Luzzu হইল মাল্টার ট্র্যাডিশনাল বোটের নাম। সেই নামে সিনেমা। মাল্টিজ ভাষায় নির্মিত। সেমেটিক ভাষাগুলির মধ্যে এমনিতেই একটা ট্রেজার ইন-বিল্ট অবস্থায় থাকে। সেইটা যদি আধুনিক সিনেমার মতো কোনো মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়, তাইলে সেইটা সিনেমার ফোকাসের সাথে সাথে আরেকটু বেশিই ঘি যোগ করে।
পরিচালক Alex Camilleri নিজেও মাল্টিজ কিন্তু এক পুরুষ ধইরা আমেরিকায় মাইগ্রেটেড। তাই বইলা অত্যধিক মেলোড্রামা উনি করতে যান নাই। সিনেমা শ্যুট করা হইছে মাল্টায়।
এই সিনেমা দেখতে ধরলে নিওরিয়ালিস্ট সিনেমার কথা মাথায় একটু উঁকি দেয়। ওই একটুই। পরে দেখলাম পরিচালক নিজেও নিওরিয়ালিস্ট গ্রেট ফিল্মমেকার ডি সিকা, রসেলিনি ও ভিসকন্তির দ্বারা মুভড। আপনারাও অনেকে ইনাদের ব্যাপারে জানেন। সেই আলাপ তাই এট্টুক।
ফিশিঙের মতো আদি এবং পারিবারিক ব্যবসার যেই পরিণতি এখন দাঁড়াইছে, সেইটার বাস্তবতা বলা হইছে এইখানে। আসলে, সকল আদি এবং বেসিক রুজি-রোজগারের পন্থার জন্যই এই সিনেমা রিলেটেবল।
আজকের দুনিয়ার রিসোর্স অ্যালোকেশন কারা করতেছে, কর্পোরেশন কাদের হাতে, আর ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন কিভাবে ব্যক্তিকে তার জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন কইরা ফেলতেছে, সেই বাস্তবতার পাশাপাশি পাওয়া যাবে—কেন জীবনের বাস্তব প্রয়োজনগুলি উন্নতির নামে প্রাচুর্যের দিকে যাইতেছে, ন্যূনতম প্রয়োজন কেন আর স্বাধীন এবং বংশপরম্পরায় প্রাপ্ত ও লব্ধ স্কিল দ্বারা পূরণ করা যাইতেছে না, ছোট পুঁজিকে কেন বড় পুঁজি গিইলা ফেলে। ইত্যাদি।
আরও ভয়াবহ উপলব্ধি হইতেছে, একই সংস্কৃতির লোকেদেরও সেইদিকে দল বাঁইধা রওয়ানা দেওয়ার ঝোঁকটা। সবার না। কিন্তু অধিকাংশেরই।

ঐতিহ্য একটা ফালতু বিষয়, এই ধারণা পোষণ করলে আর কোনো কথা চলে না। তবে মানুষ জিনিসটাই একটা ঐতিহ্যগত ব্যাপার। তাই তার মাটি-জল-হাওয়া ইত্যাদির দরকার। সেইমতো পেশাগুলিও টিকাইয়া রাখতে পারা দরকার।
সিনেমার নায়ক তার বাচ্চাকে একটা গল্প শোনান, সেইটা এইরকম : এক গ্রামে একটা মাছ ধরার নৌকা ছিল। নৌকাটার মালিক কে, কেউ জানে না। তবে নৌকাটা যে তাদের সবার, সেইটা তারা জানে। সময়ের সাথে সাথে নৌকার প্রায় প্রতিটি কাঠই পাল্টায়ে ফেলতে হয়। আমাদের নায়ক এই পর্যায়ে প্রশ্ন রাখেন, অনেকটা স্বগতোক্তির মতো, যে, ‘সবগুলা কাঠ পাল্টায়ে ফেললে কি আর এই বোটটা সেই বোট থাকে?’
উত্তর দেন নাই যদিও।
মানুষ স্বাভাবিকভাবেই জীবনে আগাইতে গিয়ে এ-রকম নিজেকে প্রবোধ দেয়া মূলক কথাবার্তা বইলা থাকে। কিন্তু আমরা সকলেই জানি, এই নৌকাটাই সেই নৌকা। সময় কোথাও যায় না আসলে, আমরাই সময় উৎপাদন করি। আমাদেরই চাষবাস এইগুলি।
নায়কের বাবা যেমন তার সন্তানের পায়ের ছাপ নৌকার মাথার দিকে ছাইপা রাখছিলেন, নায়কও তার সন্তানের পায়ের ছাপ একইভাবে ছাপছিলেন। এবং নৌকাটিকে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও মাল্টার সরকারের পরিবেশগত প্রকল্পের আওতায় নিষ্পত্তি করতে যাওয়ার আগে, পরিপূর্ণ মেরামত আর পেইন্টও করেন উনি। তারপর জমা দেন। নৌকাটা অবধারিতভাবে ক্র্যাশ করা হয়। কিছু টাকা পান উনি চুক্তিমাফিক। পরে ফিশ ডেলিভারির সেকেন্ড হ্যান্ড ফ্রিজিং ভ্যান কিনেন। কোনোটাই উনাকে জোর করে করানো হয় নাই। কিন্তু এমন এক পরিস্থিতি সবদিকে যে, তা না কইরা হইতেছিলও না। আশা করি লেখার শুরুর দিকে বলতেছিলাম যে, প্রয়োজনের অধরা রেঞ্জের বিষয়টা, সেইটা আপনারা বিস্মৃত হন নাই।

মাল্টার সমুদ্রের রং, জলে সূর্যের ঝিকিমিকি, নীলের হিউ এবং ইলেকট্রিক শেডের সায়ান মিশ্রিত টারকোয়েজের ভ্যারাইটি সিনেমা জুড়ে অবলোকন করা মধুর এক ভিজ্যুয়াল ফিস্ট। সাথে এইগুলারই শব্দমালা সস হিসাবে পরিবেশিত।
পারিবারিক একটা গেট-টুগেদারে, লোকজনের সামনে, নায়ককে উনার ধনী এবং মডার্ন শাশুড়ি কর্তৃক দেওয়া খোঁচা এবং তার উত্তরের উদ্ধৃতি দিয়ে লেখা শেষ করব :
শাশুড়ি : Fishing is a nice way to waste a summer!
নায়ক : This is a nice way to waste a life!
যদিও সিনেমা আগাইতে থাকলে দেখা যাবে উনি আর এই তেজ এবং সঙ্কল্পে স্থির থাকতে পারেন নাই। আর তাই তাই, সিনেমাটাও সফল সিনেমা হয়।
* পরিচালকের এন্ট্রি সিনেমা। ২০২১ সালের রিলিজ।
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
আনম্য ফারহান রচনারাশি
গানপার ম্যুভিরিভিয়্যু
- বাতাসে উড়ে যাচ্ছে ক্রিমসন, আছে সারমেয়চিহ্নিত মধ্যাহ্ন || আনম্য ফারহান - March 25, 2026
- আমার জীবনের নারীদের করকমলে রাখি জবাফুল || আনম্য ফারহান - March 16, 2026
- ট্র্যাডিশন, ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন, অ্যালিয়েনেশন || আনম্য ফারহান - March 7, 2026

COMMENTS