দুইহাজার ছাব্বিশে খুবই ভালো একটা মুভি দেখলাম। ‘মার্সি’। ক্রিস প্র্যাট আর রেবেকা ফার্গুসনের। রেবেকা ফার্গুসন…উফ! কী সুন্দর মেয়েটা! বয়স হইছে, কিন্তু টম ক্রুজের সাথে ‘মিশন ইম্পসিবল : রৌগ নেশন’-এ দেখা রেবেকার চোখের ওই ধার একটুও কমে নাই, ব্রো। আসমানের মতো ভাসা ভাসা দুইটা নীল চোখ। ডিপ অ্যান্ড ডোপ; থ্রি-ডির পাহাড় বাইয়া গড়াইয়া পড়তেছে বিষাদের মতো; যুদ্ধের ভিতর এনক্রিপ্টেড মেসেজ হইয়া উইড়া যাওয়া এক চোরা ফ্রিকুয়েন্সি রেবেকার দুইটা চোখ—তোমার ভিতরে গিয়া কী সব বইলা আসবে সকাতর। মুভিটা সাই-ফাই থ্রিলার। খুবই প্রাসঙ্গিক।
মুভিতে দেখা যায়, আর্টিফিশিয়াল-ইন্টেলিজেন্সনির্ভর একটা জাস্টিস সিস্টেম তৈরি করা হইছে রাষ্ট্রে। এই সিস্টেম সব মনিটর করতে পারে। ড্যাটানির্ভর নিখুঁত জাজমেন্ট তার। কোনো ইমোশন নাই। কোনো ফেব্রিকেশন নাই। কোনো ম্যান্যুপ্যুলেশন নাই। সাংবাদিক এডওয়ার্ড স্নোডেনের কথা মনে আছে? রাষ্ট্র কীভাবে তার নজরদারি দিয়া নাগরিক লাইফে অযাচিত হস্তক্ষেপ করবে এবং একটা টুয়েন্টিফোর-সেভেন মনিটরিঙে রাইখা আপনের অধিকৃত অর্জিত স্বাধীনতারে নিউট্রালাইজ করবে—দেশান্তরি হইবার পরে এইসব কথা বলতেছিল স্নোডেন। মনে আছে নাকি নাই, ব্রো?
অ্যাআই লইয়া এত ব্যাপক আলাপ শুরুর আগে সেই দুইহাজারদুইয়ে টম ক্রুজ তার ‘মাইনোরিটি রিপোর্ট’ মুভিতে এইরকম এক সাই-ফাই সিস্টেমের ভবিষ্যৎ নিয়া আলাপ তুলছিলেন। প্রশ্ন করছিলেন। গতকাল ক্রিস প্র্যাট আর রেবেকা ফার্গুসন আরো নতুন কইরা এই সিস্টেমের ট্র্যাশ-লুপ-ডার্ক সিন লইয়া কিছু একটা বলতে চাইছেন মনে হইলো।
এইখানে রেবেকা এক অ্যাআই জাজ। ক্রিস প্র্যাট এমন এক ভিক্টিম যারে স্ত্রী-হত্যার দায়ে গ্রেফতার করা হইছে। মাত্র দেড়ঘণ্টার মধ্যে নিজেরে নির্দোষ প্রমাণ করতে হইবো প্র্যাটরে। এই লক্ষ্যে বন্দী প্র্যাটরে সবরকম আইনি সহায়তা সরবরাহ করবে অ্যাআই সিস্টেম। খুবই ইন্টারেস্টিং…ক্রিস প্র্যাট কি নিজেরে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবে?

অ্যানিওয়ে ব্রো, পৃথিবীতে অলরেডি দুইটা ফিল্ড এফেক্ট করা শুরু করছে। এক, সুপার অ্যাআই এবং দুই, বায়োটেক্নোলোজি। দ্বিতীয়টার প্রভাব আরো তীব্রভাবে আসবে আগামীতে। নিশ্চিত থাকেন।
খেয়াল করতেছেন কি না, গুজব কেমনে সোসাইটিতে ক্যাওস তৈরি করতে পারে, তার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ আমাদের এইসব অঞ্চলে অহরহ হইতেছে বেশ কিছুদিন ধইরা। গুজব প্রমোট করা হইতেছে ইন্টারনেটের বাধাহীন রুটস ব্যবহার কইরা। পৃথিবীর কোনো এক দেশে সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির অনলাইন-টাউট-অ্যাক্টিভিস্টরা নিজেদের গুজবে নিজেরাই শোচনীয়ভাবে ধরাশায়ী হইছে। তথ্য শুধু খবর না, এইটা শব্দ, এইটা ইমেইজ, এইটা একটা মুভিং সিন বা চলচ্চিত্র, এইভাবে এইটা একটা গল্পও। আপনে এখন ইতিহাসের অংশ হইতেছেন তথ্যের এই রুটলেস প্রবাহ দিয়া। বাইনারি ভাষায়। এর ইতি আর নেতি দিয়া।
এইভাবে আমরা ঘুইরা-ফিইরা ওই বিবলিক্যাল ন্যারেটিভেরই মুখোমুখি হইতেছি ফের। অস্তিত্বের সংকট। টেনশন। একদিকে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি দাবি জানাইতেছি, সরকার যেন নতুন বিশ্বের ভাষা বুঝতে পারেন। রাষ্ট্ররে একটা কার্যকর এবং শক্তিশালী ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউটে পরিণত করেন। এবং সাথে সাথে এইটাও চাওয়া, এই প্রক্রিয়া যেন অবিরত গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ভিতর দিয়াই হইতে থাকে।
ফেব্রুয়ারি ২০২৬
হাসান শাহরিয়ার রচনারাশি
গানপার ম্যুভিরিভিয়্যু
- রইদের সহজিয়া || হাসান শাহরিয়ার - April 16, 2026
- তার মতো করে কেউ গায় নাই আর - March 22, 2026
- ভবিষ্যতের এক অদেখা পৃথিবী || হাসান শাহরিয়ার - March 17, 2026

COMMENTS