বইমেলায় গেছিলাম। আমি ২০০৩ সাল থেকে বইমেলায় যাই। রমজানে বইমেলায় গেছি কখনো মনে পড়ে না। আর ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলার উদ্বোধন তো আরও অদ্ভুত। এর মাঝে বোধহয় আমরা একবার মার্চ মাসেও মেলা দেখেছি। এবারও দেখবো। কিন্তু রমজান মাসে মেলা দেখেছি কি না মনে পড়ে না আসলেই।
সে যাকগে। বইমেলা ২০২৬ পুরোপুরিই অগোছালো। আমি এক চক্কর দেয়ার পরেও দেখলাম কোনও প্যাভিলিয়ন নাই। পরে যেসব প্রকাশনী প্যাভিলিয়ন পায়, সেগুলোর কয়েকটারে স্টল পেতে দেখে মনে হলো কেন প্যাভেলিয়ন নেই! পরে জানলাম এবার প্যাভিলিয়ন করাই হয়নি। আচ্ছা, তবুও একটা জায়গায় মেনে নেয়া গেল। বহু অনিশ্চয়তার জন্যেই বোধহয় এবার মেলায় অনেক প্রকাশক এখনও স্টল গুছিয়ে উঠতে পারেনি। তবে এই পারার চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, বইমেলার পাঠক বা ক্রেতা। এবার মেলায় ক্রেতা কম হবে। বইয়ের ক্রেতা এমনিতেই কম সে-কারণ ছাড়াও। কেন কম হবে তার অন্যতম কারণ রমজান। দুপুর ২টা থেকে মেলা শুরু হলেও যে-সময়টা মূলত পাঠকরা মেলায় যায় ওই সময়টার ঠিক মাঝামাঝি ইফতারের সময় থাকে। ফলে মেলায় ইফতারের সময়ে পাঠকদের নেয়াটা একটু কঠিনই। সে-কথা বিবেচনা করেই কি না, এবার মেলায় প্রবেশের পথ মাত্র একটা এখন পর্যন্ত! সিরিয়াসলি? এইটা এতই কঠিন হয়ে গেল যে টিএসসির দিক দিয়ে মেলায় ঢোকার রাস্তায় একটা গেইট হচ্ছে দেখা গেল, কিন্তু সোহরাওয়ার্দীর বাউন্ডারি দেয়া। হাউ ফানি!

ইফতারের সংকটের সাথে মেলায় যাওয়ার সংকটটা কেমন, বলি। একটা লোক রোজা রাখুক আর না-রাখুক ইফতারের সময় সে খেতে চায়। ক্ষুধা থাকলেও না-থাকলেও সামাজিকভাবেই খাইতে চায় এবং খায়ও। এইটা স্বাভাবিক। তবে বইমেলায় যে-পরিমাণ স্টল হইছে, তাতে নরমাল পাঠকরা গেলে এই পরিমাণ ইফতারের ব্যবস্থা রেস্টুরেন্টগুলোয় থাকবে না। আর কে না জানে, ঢাকা শহরের প্রকৃত গতি ঘন্টায় ৫ কিলোমিটার দেখার উৎকৃষ্ট সময় হচ্ছে ইফতারের আগে। তাই ইফতারের আগে রোজাদারকে মেলায় নেয়া যাবে না বলেই ধরে নেয়া যায়। কিন্তু ইফতারের পরে মেলা যতটুকু সময় থাকে তাতেও তারে নেয়া যাবে না। কারণ, সে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে যেতেই মেলায় ঢোকার সময় শেষ হয়ে যাবে। এই ক্ষেত্রে প্রকাশক বা বইবিক্রেতারা পাঠকদের এই ইফতার সংকটের সমাধানে এগিয়ে না আসলে তাদেরকে নিতে পারবে না। আর তাহলে বিক্রিও হবে কম। ঈদের সামনে এমন একটা মেলায় অংশগ্রহণ করা নিশ্চয়ই তখন পোষাবে না। সুতরাং পাঠকদেরকে মেলায় নেয়ার চিন্তা করুন। প্রয়োজনে তাদের ইফতার করানোর চিন্তা সহ।
আর হ্যাঁ, এত অগোছালো মেলার প্রথম দিন আমি আর মেলায় যাওয়ার অভিজ্ঞতার মধ্যে কখনো দেখিনি।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : রমজানে মেলা আগেও হয়েছে; এই নিবন্ধিকার ফেসবুকশেয়ারের কমেন্টে কবি সালেহীন শিপ্রা জানাচ্ছেন, “১৯৯৫, ৯৬, ৯৭ সালে রমজান মাস পড়েছিল ফেব্রুয়ারি মাসে” এবং বইমেলাও হয়েছিল। রচনার লেখক ওই সময়টায় মেলায় যান নাই এবং “যাওয়ার বয়সও হয়নি” বলে জানিয়েছেন প্রত্যুত্তরে।
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইলিয়াস কমল রচনারাশি
গানপারে বইমেলা
- বইমেলায় যাই || ইলিয়াস কমল - February 27, 2026
- সিনেমার চিরকুট ২৭ - October 19, 2025
- বাংলাদেশের সিনেমা নিয়া আমি লিখতে আগ্রহী || ইলিয়াস কমল - October 1, 2025

COMMENTS