চূড়ান্ত কোনো পৃথিবী
নেই কোনো সর্বসাধারণী ব্যাপার
আসল বলে আছে কিছু
মার্কারি ছলকালে একইসঙ্গে অনেকে ছড়িয়ে পড়ে
হা মার্কারি
কখন কেউ বালি-ধূলিকণা কুড়ায়ে
মনে করেছিল সামনে আছে কোটি বৎসর
আজি সন্ধ্যার মেঘাক্রান্তা গুড়ুম
তুমি জানো আর কত হাজার বছর আছে?
কথা বলবোই
শান্ত থাকার কোটি দিনের পরে এই
জানতে মনে হলো অল্পই আর মোরা
চাইতে মনে হলো নিদারুণ কয়েকটি দিন
থাক ঘুরে আসা ঝলকেরই কাঁচা মেঘ
থাক কণ্টকাকীর্ণ আলো
মার্কারি লুটায়ে যাবার আগে
ঠিক আগে কোনো ধ্রুবক কণার কম্পনে আর কী রহস্য
হা রহস্য
ফুলে বিছায়ে গেছে চারিধারে অরণ্য
তন্দ্রার গান
এসে বসলাম টেবিল চেয়ারে
সন্ধ্যা পার হয়ে গেল কি?
বসন্ত বয়ে যাচ্ছে দুম-তা-না-না-না
নাগেশ্বরীর সুবাস ছুঁয়ে
হাতে এল বোধহয় কোনো সুমিষ্ট রস
তাড়ির হাঁড়িতে ধোঁয়া জাগাল
খড়ের গায়ে শুষ্ক হয়ে আসা আগুন
কয়লা তুলে দাও
বাতাসে উড়ে যাচ্ছে ক্রিমসন
নি-সা-রে-মা-গা-রে
আলো বয়ে আসছে আলো
কামরাঙার ডাকের ভেতর হাসি
স্বর্ণপ্রাণ সুখের ছবি এক
স্তরাবৃন্ত
পাশে হাসির শব্দ খেলা করে
খেয়া বাজিয়ে এইমাত্র গেল কেউ
হলুদ-চাষের গাছে গাঢ় সবুজ রঙের খোলতাই
মিশে যাচ্ছে মানুষের ভেতর শব্দটি হয়ে
টিলাটির দেহে মাটিরই স্তরাবৃন্ত
সোডিয়াম খেয়ে ঢোল হচ্ছে পানি
কৃশকায় মানুষ ঝরাচ্ছে তার আয়ু
তবে বাড়ছে কোনোদিকে সে
শান্তির দিকে নিশ্চয়ই
কোনো নিশ্চিতির দিকে
মধ্যাহ্নের গান
বহুদিন ঘর বহুদিন স্তিমিত আলো
কাঠের উষ্ণ দাগ—বলছি পরিধেয় বস্ত্র কোনো
কোনো সঞ্চয়ী ধন—
শেষে টুকরো করে কেটে
খালপাড়ে, কী কালো!
বরং স্নায়বিক, বরং এই রঙগুলি
গাঢ় বাস্তব হবার শুরুতে—
জনপদেরই ছায়া
তার আরও ভেতরে লাল-নীল কবুতর
থির কোনো শরীরালয়!
ভাস্কর্যের হৃদয় হতে জাগে আজি ভাস্কর্য
কী আকাঙ্ক্ষায় বিপুলা—
মেলে আছে তাহারই অক্ষর
ধাঁই ধাঁই উঁচু রাস্তা কোথাও গেল বটে
দু’পাড়ের নিম্নভূমি পারায়ে আছে সেগুনের বন
আছে সারমেয়চিহ্নিত মধ্যাহ্ন
জলে এ-সময় স্বচ্ছ ছায়া—
শব্দের কোনো পরিমিত নকশাবৎ!
আর সুডৌল আর উন্নত
আর দীর্ঘভাবে চলমান
স্বর্ণময় দিনের বর্ণালী হতে খুলছে আজি স্বর্ণ
তাহারই সূর্যমুখী—
তাহার হৃদয়
অন্ধকারের নাম
কী বিভৎস তারপর এই আজি
রসুন খুলে ঘাসেরই ছায়ে
পেতেছি চন্দন
কোনো পাখি তার অন্ধকারের গন্ধ দিয়ে
ভরায়েছে বুক
কেন চলে গেল বাঁক ঘুরে
হাঁসের দল
পানি ও পাথর খচিত অশ্রাব্য পাথার
কোনো রক্তিম আঁধারে
তারেই আঁধারতম ভাবি
পাগলের দিন
পাগলের দিন ডাকে সুনীল আকাশ সুনীল আকাশ
কোথা তবে যাবে চলে হংস মিথুনের পাড়ি
বাদলের গোছা ঝরায়ে ঝর ঝর
ছিঁড়ে সে নিটোল হাওয়া
চলেছে বাতাস চলেছে বাতাস
মাছের খোলে বিদ্যুৎ চরায়ে
সেই যে দিলে ন্যাংটো দৌড়
পাহাড়েরই খাঁজে?
চিম্বুকে নয়, কোনো সুপারি কাননে?
হায় হাসি—ভেসে কচুরিপানায় সুনীল বাতাস সুনীল বাতাস
পাগলের দিন কোনো পাতানো শাখায়
চলেছে আকাশ চলেছে আকাশ
তোমার দুঃখ
উঠে যাচ্ছ
উপরে এক গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন
নিচে আলোর দল কাটছে সাঁতার
তোমারও যে পাখা ছিল
শ্যাওলাসম ঘন অন্ধকার
মায়াবী পুতুলের সেই হীরের হাত
দিয়েছ মেলে রাতভর
দেখা পেয়েছ যত নকটার্নাল
হলুদ চক্ষু নাকি কমলা নাকি লাল
হিসহিস শব্দের খনি
ঘুর্ণনরত কাচে মহাবিদ্যা আর
অন্ধের মতো শুঁকেছ শীত
অন্ধের মতো শুঁকেছ শীত
পাথর থেকে গড়িয়ে নামে সমুদ্র
মাটির আড়ালে কোনো মাটি
শীতল পাথরের দুঃখে তোমার
নামে যে রাত্রি
শালবনের রাত্রি
ফুটল বলেই আলোর কাছে
সারাটি রাত্র কাঁপা কাঁপা থির মোহানা
আলোকের কল্পনা সবিশেষ স্নিগ্ধ তখন
উৎপাদিত ছায়ায় হাত ভরে গেছে
তাই আলো
খর্বকায় রাত চিরতরে পেছনের দরোজা রে
কারও কোনো ভ্রমা,
সামনে আছে কোনো অটুট মহাযজ্ঞ—
কুল কুল সমারোহের চিরজাগরূক
রাত্রি ছোটই তবে!
দিনও ছোটই একটি বাদামী তিল!
কর্তিত মাংসের গলি দিয়ে ঢুকে রাত্রিও না দিনও না
একটি থির ঘটনা
আলোর প্রতি প্রতিটি মুগ্ধতা মুছে যাবারই
অন্ধকারেরও আছে ঢের বেশি সাময়িকতা
দিন চিরদিন
ঘুম ভেঙে গেছে
এই ঘন কুয়াশা পোহানোর দিন
সবিস্তার দ্রিম দ্রিম
হরিণের কোলে ছাইয়ের গাদা
ও কি কুয়াশা তবে?
ও কি লক্ষণ, গান?
বেলাভূমি চকিত করে
গলগল শব্দসকল
ঢুকছে
বর্তমানের প্রচুর দৃশ্যস্তূপ আর;
তারপর?
মনে দিকবিদিকহারা বলাকার চিৎকার
শ্বেত রক্ত
লাল ভয় পাই বলে তোমার নীল শিরা
তাও উচ্চকিত নীল কম ভালোবেসে
দেখি ঘুমভাঙা সাদা কাচ
পাঁচটাকার কয়েনের সমান একটা পাখি দূরে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল
তার আলো লয়ে ধারাবাহিক গ্রন্থনা এই
পৃথিবীতে এই তবে শান্তি
ঘুমের উদ্যোগ আছে এইখানে
শিশুরাও ঘুমাতে ঘুমাতেই বড় হয় নাকি
ধেয়ে আসে ওরা আমাদের দিকে
বিনিদ্র পত্রপল্লব সিক্ত করে নামে কাহারও পূর্বতন ঘুম—
ওদের সকলেরই কথা ফুটবার দিন চিরদিন
যেন শ্বেত রক্তকণিকায় তাই লিখে যাই
বাতাসে উড়ে যাচ্ছে ক্রিমসন, আছে সারমেয়চিহ্নিত মধ্যাহ্ন || আনম্য ফারহান || মার্চ ২০২৬ গানপার
আনম্য ফারহান রচনারাশি
গানপার কবিতার, কবিতার গানপার
- বাতাসে উড়ে যাচ্ছে ক্রিমসন, আছে সারমেয়চিহ্নিত মধ্যাহ্ন || আনম্য ফারহান - March 25, 2026
- আমার জীবনের নারীদের করকমলে রাখি জবাফুল || আনম্য ফারহান - March 16, 2026
- ট্র্যাডিশন, ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন, অ্যালিয়েনেশন || আনম্য ফারহান - March 7, 2026

COMMENTS