জাকির জাফরান, বাংলা কবিতার তিন দশকের তবিলদার

জাকির জাফরান, বাংলা কবিতার তিন দশকের তবিলদার

শেয়ার করুন:

কবিরা ভাষার তবিলদার।

কবি বলতে যে-কেউ, রচনা করেন যিনি, নির্মাণ করেন কিছু, রূপ দেন কল্পনার। ফর্ম হোক কবিতা বা না। পার্ফেক্টলি ইম্যাজিন্যাশন ক্রিয়েইট ও ক্যাপচার করতে যেয়ে যে প্রণিপাত করে, সে-ই তো কবি। সিনেমার, কথাসাহিত্যের, চিত্রকলার, কবিতার। কবি তিনি, যিনি ইম্যাজিন করেন বাস্তবের অল দি বিস্ট অ্যান্ড দি বিউটি। ভিশ্যুয়ালাইজ করেন যিনি রিয়্যালিটির বিবিধ রোদন সত্ত্বেও কল্পনার রায়তা ও রুটি।

তিন দশকের তবিলদারি তার। কবিতার।

দশকগণনা বাংলাদেশের শিল্পকলায় প্রাসঙ্গিক নয় আর। তবে একসময় সানরাইজ সানসেট হতো দশক গুনে গুনে। সেই ডিকেইডওয়াইজ সাহিত্যবিবেচনার ধুন্দুমার টাইমের অন্তিম দশকে এদেশে কবিতায় আবির্ভূত হন জাকির জাফরান। প্রথম দশকের কবি হিশেবে অ্যান্থোলোজাইজড। সহস্রাব্দসূচনায় আবির্ভূত কবিরা শূন্য দশকের কবি হিশেবেও পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। অপ্রাসঙ্গিক সেসব পরিচয় আজ, হয়তো। রইল কবিতা, যা-কিছু রচে এলেন এতদিন জাকির জাফরান। রইল প্রতিদিন নতুন, প্রতিদিন আবহমান।

‘সমুদ্রপৃষ্ঠা’ তার প্রথম কবিতাবই। সর্বশেষ প্যান্ডেমিকের বছরে বেরোনো ‘জ্যোৎস্নাসম্প্রদায়’। মাঝখানে আছে আরও অনেক কবিতার ভিন্ন ভিন্ন বই। নির্বাচিত কবিতা বেরিয়েছে। বেরিয়েছে কবিতাসংগ্রহ। প্রকাশিত হয়েছে এক অনুবাদেরও বই। নিশ্চয় সেসব অনলাইন বইবিক্রয় আউটলেটগুলায় অ্যাভ্যাইল্যাবল। সম্প্রতি নির্মাণাধীন পাণ্ডুলিপির অংশঝলক পাওয়া যায় গানপার ইনিশিয়েইটেড ‘শোনো পুঁইপাতা’ কাব্যপ্রবাহিকায়, যা ছাব্বিশের অগস্ট পর্যন্ত যন্ত্রস্থ, যা অ্যানিটাইম নাউ গ্রন্থরূপায়িত হবার অপেক্ষায়।

জাকির জাফরানের যা-কিছু কবিতা, গান ও গদ্য সমস্তকিছুর পটেনশিয়্যাল আবিষ্কার করবেন সদাশয় রিডার।

অবশ্য এই তবিলদারির অব্যর্থ কনোট্যাশনটা পাওয়া যায় রামপ্রসাদ সেনের গানে, একটা শ্যামাসংগীতে, যেইটা চাইলেই ইউটিউবে টেইস্ট করা যায়। “আমায় দেও মা তবিলদারি / আমি নিমকহারাম নই শঙ্করী”। বিশ্রুত কালীভক্ত রামপ্রসাদ দেবীশক্তির কাছে কায়মনোকথায় তার ভাণ্ডারের তবিলদারিটা যাচনা করেন সবসময়। এ আর কিছু নয়, ইন অ্যানি গিভেন সিচুয়্যাশন দুঃখিনী বর্ণমালায় দেড়দুইটা কাব্যছত্র রচনার সক্ষমতার বরাভয়। একজন কবির কাছে এছাড়া আর কিছুই মাগনযোগ্য নয়।

এইখানে এই ইন্ডেক্সের আওতায় একটা জাকির জাফরান চয়নিকা আমরা হাজির করতে চলেছি। বিগিনারদের জন্য, অবশ্যই। বিশদ সবিস্তার কিছু নয়, আড়ম্বরহীন, ইন্ট্রোডাক্টোরি। কিছু রচনা যার একাংশ কবিলিখিত ও অন্যাংশ কবিসংক্রান্ত।  অধিকাংশ রচনাই ইতোপূর্বে গানপারে প্রকাশিত। নতুনের মধ্যে কেবল কবির প্রকাশিতব্য পাণ্ডুলিপি থেকে একগুচ্ছ কবিতা, প্লাস পাণ্ডুলিপি পাঠোত্তর এক গদ্যভাষ্য।

সূচিধৃত পোস্টগুলি ক্লিক করলেই বিস্তারিত পড়া যাবে।


জাকির জাফরান চয়নিকা

পাণ্ডুলিপির কবিতা
শোনো পুঁইপাতা

 

গদ্যরচনা
কবিতার মালটিমডালিটি
কবিতা ও কবি ইন জাপান
যেভাবে লেখা হলো জ্যোৎস্নাসম্প্রদায়

 

অনুবাদকবিতা
টেড হিউজ, টনি হ্যারিসন, ক্লডিয়া কিলান

 

অনুবাদগদ্য
একা
শূন্যতা নয়, নিঃসঙ্গতা
সৌন্দর্যের অন্দরবাহির

 

মূল্যায়ন
শোনো পুঁইপাতা, জাকির জাফরান ও এক গার্ডেনারের গান
জ্যোৎস্নাসম্প্রদায় পাণ্ডুলিপির তারিফ
জ্যোৎস্নাসম্প্রদায় কাব্যগ্রন্থ রিভিয়্যু
আক্রায় পাওয়া পাণ্ডুলিপি বিজ্ঞাপন
মহাভারতের সভাপর্ব ও কোয়েলোতর্জমার তারিফি রিভিয়্যু


অসম্পূর্ণ চয়নিকা। আদৌ অসত্য নয়। সাধ্যি সীমিত। অধিক আগ্রহীরা সার্চ করলেই জাকির জাফরানের অন্যান্য রচনা অ্যাভ্যাইল করতে পারবেন। কবির জীবনতথ্য অথবা আর-যা-যা জ্ঞাতব্য সমস্তই বিরাজিত ওয়ান ক্লিক অ্যাওয়ে। একটাই ইনফো চয়নিকায় প্রাসঙ্গিক নয় জেনেও শেয়ার করে রাখি। ফিফটি স্কোর করলেন কবি, রিসেন্টলি। ইট হ্যাপেন্স ওয়ান্স ইন অ্যা লাইফটাইম। পরের ইনিংস সেলিব্রেইট করার ভাগ্য সশরীর সরেজমিন সবার হয় না। হ্যাপি ফিফটি, ডিয়ার জাকির জাফরান! ম্যানি ফিফটি রিটার্ন করুক, সঙ্গে নিয়ে কবিতার গাঢ় অনুধ্যান! অতিচিৎকৃত অধুনা বাংলাদেশের কবিতায় সঞ্চারিত হোক রুহু, রক্ত ও প্রাণ!


গানপার, অগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন:

COMMENTS

error: You are not allowed to copy text, Thank you