‘কথার ফটোগ্রাফি’ শিরোনামে যে-একটা বইয়ের প্রচ্ছদপটের স্থিরচিত্র নজরে এসেছিল স্বপন সৌমিত্রর ফেসবুকপ্রাচীরে, সেদিনের নিউজফিডে টেনে টেনে দেশদুনিয়া হামাগুড়ি দিয়ে যেতে যেতে, দেখলাম বইশিরোনামার নিচে জাক প্রেভের নামটা ও প্রচ্ছদজোড়া তাঁরই মুখাবয়ব, একটু কৌতূহল হলো বইটার খুচরো খবরাখবর জানতে। সেহেতু কমেন্টঘরে যেয়ে এর প্রকাশক ও বইমান সম্পর্কে একবার জিগাই। কিন্তু খুব সিরিয়াস কিছুও নয়, একটু এই ধরুন সুইয়ের ডগার মতো কৌতূহল, এখন এমন জীবন আমরা যাপন করছি যে এই সিরিয়াসনেস ব্যাপারটা হাসিঠাট্টার কাঠ-কেরোসিন জোগায় কেবল। সংগত কারণেই নিশ্চয়, কেননা বাঙালি সিরিয়াস হইতে ম্যালাদিন হইল অনুশীলনী শুরু করেছিল ও সিরিয়াসনেসের বাপদশা ঘটাইয়া এখন সিরিয়াসনেসকে রিডিকিউল করার নামে সেন্স অফ হিউম্যর ও অন্যান্য ব্যঙ্গবিদ্রুপের আয়ূধগুলোর শান ভোঁতা করিবারে বদ্ধপরিকর। দুইটাই—সিরিয়াস হওয়া আর সিরিয়াসনেস রিডিকিউল করা—ইকুয়্যালি হিস্টিরিয়া আমাদের কেইস বিচারে। যে-কোনো বস্তু ও বিষয়ে একলগে দেশসুদ্ধ সকলের কৌতূহলাতিরেক্য হিস্টিরিয়া বৈ কী আর! কাজেই বইটই বিষয়ে বেশি কিছু কৌতূহল দেখানো ঝক্কিকর বটে।
প্রেভেরের কবিতা সম্পর্কে বেশি না-হলেও থোড়াসা জানি, কিছু পড়েছিও অনুবাদে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গজ ছোটকাগজ ইত্যাদিতে সংকলিত গুচ্ছাকৃতিক কিছু লিরিক পড়ার বাইরে পূর্ণ কলেবর প্রেভেরকাব্য বইয়ের আকারে সেভাবে দেখেছি বলেও মনে পড়ে না। অ্যাট লিস্ট এই সেদিন পর্যন্ত। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের হাত থেকে একটা ভালো কবিতানুবাদের বই পেয়েছিলাম আমরা, আমাদের আর্লি দিনগুলোতে এইটা কাটতিসফল বইয়ের একটা ছিল, অমলিন একটা বই এইটা। নাম তার, সুনীলের হাতে এই বিদেশি কবিতানুবাদের বইটার, ‘অন্য দেশের কবিতা’। আংরেজি লিটারেচারের দুই-চাইর কুতুব কবির কবিতানুবাদের বাইরে তেমন কাউকে নিয়া মাথা ঘামানো তখনও অত কল্কে পায় নাই আমাদের কবিদের সমাজে। ব্যদলেয়র-হোল্ডার্লিন-মালার্মে প্রমুখ কতিপয় কিংবা বুদ্ধদেবদৌত্যে এমন আরও গুটিকয় চেনাশোনা আমাদের সমাজে চালু হয়েছিল অবশ্য। তবে এখন আর আগের মতো ফট করে ইংলিশ ভাষার কোনো কমন কবির কবিতা খামাখা কেউ তর্জমায় বসবে না, বসা আসলেও পণ্ডশ্রম বলেই, কিন্তু অফট্র্যাকের কারো কবিতা ভাষান্তর করতে কেউ অনাগ্রহী হবে না। যা-হোক, ওই সুনীলকৃত তর্জমা ভালো হয়েছিল, কাজের হয়েছিল, ওইখানেই কিছু কবিতা গৃহীত হয়েছিল প্রেভেরের, এবং সঙ্গে একটা আধাপাতা প্যারাগ্রাফের নোট। উনি তো আর ফার্স্ট ল্যাঙ্গুয়েজ থেকে প্রেভের অনুবাদ করেন নাই, ইংরেজি থেকেই করেছেন সম্ভবত, পরে যেমন করেছেন চিন্ময় গুহ ও অন্য কেউ মূল ফরাশি থেকে প্রেভেরঅনুবাদ। শুধু প্রেভের নয়, সুনীলের বইটায়, গৃহীত ও অনূদিত প্রত্যেক কবির ব্যাপারে একটা করে ছোট্ট নোট পুরো বইটাকে আজও অনন্য ও স্মরণীয় করে রেখেছে।

এছাড়াও ধরুন প্রতুল মুখোপাধ্যায় ‘মা সেলাই করে ছেলে লড়াই করে’ এবং সম্ভবত আরেকটা গান করেছেন প্রেভেরের কবিতানুসরণে, সেইসব তো কৈশোরের মতো ঝলোমলো নব্বইয়ের গোটা টাইমজুড়ে শুনেছি এবং প্রতুলের সঙ্গে সঙ্গে প্রেভেরকেও ভালোবেসেছি। বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বিপুল চক্রবর্তী ইত্যাদি আরও কবিদেরে বইপুস্তকে পড়ার আগে প্রতুলের গানে শুনেছি। ইন ফ্যাক্ট, প্রেভেরের বাংলা ভাষায় যেটুকু গণবোঝাপড়া তা মূলত প্রতুলের গানবাহিতই। কিছু সংকলনের ভিতর বিশ্বকবিতার ফরাশি কোটারি ইনডেক্সে ফ্রেঞ্চ অ্যারিয়ায় প্রেভেরকেও সূচিভুক্ত হতে দেখেছি। কিন্তু এই বইটা জানা হয় নাই। ‘কথার ফটোগ্রাফি’ শীর্ষক বাংলা এই বইটা। এইটা সাক্ষাৎকারভিত্তিক বই কি না, বা কাব্য ও জীবনদর্শনসঞ্জাত গদ্যের, তখন পর্যন্ত তা জানি না। জানব, অচিরে, লেখক ও সম্পাদক স্বপন সৌমিত্র যখন বইটা টাঙ্গাইল থেকে দ্রুতডাকে পড়তে পাঠাবেন আমাকে। ফেসবুকপ্রাচীরে যে-বইটার ইমেইজ দেখে এর তলায় কিছু তথ্য জানতে চেয়ে লিখি, তিনি তার বইটাই দিয়েছিলেন পড়তে। ফেরতও নিয়েছেন পড়াবার পরে। এখন আর হারাম ইয়াদ নাই পাব্লিশারের নাম। তবে এইটা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পাব্লিশার, এটুকু স্পষ্ট মনে আছে। যেটুকু আবছা স্মৃতি আছে এর দেহসৌষ্ঠবের, গ্রন্থসজ্জার, তাতে আন্দাজ হয় এইটা ‘ভাষাবন্ধন’ প্রকাশনীর বই। কিন্তু গ্যুগল করে এই নামের বইয়ের হদিস পাই নাই। নিশ্চয় কারো বইতাকিয়ায় আছে। অ্যানিওয়ে। লেখার কথা ছিল বইটি নিয়া রাশেদ রহমান ও স্বপন সৌমিত্র সম্পাদিত ‘উতঙ্ক’ পত্রিকায়। কিন্তু তা আর হয় নাই। মৃত্যু এসে ছেদ ঘটায়।
থার্ড প্যারাগ্রাফের লাস্ট বাক্যে ডেথসংবাদ। অর্থাৎ, রচনাটা আগানো যাবে না বেশি দূর পর্যন্ত। স্বপন সৌমিত্র ‘উতঙ্ক’ পত্রিকার দুইজন সম্পাদকের একজন, অন্যজন কথাসাহিত্যিক রাশেদ রহমান; নব্বইয়ের দশকের ছোটগল্পকারদের মধ্যে রাশেদ রহমান তার সাহিত্যের গুণেই দ্রষ্টব্য। অনলাইন যুগ শুরু হবার পরে যে-এক হুজ্জতি গিয়েছে সেখানে যেসব লেখক অনুপস্থিতি অনংশগ্রহণ দিয়েই নিজেদের সাহিত্য সমুন্নত রাখতে পেরেছেন রাশেদ রহমান তাদের অন্যতম। স্বপন সৌমিত্র ‘উতঙ্ক’ পত্রিকায় লেখার জন্য বলেছিলেন, লিখেছিলাম। ওই একবারই লিখেছিলাম। সংখ্যাটি ছিল পূর্বনির্ধারিত বিষয়কেন্দ্রী, ‘প্রিয় কবি’ ছিল সংখ্যার বিষয়, আমি লিখেছিলাম পশ্চিমবঙ্গের জয়দেব বসুর কবিতা নিয়া। তারই কিছুদিন আগে দুইহাজারএগারোয় ইন্ডিয়ান বাংলা ল্যান্ডের কবি জয়দেব বসু শরীর ছেড়েছেন। উতঙ্কের সুবাদে এই কবি নিয়া আমি লিখি এবং উতঙ্ক তা ছাপায়। তারপরে একদিন স্বপন সৌমিত্র নিজের সেলফোন থেকে আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন কথাসাহিত্যিক রাশেদ রহমানের সঙ্গে। এর আগে একদিন প্রসঙ্গচক্রে রাশেদ রহমানের গল্পবোনা আমার পছন্দ হয় জানিয়েছিলাম। স্বপন সৌমিত্র অগ্রজ এই কথাসাহিত্যিককে খুব মান্য করতেন।
নব্বইয়ের দশকের কথাসাহিত্যিক রাশেদ রহমান যুগধর্ম মেনে জীবিকা ও জৌলুসের সন্ধানে রাজধানীতে না-যায়া টাঙ্গাইলেই থেকে যান, সম্ভবত। ফলে তার লেখায় একটা দূরের ও বড় পরিসরের বীক্ষণ পাওয়া যায়। মেল্টিং পটের ভিতরকার মহিষমর্দন নয়। বিশেষত ছোটগল্প, উনার উপন্যাস থাকলেও আমি পড়ি নাই, গল্পকার হিশেবে তার নাম আমি নব্বইয়ের সিলেকশন হিশেবে হাইলি রিকোমেন্ড করি। নিজস্ব গল্পকৌশলের জন্য। প্রবহমান গদ্যের জন্য। স্বপন সৌমিত্র এই পেরিফেরিতেই বিচরণ করেন, করতেন, সম্ভবত। সমস্তই স্মৃতির আবছায়ায় কিছু অস্পষ্ট অবয়ব। ফলে বাক্যে বাক্যে বারবার ‘সম্ভবত’ বলতে হচ্ছে। ফেসবুকে কানেক্টেড দুইহাজারতেরো থেকে। সেলফোনে বেশ কয়েকবার কথাও হয়েছিল। দুইহাজারতেরো মনে থাকার কারণ ওই বছর থেকেই আমি বাংলায় ফেসবুকে নোট লিখতে শুরু করি। কিছু বন্ধু জুটে যায় কেমন করে। একটানা হাজারসতেরো পর্যন্ত কমবেশ চাইর বছর সোশ্যাল মিডিয়ায় চিলতে গদ্য লিখবার সময়টায় বিভিন্ন নোটের কমেন্ট সেকশনে এবং ইনবক্সে হেন সংযোগ অব্যাহত ছিল।

কোন বছর থেকে বেতারের এমন মিত্রতা ঝাপসা হয়ে গেল, লক্ষ করি নাই। কিন্তু অনেক দূরে এসে এখন বুঝতে পারি, কী ঝোড়ো সময় গিয়েছে সেই সময়টায় ব্যক্তিক কিছু মর্মান্তিক বিচ্ছেদের কারণে। এখন আর কোনোভাবেই ইয়াদ করবার উপায় নাই ঠিক কোন সময়টায় খিয়াল করে দেখি স্বপন সৌমিত্রের এফবিপ্রোফাইলের নামটি ঈষৎ বদলে গেছে। দেখি স্বপন সৌমিত্র অনেকদিন ধরে ফেসবুকে সেভাবে অ্যাক্টিভ নাই। কিন্তু স্বপন রিপা নাম ধরে একই আইডি সচল হয়েছে বেশ কিছুকাল ইন্যাক্টিভ থাকার পরে। ব্যাপারটা খানিক ভুরু কুঁচকাইলেও কয়েকদিনে খেয়াল করে দেখি ফিমেইল কেউ একজন আইডিটা চালাচ্ছেন স্বপন সৌমিত্রেরই ফরে। তরফে। পক্ষে। সেখানে এক কন্যাসন্তানের ইমেইজ রেগ্যুলার আপ্লোড করা হয়। একই শিশুর ভিডিয়ো। ও অন্যান্য সোশ্যাল মেমেন্টো। সবই টিকটকযুগ রিলসযুগ শুরু হবার আগের দৃশ্যরাশি। স্মৃতিরাশি।
কিন্তু রাশেদ রহমানের সঙ্গে সেলফোনে কনভার্স্যাশন হয়েছিল দুইহাজারতেরোয় বা চোদ্দয়। লেখার ভালোমন্দ ও কুশলজিজ্ঞাসা। মাধ্যম স্বপন সৌমিত্র। রহমানের রচনার সঙ্গে আমার পরিচয় তারও অনেক আগে থেকে। মূলত মাসিক কালি ও কলম ও অন্যান্য সাময়িক প্রকাশনা মারফতে। এ-পর্যন্ত রহমানের প্রকাশিত কুড়িটিরও অধিক বইয়ের ভিতর থেকে কেবল দুইটামাত্র বই আমি পড়েছি : ‘দেশে আর্মি নামলে যে গল্পের জন্ম হয়’ (২০১১) এবং ‘তৌরাতের সাপ’ (২০১২), দুইটাই ছোটগল্পের বই। কিন্তু কবিতার ও উপন্যাসের বই মিলায়া রাশেদ রহমানের লিটারেচার অনেক। অনলাইন শপগুলায় সার্চ করে দেখলাম।
সৌমিত্র স্বপন কবিতা লিখতেন কি না জানি না, আমি তার প্রবন্ধ পড়েছি শুধু। কবি সম্বোধনে মেসেঞ্জারে তাকে সম্বোধন করে একাধিক চির্কুট লিখলেও উনার কবিতা আমি পড়তে পাই নাই। ঠিক যে সে-সময় আমি বিস্তর গদ্য লিখছিলাম, কবিতার সংশ্রব থেকে মুক্ত থাকতে চাইছিলাম। স্বপন সৌমিত্র হয়তো কবিতাই লিখতেন। যদিও আমি পড়েছি তার প্রবন্ধ শুধু। কবিকেন্দ্রীভূত, কবিতাকেন্দ্রীভূত, গদ্য। পশ্চিমবঙ্গের নকশাল আন্দোলনের সময় যে-একদল কবি কথাসাহিত্যিক ইশ্তেহার ডিক্লেয়ার করে সাহিত্য রচনায় নিয়োজিত হন তাদের মধ্যকার হাংরি জেনারেশন ওরফে ক্ষুধার্ত প্রজন্ম কর্তৃক সৃজিত সাহিত্যের অনুসন্ধিৎসু পর্যবেক্ষক ও নিবিষ্ট পাঠক ছিলেন সৌমিত্র। মলয়-সমীর ভ্রাতৃদ্বয় কিংবা ফাল্গুনী রায়ের বাইরেও যদি কেউ ওই টাইমের অন্যান্য কবিসাহিত্যিকদের নামোচ্চারণ করে তবে সেই রিডার সমীহ করার মতো। সৌমিত্র শৈলেশ্বর ঘোষ, সুভাষ ঘোষ, দেবী রায়, হারাধন ধাড়া, সুবো আচার্য প্রমুখ প্রচারের-বাইরে-থাকা হাংরিরাইটারদের নিয়া আমার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন, ওভার ফোন। ততদিনে হাংরি নিয়া পাঠবোঝাপড়ার উত্তেজনাকর দিনগুলি স্তিমিত হতে হতে একদশকেরও অনেক অধিক পেরিয়ে গেছে আমার জীবনে। এবং পশ্চিমবঙ্গের বাংলা সাহিত্যও ততদিনে তেমন বৌদ্ধিক বিবেচনার জায়গায় নাই আর আমার কাছে। সেইটার পিছনে কারণ যা বা যা যা থাক, পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যাচর্চা আমার কাছে এদেশে এনে এস্তেমাল করার শিশুসুবোধ প্রচেষ্টা হাসিতামাশা আর বিরক্তিরই কারণ হয়েছে। এদেশের গোবেচারা লিটলম্যাগের সুবাদে ক্যালকাটাভক্তি বিস্তর হয়ে গিয়েছে একটা লম্বা সময়। সেদিনের দ্বিতীয় দশক পর্যায়ভুক্ত কবিদলের একাংশ মলয়-ফাল্গুনী নিয়া খানিক চর্চায় মেতেছিলেন স্মরণ করব। ব্লগযুগে বেশ হাংরিসমর্থনকারী গ্রুপের লেখাপত্র নজরে এসেছিল। সবই ইতিহাসচর্চামূলক আর প্রথম প্রথম পাঠ করবার পরেকার মুগ্ধ উত্তেজক প্রতিক্রিয়ামূলক। কবুল করলাম, অ্যাঙ্গার আর ফ্রাস্ট্র্যাশন রিলিজের একটা ভঙ্গির খোঁজে এই জেনারেশন মলয়-ফাল্গুনী রিড করেছে। সেই রিডিং যে ব্যর্থ হয় নাই, কাজে লেগেছে, ব্লগযুগে কমেন্টপার্টে স্ল্যাং গালাগালির ইউফোরিয়া তার প্রমাণ। সবই ঠিক আছে। কেবল প্রাসঙ্গিকতা খুঁজতে গেলে দেখি বীক্ষণে কুলায় না, বাংলাদেশের মতো সমাজরাজনৈতিক সিচুয়েশনে কেমন করে হাংরিচর্চা প্রাসঙ্গিক হয় এর উত্তর সচরাচর না দিয়াই কেবল সাহিত্যের খাতিরে সাহিত্য অথবা নতুনত্বের খাতিরে নতুনত্ব করে গেলে সেই জিনিশ তো বিরক্তই করবে। যেমন করেছে আর্ট ফর আর্টস সেইক সবসময়। যেমন করে আর্ট টু মিট অ্যা পার্পাস, উদ্দেশ্য পূরণের শিল্প। পরেরটার ক্ষেত্রে একটি ডিজাইনড অ্যাক্টিভিজম হয় শেষে যেয়ে।
এমতাবস্থায় ফেইসবুকে স্বপন সৌমিত্র নোটের আকারে বেশ গদ্যও লিখছিলেন, কয়েক প্রবন্ধও লিখেছেন এইভাবে। এমনই এক লেখা রাশপ্রিন্ট পত্রিকায় ছাপানোর প্রস্তাবে তিনি সম্মতি দিয়েছিলেন এবং শৈলেশ্বর ঘোষের উপর প্রস্তাবিত প্রবন্ধটি গোছগাছ করে মেইলে পাঠিয়েছিলেন আমাকে। এর অনেক পরে সেইটা গানপার পত্রিকাতেও গ্রহণ করা হয়। গানপার শুরু হয় সতেরোয়। লেখাটা ছাপা হয় আরও পরে। রাশপ্রিন্ট ভার্শনটা তার পছন্দ হয়েছিল। আর গানপারের লিঙ্ক দিতে যেয়েই লক্ষ করি, তিনি নাই। তিনি বোধহয় মৃত্যুবরণ করেছেন, অনুমান করি। কীভাবে জিগাই! ধীরে ধীরে বেশ কয়েকদিন গেলে পরে টের পাই তিনি আসলেই নাই।

কিন্তু কবে খেয়াল করলাম স্বপন সৌমিত্র ইজ নো মোর? কোন বছর? রাশপ্রিন্টে যে-লেখাটা ছাপা হয়, ‘শৈলেশ্বর ঘোষ : এক অন্তর্গত আগুনের নাম’ শিরোনামে, যেইটা আগে উতঙ্ক ‘প্রিয় কবি’ সংখ্যায় ছাপা হয়, সেইটার ওয়েবপরিসরে প্রকাশকাল নভেম্বর দুইহাজারচৌদ্দ। ওইসময় ইনবক্সে আমাদের নিয়মিত কথা হয়েছে। সেলফোনে যেমন। উনাকে আমি লিঙ্ক দিয়েছি প্রোক্ত রচনার। দুয়েকটা কারেকশন ডান শেষে সন্তুষ্টিও প্রকাশ করেন। পরে লেখাপত্রের লেনেদেনা নিয়া আরও কিছু খুচরা আলাপ আছে ইনবক্সে। সেসবের মধ্যে একাধিকবার উতঙ্ক পত্রিকার প্রকাশিতব্য কোনো সংখ্যায় লিখবার আমন্ত্রণই ছিল মুখ্য। মোটমাট তিনটা আলাদা আলাদা সংখ্যায় লিখতে ডেকেছিলেন, এর মধ্যে একটা সংখ্যা সাধারণ, আমন্ত্রণপত্রেই ছিল ‘উতঙ্ক জেনারেল ইশ্যু’, অন্য দুইটা আগে-থেকে-নির্ধারিত বিষয়ভিত্তিক, একটি ‘প্রিয় কবি’ সংখ্যা আর অন্য ‘অবক্ষয়’। লাস্ট আমন্ত্রণপত্রে ‘ডেকাডেন্স’ উল্লেখ করা ছিল ‘অবক্ষয়’ শব্দটার পাশে, যেন সম্পাদকের অভিপ্রায় নিঃসন্দেহ বুঝতে পারি। তিনটা আমন্ত্রণের একটামাত্র রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিলাম, অন্য দুই ইনভাইট্যাশন অ্যাটেন্ড করবার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অক্ষম হই। কিন্তু স্বপন সৌমিত্র স্বভাবে এতই মৃদু ও সহজহৃদয় সৌজন্যবোধশালী ছিলেন যে লেখা দিতে না পারার অপারগতাচির্কুটের উত্তরে সেলফোনে রিঙ দিয়া সান্ত্বনা ও পরবর্তী সংখ্যায় পার্টিসিপেইট করবার আগাম কথা পেড়েছেন। ছোটকাগজের সম্পাদকদের বেহেড বেয়াদবি ও বেয়াড়া অহং সম্পর্কে যাদের এক্সপেরিয়েন্স আছে তারা বুঝবেন স্বপন সৌমিত্র কতটা নিরহং, কতটা স্বাভাবিক ঔদার্যসাবলীল ছিলেন; যুগপৎ ব্যক্তি হিশেবে, এবং সম্পাদক হিশেবেও। কোএডিটার, উতঙ্ক, মেইলের তলায় এইভাবেই নিজেরে রেখায়িত করতেন।
উতঙ্ক দুই কি তিনটা সংখ্যা আমার কাছে আছে, সেইগুলায় একবার নজর বুলায়া তার সম্পাদনাদৃষ্টি নিয়া অ্যাড করা যায় একপ্যারা। তার দরকার আপাতত বোধ করছি না। রাশেদ রহমান ও স্বপন সৌমিত্র যৌথসম্পাদিত উতঙ্ক পর্যালোচনা করে অকালপ্রয়াত তরুণ লেখক স্বপন সৌমিত্রের কারুবাসনা ও মননচর্চার গতিমুখ সম্পর্কে একটা আন্দাজ পাওয়া সম্ভব। দরকার আছে এর। কিন্তু তারও আগে দরকার প্রয়াত লেখকের রচনাপত্রের, প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত সমস্ত, খোঁজপাত্তা চালানো ও স্টকটেইক করা। আমি সম্ভাব্য সব রকমের চাবিশব্দযোগে লেখকের রচনা বা তার সম্পর্কিত কোনো স্মরণপুস্তক টাঙ্গাইল বা আর-কোনো অঞ্চল থেকে বেরিয়েছে কি না তালাশ করে তেমন কোনো তথ্য পাই নাই। তিনি আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন, জানতাম। তার সহকর্মীরাও কী তাকে একটু গোছানো স্মরণটুকুও করেন নাই? কিংবা তার লেখালেখিদিনের দোসরেরা তার লিখনলিপ্ততা তার প্যাশনেইট সম্পাদনালিপ্ততা নিয়া তার গুটিকয় নির্বাচিত রচনা আর কিছু অল্প রেজোল্যুশনের শাদাকালা আলোকচিত্রের সমবায়ে একটা স্মারক বই কিসিমের জিনিশ প্রকাশ করেন নাই, যেমন করে সবাই? নিশ্চয় করেছেন। করে না থাকলে কর্তব্য। করতে হবে। লেখকের ফেলে ফেলে যাওয়া যাবজ্জীবনের লেখাপত্রের একটা অ্যান্থোলোজি ইমিডিয়েইট আফটার হিজ ডিমাইস প্রকাশ করা তার চারপাশের সারস্বত সমাজের দায় হিশেবেই বিবেচ্য। সম্ভব হলে একটা আলগ পুস্তক, প্রয়াতের পরমাত্মীয় সংলগ্নজনেদের মূল্যায়ন ও সাক্ষ্য সম্বলিত। সর্বসাকুল্যে তার দুইটা বড় কলেবর প্রবন্ধের সান্নিধ্য পেয়েছি আমি, একটা তো অলরেডি বলা হয়েছে এবং অন্যটা হাংরিয়ালিস্ট প্রতিবাদসাহিত্য নিয়া যা আমাকে তিনি দিয়েছিলেন পড়তে। এমন সমস্ত লেখাপত্র কুড়িয়েবাড়িয়ে স্বপন সৌমিত্র রচনাবলি হবে না? তাছাড়া, আন্দাজভিত্তিক ও সম্পূর্ণই স্মৃতিনির্ভর এই লেখাটি লিখতে যেয়ে যেটুকু গ্যুগল করেছি তাতে এক সমনামী ব্যক্তির কবিতার সন্ধান পেয়েছি। কিন্তু সমনামী হলেও অভিন্ন ব্যক্তি কি না তা আমি কনফার্ম হতে পারি নাই। কিন্তু স্বপনের শৈলেশ্বরগদ্যে একটা জায়গায় গিয়া পাচ্ছি, “শৈলেশ্বর ঘোষের কবিতা পড়ার পর বুঝতে পারলাম প্রত্যক্ষ বাস্তবতার স্বরূপ…কেটে যেতে থাকল আমার মনের ভেতরের সব ভ্রান্তি, দুর্বলতা, ভীরুতা আর জনপ্রিয় কবি হবার মোহ…”। স্বপন সৌমিত্র কবিতা লিখতেন? জানি না। রাশেদ রহমান বলতে পারবেন ভালো। কন্ট্যাক্ট নাম্বারটা নাই, জিগ্যেশ করতাম। প্রকাশিত অথবা ডাইরিধৃত স্বপনের সব ধরনের লেখাপত্রের একটা অ্যান্থোলোজি নিশ্চয় পাবো কখনো।
স্বপন সৌমিত্রের সঙ্গে মেসেঞ্জারের বাইরে এসে একটা আন্তরিক সংযোগ সূচিত হয়েছিল ‘কথার ফটোগ্রাফি’ বইটা সত্যি সত্যি দ্রুতডাকে আমাকে পাঠানোর মাধ্যমে। এত আন্তরিকতার আদৌ প্রতিদান হয় না। আমি ফোন ছেড়ে মেসেঞ্জারে তাকে যে-কথাগুলি লিখেছিলাম, স্বপনের মিসিং হবার মোটামুটি সময়টার খোঁজ করতে যেয়ে মেসেঞ্জার থেকে টেক্সটটুকু কপি নিলাম। আমি বলেছিলাম, “এত কষ্ট করবেন? অর্থও তো নাশ হবে তাতে, কম তো নয় ফটোকপিচার্জ। অবশ্য আপনি কাছাকাছি থাকলে বলতাম আমিই ফটোকপি করে দিচ্ছি, এইটা আমার জন্য সহজ ও প্রায় বিনামূল্যের কাজ, কারণ আমি যেখানে কাজ করি সেখানে আমাকে একটা প্রিন্টার দেয়া আছে এবং সেইটা এমন প্রিন্টার যেখান থেকে একটামাত্র কম্যান্ডে এপিঠ-ওপিঠ প্রিন্ট হয়, এই আপিশের প্রতিটা ফ্লোরে একটা করে ফটোকপিয়ার রাখা এবং কাগজ ইচ্ছেমতো ব্যবহার করার সুযোগটুকু আমি পাই। কাজেই খুব বড় বই হলে আপনি আমাকে বইটাই পাঠাতে পারেন এবং হপ্তার মধ্যেই আমি বইয়ের সঙ্গে একাধিক ফটোকপি বাঁধাই করিয়ে আপনাকে ফেরত পাঠাইতে পারি। অ্যানিওয়ে। বেশি খরচে যাবেন না, আপনি যে আমাকে বইটার খোঁজ দিয়েছেন এইটাই অনেক বড় প্রাপ্তি আমার।” তো, বইটাই তিনি পাঠিয়েছিলেন। বই পেয়ে একটা প্রাপ্তিসংবাদ জানাতে বলেছিলেন, জানিয়েছিলাম, এই তো : “বইটা কাল রাতভর পড়েছি। কৃতজ্ঞ কতটা আপনার এই অভাবিত উদারতার কাছে, এই বিষয়ে বেশি কিছু বলাও দরকার নাই মনে হয়। অ্যানিওয়ে, একটা ছোট্ট কমেন্ট করেছিলাম আপনার ওয়ালে এই বইটার মলাট দেখে, সেইটাই একটু নোটআকারে প্রিজার্ভ করে রেখেছি নিজের লেখার ব্যাঙ্কে, চোখে পড়তে পারে আপনার। এইটা আমার কাজের অংশ করেই নিয়েছি যে, ফেসবুকে যে-কোনো কমেন্টও আমি নির্ঝঞ্জাট ও সপ্রেম লিখনপ্রেরণা থেকেই করি এবং পরে সেগুলো নোটের শেইপ দিয়ে সঞ্চয় করে রাখি। বৃথা গালাগালি আর হিংসা থেকে বেঁচে থাকার এ একটা রাস্তা আমার কাছে। এইসবই তো আমাদের আত্মজীবনী, আমাদের ফটোগ্রাফ, আমাদের অটোবায়োগ্রাফ। তো, প্রেভেরের এই বইটা আরও কয়েকদিন পড়ে একটাকিছু লেখার চেষ্টা করব, তদ্দিন বইটা রাখব কাছে, এরপর অবশ্যই ফিরিয়ে দেবো আপনাকে। সুপ্রভাত ও শুভদিন।” প্রত্যুত্তরে স্বপন বেশিরভাগ সময় রিঙই দিয়েছেন। ফলে মেসেঞ্জারে শর্টহ্যান্ড কিছু উত্তরই দিতেন উনি, ঠিকই ফোন করতেন। বইটা, যা হোক, আমাকে হেল্প করেছে একবাক্যে প্রেভের চিনতে। এই বইয়ের পাতায় পাতায় নেসেসারি অনেক কোটেশন ব্যবহার করে এইটা ভালোভাবেই ফোটানো হয়েছে যে লোকে যেমন কথার স্থাপত্য করে, কথার প্রাসাদ গড়ে, প্রেভের হচ্ছেন সেই কবি যিনি কথার ফটোগ্রাফি করেন। আমার মনে হয়েছে এর পর থেকে প্রেভেরের কবিতায় আমি কমিউনিকেইট করতে পারব অনেক ভালোভাবে। এই কনফিডেন্স বইটা আমায় দিতে পেরেছিল।

পরে আমি বইটার ফটোকপি রেখেছি কি না, হারাম মনে করতে পারছি না। রাখলে এতদিনে কপিটা হাতের নাগালে একদুইবার না আসার কোনো কারণ দেখি না। বাট এইটা ইয়াদ আছে যে আমি অনেকদিন বইটা হাতে রেখে প্রেরকের/বইমালিকের বারকয়েকের জেন্টল রিমাইন্ডার পেয়ে ক্যুরিয়ারে সেন্ড করেছিলাম এবং যথাসৌজন্য ওভার ফোন প্রাপ্তিসংবাদ পেয়েছিলাম। ওইসময় স্বপন বলছিলেন তিনি নিজে এই বইটা নিয়া লিখবেন, আমাকেও পূর্বপ্রতিশ্রুত রচনাটা পাতায় নামাতে প্রেরণা দিচ্ছিলেন মনে আছে। লেখাটা আমি আর লিখতে পারি নাই। কিন্তু অচিরে পেরে যাব, তৎক্ষণাৎ উনাকে পাঠাব, কথা হয়েছিল আমাদের মধ্যে। এরপর লাপাত্তা আমি ও স্বপন দুইজনেই জীবনের যার যার দংশন ও দরদ নিয়া। যা-হোক, মেসেঞ্জারটেক্সট ঘেঁটে বের করলাম, চব্বিশ ডিসেম্বর দুইহাজারপনেরোয় শেষ টেক্সট পাঠাচ্ছেন স্বপন এবং তাতে লেখা, জানুয়ারি দ্বিসহস্রষোলোর মধ্যে যেন ‘উতঙ্ক’ প্রকাশিতব্য সংখ্যার জন্য পূর্বপ্রতিশ্রুত রচনাটা পাঠাই। এরপর আর কোনো কথা নাই। ষোলো-সতেরো-আঠারো সময়টা আমার যায় ধারাবাহিক বিপর্যস্ততায়। দীর্ঘ গ্যাপের পরে দুইহাজারউনিশের জুন মাসে মেসেঞ্জারে একটি লিঙ্ক পাঠাই আমি, “কবি, আপনার এই লেখাটা রাশপ্রিন্ট থেকে এনে গানপারে গুছিয়ে রাখলাম।” বহুদিন রিপ্লাই পাই নাই। খিয়ালও করি নাই জিনিশটা। প্যান্ডেমিকের টাইমটায় ফার্স্ট রিয়্যালাইজ করি স্বপন সৌমিত্র বোধহয় আর নাই। ঠিক অফিশিয়্যাল ডেথনিউজ না-পাইলেও ‘স্বপন রিপা’ নামে ফেবুপ্রোফাইলে, যেটি কিনা আদি ও আসল স্বপন সৌমিত্র প্রোফাইল, এক অদ্ভুত শোকস্তব্ধ ছায়াচ্ছন্নতাই বিরাজ করতে দেখি। ধীরে ধীরে সেখানে স্বপনদুহিতা সুদীপ্তা স্বপনকে বেড়ে উঠতে দেখি। ইমেইজে ইমেইজে একজন সৎ ও সম্পন্ন মননের লেখকের সন্তান বড় হচ্ছে তার বাবার কাছের দূরের লেখকবন্ধুদের অকৃত্রিম আশীর্বাদী আলোয় হাওয়ায়।
কারো ডেথনিউজ কনফার্ম করবার কিছু নাই। কারণ, ডেথ একটা প্রাক্টিক্যালি মিথ্যা ব্যাপার। দুনিয়ায় যা-কিছু অমোঘ, তা-সবেরে সত্য বলায় আর না-বলায় কিছু যায় আসে না। আমি যেমন এই নিবন্ধে প্রেভেরের অনুবাদবইয়ের সুবাদে একটি স্মৃতিসফরে যেন স্বপন সৌমিত্রের সঙ্গে একচোট কথা বলে নিলাম। বইটার নামই ছিল ‘কথার ফটোগ্রাফি’। নিবন্ধচূড়ায় সেই নামটা রাখলাম, সঙ্গে প্রেভেরেরও, কবি ও কবিতাবইয়ের সূত্র ধরে যেহেতু পরিচয় এবং সম্পর্ক আমাদের, শিরোনামে মেমোরিচিহ্ন রইল। সঙ্গে এই জিনিশটাও লক্ষ করতে বলব, দ্রোহের ও দহনের প্রতিবাদসাহিত্য থেকে শুরু করে ফরাশি কবিতা, সারস্বত সমাজের অবক্ষয় এবং বিকলনগ্রস্ত পশ্চাৎযাত্রা, স্বপন সৌমিত্রের চিন্তাধারার ট্র্যাজেক্টরি সম্পর্কে একটা আইডিয়া পাওয়া যায়।

বিস্তর খুঁজলাম, ‘কথার ফটোগ্রাফি’ লিখে সার্চবারে, এই নামে গ্যুগলের ইমেইজে বা টেক্সটে একটা বইও সাজেস্ট করে না। আমার আবছা স্মৃতি বলছে, এই বইটা ‘ভাষাবন্ধন’ থেকে বেরিয়েছে কি না, নাকি ভিন্ন কোনো পশ্চিমবঙ্গীয় প্রকাশনালয় থেকে; এর লেখক সম্ভবত অনুবাদক ও গ্রন্থকার পরিমল ভট্টাচার্য অথবা আর-কেউ হবেন হয়তো, কনফার্ম মেমোরি মিসিং। তবে এর অনুবাদক ও উপস্থাপক ওখানকার কোনো তরুণ কবি ছিলেন বলেই নিশ্চয় দুইহাজারচোদ্দ মে মাসের সেই ফেবুনোটে এই কথাটি লিখে থাকব : “সময় করে এই অনুবাদক লেখকের সম্পর্কে একটু জানাবেন তো! কখনো গদ্য স্পর্শ করা হয় নাই এই কবিলিখিত। নজরেও পড়ে নাই ইন্ডিয়ান কোনো বই-পত্রিকায়। এখন তো পড়ার দিকে প্রেমও নাই সেই নওল বয়সের মতন। তবু এই বইটার খোঁজ জানতে ইচ্ছে করল কেন যে! অ্যানিওয়ে। বেটার হয় এইটার একটা পাঠোত্তর প্রতিক্রিয়া জানাইলে, সেইটা আপনার কনভিনিয়েন্স অনুসারে। এবং/অথবা হাতের নাগালে স্ক্যানার থাকলে এর একটা পিডিএফ ভার্শন বানায়া আগ্রহীদের সঙ্গে শেয়ার করে একটু দোয়াও লইতে পারেন।” সো, পরিমল ভট্টাচার্য নন, বইয়ের লেখক অন্য কেউ। পরিমল ভট্টাচার্য তো অনেক আগে থেকেই অনুবাদক হিশেবে পরিচিত ও পরিণত।
গল্পের পরের অংশটা আগেই নিয়েছি বলে। একটা আছে কথা মাত্র বলবার : জীবিতের দায় থেকে যায় প্রয়াতের সৎকার করবার। আর লেখকের সৎকার হয় না দাহকৃত্যে জানাজায়। লেখকের সৎকার হয় তার দেরাজের অপ্রকাশিত রচনাসমূহ প্রকাশ করায়।
জাহেদ আহমদ ২০২৬ জুন
গানপারে স্বপন সৌমিত্র
জাহেদ আহমদ রচনারাশি
- জাক প্রেভের, স্বপন সৌমিত্র ও কথার ফটোগ্রাফি - June 7, 2026
- গানের কথা গানের সুর শৈলশহর সমুদ্দুর - June 1, 2026
- বলকলম - May 21, 2026

COMMENTS