সাম্যের দিকে যেতে যেতে লেখাপত্র || রোদ্দুর রিফাত

সাম্যের দিকে যেতে যেতে লেখাপত্র || রোদ্দুর রিফাত

শেয়ার করুন:

সাম‍্যের দিকে


রাজনীতি তো চিন্তা ও ভাষায় কম্বো। কিন্তু মানুষ তাকে নিয়েছে লেবাসে, শক্তি প্রদর্শনে। রাজনীতির রাজ‍ত্বটাই আমরা করি নীতিরে বুলেটের নিচে মেরে। ‘জনগণ’ শব্দটি উল্টে দিয়ে রাজনীতিবিদরা যে-‘গণজন’-এর ফিল্টার মেখে নিজেরে সামনে তুলে ধরে, এইটা একটা বিশাল ধান্দাবাজি। ভোটের আকাঙ্ক্ষী পাপীকে লুট করতে হয় রাষ্ট্র ও জনগণের পকেট। সেই লুটের নোটেই তুলে আনে ব‍্যালটে ভোট। শুরু হয় কারবার। কিন্তু যে-বোকাচুদা হলো বিক্রি সে তো হারালো পাঁচবছরের নাগরিকত্ব, সেটা আবার অদৃশ্যমান নাটকের স্ক্রিপ্টে। কিন্তু এই অসচেতনতার বিকাশের যোগানটা আবার পুঁজিবাদী রাষ্ট্র নিজেই ইচ্ছাকৃতভাবে দিয়ে যাচ্ছে, যেন নিজের শাসনকাল টিকিয়ে রাখতে পারে বারবার। পৃথিবীতে টিকে থাকা খারাপ না, কিন্তু সেটা যদি মানুষ শোষণের জন‍্য হয় তবে সেটা ধসে যাওয়াই ভালো। তবু শাসক ও প্রজার পৃথিবীতে যে যেটা তার যুদ্ধও সেটা নিয়ে। তাই মহান জনগণ মানে প্রজাগণ নিজের বোধকে শান দিয়ে নিজের লড়াইটা চালিয়ে যান বেঁচে থাকার জন‍্য। শুধু বেঁচে থাকা না, ভালোভাবে বেঁচে থাকা। অর্থাৎ, মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করুন। তার আগে জানুন কেন আপনি পৃথিবীতে? কি দরকার পৃথিবীতে আপনার অথবা আপনাকে পৃথিবীর? কেন বেঁচে থাকা প্রয়োজন বা কেন বেঁচে থাকবেন আর থাকলেই বা কিভাবে বেঁচে থাকবেন। শোষণের কতটুকু আপনার চামড়া নিতে পারছে আর কতটুকু পারছে না আর না-পারলে আপনাকে কি করতে হবে। তাই চিন্তা করুন, ভাবুন, দাঁড়ান মেরুদণ্ড সোজা করে আর শোষকের চোখে ছুঁড়ে মারুন আপনার তীব্র ক্ষুধার্ত চাহনি। মসনদ ভেঙে সবাইকে মাটিতে নিয়ে আসুন অথবা সবার জন‍্য মসনদ তৈরি করুন। কিন্তু সবই যেন এসে মেশে সাম‍্যবাদের নদীতে আর ভেসে যায় সকলে সুন্দর আগামীর দিকে। যেখানে শ্রমের শোষণ অনুপস্থিত। মানুষের পরিচয় থাকবে একমাত্র মানুষ নামেই। মানে, সোজা কথায়, সকলের ফিল্টার একটাই হবে, আলাদা আলাদা কোনো ফিল্টার নাই। সব সমান ফিল্টারে এগিয়ে যাবে সাম‍্যের দিকে।

 

 

নিজেকে খুন করে করে চলছে তালাশ


করুণ চোখের দিকে তাকিয়ে যে মাপতে জানে না হৃদয়ের গভীরতা, জল গড়ানোর শব্দ, প্রেমের পরিভাষা—সে কতটুকু দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন? যেন সকল গতিজড়তার নিচে চাপা পড়ে গেছে পৃথিবী। উদলা ঘ্রাণে খুন হয়ে যাচ্ছে করুণ চোখজোড়া আর ছিটকে ছড়িয়ে যাচ্ছে রক্তের ঝর্ণা। রক্তের দাগ মানুষের চোখে প্রসঙ্গ হয়ে উঠতে ব‍্যর্থ হচ্ছে। করুণ চোখগুলো ছোটাছুটি করতে শুরু করল। নিজের অস্তিত্ব আরেকটা অস্তিত্বে মিশিয়ে নিজেকে খুঁজে যাচ্ছে অবিরাম। চেষ্টার ট্রিগারে আঙুলের চাপে নিজেকে খুন করে করে চলছে তালাশ। অন্ধকার ও রোদের সুতোর প‍্যাঁচ খুলে খুলে নিজেকে বের করার দারুণ চেষ্টায় হেসে উঠছে পৃথিবী।

রোদ্দুর রিফাত রচনারাশি 

শেয়ার করুন:

COMMENTS

error: You are not allowed to copy text, Thank you