’।

এই সিনেমার নাম আসলে হইতে পারত হ্যামলেট। হ্যাঁ, কালজয়ী কবি ও নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের নাটকের নামে। কারণ, এইটা এক প্রকার শেক্সপিয়ারের জীবনীও বলা চলে। শেক্সপিয়ার বা তার ছেলে বা তার স্ত্রী এই হলো তিন ব্যক্তি সিনেমার মূল চরিত্র। এত দুর্দান্ত সিনেমাটোগ্রাফি, আর জেসি বাকলির এত দুর্দান্ত অভিনয়। এই মহিলা অস্কার পাবে না হয়তো তারপরও। কারণ, অ্যামেরিকান তাবেদারি না করতে পারলে তো ‘অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড’ নামের ‘বৈশ্বিক অ্যাওয়ার্ড’-টা বেশিরভাগ সময়ই দেয়া হয় না। ওইটার দিকে তাই আমার মনোযোগও নাই। তবে বৃটিশ ছবি হিসেবে বাফটায় সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার বাকলি পাইছে। শুধু তার অভিনয় দেখার জন্যেই সিনেমাটা দেখা যায়। এত চমৎকার সিনেমা।

তৃতীয়ত যেইটা, আদতে আমার সিনেমাটেইস্ট শেষ পর্যন্ত যেখানে এসে বর্তমানে থেমে আছে সেইটা হইলো ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’। নরওয়েজিয়ান নির্মাতা জোয়াকিম ট্রেয়ারের ‘ওর্স্ট পার্সন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ আপনারা আগে যদি দেখে থাকেন তাইলে তারে ও এই সিনেমার মানে ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’-র মূল অভিনেত্রী রেনেট রেইনসভে-রে আগেও দেখছেন। এইটা এই জুটির আরেকটা মাস্টারপিস। এই মহিলার যে অভিনয়, তা দেখার পর আমি এক বন্ধুরে বলতেছিলাম এই সিনেমাটা ২০২৫-এর সেরা সিনেমা। কিন্তু যেহেতু এইটা পুরোপুরি ইংরেজি ভাষার সিনেমা না, তাই এরে অ্যামেরিকান প্রোপাগান্ডার কারণেই সেরার কাতারে রাখতে দেয়া হবে না। সর্বোপরি রেনেটের অভিনয় দেখে আমাদের সবচেয়ে যে বিষয়টা শেখা প্রয়োজন তা হলো পরিমিতিবোধ। ‘হ্যামনেটে’ জ্যাসি বাকলির অভিনয়ে ড্রামা এবং ট্র্যাজিক মোমেন্ট এত চমৎকার ফাইন টিউন হয়েছে যে রেনেটের অভিনয়ের সাথে তুলনা করা উচিত হবে না। কিন্তু এই নরওয়েজিয়ানের অভিনয় এত চমৎকার যে, মনেই হবে এই চরিত্রটা বোধহয় আপনি বা আপনার আশপাশেরই কেউ।

সবশেষে, তিন ধরনের পার্সপেক্টিভই তিনটা সিনেমা মিটায়। কিন্তু যারা সিনেমা দেখার পর একটু আমলকি খাওয়া শেষে মুখে যে স্বাদ লেগে থাকে ওরকম কোনও টেইস্ট চান তার জন্য আসলে সেরা সিনেমা ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’-ই।


ইলিয়াস কমল রচনারাশি
গানপার ম্যুভিরিভিয়্যু

ইলিয়াস কমল
শেয়ার করুন:

COMMENTS

error: You are not allowed to copy text, Thank you