যেভাবে লিখিত হলো ফুলের ফসল || শুভ্র সরকার

যেভাবে লিখিত হলো ফুলের ফসল || শুভ্র সরকার

শেয়ার করুন:

‘আমি ফুল না হয়ে কাঁটা হয়ে বেশ ছিলাম’—মান্না দের এই গান আমি অনেকবার শুনেছি। পেছনের দিকের কথা যদি বলি। একদিন আমি রাস্তা ধরে হেঁটে যাবার সময়, একটা দাঁড়ানো ট্রাকের সামনে এসে থমকে দাঁড়ালাম। ট্রাকের ভেতর থেকে এই গানটা ভেসে আসছিল। ফের আমি কিছুক্ষণের জন্যে গানটা শুনলাম। ফুলের যে বিরহ থাকতে পারে, তা নিজের ভেতর টানতেছিলাম। ফুল আর বাতাসের আলাপ পাওয়া যায় এমন অসংখ্য লেখাই তো আছে দুনিয়াতে। যেন ফুলের প্রতিবিম্বিত চিত্রকল্প আমাকে গ্রাস করে ফেলেছে। যদিও ‘ফুলের ফসল’ কবিতার বইয়ের নামটা আমার অনেক আগেই নির্ধারণ করা ছিল। মিরাকেল ব্যাপার হইলো আমার প্রত্যেকটা কবিতার বইয়ের নাম আগের কবিতার বই থেকে নেয়া থাকে। সেইমতে এইটা একটা সিকোয়েন্স। আমি প্রথম যখন ‘ইহকাল’ লেখা শুরু করলাম, তখনও ভাবি নাই আমি এত বড় দীর্ঘকবিতা লিখতে পারবো। লিখতে থাকলাম সীমার ভেতর প্রবাহমানতা বজায় রেখে৷ একটা সময় লেখা শেষ হইলো। বই বের হইলো। যেহেতু আমি আমার নিজের বই নিজেই করে থাকি সেক্ষেত্রে কোনো ঝামেলা হইলো না। এই যে লিখতে পারলাম এইটাকে দম বলে। দম হয়তো অবলীলায় থাকে না। আমি টের পাই সৃষ্টির সবকিছুরই একটা দম থাকে। পরবর্তীতে আমি ‘অরণ্যে এক কাঠের শতাব্দী’ লেখলাম। এইটাও দীর্ঘকবিতার বই। তাই অন্তত কথার ব্যাপকতা আমি আন্দাজ করতে থাকি আমার ওষুধের দোকানে এত এত ব্যস্ততার মাঝেও। এইখানে বসে থেকেও ভাবতে পারি একটা জলশূন্য পুকুর, তার পাড়ে কদমগাছ।  সেই কদমগাছের নিচে বসে যেন প্রকৃতিকে বলতে শিখেছি—যেইখানে হবে দেখা, তোমার সঙ্গে কেবল আমার একা একা…

০২.
প্রথমে লেখা শুরু করেছিলাম ‘ফুলের ফসল’ নামে। হঠাৎ করে একদিন কবি হাসান রোবায়েত আমাকে ফোনকল করে জানালো—দাদা, ‘ফুলের ফসল’ নামে সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের একটা কাব্যগ্রন্থ আছে। পরে আমি আবার নাম পরিবর্তন করেছিলাম ‘ফুলের সংশয়’ নামে। এর কিছু অংশ ওয়েবপোর্টাল ‘শিরিষের ডালপালা’-তে প্রকাশিত হয়। আর কিছু অংশ ‘প্রথম আলো’-র অনলাইনে প্রকাশিত হয় ‘ফুলের সংশয়’ নামে। বইটাতে এই নিয়ে ফ্ল্যাপে একটা  ভূমিকা লেখা হইছে। তা এখানে সংযুক্ত করা হইলো—

সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘ফুলের ফসল’ ১৯১১ সালে (১৩১৮ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যসংকলন। এই সংকলনের মূল ভাবনা হলো জীবনের প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি সৌন্দর্য ও আবেগের গুরুত্ব। প্রকাশক ছিলেন ‘ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস’।

কী এমন ছিল ‘ফুলের ফসল’ কাব্যগ্রন্থে কিংবা সত্যেন্দ্রনাথ দত্তে?

আমি জানি না, এই না জানা কখন যে উষ্ণ-উজ্জ্বল রং ধারণ করেছে আমার ভেতর। আমি অনেক ভেবেচিন্তে শিল্পবোধের সাথে একধরনের পজেসিভ সরল আক্ষেপ দাঁড় করিয়েছি। আমি যখন ‘ফুলের ফসল’ কবিতার বইটার নামকরণ করি তখনো জানতাম না যে, এই নামে কারো বই আছে। অনেক পরিবর্তন আর ভাবনার পরে ‘ফুলের ফসল’ নামটাই শেষ পর্যন্ত আমাকে টানলো।

০৩.
‘ফুলের ফসল’ এই কবিতাটার দুয়ারে দুয়ারে ঘটে গেছে নিত্যকার ঘটনা। একটা বাংলা কবিতা কী ভাবে সাজানো দৃশ্যের ভেতেরও জিংঘাসা জাগিয়ে দেয়। মনে পড়ে যায় কখন জানি ‘ইহকাল’ লেখার সময় আমি লিখেছিলাম—মায়ের অসুখ, তবুও আমি আতাফলের দিকে তাকিয়ে কবিতা লেখি। কবিতা লেখার পর দেখি

কোথায় আমার ছবি পড়ে আছে। ছবি তুমি কী দেখনি, আমার বিষণ্ণতার সাম্রাজ্যটাকে?

আমার কবিতায় যদি কোনো মুন্সিয়ানা থেকে থাকে সেইটা পাঠক বলবে, আমার পক্ষে যা বলা অসম্ভব। আমি শুধু এইটুকুই বলতে পারি ‘ফুলের ফসল’ দীর্ঘকবিতায় নানাবিধ গূঢ় আলাপে নিমগ্ন হতে হতে পাঠক অবশ্যই দেখতে পারবে শুভ্র সরকারকে।

০৪.
‘ফুলের ফসল’ একটাই কবিতা নিয়ে তিন ফর্মার কাব্যগ্রন্থ। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন রাজীব দত্ত (প্রচ্ছদের আইডিয়া ছিল আমার)। প্রকাশক বুকিশ। মূল্য ২২০ টাকা। প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

বইটি কোথাও রাখা হয়নি। কেবল আমার কাছ থেকেই সংগ্রহ করতে পারবেন।

শুভ্র সরকার


গানপার বইরিভিয়্যু

শেয়ার করুন:

COMMENTS

error: You are not allowed to copy text, Thank you