রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে ইতালির ভেনিসে আছেন অভিনেত্রী বাঁধন। গতকাল ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তিনি মেস্ত্রে এলাকার একটা পার্কে ফ্যামিলির সাথে ঘুরতে গেছিলেন। সেইখানে তারে আওয়ামী পলাতক মববাজরা হেনস্থা করে। যাদের লেজ কোনোদিন সোজা হবে না (এবং বর্তমানে যারা মূলত রাস্তায় রাস্তায় বেওয়ারিশ), এদের কাছে এর চাইতে বেশি আপনে কী আশা করবেন? কামড়ানো এদের মানসিক দশা।
বাঁধন যেহেতু ইতালির ফিল্মফেস্টিভ্যালে গেছেন আমন্ত্রিত হইয়া, তার এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা দেওয়া ইতালি সরকারের দায়িত্ব। নিজেদের কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের উচিত ইতালি-প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার জবাবদিহিতা চাওয়া এবং ওইসব আওয়ামী-মববাজদের আইনের আওতায় আনতে সবরকম তৎপরতা চালানো।

এইখানে থামলেই হবে না। দেশে লেনদেনে এরা কোনো অবৈধ পথ ব্যবহার করতেছে কি না, এদের কোনো অবৈধ প্রোপার্টি আছে কি না, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরিতে এরা লোকালদের দিয়া কোনো অপতৎপরতা চালাইতেছে কি না, সরকারের উচিত এইসব বিষয়ে এখনি তদন্তে নাইমা যাওয়া।
লিগারদের কোনোদিন বুদ্ধিবৃত্তিক প্র্যাক্টিস করতে দেখি নাই। মিথ্যা, মাস্তানি আর প্রোপাগান্ডা ছাড়া এদের কাছে একটা সিঙ্গেল বিষয়ে যথাযথ আইডিয়া, যথাযথ চিন্তা বা দূরদর্শী এইটুক আলাপ কোনোদিন পাই নাই। অথচ কালচারাল ফিল্ডে অলমোস্ট শতভাগ কর্মী মানসিকভাবে এই দলটারেই পেট্রোনাইজ করছে বহুদিন। এদের একটা অংশ যখন বুঝতে পারছে, পরিস্থিতি সীমার বাইরে চইলা গেছে—ততদিনে অনেক ক্ষতি হইয়া গেছে। ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে অসংখ্য লাশ আর অঙ্গহানি দিয়াও কি এই ক্ষতি পূরণ করা গেছে?
বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতিরে ধ্বংস করার দায় আজীবন আওয়ামীলিগরে নিতে হইবো। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪—এই তিন নির্বাচনে মহাক্ষমতাবান আওয়ামীলিগ দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিরে পুরাপুরি শেষ কইরা দিছে।

আজ বাংলাদেশে নতুন কইরা শুরু হইতে থাকা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সরকারের মুখোমুখি রাজনৈতিকভাবে রাইট-উইং যে-অপশক্তির উত্থান হইছে—যেইখানে একপাল তরুণরেও মিইলা-মিইশা নতুন-বন্দোবস্তের নামে গলাবাজি করতে দেখা যাইতেছে সারাদিন—আওয়ামীলিগ এইটারে যেই-অ্যাজেন্সির (পশ্চিমা) কারসাজি ও দূরদর্শী-অপতৎপরতা হিসাবে দেখাইতে চাক-না-কেন, এইটার জন্য দায়ী আওয়ামীলিগেরই স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতি, ফ্যাসিস্ট কালচারাল প্র্যাক্টিস।
এইটার প্রমাণ তারা অলমোস্ট প্রতিদিন দিতেছে। রাস্তায় রাস্তায় থাইকাও। দেশের লোকজন এদের পিটাইয়া বাইর কইরা দিছে, ওদের একমাত্র রাজনৈতিক অ্যালাই ও গডফাদার ইন্ডিয়াতে ভাগাইছে—তবুও এদের লজ্জা নাই এতটুক…দ্য স্পেশাল ছাপড়ি ইন দ্য ফেইস অব অলমোস্ট ডিকেইড পলিটিক্যাল এস্ট্যাবলিশমেন্ট। হোয়াট অ্যা শেইম!

এদের অবস্থা এতই করুণ—বুদ্ধিবৃত্তিক আলাপ, রাজনৈতিক বোধ, দায়স্বীকার ইত্যাদির পরিবর্তে জনৈক প্রডিগাল-সানের একটা লুক-চেইঞ্জ নিয়া এরা ফ্লেক্স মারতেছে রাস্তায় রাস্তায়…হা হা হা…অ্যান্ড উই নৌ দ্যাট শিট হ্যাপেন্স ট্যু…
সরকারের কাছে আবেদন, দেশে-বিদেশে ঘটা সবরকম মববাজি, গুজববাজি, বাক-স্বাধীনতার নামে অসভ্যতার বিরুদ্ধে আপনেরা আরো বেশি তৎপর হন, আইন-প্রয়োগে দায়িত্বশীল হন। গণতান্ত্রিক রিফর্ম্যাশনে ব্যক্তির আত্মমর্যাদারক্ষা খুবই দরকারি একটা কাজ।
সেপ্টেম্বর ২০২৬
হাসান শাহরিয়ার রচনারাশি
- ভেনিসে বেল্লিকদের মববাজি ও দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড || হাসান শাহরিয়ার - September 9, 2026
- নিস্তরঙ্গ মুহূর্তের জারমুনি || হাসান শাহরিয়ার - August 27, 2026
- কন্সার্ট, শিল্পী ও বর্বরের ভিড় || হাসান শাহরিয়ার - August 7, 2026

COMMENTS