নামিল সন্ধ্যা…

নামিল সন্ধ্যা…

শেয়ার করুন:

সন্ধ্যার অবতরণ দেখছিলাম। সন্ধ্যা নামছে আমার বাড়ির চারপাশে, দেখছিলাম। আস্তে আস্তে, যেন রাতুল চরণে আলগোছে, আলতো শরীরের সন্ধ্যা নামছিল পৃথিবীতে—আমি দেখছিলাম। আর ভাবছিলাম, জীবনের বেশিরভাগ অংশ আমরা কাটিয়ে দেই বেখেয়ালে—অন্য-/অর্ধমনস্কভাবে। যেমন প্রতিদিন পৃথিবীতে একটা করে সন্ধ্যা আসে, নামে, অবতীর্ণ হয়—প্রতিটি সন্ধ্যাই অনির্বচনীয়, অতুলনীয়, অনুপম—অথচ আমরা খেয়াল করি খুব অল্প কয়েকটাই।

কী ভালোই না হতো, যদি রোজ সন্ধেবেলা একবার নিজের চারপাশটাতে চোখ ঘুরিয়ে মনোযোগে তাকাত সবাই! কেবল দেখার জন্য তাকানো নয়, কেবল অলখ আঁখির কোণে  দেখাটুকু নয়, বরং ঘ্রাণগন্ধ নেয়ার জন্য একটাবার থমকানো; সমস্ত শুষে নেয়ার মতো বুভুক্ষু কৌতূহলে অতিকায় তাকানো; যা-কিছু বর্ণ ও বিভঙ্গ এই সন্ধিমুহূর্তের, তার সবটুকু যথাসাধ্য বোধিগত করে নেয়ার জন্য গভীর ও ঘন দৃষ্টিতে চারপাশটাতে সাগ্রহ চোখ ফেলা।

দিন ও রাত্রির সুষম রসায়নমুহূর্ত এই সন্ধেবেলার সময়টুকু আমাদেরকে দিতে পারে অভাবনীয় ও অবাঙমানসগোচর দৃশ্যস্পর্শগন্ধসুস্বাদ, অনবদমিত স্বস্থ চরিতার্থতার বোধ, যা অন্য আর-কিছুতেই পাওয়া যাবে না। দরকার কেবল তার দিকে, শ্রীমতী সন্ধ্যামাধুরীর পানে, একাগ্র তাকানো; দরকার পূর্ণমনোযোগে অবলোকন সন্ধ্যামুখ, সন্ধ্যার অবয়ব, সন্ধ্যাসারাৎসার।

তেমনি আরও একটা মুহূর্ত দাবি করে আমাদের অখণ্ড মনোযোগ, অনুধ্যানী অভিনিবেশ, নাম তার ভোরবেলা। তবে ভোরবেলা আর সন্ধেবেলার রকমসকম এক/অভিন্ন নয়, এরা সাদৃশ্য সত্ত্বেও স্বতন্ত্র, এদের পৃথকত্ব অনেক। যদিও উভয়েই সন্ধিক্ষণ, ট্র্যানজিশন মোমেন্ট, তবু তাদের রঙ-রূপ-রস-গন্ধ-শব্দ-স্বাদ-গান-ব্যঞ্জনা আলাদা।

চোখ না-থাকলেই ভালো দেখা যায় এসব, বরং, মন দিয়ে। চোখ থাকলেও দেখা যায় না এসব, ট্রু, মন না-দিলে।

—জাহেদ আহমদ ২০১৩

রচনাটা দুইহাজারতেরোয় ফেইসবুকে পোস্টেড।—লেখক, সেপ্টেম্বর দুইহাজারছাব্বিশ  

জাহেদ আহমদ
Latest posts by জাহেদ আহমদ (see all)
শেয়ার করুন:

COMMENTS

error: You are not allowed to copy text, Thank you