সেই পত্রহরকরা—জন্ম যার শুদ্ধ শীতকালে
তার পায়ে-বাঁধা পারমিতা পাতার প্রভাবে
লোকালয়ে জাগিতেছে আলো
আর তার ঘুঙুরের ঘায়ে
মাটিতে আছড়ে-পড়া করুণ কামনা—
ফুঁসে-ফুঁসে ফোঁপরানো নারীর ক্রন্দন—
অনূদিত হলে পরে এঁটে-ওঠা মানেটা এমন :
যথা অর্ধসমাপিত শ্রান্তক্রুদ্ধ রাত্রি-অভিজ্ঞতা
প্রাচীন পত্রহরকরার পরিজনকান্নাবাহ
উপস্থিত পুনরপি পত্রঝরাদিন
আগত ওই হেমন্ত-পরবর্তী ঋতু
বসন্ত আসার আগে পত্রে তার গাহি আগমনী
—জাহেদ আহমদ, ২০০৫
উপরোক্ত কবিতার কবিকৃত একটা শিরোনাম ছিল “সিজন’স্ গ্রিটিংস ২০০৫”। কী সুন্দর কবিতা! কেউ লেখে না। কেউ কেউ লেখে। জীবনবাবুর ওইটা মিন করি নাই। গ্র্যান্ড অর্থে কেউ লেখে না মানে যার যার কাব্য সে সে করতেছে সুতরাং পৃথক সকলে। আবার সেই একই গ্র্যান্ড হাজিরায় বলতে হয় যে যারা লিখতেছেন তাদের ভিন্নতা সহ-ই তো একটা হাশরের ময়দান আছে—সেইখানে তুলনা আছে, সামঞ্জস্য বোঝাবুঝি আছে।
তাই এই কবিতা আমারে যেইভাবে ছুঁইতেছে সেইটা কবিবাহিত শব্দে বা ইমেজারিতে বা রুষ্ট কোনো তাড়নে ধাবিত হওয়ার চেয়েও শীতনাম্নী যেই পত্রের মধ্যে থাকতে বলে তা কী নিরিবিলি একটা শীতগন্ধী পল্লব! ওইখানে নিখিল আপনা-আপনি হাজিরা দেয়। বলে আর কোথায় শীতের সুষমা তার জাড় সহ-ই খোলস খুলতেছে কিংবা আবৃত অবস্থার মধ্যেই ‘পায়ে-বাঁধা পারমিতা পাতার প্রভাবে / লোকালয়ে জাগিতেছে আলো’।
‘ঘুঙুরের ঘায়ে’ সচকিত হইতে হইতে আমারে তাড়া করতেছে যেই ‘শ্রান্তক্রুদ্ধ রাত্রি-অভিজ্ঞতা’, তার মধ্যে আমি যেতেছি সরে ক্রমশ যেতেছি পিছলায়ে ‘এঁটে-ওঠা মানেটা’-র মধ্যে ‘অর্ধসমাপিত’ ‘পুনরপি’। আহ!
শীত যখন আসে তখন পূর্বের স্মৃতিকাতর মন বিগত ঔজ্জ্বল্যের কথা স্মরণে এনে শীতের নিষ্প্রাণতার মধ্যে ঢোকার প্রস্তুতি নেয়। ভৌগোলিকতার মধ্যে সে সাইরা নিতে থাকে অপরাপর বাহ্যিক সামগ্রী।
জানা কথা শুধু শীতেই প্রবীণরা মৃত্যুভয়ে আগাম পয়গাম পাওয়ার মতো কাঁপতে থাকেন। নিছকই কি তা বায়োলোজিক্যাল মৃত্যু? স্মৃতি তো প্রত্যেক শীতেই শেড-অফ্ করে খোলস ছাড়ে। পুরনো; দীর্ঘকাল পুরনো থাকতে থাকতে তাজাল্লি হৃত হইতে থাকে। বেহাত তো স্মৃতিও হয়। কিন্তু, ‘ফুঁসে-ফুঁসে ফোঁপরানো’ ‘প্রাচীন পত্রহরকরার পরিজনকান্নাবাহ’ ‘আগত ওই হেমন্ত-পরবর্তী ঋতু’ এক নিমিষে দম ছাড়ে—লম্বা দম জিইয়ে রাখলে শীতপূর্ববর্তী পত্রে পড়ে আগমনী সংরাগ।
বঙ্গে এইগুলাও লিখিত হয়। কেউ-উ-উ-উ লেখে না। কেউ কেউ লেখে।
০৯/১০/২০২১
আনম্য ফারহান রচনারাশি
- খালেদা জিয়া : নারী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের জন্য অনুপ্রেরণা || আনম্য ফারহান - January 1, 2026
- শীত || আনম্য ফারহান - October 10, 2025
- ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ … || আনম্য ফারহান - August 9, 2024

COMMENTS