কৈফিয়ত
কাউকে কোনো কৈফিয়ত দেবো না।
নিজের অন্তর্মুখে নম্রতা গুঁজে
হেঁটে চলে যাব, চরাচরের দিকে।
যেখানে জলেরা আয়নার মতো
সেখানে তাকাব, রোদের উত্তাপ নিয়ে।
উত্তপ্ত রোদ, কী যে স্পর্শ পেলো হিমের
একটা ঠোঁটফুলের কম্পন দেখতে চেয়ে
ফুরাতে চাই জীবন আমার, এই!
কাউকে কোনো কৈফিয়ত দেবো না।
মেঘের গুপ্তকোড থেকে উর্বরতা নিয়ে
ফসল ফলাব আত্মার স্থিরতার।
মিউট
সবকিছু ব্লার করে তোমাদের আসাযাওয়া দেখি
সবকিছু মিউট করে তোমাদের নড়াচড়া দেখি।
মহানির্বাণ-পাওয়া স্থিরচোখে সমস্ত ধ্যানযোগে
গুবরে পোকার নাচে নাচে পূর্বস্বরে ফিরে যাই।
আকাশে এঁকে-থাকা ডালপাতার সবুজ নকশায়
স্তিমিত রোদে নিজেকে এঁকে চলা ক্রমশ হাওয়ায়
পা ছড়িয়ে তৃষার্ত কুকুরের মতো ধড়ফড়ানো বুকে
আমি সন্ধ্যার নিভে-যাওয়া গোধূলিরঙের ছাই।
সবকিছু ব্লাকেন্ডহোয়াইট করে পুরোনো হয়ে যাই
সবকিছুর রিদমলেস টোনে নিজ ছন্দপতন ঘটাই।
শাড়ি
শাড়ি এক হৃদয় দুর্বলকারী পোশাক।
কত রঙ ঝরে এখানে মৃত্যুবৃষ্টির মতো
রঙ হতে ভেসে আসে রঙিন সৌরভ
মৃগের মতো পৌরাণিক পায়ে কত ধীর
সচেতন পাপ হয়ে বেঁধালো দৃষ্টির তির।
লোহিত সাগরের মেঘ করে মনে
গোলাপি, আকাশী, ফিরোজা রঙের পাপে
স্বাপ্নিক নিদ্রায়ও তওবা করে উঠি,
রোদ নিয়ে ওরা অন্ধকারে হাঁটে
চোখ বুজেও এঁকে ফেলি, রঙিন সুতোর ভিড়
জন্মজাত হৃদয় ঘাসে, বাতাসও অস্থির
দাঁতের ব্যথায়, শিরায় শিরায় কী ঘন শিরশির!
জন্মজাত হৃদয় ঘাসে বাতাসও অস্থির।
তিয়াস ঠোঁটের একটু দূরেই জমজমের শিশির
জন্মজাত হৃদয় ঘাসে বাতাসও অস্থির।
টেস্টি ট্রিট
আনারজাত লাল নিয়ে লাল করে দেবো
তার লালার আধার।
টেস্টি ট্রিট, তুমি অন্তত জানো
তার চঞ্চু্যুগল ছিল পারমাণবিক চুল্লি
উজ্জ্বল আগুন, আমাকে পোড়ানোর ধোঁয়ায়
ওর চোখমুখ ছিল উল্লসিত৷
রক্তপানের অভ্যাস নেই; বিটরুট অধর তার;
আমার ঠোঁট হতে নজর সরাতে বলো।
প্লিজ, কেউ তাকে চলে যেতে বলো
আর রেখে যেতে বলো পূর্ববর্তী আমিকে।
দৃষ্টির কোলাজে আমরা দুটি টবের দুটি ফুল
গুচ্ছ পাপড়ি নিয়ে হৃদয় দোলানো,
দু’টি পতাকা। দু’টি ভূখন্ডে ওড়ার ম্যান্ডেট।
দু’টি দুতাবাসে উড়ছি আমরা
দু’টি বিদায়ের ভাষায়।
বিদায়
যেখানেই যাই,
সেখান থেকেই বিদায় নিচ্ছে মানুষ
ফলত, আমি কোথাও যাই না।
স্থির কোনো গাছের মতন
চলিষ্ণু বাতাসকে গায়ে লাগাই।
পাতায় যে কাঁপুনি লাগে
তা আসলে পাতাদের, টাটা।
প্রবল মমতার মুদ্রায় দেখি
বিদায়ী মুখগুলো, আর
তীর হয়ে শুধু ঢেঊকে বিদায় জানাই।
নোয়া
ক্ষমতার কাছে নু’লে গোবরের গন্ধ
প্রেমিকার কাছে নু’লে যোনি
কবরের কাছে নু’লে আমলের কান্না
ভাগ্যের কাছে নু’লে শনি।
বিস্টির কাছে নু’লে চাবুকের আওয়াজ
ফসলের কাছে নু’লে জমি
বেশ্যার কাছে নু’লে জারজের চিৎকার,
জালিমের কাছে নু’লে বমি…
শেয়ালের কাছে নু’লে পথ পাবে গোরের
বুলেটের কাছে নু’লে দুটো ক্ষত কম
হৃদয়ের কাছে নু’লে আরশের আবাস পাবে
দড়ির কাছেতে নু’লে খুশি হন যম।
ঈমানের কাছে নু’লে খোদার সরল আশা
ইলিশেতে নু’লে মিঠা পানি
শিকারের কাছে নু’লে হরিণের ঘাইঘোঁৎ
ছ্যাঁচড়াতে নু’লে মানহানি…
কাবার কাছেতে নু’লে খোদায়ী সমর্পণ
দেখাবার কাছে নু’লে রিয়া
পাথরের কাছে নু’লে মূর্তিপূজারী বড়ো
কৃষ্ণতে নুলে পাবে হিয়া…
মাংশল রোদে নু’লে তৃষ্ণার ঢেঊ পাবে
জলের অতলে নু’লে স্নান
সাপের বিষেতে নু’লে ছোবলের ছাপ পাবে
দুর্যোগে নু’লে বহু ত্রাণ।
উর্বরতা
নর্দমায় গর্জে ওঠা চারাগাছ
আসলে
নর্দমার উর্বরতার কথাই বলে।
বিশ্বাসঘাতক
খাবারের লোভ দেখিয়ে বড়শি
দিয়ে
মাছ ধরাও বিশ্বাসঘাতকতা।
একাকিত্বের সমষ্টি
ক্ষুধার নেশায় পিয়েছি শরাব
চাই শরাবের বৃষ্টি,
মদ্যপশালায় মানুষের ভিড়?
একাকিত্বের সমষ্টি।
বড়শি
সুতোময় পৃথিবীতে
উন্নতির জল কাটতে কাটতে
উপরে উঠে দেখি, সেটা বড়শি।
সুর
এতটাই কোমল হয়ে গিয়েছি আজ
আজানেও ধ্রুপদী সুর খুঁজতে যাই।
শুকনো পাতা
আমি তো পথেই হারিয়ে যেতাম।
কুড়োবেই যদি
গুঁড়ো করে বাতাসে উড়ালে কেন?
মদ
অশ্রু হচ্ছে পৃথিবীর আরাধ্য সেই মদ
সেই হৃদয়ের রক্ত,
যা চেখে দেখার জন্য পৃথিবী তোমাকে
ষড়যন্ত্র করে কাঁদিয়ে ছাড়ে।
শিক্ষা
ভেড়ার কাছে শিখতে গেলে ভেড়া শুধু ভ্যাঁ ভ্যাঁ-ই শেখায়।
ময়দান
পৃথিবী নিজেই এক হাশরের ময়দান,
চারিদিকে স্রেফ ইয়া নাফসি…নাফসি…
সব চোখে দেখি এড়াবার মেকি ভান
অথচ
প্রত্যেকেই কারো না কারো অপেক্ষায়
কাঁপছি…
স্বেচ্ছামৃত্যু
গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করব। আসুন,
আপনারা যারা সাহায্য করতে চেয়েছিলেন
তারা আমার পায়ের নিচে কাঁধ বিছিয়ে দাঁড়ান।
কবর
কবর হচ্ছে মাটির ভুঁড়ি
আর
মানুষের লাশ হচ্ছে সেই ভুঁড়ির অতিরিক্ত চর্বি।
প্রস্থান
নিজেরে সরায়া নেয়া বাদে
কি করতে পারি আমি আর?
কাঁচাপাকা আমগুলা তো ভিন্ন মালিকানার।
সরস তটিনীর ঢেউয়ে অদক্ষ সাঁতারু এক,
আমি নির্মল প্রেমিকাদের প্রেমিক না তো—
কড়ইয়ের কাঠে লেখা অন্যের বাস্তুস্থান
ঘুমহীনতার রাষ্ট্রে যেনবা ডে-নাইট শ্রমিক
এমন ক্রুয়েল ঘাতক মুহূর্তে তোমরাই বলো…
গভীর ঘন চুপ হয়া যাওয়া বাদে
কি করতে পারি আমি আর?

শাখা সরদার।
কবি। বাংলা ভাষার।
নবীন কবি। নতুন সময়। নতুন জমানার।
জন্ম ১৯৯৯ সালের ১৫ এপ্রিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। পূর্বপুরুষভূমি শরিয়তপুর। বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
কবিই, মূলত, সর্বস্বত। যদিও গল্প প্রকাশিত হয়েছে একটি, এ অবধি, বিশ্ববিদ্যালয়বিভাগের ‘সমগ্র’ ম্যাগাজিনে।
জেনুয়্যিন কবিকণ্ঠ।
পড়ে দেখুন, একবার, স্যয়ার!
স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজ সিলেটে বাংলা বিভাগের প্রভাষক কবি শাখা সরদার।
আমরা পাঠক কামনা করি তাঁর। নতুন দিনের নতুন ভাষার বাংলা কবিতার।
গানপার
নোয়া ।। বাংলা কবিতা ।। শাখা সরদার ।। গানপার ২০২৬
গানপার কবিতার, কবিতার গানপার
- আধুয়া গ্রামের নৌকাপূজা : নানান ধারার গানের গ্রামীণ মেলা || বিমান তালুকদার - February 2, 2026
- ঊষর দিন ধূসর রাত : উপন্যাসের তন্তু ও তাঁত || রাশিদা স্বরলিপি - January 24, 2026
- সরস্বতী বিশ্বলোকে || সুশান্ত দাস - January 23, 2026

COMMENTS