সাক্ষাৎকারে লেডি গাগা : লাস্ট পার্ট

সাক্ষাৎকারে লেডি গাগা : লাস্ট পার্ট

[দুইটা পার্টে এই ইন্টার্ভিয়্যুটা আমরা গানপারে বাংলায় ছাপব মনস্থির করি। ফার্স্ট পার্টের লিঙ্ক ধরে যেয়ে দেখতে পারেন, না-দেখলেও পারেন, এইটা তো ওই সিক্যুয়েল টাইপের কিছু না। যা-হোক, ‘বর্ন দিস্ ওয়ে’ অ্যালবামরিলিজের অব্যবহিত পরে লেডি গাগা  (Lady Gaga) টাইমআউট পত্রিকার প্রতিনিধি পিটার রবিন্সনকে এই ইন্টার্ভিয়্যুটি দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় অংশটা আপ্লোড করা  হলো এইখানে।  লেডি গাগা সাক্ষাৎকার এই কিস্তি দিয়া আপাতত সমাপ্ত হতে চলেছে। — গানপার]

. . .

লেডি গাগার বেশিরভাগ ইন্টার্ভিয়্যু লক্ষ করলে দেখা যাবে যে, লেডির সঙ্গে মিট করার অভিজ্ঞতাটা কেমন বা তিনি দেখতে কেমন কিসিমের, লেডি গাগা ফার্স্ট ইন্ট্রোতে কেমন আচরণ করেছিলেন এইসব এক্সপ্লেইন করতে করতেই ইন্টার্ভিয়্যুয়ের দৈর্ঘ্য বহরে-গতরে ফেঁপে ওঠে। একটা জিনিশ এই সাক্ষাৎকারগুলোতে একদমই মিসিং থেকে যায়, জিনিশটা সাক্ষাৎকারকালে লেডি রিভিল করেন কদাচিৎ, বা গাগার যে-জিনিশটার কথা বলতে চাইছি এখানে সেইটা সাক্ষাৎকারগ্রাহীরা ধারণ করতে ব্যর্থ হন অথবা তাদের অ্যান্টেনায় ব্যাপারটা আদৌ ধরাই পড়ে না হয়তো, জিনিশটা আর-কিছু নয়, লেডির সেন্স অফ হিউম্যর। কেমন সেই জিনিশটা? ডার্ক, ড্রাই এবং খুবই ইংলিশ কেতার সেই হিউম্যর। ইউনিক। জিনিশটা আপনাকে এই উপলব্ধিতে নিয়া পৌঁছায় যে লেডি গাগা খালি নিজেই রিডিকিউলাস লাইফ লিড করছেন না, তার চারপাশের জগতটাই রিডিকিউলাস ইন-ফ্যাক্ট, তার কণ্ঠে এই লাইফের অদ্ভুতুড়ে ব্যাপারগুলো ধরা পড়ে এক-আধটা চকিত মন্তব্যে কিংবা সাউন্ডে।

লেডির লগে একবার যদি ঠিকঠাক আলাপটা স্টার্ট করে ফেলতে পারেন, দেখবেন যে তিনি তখন তার সম্পর্কগুলো লইয়া আলাপ করছেন, সম্পর্কের টানাপড়েন ও ছুঁতানাতাগুলো, অন্যান্য আর্টিস্টদের সঙ্গে লেডির কাজ করার এক্সপেরিয়েন্স কেমন ইত্যাদি নিয়া আলাপ জমে উঠবে। কপাল যদি ভালো থাকে আপনার তাইলে ড্রেসিংরুম থেকে বেরোনো মেকাপআর্টিস্টের লগে লেডি কী দারুণ অভিনয় করেন সেইটাও দেখা হয়ে যাবে আপনার। এই সবকিছুই ডিপেন্ড করবে অ্যাটমোস্ফিয়ারের ওপর, আপনি যদি ক্রিয়েট করে নিতে পারেন অ্যাটমোস্ফিয়ারটা বা পেয়ে যান বাই লাক অলরেডি ক্রিয়েটেড অনুকূল বাতাবরণটুকু, তখন দেখবেন কথাবলায় লেডি ডিফ্রেন্ট একটা বিউটি অ্যাড করেন তার সমস্ত মুদ্রাদোষঘাট সত্ত্বেও।

শব্দধারক যন্ত্রখানা টার্ন-অন করবামাত্রই সিরিয়াস হয়ে যান গাগা। আলাপ রেকর্ডে টেইপ করার সময় লেডি সিরিয়াস থাকেন পুরাপুরি। মিডিয়ার সিনিসিজম নিয়া ভালোই শিক্ষা আছে লেডির, আজকের সেলেবদের মধ্যে কে না সাফার করছেন মিডিয়ামাদারির বেমুরদির কারণে, মিডিয়ায় ইন্টার্ভিয়্যুকন্টেন্ট অন-অ্যায়ার হবার পরে লেডি হামেশা বাদপ্রতিবাদ হুজ্জৎহাঙ্গামা করেও পরে রণে ভঙ্গ দিয়েছেন বলিয়া জানাইলেন। হারামিগিরির সঙ্গে, বাঁদরামির সঙ্গে, কেমন করিয়া পারবেন আপনি বলেন? উল্টাপাল্টা কাণ্ডকীর্তি-ক্রিটিক-সমালোচনার মুখে যদি কিছু জবাবটবাব দেন আপনি তবে তো বিপদ ডাইকা আনলেনই, খামোশ রইলেও মনে করবেন না বাঁইচা গেলেন। কথা বললে এমনভাবে সেইটা হাজির করবে যেন প্যপস্টাররা মাথামোটা গাবর একেকটা, আর না-বললে ম্যে বি আপনারে হাবাগোবা বা দাম্ভিক হিশেবে ম্যানিফেস্ট করে দেবে। এইগুলা মাইনা নিয়াই চলতে হয়, লেডি বলছিলেন।

lady gagaমুখনিঃসৃত কথা, ছাইপাঁশ যা-ই হোক, পার্সপেক্টিভের উল্লেখ না-রেখে হেডলাইন হবে পরদিনের বাহারী বিনোদনম্যাগগুলোতে, লেডি গাগা ব্যাপারটা ভালোমতোই জানেন; এবং জানেন বলেই নিউজপেপারওয়ালাদের লগেই বিশেষত কথাবার্তা চালাচালির সময় কেয়ার্ফ্যুল থাকেন আজকাল। ঠেকেই শিখেছেন, জানালেন। অন-রেকর্ড এখন সহশিল্পীদের ব্যাপারে তেমন কোনো মন্দভালো মন্তব্য করা থেকে নিজেরে বিরত রাখেন, বিশেষ করেই ফিমেল আর্টিস্টদের ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটে রাখেন, কড়া সতর্ক থাকেন যেন মুখ ফস্কেও সমসাময়িক আর্টিস্টদের ব্যাপারে তার মুখ দিয়া বাক্য না বাইরায়; সিক ফিল করেন কেউ পৌক করলে এসব নিয়ে, তেড়ে যেয়ে ঘুষি দিতে ইচ্ছে করে এদেরে, এরা সাংঘাতিক ধূর্ত মনোবৃত্তি নিয়া আলাপ চালায় এবং এদের ট্র্যাপ এড়ানোও অনেক ধৈর্যসাধনার কাজ বলিয়া গাগা মনে করেন। এই ইন্টার্ভিয়্যু চলাকালে লেডি ইন্ডাস্ট্রির একটা কন্সপিরেসি থিয়োরি নিয়া আলাপ করেন, যে-ষড়যন্ত্রকারীরা তারই বিরুদ্ধে ঘোঁট পাকাচ্ছে তলে তলে এইটা তিনি ভালো করেই জানেন, তবে এই কথাগুলো বলতে উদ্যত হবার টাইমে এই ইন্টার্ভিয়্যুয়ারকে লেডি ইন্সিস্ট করেন ব্যাপারটা অফ-দ্য-রেকর্ড শুনতে এবং রেকর্ডার টার্নড-অফ রাখতে বাধ্যও করেন। হুদা ঝামেলা বাড়ায়া ফায়দা নাই যেহেতু, সর্বাগ্রে একজন শিল্পীর ব্যক্তিক অধিকারের মূল্য দেয়া আমাদের কর্তব্যও, বর্তমান সাক্ষাৎকারগ্রাহক সানন্দেই রাজি হয় লেডির পীড়াপীড়িতে রেকর্ডার অফ রাখতে।

ফ্যানদেরে লেডি ভীষণ ভ্যালু দেন তার কাজের সমালোচক হিশেবে। ফ্যানবাহিনীর জন্যই তিনি দিনরাত মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রেকর্ডিং-স্টেজিং প্ল্যানগুলো ছকেন। ভক্তদের দ্বারাই তিনি ক্রিটিক্যালি অ্যাক্লেইমড হতে প্রেফার করেন বলিয়া জানালেন। এইটা ভারি ইন্ট্রেস্টিং ব্যাপার যে, লেডি মনে করেন তার ফ্যানরাই হতে পারে, এবং হওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি, তার সত্যিকারের ক্রিটিক; ভক্তরাই ক্রিটিক্যাল হতে পারে (যদিও তারা তা না) লেডির কাজ মূল্যায়নে; এই মনোভাব থেকে ফ্যানবেইসের ব্যাপারে লেডির যে-একটা অবসেসিভ অ্যাপ্রোচ রয়েছে তা আন্দাজ করা যায় ইজিলিই। কিন্তু ভক্তরা তো তাদের প্রিয় শিল্পীর অনেক অকাজ-কুকাজেরও বন্দনা গায় দেখতে পাই আমরা। তা, যা-হোক।

“পারতপক্ষে স্টেজশোগুলো নিয়া আমি ঘাপলা করি না, আমার কারণে ডেইট ক্যান্সেল হয়েছে এমন নজির বলতে গেলে একেবারেই নাই।” নিজের স্টেজতৎপরতার ব্যাপারে লেডি কতটুকু প্রোফেশন্যাল, বোঝা যায় তার কথা থেকেই। রিসেন্টলি দুইশএক মঞ্চায়নের ‘মন্সটার বল্’ ট্যুর প্রায় ঝামেলা ছাড়াই সম্পন্ন করলেন। “মঞ্চায়ন বানচাল হয়েছে যে-কয়টা, আবহাওয়া বা অনিবার্য কোনো দুর্যোগ ছিল নেপথ্যে ক্যান্সেলেশনের বড় কারণ। প্যারিসের সফরটায় যেমন ওখানকার গভর্নমেন্ট বাগড়া দিলো। সর্বশেষ ‘অক্সিজেন (O2)’ শোয়ের সময়টায় যেমন আমার ফ্যুড পয়জনিং হয়েছিল। পুরা ব্যাপারটা নাইটমেয়ারেই গিয়া দাঁড়ায়, আমি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ি দ্যাট টাইম।”

মঞ্চে এমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা কি ঘটে নাই কখনো, যে-কারণে এখনও অস্বস্তি ফিল করেন? এই-রকম প্রশ্নের রিপ্লাই দিতে যেয়ে লেডি সহাস্য বলেন, “মঞ্চে একবার আমার বমি পেয়েছিল, বমি করে দিয়েছিলাম, মনে পড়লেই অস্বস্তি লাগে।” এই-সময়, এই কথাটা বলার ঠিক পরেই, সামনের দিকে ঝুঁকে এসে লেডি গাগা তার কণ্ঠস্বর প্রায় ফিসফিস-পর্যায়ে নামিয়ে বলেন, “আমার না, কি বলব, ওই বোমিটিঙের সময় সাথে কোলনও ছিল না যে সেই উৎকট বমির বোঁটকা গন্ধটা কাটাব।”

“আমার কাছে ব্যাপারটা ভারি ডিস্যাপোয়েন্টিং লাগে যখন দেখি যে রেবেকা ব্ল্যাকের ‘ফ্রাইডে’ নিয়াও লোকে ‘আহা মরি মরি’ করে, ব্ল্যাকের ফ্রাইডেও লোকে দিব্যি জিনিয়াস সাব্যস্ত করে। [লেডি ফিসফিসানো ঢঙে গলা নামায়ে বলেন —] আই হ্যাডন’ট ইভেন হ্যার্ড দ্য স্যং।” যোগ করে লেডি আরও বলেন, “বলি কি যে, একবারও ইচ্ছে হয় নাই গানটা শুনে দেখতে। শুনিই নাই। জিনিশটা খেয়াল করেছি যে, সে একটানা সাতদিন ট্যুয়িটারে গানটা নিয়া হ্যানত্যান ঢং করেছে, আর তাইতেই ইউটিউবে এত্তগুলা হিট জুটেছে। অ্যাকচুয়্যলি গানটা আমি শুনিই নাই। নিশ্চয় এই কথাটা আপনাদের শুনতে ভালো লাগল না।”

আপনার অ্যালবামগুলোতে বেজায় রিলিজিয়াস ইমেইজারির দেখা পাওয়া যায়। ঈশ্বর বা গড ব্যাপারটা আসলে কি কিংবা কে বলে মনে হয় আপনার?
আমি ঈশ্বরকে, গডকে, আমার ফ্যানদের মধ্যে দেখতে পাই। আমি আমার ভক্তদের রীতিমতো পূজা করি। ঈশ্বর দেখতে কেমন এইটা আমরা কেউ জানি বলে আমি বিশ্বাস করি না, তারপরেও কিন্তু ওঁর অস্তিত্ব — পুরুষ বা নারী ভাবতে পারেন যেমন ইচ্ছা — আপনি বিশ্বাস করেন, বা জিনিশটার একটা ধারণা আপনার আছে। এমনিতে আমি কিন্তু ক্রাইস্টে গেঁড়ে বসা মানুষ না, ক্রাইস্টের লগে দিল্লাগি করবার খায়েশও আমার নাই। দ্যাট’স্ নট অ্যাট অল হোয়াট দিস্ ইজ্ অ্যাবাউট।

হোয়াট ইজ্ ইট অ্যাবাউট?
বহু বছর ধরে একটা-কিছু সুন্দরের উপস্থিতি নিয়া ভাবনাভাবনি করছি, এইটা আসলে সেই সুন্দরের সঙ্গে আমার সম্পর্ক বৈ অন্য কিছু নয়। আমি শিখেছি, এই এতগুলো বছর পেরিয়ে আমি জেনেছি যে, ঈশ্বর বা গড ল্যুকড অ্যা সার্টেইন ওয়ে অ্যান্ড ডিড সার্টেইন থিংস্ অ্যান্ড শ্যুড আইদার বি ল্যভড অর ফিয়ার্ড।

নিজের কাজের কোনগুলা আপনার ভাল্লাগে না?
আমি ধরেন যে ‘টেলিফোন’ গানটার ভিডিয়োটা (“Telephone” video) আদৌ দুইচক্ষে দেখতে পারি না। আই হেইট ইট সো মাচ।

ঘাপলাটা কোথায় এই ভিডিয়োটায়?
বিয়োন্সে আর আমি মিলে একলগে এমনিতে গ্রেইট। ঠিক আছে। এই ভিডিয়োয় বেশকিছু বল্গাহারা আইডিয়া গাদাগাদি হয়ে যেন হল্লা করছে মনে হয় দেখতে দেখতে এবং আমার মগজে যেন ওইগুলা লাফালাফি করছে অ্যান্ড আই উয়িশ আই হ্যাড এডিটেড মাইসেল্ফ অ্যা লিটল বিট মৌর। আমার ভাল্লাগে ‘আলেহান্দ্রো’ ভিডিয়োটা (“Alejandro” video), আপনার ‘প্যপজাস্টিস’ ফোরামে (Popjustice, সাক্ষাৎকারগ্রাহীর মিউজিক ওয়েবসাইট) দেখলাম পোলাপান গানটা আমলে নেয় নাই, বিরক্তির বিরাগের মন্তব্য করতেসে দেদার সকলেই, আমার কিন্তু ওইটা ভাল্লাগে, শুধু তা-ই না, দ্যাট ওয়্যজ মাই ফেব্রিট অফ অল্ মাই ভিডিয়োস্।

কারণটা কি এ-ই যে এখানে জাঁকজমক ভাবটা নাই বা থাকলেও খুবই কম, খুবই শিষ্ট মাত্রায়?
[নড করে লেডি বলেন —] আমি বলব যে ইট’স্ নট হুড়োহুড়িময় ব্যস্ত। লোকে আমার মাথার ভিতরের কিলবিলানো ক্যাওস্ খুব পছন্দ করে, ক্যাওস্ জিনিশটা আমি কিন্তু ভয়ই পাই।

নিজের কাজের বিচারক হিশেবে আপনার কি মনে হয় না যে ইয়্যু’য়ার নট দ্য বেস্ট জাজ্?
নিশ্চয় নিজের কাজের বিচারক হিশেবে আমি বেস্ট না। তারপরও আমিই জানি কখন আমি আমার ভালোটা আমার সেরাটা করছি।

ইন্টার্ভিয়্যুকালে লেডি গাগা তার তখনও-মুক্তিপ্রতীক্ষিত অ্যালবাম থেকে একের পর এক ট্র্যাক শুনিয়ে যাচ্ছিলেন, স্টুডিয়োতে বসে সেই টু-বি-রিলিজড ট্র্যাকগুলো শুনতে শুনতে টের পাচ্ছিলাম এই অ্যালবামটা হতে চলেছে লেডি গাগার এখন-অব্দি সেরা কাজ। নিজের প্লেয়ার থেকে ট্র্যাকগুলো শোনাচ্ছিলেন লেডি, এবং গানগুলো সম্পর্কে বেশ ব্রিফিংও দিতেছিলেন সঙ্গে সঙ্গে। যেমন, অ্যালবামে একটা গান আছে ‘অ্যামেরিক্যানো’, মেক্সিক্যান ইমিগ্র্যান্টদের সুখদুঃখ নিয়া গানটা, গাগা বলছিলেন গানটা সম্পর্কে, “এইটা আসলে একটা ল্যভ স্টোরি, লেসবিয়ান ল্যভ স্টোরি, ইস্ট-লস্যাঞ্জালিসের একটা মেয়ে আর আমার মধ্যকার ল্যভ স্টোরি নিয়া গানটা আবর্তিত।” অ্যালবামে আরেকটা গান আছে ‘ম্যারি দ্য নাইট’, এইটা নিয়া গাগার কথা হচ্ছে যে, “এইটা একদমই পিউর, আনমিডিয়েইটেড ল্যভ স্যং।” এইভাবে প্রায় প্রত্যেকটা ট্র্যাক লইয়াই ইন্টার্ভিয়্যুকালে লেডি আমার লগে প্যাশনেইট ডিটেইলে আলাপ করতেছিলেন, এমন সময় তার ম্যানেজার আসে আমার টাইম-আউট এত্তেলা নিয়ে; ইট মাইট বি টাইম টু রাপ আপ, এই কথা শুনে ম্যানেজারের পানে লেডি বিরস বদনে তাকাইলেন মনে হলো।

পরক্ষণেই চনমনে গলায় গাগা চিল-আউট করে উঠলেন, “আমাদের এইবার মনে হয় একটু মাল খাওয়া দরকার, উই নিড স্যম ব্যুজ্, তাই না? আসেন, পান করি একলগে, আপনারে আমার ভাল্লাগসে এতক্ষণ কথা বলে, সমুজদার মনে হইসে, লেট’স্ হ্যাভ অ্যা ড্রিঙ্ক!”

বলতেই হবে যে এইটা ছিল আমাদের জন্য বড় একটা ব্যাপার, লেডি গাগার মতো প্রতিষ্ঠিত একজন শিল্পী আমাদেরে এত গুরুত্বের সঙ্গে সময় দিয়েছেন এবং আমরা তো তার কাছ থেকে একটা আনইয়্যুজুয়্যাল সর্ট অফ প্লেব্যাক সেশনই উপহার পাইলাম মনে হলো। মুক্তিপ্রতীক্ষিত অ্যালবামগুলো সচরাচর দমবন্ধ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত অফিসরুমে শোনানোর ব্যবস্থা হয় সাংবাদিকদিগেরে, একটা ফোটোকপিয়িড প্রেসরিলিজ হাতে ধরায়ে দিয়ে বলা হয়, “তা, আপনারা তো শুনলেন সবকিছু, দেখলেন, হাতে হ্যান্ডআউটও রইল কিছু, আশা করি রিভিয়্যু লিখতে যেয়ে সমস্যা হবে না। আজকের মতো এ-ই।” দৃশ্যটা গাগাই ডেপিক্ট করছিলেন, তারপর কিছুক্ষণ প্যজ্ দেন, পরে ফের ড্রামাটিক্যালি গর্জায়ে ওঠেন : “আজকের মতো এ-ই, তাইলে কাল? … কিচ্ছু না, নাথিং, কাল এক ইয়াব্বড় রসগোল্লা!”

অনুবাদ : সুবিনয় ইসলাম

… …

সুবিনয় ইসলাম
Latest posts by সুবিনয় ইসলাম (see all)

COMMENTS

error: