পহেলা বৈশাখরে মঙ্গল শোভাযাত্রা বা আনন্দ শোভাযাত্রা বলেন আর যা-ই বলেন, এই উৎসব এখন এই দেশে তার ইউনিকনেস হারিয়ে ফেলছে।
এই যে এভাবে একটা উৎসবরে এনকাউন্টার করা হলো এই চিন্তাটা খুবই বিপজ্জনক।
একটি উদাহরণ দেই। দেশে জন্মদিন উৎসব পালনের একটা বিবর্তন ঘটেছে হিন্দু পরিবারে। আমার চোখে পড়েছে। হিন্দু পরিবারগুলোতে বাচ্চাদের জন্মদিন পালনের আগে বয়স্করা তারে আশীর্বাদ করে দেন রিচুয়াল কায়দায়। পরে গানবাজনা ছেড়ে ইয়াংরা পপুলার কালচারে ঢুকে যায়। মুসলিম পরিবারে বাচ্চাদের জন্মদিনে উৎসব আনন্দ অহরহ হচ্ছে, সেখানে এ-রকম রিলিজিয়াস কোনো ইনক্লুজন হচ্ছে কি না যারা বিলং করেন তারাই ভালো বলতে পারবেন।
জন্মদিন পালনের এই যে সার্বজনীন একটি উৎসব ধর্মভেদে আত্তীকরণ ঘটছে এই ব্যাপারটা পজিটিভ। এখানে কোনো বিরোধিতা না করে যে যার মতো করে সেলিব্রেট করতে পারে।
পহেলা বৈশাখের ক্ষেত্রেও এটা সম্ভব। সকল ধর্মের মানুষের পক্ষেই তার নিজস্ব ভূগোলের ঋতু, প্রকৃতি, লোকায়ত আর কৃষ্টি কালচারের উপাদান নিয়ে হাজির হতে পারে। কিন্তু এসব না করে সরাসরি কাউন্টার প্রোগ্রামের রূপরেখা দেয়া এক ধরণের কায়েমি ফ্যাসিবাদ। ধর্ম ও রাষ্ট্র চিন্তা উভয় দিক থেকেই এসব ঘটতে পারে।
সংস্কৃতির উপরে ধর্মের ফ্যাসিবাদ আক্রমণ অন্যান্য সকল ফ্যাসিবাদের মতোই ভয়ানক।
২.
গত চার/পাঁচ বছরে পহেলা বৈশাখ নিষিদ্ধ করার গ্রাউন্ড তৈরি করা হয়েছে। তার কিছু সুনির্দিষ্ট জ্বালামুখ ছিল।
১. পহেলা বৈশাখকে কেন মঙ্গল শোভাযাত্রা বলা হবে? এটি বিশেষ ধর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট শব্দ।
২. পহেলা বৈশাখের যে আনন্দ শোভাযাত্রা এটি হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির অংশ নয়; গুটিকয়েক মানুষের ইন্ধনে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল।
৩. পহেলা বৈশাখে ব্যবহৃত মুখোশের ব্যবহার পৌত্তলিকতার বহিঃপ্রকাশ। এটি বিশেষ ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বিপথগামিতা।
৪. জাতীয় হিন্দু মহাজোটের পক্ষ থেকে এটাকে অপসংস্কৃতি বলে দাবি তুলেছেন এদের নেতা গোবিন্দ প্রামাণিক। গত বছর তার এ-রকম একটা বক্তব্য ভাইরাল হয়েছিল।
এই বছরে পহেলা বৈশাখ নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। তিনি ধর্ম ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠিয়েছেন বলে পত্রিকায় এসেছে।
ধর্ম, সংস্কৃতি ও আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখা পড়ার অপেক্ষায় গ্যালারিতে পপকর্ন নিয়ে বসছি।
- জ্বালা-নি-সংকট || নাফিস সবুর - March 26, 2026
- নজরুলের গান অথবা তোমারে ঘিরিয়া গাহিবে আমার কবিতার বুলবুল || সোহরাব ইফরান - March 24, 2026
- ঈদপ্রতিবিম্ব || মনোজ দাস - March 21, 2026

COMMENTS