আধুয়া গ্রামের নৌকাপূজা : নানান ধারার গানের গ্রামীণ মেলা || বিমান তালুকদার

আধুয়া গ্রামের নৌকাপূজা : নানান ধারার গানের গ্রামীণ মেলা || বিমান তালুকদার

শেয়ার করুন:

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার আধুয়া গ্রামে ঐতিহ্যবাহী মনসাদেবীর আশ্রমে শ্রীপঞ্চমী তিথিতে এবারও বরাবরের মতো অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৯৪তম নৌকাপূজা।

এ উপলক্ষে মনসামঙ্গল পালা (গুর্মার গান), নৌকা দৌড়ানির গান, নানা ঘরানার লোকগান এবং গ্রামীণ মেলার সমাহারে এই এলাকায় তিন দিনব্যাপী বিশাল জনসমাগমের এই উৎসব পালনের প্রায় একশ বছর হতে চলল। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক এক অনন্য লোকঐতিহ্য ধারণ করে আছে এই উৎসব।

মনসাদেবীকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর আয়োজনে প্রতিবছর টানা তিনদিন ধরে অনুষ্ঠিত হয় এই উৎসব। এর সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণ।

লোকসাহিত্য, সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক জীবন্ত মিলনমেলা আধুয়া গ্রামের এই লোকজ কৃত্য ও লোকাচারের উৎসব। মনে হয় যেন গণমানুষের মর্মের এক মহাপ্রদর্শনী।

ত্রিকালজ্ঞ প্রবীণ এক বটবৃক্ষের বিশাল ডালপালাছায়ার আবেষ্টনে এই নৌকাপূজার মেলায় মানুষের সম্মিলনী নিবিড় নয়নে দেখবার মতো উষ্ণ ও মনোজ্ঞ।

উৎসবে আগ্রহীদের উপস্থিত থাকার জন্য প্রতিবছর আয়োজকদের পক্ষ থেকে সাদর আমন্ত্রণ জানানো হয় নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে থেকে। এখন সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে মেলার আমন্ত্রণ দেশে এবং বাইরেও ছড়িয়ে যায়।

এবারকার উৎসবের সময়টি ছিল ৯, ১০ও ১১ মাঘ; তথা ২৩, ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি; ১৪৩২ তথা ২০২৬; শুক্র, শনি ও রবিবার।

এই বছরের, বত্রিশের বা ছাব্বিশের, উৎসব সম্পন্ন হলো। অল্প কয়েকটা আলোকচিত্রে মেলার কিঞ্চিৎই ধরা আছে। এর পরের বছর যারা আগ্রহী হবেন নৌকাপূজা দেখতে বা শুধু মেলায় আসতে, তাদের জন্য সংযোগের সড়ক ও মাধ্যম সম্পর্কে একটা আইডিয়া এখানে দিয়ে রাখতে পারি।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার রশিদপুর অথবা পুলের মুখ থেকে জগন্নাথপুরগামী বাসে সোজা মিরপুরবাজার, সেখান থেকে অটোরিকশায় মাত্র ১০টাকা ভাড়ায় পৌঁছে যাওয়া যায় আধুয়া গ্রামের মেলার প্রাঙ্গণে।


বিমান তালুকদার রচনারাশি

শেয়ার করুন:

COMMENTS

error: You are not allowed to copy text, Thank you